28/12/2025
২০২৫ এ ইন্টার পাশ প্রধানমন্ত্রী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার!
----------------------------------------------
তারেক জিয়া দেশে আসার পর থেকে তার সবকিছু লাইভ টেলিকাস্ট চলছে। এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনের লাইভ, NID ফটোশুটের লাইভ, ------।
তবে গনহারে সবকিছুর লাইভ শুরু হলে অনেক কিছুই লাইভ হয়ে যেতে পারে যেটা হয়তো চায় নাই লাইভ হোক!
সত্যি কথা বলতে, আমি নিজেও জানতাম না যে তারেক জিয়া ইন্টার পাশ!!
আমি জাস্ট ভাবছি- ২০২৫ সালের এই আল্ট্রা মডার্ন যুগে এসে বাংলাদেশের ভার্সিটি পড়ুয়া বা গ্রাজুয়েটরা একজন ইন্টারমিডিয়েট পাশ কে তাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারবে সহজে!
অনেকে যুক্তি দিতে পারে খালেদা জিয়াও তো শিক্ষিত ছিলো না। হ্যাঁ, বাট ৫০ বছর আগের সিচুয়েশন, আর ২০২৫ সালের সিচুয়েশন ভিন্ন।
এইতো সেদিন- যখন লীগের অশিক্ষিত এমপিদের হাতে দেশের মানুষ গনহারে নির্যাতিত হচ্ছিলো, তখন পুরো দেশে একটা দাবি উঠেছিলো যে, যারা মানুষের নেতা হবে, তাদের একটা মিনিমাম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত। এমপি হওয়ার জন্য মিনিমাম অনার্স পাশ, চেয়ারম্যানে ইন্টার, আর মেম্বার হওয়ার জন্য এসএসসি। অধিকাংশ এটা সাপোর্ট করেছিলো, ইভেন অশিক্ষিতরাও। বাপ অশিক্ষিত হলেও সে চাই তার ছেলে মেয়ে শিক্ষিত হোক।
ভাগ্যিস এরকম নিয়ম হয়নি! তাহলে তারেক জিয়ার জন্য আবার নিয়ম চেন্জ করা লাগতো।
আরেকটা জিনিস ভাবছি-
একটা ছেলের বাপ প্রেসিডেন্ট, মা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্বেও সে ইন্টারের গন্ডি পেরোতে পারেনি!!
রাজকুমারের মতো জীবন আর সুবিধা পেয়েও জাস্ট ইন্টার পাশ!
একটা ছেলে ঠিক কতোটা অপদার্থ হলে এটা সম্ভব!
অনেস্টলি- আমি মনে করতাম তারেক জিয়া ১৭ বছর ধরে যেহেতু লন্ডনে আছে, অনেক পড়াশোনা আর ডিগ্রী নিয়েছে নিশ্চয়। আজকে এনআইডি কার্ড দেখে চোখ চড়কগাছ!
যেমন ধরুন পিনাকী ভট্টাচার্য। সারাদিন ভিডিও তৈরি, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এর মধ্যেও ফ্রান্সে মাস্টার্স করেছে, তারপর পিএইচডি শুরু করেছে।
আমি আমেরিকায় আমার পিএইচডির একটা কোর্সে ৭০+ বয়সের একজনকে পেয়েছিলাম। এই বয়সে পিএইচডি কেন?
উত্তরে বলছিলো- সে অনার্স শেষ করে জব শুরু করে। ফুল টাইম জব শেষ করে রিটায়ার করে তার মনে হলো বসে না থেকে পড়াশোনা করা উচিত। তারপর মাস্টার্স করলো, দেন ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা তে পিএইচডি শুরু করলো।
আমি ভাবছিলাম অন্য নেতাদের ছেলের কি অবস্থা। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে অধিকাংশ সময় কঠিন সময় পার করেছে জামায়াত।এখনও অনেকের কাছে পরিত্যক্ত।
তো এরকম কঠিন সময় পেয়েও এদের ছেলেদের কি অবস্থা খোজ করলাম।দেখলাম -
গোলাম আজমের ছেলে আমান আজমি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলো, এবং সেনাপ্রধান হওয়ার কথা ছিলো নিয়ম অনুযায়ী।
মতিউর রহমান নিজামির ছেলে ডক্টর নকিবুর রহমান আমেরিকা থেকে পিএইচডি করে এখন আমেরিকার একটা টপ ভার্সিটির ফুল প্রফেসর।
মীর কাসেমের ছেলে আরমান ব্যারিস্টার।
মুজাহিদের ছেলে মাবরুর অনেক বড় লেখক, পন্ডিত।
আরেকজন শীর্ষ নেতার ছেলে ডক্টর নোমান আমেরিকা থেকে পিএইচডি করে একটা টপ ভার্সিটির প্রফেসর।
জাস্ট দুটো বিষয় ভেবে বেশ excited!
1. বাপ প্রেসিডেন্ট, মা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও ইন্টারের গন্ডি পেরোতে না পারা।
2. শিক্ষিত জেনারেশন ইন্টার পাশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তাদের অনুভূতি কেমন হবে।
(বিঃ দ্রঃ - নেতা হওয়ার জন্য শিক্ষিত হতে হবে, বিষয়টা এরকম নয়। পৃথিবীতে অনেক গ্রেট নেতা শিক্ষিত ছিলো না। স্বশিক্ষিত একটা ইমপরটেন্ট জিনিস।
শিক্ষিত হওয়ার সাথে যোগ্য হওয়ার সম্পর্ক সবসময় না থাকলেও, শিক্ষা যোগ্যতা অর্জনের অন্যতম টুল।
যার শরীরে শহীদ জিয়া, আর বেগম জিয়ার রক্ত, তার ভিতরে বাই ডিফল্ট লিডারশিপ থাকবে।
তবে বাপ প্রেসিডেন্ট, মা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও, ইন্টারের গন্ডি পেরোতে না পারাটা দৃষ্টিকটু। )