08/07/2025
আমি রাগ করিনি, আমি মাথা নত করিনি…
আমি ছাত্রদলের একজন দায়িত্ত্বশীল কর্মী হিসেবে আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছি, আইন শাস্ত্রে সনদ নিয়েছি—কিন্তু তার চেয়েও বড় ডিগ্রি আমি অর্জন করেছি সংগ্রাম, ত্যাগ আর নিষ্ঠার।
১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন, গ্রেফতার, রিমান্ড আর অপমানের খড়গ আমার উপর ঝুলেছিল। আমার স্ত্রী-সন্তান প্রতিনিয়ত রিমান্ড শেষে আমার ফেরার অপেক্ষায় থেকেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম—কোনো জায়গাই ছিল না যেখানে আমার পরিবার শঙ্কামুক্ত থাকতে পেরেছে।
শারীরিক নির্যাতন থেকে আমাকে বাঁচাতে আমার পরিবারের সদস্যরা সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছে—সম্পদ, স্বপ্ন, নিরাপত্তা। শুধু তাই নয়, সংগঠনের নিঃস্ব, হতদরিদ্র কর্মীদের মামলার খরচ, রিমান্ডের খরচ, এমনকি পরিবারের খরচও আমার পরিবারের কাঁধে গিয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা পালনের এই কঠিন সময়ে আমার পরিবারকেই সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে।
আমার এলাকা থেকে কোনোদিন আওয়ামী প্রশাসন আমাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা আমাকে ঢাকায় গিয়ে গ্রেপ্তার করেছে—এবং সেই সুযোগে আমার বাড়িতে লুট চালিয়েছে। সেই লুটেরারা আজ বিভিন্ন নেতার গাড়িতে চড়ে, চাঁদা দেয়, আবার নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুলও দেয়!
তবুও আমি রাগ করিনি।
সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছি তখন, যখন আমাকে দলে এমন কিছু অযোগ্য, অশিক্ষিত, ১৯ দফা তো দূরের কথা ৩১ দফার নামও না জানা অথচ শুধু “এক দফা” (বাংলাদেশ ব্যাংক) মুখস্থ করা কথার জাদুকরদের অধীনে রাখা হয়েছিল—এমনভাবে যেন আমি হতাশ হয়ে রাজনীতি ছেড়ে দিই।
কিন্তু পারিনি।
দল আমার রক্তে, মাংসে, শিরা-উপশিরায়।
তাই অপমানজনক পদ ছাড়তে পেরেছি, কিন্তু দল ছাড়তে পারিনি।
আমি থাকি না প্রচারে, কিন্তু আমি আছি সংগ্রামে।
আমার আত্মত্যাগ, আমার ক্ষত-বিক্ষত ইতিহাস, এবং আমার অগণন সহযোদ্ধার কান্না—এইসব নিয়েই আমি, একজন নিঃস্ব কিন্তু অহংকারময় রাজনৈতিক সৈনিক।