26/05/2026
একজন বাঙালি বা বাংলাদেশী হিসেবে অবশ্যই 'বনলতা এক্সপ্রেস' সবার দেখা উচিত।
'বনলতা এক্সপ্রেস' দেখে মনে হলো অনেকদিন পর **মাটির গন্ধ মাখা খাঁটি একটি বাংলা সিনেমা** দেখলাম। ট্রেনের চাকার ছন্দের সাথে আমাদের চিরচেনা জীবনের সুখ-দুঃখের গল্পগুলো যেভাবে পর্দায় ফুটে উঠেছে, তা এক কথায় অনবদ্য। সিনেমার প্রতিটি চরিত্র এত বেশি বাস্তবসম্মত ছিল যে, এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি তারা অভিনয় করছেন, বরং মনে হয়েছে তারা আমাদের চারপাশেরই সাধারণ মানুষ। ট্রেনের জানালা দিয়ে রূপসী বাংলার চেনা প্রকৃতিকে চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফির মাধ্যমে নতুন করে আবিষ্কার করার অনুভূতি ছিল সত্যি চোখ জুড়ানো। কোনো কৃত্রিম মেলোড্রামা বা সস্তা হিরোইজম ছাড়াই যে কেবল সততা দিয়ে দর্শকের মন জয় করা যায়, এই সিনেমাটি তার বড় প্রমাণ। ছবির চমৎকার আবহ সঙ্গীত আর ট্রেনের সেই চেনা হুইসেলের আওয়াজ মনের ভেতর এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া তৈরি করে দেয়। তাছাড়া, প্রতিটি বগির যাত্রীদের জীবনের টানাপোড়েন আর সহজ-সরল সংলাপগুলো সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে দাগ কাটে। মাঝেমধ্যে কাহিনীর গতি কিছুটা ধীর মনে হলেও, মেকিংয়ের গভীরতা আমাকে পুরোটা সময় পর্দার সামনে আটকে রেখেছিল। সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর বুকের ভেতর এক চিলতে চেনা ভালোলাগা আর এক আকাশ মায়া জমা হয়ে থাকে। এক কথায়, মধ্যবিত্ত জীবনের এই রেলভ্রমণটি একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে আমার মনকে পুরোপুরি তৃপ্ত করেছে।
বনলতা এক্সপ্রেস' শুধু একটা ট্রেনের নাম নয়, এটা যেন আমাদের জীবনেরই একটা রূপক—যেখানে স্টেশনে স্টেশনে মানুষ বদলায়, সম্পর্কের সমীকরণ পাল্টায়, কিন্তু জীবন তার নিজের গতিতে চলতেই থাকে।
বি. দ্র. যারা সিনেমা বোঝে সিনেমার সম্বন্ধে যাদের জ্ঞান আছে তাদের কাছে অবশ্যই এটা ভালো লাগবে। কিন্তু অনেকের কাছে এটা ভালো নাও লাগতে পারে ছবিতে উল্লেখিত ঐ বিষয় না থাকার কারণে। 🙂