31/05/2024
মুমিন ব্যক্তির জীবনে বিপদ আসে ইস্তেগফার আদায়ের জন্য।
আল্লাহ ﷻ তাঁর কিতাবে ইউনুস আ: এর কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন -
فَلَوۡ لَاۤ اَنَّهٗ کَانَ مِنَ الۡمُسَبِّحِیۡنَ ﴿۱۴۳﴾ۙ
لَلَبِثَ فِیۡ بَطۡنِهٖۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ ﴿۱۴۴﴾ۚؒ
সে যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর তাসবীহকারী না হতো, তাহলে নিশ্চিত ভাবে তাকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটে থাকতে হতো।
( সূরা সফফাত ১৪৩-১৪৪)
সুবহানাল্লাহ! এই আয়াত দুটির মাঝেই আমাদের জীবনের সকল সমস্যার জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা বর্তিত আছে।
ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি বড় খতমের দুআ নামে খ্যাত, ইউনুস আ: এর ইস্তেগফার করার দুআটিকে নিয়ে মানুষ হাসি ঠাট্টা মশকরা করছে। ছোটবেলায় সিনেমায় ও দেখতাম এই দুআকে কতো বিকৃত ভাবে ইউজ করা হতো।
অথচ দুআটির দিকে লক্ষ্য করুন
وَ ذَاالنُّوۡنِ اِذۡ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنۡ لَّنۡ نَّقۡدِرَ عَلَیۡهِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ اَنۡ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنۡتَ سُبۡحٰنَکَ ٭ۖ اِنِّیۡ کُنۡتُ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿ۚۖ۸۷﴾
আর স্মরণ কর যুন-নূন এর কথা, যখন সে রাগান্বিত অবস্থায় চলে গিয়েছিল এবং মনে করেছিল যে, আমি তার উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করব না। তারপর সে অন্ধকার থেকে ডেকে বলেছিল, ‘আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই’। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম যালিম’।
ইউনুস আ: উক্ত দুআতে প্রথমে আল্লাহ স্বত্তাকে একক বলে ঘোষণা দিয়ে তিনি আবার কালিমা পড়েন, এ-রপর আল্লাহ কে বোঝান যে আপনি পবিত্র, নিখুঁত, দোষত্রুটি মুক্ত,কিন্তু আমি অপবিত্র, দোষত্রুটি যুক্ত। এরপর ইউনুস আ: আল্লাহর সামনে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন যে না আপনি আমাকে পরীক্ষায় ফেলে আমার উপর কোনো যুলুম করেন নি, আমি মাজলুম নয়, তিনি কী বললেন? বলেন নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
এতো নিখুঁত ভাবে নবীরা দুআ করতেন, আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার আদায় করতেন। সুবহানাল্লাহ!
হাসান বসরি রহি: একটা ঘটনা আছে যাঁর সারমর্ম হচ্ছে এমন - যে ; তাঁর কাছে বিভিন্ন ঘরানার লোকজন আসতো বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কারো মেয়ে বিয়ে হচ্ছে না, কারো রিযিকের সমস্যা, কারো সন্তান হচ্ছে না। তো তিনি সবাইকে বলতেন - বেশি বেশি ইস্তেগফার আদায় করো। তো সম্ভবত ওনার ছাত্ররা ওনাকে জিজ্ঞেস করেন সমস্যা একাধিক, বিভিন্ন রকমের আর আপনি সবাইকে শুধু একটাই সমাধান দিচ্ছেন? ইস্তেগফার!
তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বললেন “আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলি নি। এটা বরং আল্লাহ তায়ালা তার কুরআনে শিখিয়েছেন । তারপর তিনি সুরা নুহ এর আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন।
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا. يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا. وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
নুহ আ. বললেন “তোমরা তোমাদের রবের কাছে এস্তেগফার করো। ( ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন, তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নূহ- ১০-১২)
আর মুনাফিক ব্যক্তির জীবনে বিপদ আসে তাকে অকৃতজ্ঞ হিসেবে তৈরি করার জন্য।
আল্লাহ ﷻ বলেন-
اِنَّاۤ اِذَاۤ اَذَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنَّا رَحۡمَۃً فَرِحَ بِهَا ۚ وَ اِنۡ تُصِبۡهُمۡ سَیِّئَۃٌۢ بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡهِمۡ فَاِنَّ الۡاِنۡسَانَ کَفُوۡرٌ ﴿۴۸﴾
আর আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই তখন সে খুশি হয়। আর যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের উপর কোন বিপদ আসে তখন মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ হয়।( ৪২:৪৮)
মূলত মুনাফিকরাই উক্ত কাজটি বেশি করে। ফলে তাঁরা হতাশ হয়ে যায়,অনেকে সালাত পড়া ছেড়ে দেয়। অনেকে ইসলাম প্র্যাক্টিসিং করা বাদ দিয়ে দেয়।
আর কাফেরদের জীবনে বিপদ আসে মূলত দুনিয়াতে যাতে তাঁরা আর ও উদ্যত আচরণ করতে পারে সেজন্য। এই জন্য দেখবেন এরা জীবনে আঘাত ফেলে গড বলে কাউকে আর বিশ্বাস করে না, অনেকে শয়তানের পূজা করে, অনেকে জমিনের শৃঙ্খলা কে নষ্ট করে ।
বিপদ মানুষকে এই তিনটি ক্যাটাগরীর যে কোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত করে । হয় সে ব্যাহিক ভাবে কাফের কিন্তু বিপদ থেকে শিক্ষা নিয়ে,অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহ ﷻ তাঁকে মুমিন বানিয়ে দেন, নয়তো সে আর ও জঘন্য ভাবে দুনিয়ার মোহে ফেঁসে যায় ।
হয় সে মুমিন হয়ে বিপদ পড়ে, এবং আল্লাহর প্রতি এতো বেশি নারাজ হয় যে সে মুরতাদ হয়ে যায়। নয়তো সে মুসলিম কিন্তু বিপদে পড়ায় আল্লাহর কাছে এতো বেশি ইস্তেগফার আদায় করেন যে আল্লাহ তাকে খাঁটি মুমিনাহ ও দ্বীনের দ্বায়ীআ হিসেবে কবুল করেন।
আপনার কাছে তিনটি অপশন আছে,মুমিনাহ,মুনাফিক, কাফের এবার আপনি বাছাই করে নিন, কোন ক্যাটাগরীতে আপনি জয়েন হবেন।
Asma Akter