ইয়াংবং হোং

ইয়াংবং হোং The voice is the voice of the crippled, forced into silence by a system that refuses to see the enlighten.

বান্দরবানের লামায় চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুপথযাত্রী মেনরোয়া ম্রো: চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগলামা (বান্দরবান), ২০ অক্টোবর ২০২...
20/10/2025

বান্দরবানের লামায় চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুপথযাত্রী মেনরোয়া ম্রো: চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ

লামা (বান্দরবান), ২০ অক্টোবর ২০২৫: বান্দরবানের লামা উপজেলার তাউ পাড়ার বাসিন্দা মেনরোয়া ম্রো গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মীরা একের পর এক কেবিনে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও কার্যত কোনো চিকিৎসা শুরু করেননি।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মেনরোয়া ম্রো। দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে স্থানীয়রা তাকে কাঁধে তুলে লামা বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিকভাবে ম্যালেরিয়া পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দেওয়া হয়, কিন্তু ফলাফল পেতে বিলম্ব হয়। ল্যাবের কর্মীরা পরামর্শ দেন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে।

তবে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে শুরু হয় ভিন্ন চিত্র। গ্রামবাসীর অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফরা প্রথমে কেবিন পরিবর্তনের নির্দেশ দেন, পরে আবার নতুন কেবিনে পাঠান। চারবারেরও বেশি কেবিন পরিবর্তনের পরও কোনো চিকিৎসা শুরু হয়নি। এই সময় মেনরোয়া ম্রো একাধিকবার জ্ঞান হারান।

অবশেষে চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতি অব্যাহত বৈষম্য ও অবহেলার চিত্র আবারও প্রকাশ পেয়েছে। তারা বলেন, “নিজের এলাকায় যদি নিজেদের মানুষ চিকিৎসা না পায়, তবে সেই হাসপাতালের অস্তিত্বের অর্থ কী?”











16/10/2025

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) গঠিত হয়েছে ২৭ বছর .....

লামা উপজেলার লুলেং এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি ব্যানার টানিয়েছে, যেখানে লেখা আছে — “বাংলাদেশ আর্মি ওয়া হন আ-ই ম্রো চ...
13/10/2025

লামা উপজেলার লুলেং এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি ব্যানার টানিয়েছে, যেখানে লেখা আছে — “বাংলাদেশ আর্মি ওয়া হন আ-ই ম্রো চ্য প্লিটচ্য”, যার বাংলা অর্থ “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ম্রো জনগোষ্ঠী এক ও ঐক্যবদ্ধ।”

ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্ত্রাসী দল, অস্ত্রধারী গোষ্ঠী, গুমকারীদের মতো সব ধরনের অপরাধী দলের বিষয়ে সেনাবাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।

কিন্তু ঐ এলাকায় দুর্গম ম্রো জনগোষ্ঠীর উপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে — যেমন, ৫ কেজির বেশি চাল কেনা নিষিদ্ধ, ২০ টাকার বেশি মোবাইল রিচার্জ করাও নিষেধ। এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে স্থানীয়দের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।

তাছাড়াও ঐ এলাকায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা, অবৈধভাবে বসবাসরত বাঙালি এবং বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়ী স্থানীয় আদিবাসীদের জমি ভুল বোঝিয়ে দখল করে নিয়েছে। অথচ এসব বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদ কেন সাম্প্রদায়িক হামলায় পরিণত হলো?অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু...
02/10/2025

খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদ কেন সাম্প্রদায়িক হামলায় পরিণত হলো?

অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবারের ঘটনা ব্যতিক্রম, কারণ এইবার ধর্ষণের প্রতিবাদ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয় এবং পরে সেনাবাহিনী আড়াইশ ক্যাম্প সম্প্রসারণের দাবি তোলে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির এক আদিবাসী কিশোরীকে ৩ জন সেটেলার কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এর পরদিন থেকে খাগড়াছড়ির আদিবাসীরা এবং ঢাকায় অবস্থানরত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। প্রথমদিকে আন্দোলন শান্তভাবেই চলছিল। কিন্তু ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা উক্যনু মারমাকে সেনাবাহিনী অন্যায়ভাবে তুলে নিয়ে তাঁর শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং নির্যাতন করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেনাবাহিনী শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
সেনাবাহিনীর এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায় এবং পরদিন জুম্ম ছাত্র জনতা খাগড়াছড়ি জেলা অবরোধ ঘোষণা করে। ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো মূলধারার গণমাধ্যম এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেনি। ২৬ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের দমন করতে গেলে আন্দোলনকারীরা প্রতিরোধ করে এবং সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তাড়ানো হয়। এরপর থেকেই গণমাধ্যম ঘটনাটি কভার করতে শুরু করে। তবে সেনাবাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটিকে “আদিবাসীদের সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে প্রচার করে, অথচ এর আগের আন্দোলনের ঘটনাগুলো গোপন রাখা হয়।
পরবর্তী দিনেও অবরোধ চলতে থাকলে, সেটেলার বাঙালিরা সেনাবাহিনীর গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করে। আদিবাসীদের উত্তপ্ত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তখন বাঙালি সেটেলারদের কর্মসূচি পালন না করাই যৌক্তিক ছিল। কিন্তু এখান থেকেই বোঝা যায়, সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে সেটেলারদের ব্যবহার করে পাহাড়ি আদিবাসীদের দমন করতে চেয়েছিল। এজন্য তাঁদের কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
উভয় পক্ষের কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলে খাগড়াছড়ি প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। এর আড়ালে সেনাবাহিনী ও সেটেলাররা যৌথভাবে আদিবাসীদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে কিছু সেনা দল ১৪৪ ধারা দেখিয়ে আদিবাসীদের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আদিবাসী নিহত এবং বহু আদিবাসী মানুষ আহত হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম নিহত সংখ্যা ৫ জন দাবি করলেও কুপিয়ে হত্যা এবং গুলিবিদ্ধদের ছবি-ভিডিও কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ করে নাই। তবে সেনাবাহিনী আহত ১১ সদস্যের খবর ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে, অন্যদিকে অবাক বিষয় হলো আদিবাসী সাথে সেটেলার সহিংসতা ঘটলেও সেটেলারদের কোনো হতাহতের সংখ্যা পাওয়া যায় নাই।

সবকিছু বিচার করলে স্পষ্ট হয়, একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে আদিবাসীদের ওপর দোষ চাপানো, সেটেলার বাঙালিদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।

০১ অক্টোবর ২০২৫ রোজ বুধবার ১৬ মাইল, চিম্বুক বটগাছের তলায় খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষন, সহিংসতা ও ন‍্যাক্কারজনক ...
01/10/2025

০১ অক্টোবর ২০২৫ রোজ বুধবার ১৬ মাইল, চিম্বুক বটগাছের তলায় খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষন, সহিংসতা ও ন‍্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রিয়ুং ম্রো’র সঞ্চালনায় সকাল ১০.৪০ ঘটিকায় চিম্বুকে প্রতিবাদ সমাবেশটি শুরু হয়। প্রথমত সম্প্রতি ঘটা ধর্ষণ, সহিংসতা ও ন‍্যাক্কারজনক হত‍্যকান্ড, বিগত কয়েকমাস পূর্বে থানচির তিনদুতে চিংমা খেয়াং ধর্ষন ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া নানান কায়দায় পাহাড়িদের ভূমি বেদখল করার কথা সংযুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য সমস্যা ও আগামীর ভয়াবহতা প্রতিরোধের জন‍্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে তুলে ধরেন।

প্রথম বক্তা রুইয়াং ম্রো তাঁর বক্তব্যের শুরুতে খাগড়াছড়িতে ধর্ষনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সে প্রতিবাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে। প্রতিবাদে বাহিরের ইন্ধনে সৃষ্ট সহিংসতায় ১৪৪ ধারা জারি হওয়ার পরেও কেন ৭ জনের মতো আমাদের ভাইকে মরতে হল? আরো গতকাল আমরা দেখতে পেয়েছি যে ধর্ষনের শিকার ছোট মেয়েটার ধর্ষনের ডাক্তার রিপোর্টে নো ইভিডেন্সএসেছে। এইসবের আলামতে অবশ্যই এক পক্ষের জড়িত রয়েছে বলে আমরা মনে করি।
আমরা এই ধর্ষনের মতো ন‍্যাক্কারজনক ঘটনায় বরবারই ঘৃণা করি এবং এর প্রতিবাদ আমরা করে যাবো। পাহাড়ি সকল ভাইবোনদের সাথে আমরা একাত্মতা রাখবো।
পরবর্তি বক্তা চ‍্যংরাও ম্রো বলেন বিগত সময়ে রক্তে রঞ্জিত দিনে আমরা আর ফিরতে চাই না। রাস্ট্র আমাদের উপরে চাপানোর অভিযোগ তার সব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকবো।
রিয়ুং ম্রো’র বক্তব‍্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণ, জ্বালাও পোড়াও মতো সহিংসতার ঘটনা তুলে ধরেন। সে সহিংসতার মতো ভয়াবহ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও যাদের মৃত্যু হয়েছে সে হিসাবও সত্যতায় প্রচার করা হয়নি। ময়মনসিংহের এক গারো মেয়ের দুর্গাপূজা দেখতে গিয়ে ধর্ষনের শিকার হয়েছে।
চিম্বুকে বাঙালী অনেক ব‍্যবসা বাণিজ‍্যের জন‍্য আসেন এবং এখানে বসতবাড়ি গড়ে নিজের জায়গা বলে বেড়ান। অথচ চিম্বুক এলাকা মামা চিম্বুক ম্রো’র জায়গা ছিলো এটা।
চিম্বুকে ২০০৭ সালের ফায়ারীং রেঞ্জ নামে যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল সে উচ্ছেদের শিকার হওয়া অনেক গ্রামবাসী আজকে এখানে রয়েছে।

তুমপাও ম্রো বক্তব্যে বলেন অদূর ভবিষ্যতে চিম্বুকে ধর্ষনের মতো জঘন্যতম অপরাধ ঘটবে না এইসব মোটা দাগে বলা যাবে না। এখানে আমাদের মা বোন প্রতিদিন কাজের জন‍্য জীবনের তাগিদে জুম-জঙ্গলে, বাগানে যাতায়াত করে থাকে।
সমতল থেকে আগত ট‍্যুরিস্টদের দ্বারা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হয়রানি হতে হয়। গাড়ি থেকে আমাদেরকে দেখে গিয়ে তুইতুইকারি, টিটকারি করে চলে যায়। তারা সেইসব কর্মকান্ডের মধ্যে পিশাচি আনন্দ পায়। এখন এইসবের দায় কার? যাঁরা আমাদের রক্ষাকবজ, আমাদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তাঁরা ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জরিত থাকতে অনেক সময় দেখা যায়। এই দায় কার?

দনওয়াই ম্রো বলেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়নের নামে যে ভুমি আগ্রাসন চলমান সে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। এই চিম্বুক পাহাড়ে আমাদের উপর দিয়ে বিদ‍্যুৎ গেলেও এই চিম্বুক পাহাড়ের গ্রামগুলোতে এখনো বিদ‍্যুত ছাড়া থাকতে হয়। আমরা আমাদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবী করি। আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিৎ করার দাবী রাখি। সামনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেই সরকারই আসুক, পাহাড়ের দুঃখ কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করবেন। পাহাড়ের অধিকার নিশ্চিতকরণে আগ্রহ নিয়ে সরকার যেন কাজ করেন। সমতলের মতো আমরা পাহাড়ের সকল মানুস সমান ট‍্যাক্স দিয়ে থাকি। অথচ সে ট‍্যাক্সের টাকায় অস্ত্র কিনে আমাদের উপরে বন্দুকের নল উঠে। বিগত কয়েক বছর পূর্বে এক ম্রো নারী জুম থেকে ফিরতে ট‍্যুরিস্ট গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারায়। কাপ্তাই বাঁধের পূর্বে সেখানে ম্রোদের কিছু অংশের আদি নিবাস ছিলো কিন্তু এখন আর নাই। জেলা পরিষদে সদস্য সংখ্যা ম্রোদের ৩ টি সীট বরাদ্দ থাকলে এখনো পর্যন্ত একটি মাত্র সীট পেয়েছে। সব জায়গায় আমাদের অধিকার খর্ব করা হয় কেন?
খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি ধর্ষনের ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসতে এতোটা বিলম্ব হলো কেন? শেষে আমরা দেখতে পাই ধর্ষিতার অবস্থা নাজুক হবার পরেও তারা বলতে চাচ্ছে ধর্ষন হয়নি! পরিশেষে বলেন- এই বন পাহাড়ে নদী ঝিরি ঝর্ণা টিকে থাকলে, এই পাহাড় বেঁচে থাকলে আমাদের জীবন থাকবে। সকলে একাত্মতা, সচেতনতা ও অন‍্যায়ের প্রতিরোধে আমাদের আওয়াজ উঠাতে হবে।

গ্রাম প্রতিনিধি য়ংসম ম্রো বক্তব্যের শেষে বলেন সুকুমার রায়ের ‘আজব দেশ’ কবিতার মতো আমাদের দেশ এক আজব দেশ। আমরা এই অন‍্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাবো।তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চিম্বুকে আজকের প্রতিবাদ সমাবেশটি শেষ হয়।

তথ্যসূত্রে-চিম্বুক স্থানীয় প্রতিনিধি।

30/09/2025
খাগড়াছড়িতে রাস্তায় নামছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। শুধু এক কিশোরীর দলবদ্ধ ধ**র্ষণ নয়, এটি পাহাড়ে দীর্ঘদিনের সেনা শাসন...
30/09/2025

খাগড়াছড়িতে রাস্তায় নামছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। শুধু এক কিশোরীর দলবদ্ধ ধ**র্ষণ নয়, এটি পাহাড়ে দীর্ঘদিনের সেনা শাসন, রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও ন্যায়বিচারের অভাবের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের প্রতীক। ন্যায়বিচার ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য পাহাড় আজ গর্জে উঠেছে। ধ**র্ষণকে পাহাড়ের মানুষ দেখছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নেরই একটি ধারাবাহিক রূপ হিসেবে, যার বিরুদ্ধে আজ পাহাড়ের মানুষ রাস্তায় নেমে জনবিক্ষোভে উত্তাল।

এখানকার মানুষ শত শত বছর ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাপনের ধারা নিয়ে বসবাস করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্র পাহাড়কে "ভিন্ন" এবং "বিচ্ছিন্ন" অঞ্চল হিসেবে দেখতে শুরু করে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংকট ও রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয়করণ প্রক্রিয়ার মধ্যে পাহাড়ে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়। এই অঞ্চলে আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমি অধিকার রক্ষা করতে চেয়েছিলো, আর সরকার চাইছিলো “নাগরিক সমরূপীকরণ”। সামরিক অভিযানের আইনি ও সামরিক রূপ দিয়েই ‘অপারেশন দাবানল’ চালিয়েছিল সরকার (১৯৭৭–১৯৯৭) — যা counterinsurgency অভিযান নামেও পরিচিত। এই সময়ে সেনাবাহিনী, প্যারামিলিটারি বাহিনী ও বাঙালি বসতি সম্প্রসারণে জড়িত গোষ্ঠীর সমর্থনে বিরূপ আচরণ, জনসাধারণের উচ্ছেদ, দমন অভিযান, আগুন দেওয়া, লুটপাট ইত্যাদি ঘটেছিল।

১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তিতে গঠিত হয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো, বিশেষ অগ্রাধিকার ও জনগোষ্ঠী অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এখনও চুক্তির অনেক অংশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। মিলিটারাইজেশন ও ভূমি দখল অব্যাহত রয়েছে। ধ**র্ষণ বা যৌ*ন সহিংসতা এমন একটি অ**স্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা গণ-ভীতি সৃষ্টি করে, নারীর মর্যাদায় আঘাত করে এবং সামাজিক অশান্তি বাড়ায়। বিশেষ করে, যেখানেই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ বা দাবি দেখা দেয়, সেখানে এই ধরনের তাণ্ডব ঘটে।

সরকারকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জমি ও সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে হবে। পর্যাপ্ত আইনগত ও প্রশাসনিক সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। তাদের সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ের কণ্ঠস্বর আজ শুধু তাদের নয়—একজন নাগরিক, একজন নারী ও এক ভবিষ্যৎ বাংলাদেশীর কণ্ঠস্বরও।

সংগ্রামী জুম্ম ছাত্র-জনতা,সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিবাদন গ্রহণ করুন।২৮শে সেপ্টেম্বর হতে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালে...
28/09/2025

সংগ্রামী
জুম্ম ছাত্র-জনতা,

সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিবাদন গ্রহণ করুন।
২৮শে সেপ্টেম্বর হতে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হচ্ছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি জুড়ে, বিশেষ করে পানছড়ি সড়ক ও দীঘিনালায়, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক ঘরবাড়ি তল্লাশি, মারধর ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটছে। একইসাথে গুইমারায় সেনা-সেটলাররা পরিকল্পিতভাবে দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালাচ্ছে, নিরীহ ও নিরস্ত্র শিশু, নারী ও পুরুষদের ওপর গুলি বর্ষণ করছে, যা এখনো চলমান। আমরা এ ধরনের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

যে সেটলাররা সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ পাহারায় পরিকল্পিতভাবে জুম্ম জনগণের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের আটক ও নিবৃত্ত না করে উল্টো আমাদের ওপর সেনাবাহিনীর এই দমন-অভিযান পাহাড়ে সেনাশাসনের নগ্ন উপস্থিতি ও স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ। শান্তিপূর্ণ জনগণের ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
অবিলম্বে চলমান হামলা ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হলে আমরা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবো।
একই সাথে আমরা সকল জুম্ম জনগণকে দল-মত-নির্বিশেষে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা পুনরায় ঘোষণা করছি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ও এ ধরনের পরিকল্পিত জাতিগত নিধন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মিডিয়া সেল,
জুম্ম ছাত্র-জনতা।

ছবি: আজকের ঘটনা থেকে সংগ্রহীত।।

Address

Bandarban

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইয়াংবং হোং posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ইয়াংবং হোং:

Share