Payra Barta

Payra Barta সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

টিফিনের টাকায় 'মিসাইল' বানিয়ে ফেললেন দুই শিক্ষার্থীবরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রাম। তার চারপাশে সবুজ ধ...
24/04/2026

টিফিনের টাকায় 'মিসাইল' বানিয়ে ফেললেন দুই শিক্ষার্থী

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রাম। তার চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত, টিনের ছাউনির ঘর। বিকেলের আলো নামলে শান্ত হয়ে আসে পুরো এলাকা। কিন্তু একটি ঘরের টেবিলজুড়ে ছড়ানো তার, সার্কিট আর নকশা বলে দিচ্ছে সেখা‌নে চলছে ভিন্ন এক স্বপ্ন বুব‌নের গল্প।

সেই গ্রামেই দুই তরুণ তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ধরনের রকেট-মিসাইলের পরীক্ষামূলক মডেল। নাম দিয়েছেন 'থান্ডারবোল্ট'।
তাদের দাবি, জিপিএসের মাধ্যমে এটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, রেঞ্জ পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত।

তবে এখনো এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়েই আছে। পুরোপুরি পরীক্ষা করা হয়নি। তাদের ভাষায়, এটা শুধু একটা প্রজেক্ট না, একটা স্বপ্ন।

টিফিনের টাকায় যাত্রা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল। আর প্রিতম পাল পড়ছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

দুজনের পরিচয় শুধু আত্মীয়তায় নয়, আগ্রহেও রোবটিক্স। স্কুলজীবন থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, প্রজেক্ট তৈরি, পরীক্ষানিরীক্ষার সাধ‌্যমে ধীরে ধীরে তাদের পথ এগিয়েছে। রোবট বানানো থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। এই ধারাবাহিকতারই নতুন ধাপ 'থান্ডারবোল্ট'।

এই কাজের পেছনে নেই কোনো বড় ল্যাব, নেই সরকারি অর্থায়ন। আছে টিফিনের টাকা জমানো, আর পরিবারের সাধ্যমতো সাহায্য। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা।

প্রিতম পাল বলেন, রোবটিক্স থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। পরে রকেট নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। ইউরোপিয়ান রকেট্রি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিষয়টা আরও ভালোভাবে বুঝি।

কী এই 'থান্ডারবোল্ট'

তাদের দাবি, এটি রকেট-মিসাইলের সমন্বিত একটি মডেল। জিপিএস গাইডেন্স দিলে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বরাবর যেতে পারবে। গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, রেঞ্জ পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত।

কিন্তু এখানেই থেমে যাচ্ছে বাস্তবতা। আকাশে উড়িয়ে দেখা হয়নি এখনো। কারণ অনুমতি নেই। আকাশসীমা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি অনুমতি ছাড়া এটি পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।

সুজন পাল বলেন, আমরা একটি ডেমো তৈরি করেছি। গাইডেন্স সিস্টেম দিলে সেটি নির্দিষ্ট টার্গেট অনুযায়ী চলবে। কিন্তু এই ধরনের যন্ত্র উড্ডয়নের জন্য প্রয়োজন সরকারি অনুমোদন। নিরাপত্তা, আকাশসীমা আর ঝুঁকি মিলিয়ে কঠোর নিয়মের ভেতরেই পড়ে এই প্রযুক্তি।

স্বপ্ন, নাকি অতিরঞ্জন

এই দুই তরুণের অর্জনের তালিকা ছোট নয়। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে পুরস্কার, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে সাফল্য, আইডিইএ প্রকল্প থেকে তহবিল মিলিয়ে তাদের কাজ ইতিমধ্যে নজরে এসেছে।

সুজন তৈরি করেছিলেন আগুন ও গ্যাস লিকেজ শনাক্তকারী রোবট। প্রিতম জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় স্বর্ণপদক পেয়েছেন।

তবে তাদের এই নতুন উদ্যোগ যেমন কৌতূহল জাগাচ্ছে, তেমনি প্রশ্নও তুলছে। একটি গ্রাম থেকে, সীমিত সম্পদে তৈরি 'মিসাইল'টি কতটা প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য? কিংবা এটা কতটা নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রকেট বা মিসাইল প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়। গাইডেন্স, প্রপালশন, সেফটির ম‌তো প্রতিটি ধাপেই দরকার উচ্চমানের পরীক্ষা ও অনুমোদন। তাই এই প্রকল্পকে অনেকেই দেখছেন একটি 'লার্নিং প্রোটোটাইপ' হিসেবেই।কারণ এটি শুরু হ‌য়ে‌ছে, কিন্তু এখনো শেষ পথ অনেক দূর।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম বলেন, দুজ‌নেই অত‌্যান্ত মেধাবী। এই ধরনের উদ্যোগকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি।

ড্যাফোডিলের শিক্ষক আমির সোহেলও বলছেন, প্রিতম নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে খুবই আগ্রহী। আমরা ল্যাব সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করছি। তবে বড় পর্যায়ে যেতে হলে আরও সহায়তা দরকার।

মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

আগৈলঝাড়ার সেই ঘরে বসে আঁকা নকশা হয়তো এখনো পূর্ণতা পায়নি। কিন্তু গ্রা‌মের তরুণদের স্বপ্ন বদলাচ্ছে, চিন্তার পরিসর বাড়া‌চ্ছে তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তরুন‌দের রকেট আকাশে উঠবে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু এই গল্প ইতিমধ্যেই একটি নতুন প্রশ্ন তুলেছে, আমাদের তরুণদের স্বপ্ন কত দূর যেতে পারে, যদি সঠিক সহায়তা পায়?

মামা-ভাগ্নের কথায়, আমরা চাই দেশের জন্য কিছু করতে। যদি সুযোগ পাই, তাহলে আরও ভালো কাজ করা সম্ভব।

তাদের স্বপ্নের ভাষা অত‌্যান্ত সহজ। কিন্তু বাস্তবের পথ ততটাই কঠিন। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এই গল্প। যেই গ‌ল্পে একটু কৌতূহল, একটু সাহস, আর অনেকটা অজানা পথের দিকে হাঁটা।

নদীতে ভাসছে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেলসুগন্ধা নদীর বুকে নোঙর করে থাকা জাহাজটা দূর থেকে সাধারণই মনে হয়। কিন্তু কাছাকাছি গেলে বো...
23/04/2026

নদীতে ভাসছে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল

সুগন্ধা নদীর বুকে নোঙর করে থাকা জাহাজটা দূর থেকে সাধারণই মনে হয়। কিন্তু কাছাকাছি গেলে বোঝা যায়, এটি শুধু একটি ভাসমান ডিপো নয়, একটি থেমে থাকা সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতীক। যমুনা অয়েল কোম্পানির ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীভাসমান বার্জ ডিপো দুই বছরের বেশি সময় ধরে অচল।

বার্জ ডিপোর ভেতরের ৬টি টেংকিতে আটকে ছিল ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল। সেটি অপর একটি বার্জে স্থানান্তর করে দুই বছর ফেলে রাখা হয়েছে। বর্তমা‌নে জ্বালানী সংকটের ম‌ধ্যে অব‌্যবহৃত এই ডিজেল বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

এই ডিপো সচল থাকলে প্রতি মাসে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ হতো। ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এর প্রভাব ছিল। বরিশাল বিভাগের পাশাপাশি শরীয়তপুর আর মাদারীপুরও এই সরবরাহ চক্রের (চ্যানেল) অংশ ছিল। অর্থাৎ একটি ডিপো বন্ধ মানে শুধু একটি স্থাপনা বন্ধ নয়, জ্বালানীর একটি প্রবাহ থেমে যাওয়া।

ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রথাবে বর্তমানে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। ঠিক এমন সময়েই এই ডিপোর অচলাবস্থা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে। স্থানীয় এক তেল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলছিলেন, দুই বছর ধরে বন্ধ।

এই সময়ে চাহিদা বাড়লে আমরা বাইরে থেকে বেশি দামে তেল আনতে বাধ্য হচ্ছি। আরিফুর রহমান নামের অন্য একজনের কথায় উঠে আসে হতাশার কথা। তিনি বলেন, এখানে তেল আছে, কিন্তু আমরা পাচ্ছি না। এটা মেনে নেওয়া কঠিন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এই যমুনা ডিপোটি মূলত একটি ভাসমান বার্জ। সেই জাহাজের তলায় ছিদ্র ধরা পড়ায় সেটি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে সেই তেল অপর একটি বার্জে রেখে পুরানো বার্জটি সংস্কারের জন্য দুই বছর আগে চট্রগ্রামে পাঠানো হয়েছিল।

গতবছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় সেটি সংস্কার শেষে ডিপোতে নোঙর করে আছে। তবে তেল রয়েছে সেই আগেরটিতে। এখন পর্যন্ত সেই তেল সংস্কার হওয়া বার্জে স্থানান্তর করা হয়নি।

যমুনা অয়েক কোম্পানী লিমিটেড ঝালকাঠীর ডিপোর সিনিয়র অফিসার আবুল বাশার জানান, বার্জে ছিদ্র হলে তো ঝুঁকি নিয়ে তেল সরবরাহ করা যায় না। মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে, এখন তেল সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। আবুল বাশারের দাবী তেল যা আছে তা ব্যবহার অযোগ্য। তেলের সঙ্গে গাদ রয়েছে। নতুন করে তেল এলেই সরবরাহ শুরু হবে।

এদিকে ডিপোর ভেতরে জমে থাকা ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এই তেল পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়া গেলে অন্তত সাময়িক সংকট কিছুটা কমানো যেত।

ঝালকাঠীর এক তেল ব্যবসায়ীর যুক্তি, তেল তো নষ্ট হয় না। যদি ঠিক থাকে, তাহলে এখনই ব্যবহার করা যেত। এতে মানুষের ভোগান্তি কমত। এই দাবি এখন ধীরে ধীরে প্রশাসনের দিকেও যাচ্ছে। সরকারি তদারকির মাধ্যমে তেলটি ব্যবহারযোগ্য কি না, তা পরীক্ষা করার আহ্বান উঠেছে।

জেলা প্রশাসন বলছে, দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ডিপোটি আবার চালুর পথে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ডিপোটি ইতিমধ্যে ঘাটে ফিরেছে এবং আগামী মাস থেকেই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তিনি বলছেন, এটি চালু হলে আমাদের তেলের মজুদ বাড়ানো সহজ হবে। ট্যাংকারে আসা তেল সংরক্ষণের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।













পদোন্নতির দাবিতে থেমে গেল পাঠদানসকাল থেকে শ্রেণিকক্ষ খোলা, শিক্ষকও আছেন ক্যাম্পাসে, তবুও পড়া নেই। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ...
21/04/2026

পদোন্নতির দাবিতে থেমে গেল পাঠদান

সকাল থেকে শ্রেণিকক্ষ খোলা, শিক্ষকও আছেন ক্যাম্পাসে, তবুও পড়া নেই। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার এমন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছে, যেখানে ক্লাস বন্ধ রেখে কর্মবিরতিতে গেছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের দাবি একটাই, দীর্ঘদিন ধরে তাদের আটকে থাকা পদোন্নতির জটিলতা দ্রুত নিরসন।

ক্লাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতি আমাদেরই। তাঁদের আশঙ্কা, আন্দোলন দীর্ঘ হলে সেশনজট আরও বাড়বে।

তবে আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, দাবিগুলো এখনো পূরণ হয়নি। তাই আগামীকাল বুধবার থেকে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরাও কর্মবিরতিতে অংশ নেবেন। এতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা একাডেমিকের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকবেন বলে জানান তিনি।

গত রবিবার থেকেই শিক্ষকদের এই অচলাবস্থার শুরু। ওই দিন সন্ধ্যায় একই দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেন মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিতে হয়। সেই অনশনের রেশ গড়িয়েছে এখন সার্বিক কর্মবিরতিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬০ জন শিক্ষক পদোন্নতির অপেক্ষায়। তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন আরও ১০২ জন শিক্ষক। শিক্ষকদের অভিযোগ, সমস্যার মূল একটি নির্দেশনায়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সম্প্রতি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি, পেনশন, পদোন্নতিসহ সব বিধিবিধান রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে কার্যকর করতে হবে।

এখানেই তৈরি হয়েছে জট। শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে যে সংবিধি ও বিধির কথা বলা আছে, তা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। ফলে বর্তমান কাঠামোয় পদোন্নতি দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী অন্তত ৮জন শিক্ষকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তারা বলছেন, ‘শুধু পদোন্নতি নয়, ভর্তি থেকে পরীক্ষা, সবকিছুর বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ফেলতে চাই না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. তৌফিক আলম বলছেন, সমস্যাটি কেবল প্রশাসনিক নয়, আইনি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকেরা পুরোনো আইনের অধীনে পদোন্নতি চান, কিন্তু ইউজিসির আপত্তি আছে। তাই সেই পথে এগোনোর সুযোগ নেই।

তিনি জানান, দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে অভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও নতুন সংবিধি প্রণয়ন করলে দ্রুত সমাধান সম্ভব। উপাচার্য বলেন, ‘আমি চাই, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে যাওয়া হোক।’

পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে আছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৬ জন প্রভাষক। অভিযোগ, গত বছরের অক্টোবরেই পদোন্নতি বোর্ড গঠন করা হলেও পরবর্তী সিন্ডিকেট সভাগুলোতে তা অনুমোদনের জন্য তোলা হয়নি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংকট কেবল পদোন্নতির নয়, এটি এক ধরনের আইনি অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। বিধি-সংবিধি ছাড়াই এতদিন যেভাবে একাডেমিক কার্যক্রম চলেছে, সেটিই এখন প্রশ্নের মুখে।

শিক্ষকেরা বলছেন, সমাধান না হলে তাঁরা আর এগোবেন না। প্রশাসন বলছে, নতুন কাঠামো ছাড়া পথ নেই। এই টানাপোড়েনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, অপেক্ষায়, কখন আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরবে স্বাভাবিকতা।

আশ্রয়ের পাশেই নদী হারানোর শঙ্কায় মান্তারা  নদীর বুক ঘেঁষে মাটি কেটে তোলা হয়েছে উঁচু বাঁধ, তার ওপর ইট-বালুর স্তূপ। শ্রমিক...
20/04/2026

আশ্রয়ের পাশেই নদী হারানোর শঙ্কায় মান্তারা





নদীর বুক ঘেঁষে মাটি কেটে তোলা হয়েছে উঁচু বাঁধ, তার ওপর ইট-বালুর স্তূপ। শ্রমিকদের হাতুড়ির শব্দে ঢেকে যাচ্ছে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক ছন্দ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চর মোন্তাজ ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদের একটা অংশ দখলের ফলে এখন যেন নীরবে জমি হয়ে উঠছে। সরকারি এই জমিতে উঠছে বরফ কলের জন্য পাকা ভবন।



এই দখলের ঠিক পাশেই চর মোন্তাজ লঞ্চঘাট ঘেঁষেই ‘মান্তা কলোনী’। যে মানুষগুলো একসময় নদীতেই ভেসে থাকতেন, তাদেরই জন্য সরকারিভাবে মান্তা সম্প্রদায়ের ২৯টি পরিবারকে মাত্র কয়েক বছর আগে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। সেই আশ্রয়ের পাশেই এখন চলছে নদী দখলের খেলা। মান্তা পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই বুড়াগৌরাঙ্গ নদ। কিন্তু সেই আয় আর আশ্রয়ের পাশেই আবার মান্তা সম্প্রদায়ের নদী হারানোর আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠছে।



চর মোন্তাজ লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় দখলের বেশকিছু ভিডিও কালের কণ্ঠের কাছে এসেছে। তাতে দেখা যায়, নদীর তীর থেকে এক্সকভেটর দিয়ে মাটি কেটে উঁচু করে ফেলা হয়েছে। সেই ভরাট অংশে চলছে পাকা স্থাপনা নির্মাণ। কয়েকজন শ্রমিক ব্যস্ত ইট বসাতে। তাদের ভাষ্য, এখানে বসবে একটি বরফকল। সাগরঘেঁষা এই অঞ্চলের জেলেদের জন্য বরফের চাহিদা বেশি, এই যুক্তিতেই নির্মাণ নদী তীরে নির্মিত হচ্ছে বরফকল।



মান্তা কলোনির একাধিক পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বললেন, ‘আমরা তো এই নদীতেই বড় হয়েছি। সরকার বাহাদুর আমাদের ঘর দিয়েছে, কিন্তু পেট তো নদী থেকেই চলে। শুরু হয়েছে দরফকল স্থাপনের নামে নদী দখল। কয়েক দিন পরে তার পাশ ঘেষে হবে অবৈধ ভবন। এভাবে দখলে দখলে প্রাণ হারাবে নদী। দখল রোধ না করা গেলে, ওরা নদীটাই গিলে খাবে। যদি নদী মরে যায়, আমরা কী খাব?’



স্থানীয় শ্রমিকরা জানালেন, ব্যবসায়ী সাইদুর কবির খানের নামেই চলছে এই নির্মাণকাজ। রাতারাতি ভবন উঠে গেছে, এখন সেখানে বরফকল স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। সাইদুর কবির খানের সঙ্গে মুঠোফোনে রবিবার সকালে কথা হল। প্রথমে তিনি জানালেন, `এটা আমাদের পত্তন নেয় জমি। প্রায় দেড় একজর জমির মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশে বরফকল স্থাপন করা হচ্ছে। জমির নামজারিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে।’



কিন্তু কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে কবির খান বলেন, কয়েকজনে মিলে জমি পত্তন নিয়েছি। বরফকলের অন্যতম উদোক্তা হচ্ছেন, ভোলার অধ্যক্ষ আবুল কাসেম। কবির খানের দেয়া মুঠোফোন নম্বরে আবুল কাসেমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।



রাঙ্গাবালী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার এই মান্তা সম্প্রদায়ের জন্য ২৯টি ঘর তুলে দিয়েছিল। নদীতে ভাসমান জীবন কাটানো মানুষগুলোর প্রথম স্থলবাস। কিন্তু জীবিকা তো নদীই। মাছ ধরা, নৌকা চালানো তাঁদের পেশা। আর সেই নদী যদি দখল হয়ে যায়, তাহলে পুনর্বাসনের অর্থ কী থাকে?



বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, ‘নদীর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পানির স্তরের মাঝের এলাকা দখল করা যাবে না। তীর কেটে বাঁধ দিলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যায়। একসময় নদীই হারিয়ে যায়। চর মোন্তাজের ঘটনা রোধ করা না গেলে হয়তো কোন এক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে হারিয়ে যেতে পারে এই নদী।’



চর মোন্তাজ ইউনিয়নের তহশিলদার হামিদুল হক বাচ্চু কোনও লুকোচুরি করলেন না। সরাসরি জানালেন, এলাকাটি উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই নজরদারি কম। সেই সুযোগে দখল হচ্ছে। তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে জমির কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তা পাওয়া যায়নি।



রাঙ্গাবালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপার ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, নদীর তীরভূমিতে মাটি কেটে স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। খাস জমিতে অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণ আইনত দন্ডনীয়। সরেজমিন তদন্তপূর্বক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহসিন উদ্দীন বলেন, সরকারি জমি দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রীষ্মে রোদ পোহানো শ্বেতপদ্মবর্ষায় আকাশ এখনো পুরোপুরি ভিজে ওঠেনি। মেঘ জমে ওঠে ঠিকই, কিন্তু সেই টানা বৃষ্টির দিন আসেনি। ...
17/04/2026

গ্রীষ্মে রোদ পোহানো শ্বেতপদ্ম

বর্ষায় আকাশ এখনো পুরোপুরি ভিজে ওঠেনি। মেঘ জমে ওঠে ঠিকই, কিন্তু সেই টানা বৃষ্টির দিন আসেনি। বৃষ্টি নামার চেনা গন্ধও ভেসে আসেনি কবি জীবনানন্দের এই শহরে। তবুও হিমনীড় পুকুরপাড়ে দাঁড়ালে মনে হয়, ঋতু যেন একটু আগেভাগেই দরজা ঠেলে ঢুকে পড়েছে এখানে।

জলের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে সাদা পাপড়ি ফোটানো অজস্র পদ্ম। একটি-দুটি নয়, পুকুরের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়েই শুভ্রতার ছড়াছড়ি। নীরব এই স্বচ্ছতা চোখে লাগার মতো প্রশান্তির। যা ভাষায় ধরা কঠিন। শুধু অনুভবেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। কারণ বরিশালের বিআইডব্লিউটিএর পদ্মপুকুরে ফুটেছে হাজারো শ্বেতপদ্ম। তাও সময়ের আগেই।

ঋতুর নিয়ম ভেঙে ফুলের আগমন

বাংলার বর্ষাঋতু সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসজুড়ে তার পূর্ণ রূপ। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির আনাগোনা থাকে। শীতের তীব্রতা নামে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে, পৌষ-মাঘের সময়।

শ্বেতপদ্মের নিজস্ব এক ঋতুচক্র আছে। এই জলজ ফুল সাধারণত গ্রীষ্মের শুরুতে ফুটতে শুরু করে। এপ্রিল থেকে জুলাই, অর্থাৎ বৈশাখ থেকে আষাঢ়, এই সময়েই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

উষ্ণ আবহাওয়া আর রোদই তার প্রিয় সঙ্গী। ভোরবেলা ধীরে ধীরে ফোটে, দিন বাড়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। আবার তীব্র রোদে তেজে কখনো একটু সংকুচিতও হয়।

সাধারণত বর্ষাই পদ্মফোটার আসল মৌসুম। বৃষ্টি নামলেই একে একে ফুটে ওঠে শ্বেতপদ্ম। আনেক প্রকৃতিপ্রেমির ভিড় জমে পুকুরপাড়ে। কিন্তু এ বছর ছবিটা আলাদা। বর্ষা পুরোপুরি নামার আগেই হিমনীড়ের পদ্মপুকুরে মিলেছে আগাম সাড়া।

স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি যেমন বিস্ময়ের, তেমনি আনন্দেরও। জীবনানন্দ গ‌বেষক ক‌বি হেনরী স্বপন বলছিলেন, 'ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি ফুটবে। মনে হচ্ছে, পদ্মভরা পুকুরটাই এবার তাড়া দিচ্ছে বর্ষার আগমনীকে।'

দূর থেকে দেখা, তবু ভিড় থামে না

শ্বেতপদ্মের এই আগাম উপস্থিতি প্রতিদিনই টানছে হাজারো মানুষকে। দলে দলে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা। তা‌দের কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে।

তবে পুকুরটি চারদিক থেকে নিরাপত্তা দেয়াল ও গ্রিলে ঘেরা। ফলে শ্বেতপদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয় দূর থেকেই। তাতেও মানুষের আগ্রহ কমছে না।

কেউ চুপচাপ দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকছেন বিস্ময়ে দৃষ্টি মেলে। কেউ গ্রিলের ফাঁক গলিয়ে মোবাইলে ছবি তুলছেন। কেউবা সেলফি। দূরত্ব রেখেই ধরে রাখছেন মুহূর্তের প্রতিচ্ছবিতে।

কেউ আবার জলের ওপর ভেসে থাকা সাদা রঙের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকছেন। কোলাহলের ভিড় নয়, এ যেন এক ধরনের নীরব সৌন্দর্যের উপভোগ।

ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের সহ‌যো‌গি অধ‌্যাপক ও পর্যটন বি‌শেষজ্ঞ ড. মো. সাখাওয়াত হো‌সেন বলেন, 'পদ্ম পুকুরটি সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষের আরও আন্তরিক হওয়া উচিত। নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সবার জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে।'

এই বিশেষজ্ঞ আরো বলছেন, প্রতিদিন না হলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সীমিত আকারে হলেও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া যেতে পারে, যাতে মানুষ কাছ থেকে উপভোগ করতে পারে এই সৌন্দর্য। পাশাপা‌শি প‌রি‌বেশ সুরক্ষার‌ বিষয়‌টি সু‌নি‌শ্চিত কর‌তে হ‌বে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন-উর রশীদ বলেন, 'ফুলগুলো যেভাবে আছে, সেভাবেই সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে।'

পুকুরটি উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, 'যে আসে, সেই ফুল ছেঁড়ে। এটি একটি হেরিটেজ, পাশাপাশি এলাকাটি ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস এলাকা। এখানে ভিভিআইপি রেস্ট হাউসও রয়েছে। তাই এটি উন্মুক্ত করা ঠিক হবে না।'

ফিরে আসার পর এবার আগাম বার্তা

দুই বছরের শূন্যতার পর এবারই প্রথম প্রচুর প‌রিমা‌নে শ্বেতপদ্ম ফুটেছে হিমনীড়ে। এই আগাম ফুটে ওঠা যেন আরেকটি ইঙ্গিত দিচ্ছে-প্রকৃতি শুধু ফিরে আসেনি, নিজের ছন্দও খুঁজে নিতে শুরু করেছে।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা আরিফুর রহমান বলছিলেন, 'আগে বর্ষা না এলে ফুল দেখা যেত না। এখন বর্ষার আগেই ফুটছে। এটা ভালো লক্ষণ, মানে পদ্মপুকুর আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।'

প‌রি‌বেশকর্মী আরিফুর রহমা‌নের এখন প্রশ্ন একটাই, বর্ষা পুরোপুরি নামলে কি আবারও ফুলে ফুলে ভরে উঠবে পুরো পুকুরটি?

প‌রি‌বেশকর্মীর স‌ঙ্গে একমত পোষণ ক‌রেন ক‌বি হেনরী স্বপন। ক‌বির বিশ্বাস, এই আগাম ফুটে ওঠার পেছনে রয়েছে, প্রকৃতির ভালো কিছুর ইঙ্গিত। সব ঠিক থাকলে হয়তো আগামীর বছরগু‌লো‌তে পদ্মপুকুরের সেই পুরোনো অবয়ব ফিরে আসবে স্বমহিম দৃশ্যে। যেখা‌নে জল দেখা যাবে না, শুধু দৃশ‌্যমান থাক‌বে সাদা ফুল।

বর্ষা এখনো দরজায় কড়া নাড়েনি। তবু হিমনীড় পুকুরে পদ্মফোটার উৎসব শুরু হয়ে গেছে আগেভাগেই। কোনো ঘোষণা নেই, কোনো আয়োজন নেই, তবু জলের বুকজুড়ে ছড়িয়ে রযেছে শত শত শ্বেতপদ্ম। পদ্মফুলের মাথায় উড়ে এসে বসা হাজারো মৌমাছির মতো।

বৈশাখের রঙে রঙিন বরিশালভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। তবু বরিশালের ব্রজ‌মোহন (বিএম) স্কুল মাঠে তখন জনস্রোত। হলুদ-লাল শ...
14/04/2026

বৈশাখের রঙে রঙিন বরিশাল

ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। তবু বরিশালের ব্রজ‌মোহন (বিএম) স্কুল মাঠে তখন জনস্রোত। হলুদ-লাল শাড়িতে মায়েরা, পাঞ্জাবি পরা বাবারা, আর তাদের কোলে বা হাত ধরে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা। সবার মুখে একটাই প্রত্যাশা, নতুন বছরকে একটু ছুঁয়ে দেখার।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম প্রভাতে বরিশাল নগরী যেন নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নিল। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বরিশাল নাটকের আয়োজনে প্রভাতী অনুষ্ঠানের সুর ভেসে গেল আকাশে, "এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।"

সুর-তালে বর্ষবরণ

গান দিয়ে শুরু, গান দিয়েই এগিয়ে চলল অনুষ্ঠান। একের পর এক গান, আবৃত্তি, উদীচীর শিল্পীরা যেন ঢেলে দিলেন নিজেদের সবটুকু। মাঠভর্তি দর্শকের করতালিতে বারবার মুখরিত হয়ে উঠল বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানের মাঝপথে এলো এক আবেগঘন মুহূর্ত। মঞ্চে উঠলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁদের সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে চোখ ভিজে গেল অনেকের। তারপর জাতীয় সঙ্গীতের সুরে মাথা নোয়াল গোটা মাঠ।

রঙিন শোভাযাত্রায় বাংলার মুখ

রাখি বাঁধা হলো, ঢাকে পড়ল কাঠি, আর তারপরই শুরু হলো সেই অপেক্ষার মুহূর্ত। বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে পড়ল চারুকলার বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।

সামনে বিশাল বিশাল মুখোশ, পেছনে রঙিন মুকুট-টোপর মাথায় শিশুদের দল। তালপাখা, টিয়া পাখির প্রতিকৃতি, টাট্টু ঘোড়া, গ্রামবাংলার চেনা ছবিগুলো যেন হেঁটে চলল শহরের রাজপথ ধরে।

শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের মানুষ মিলে একাকার হয়ে গেল সেই মিছিলে। নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রা থামল অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে।

তিন দিনের মেলা, অনন্ত আনন্দ

উৎসব শুধু একদিনেই শেষ নয়। বিএম স্কুল মাঠে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলার গন্ধ, মেলার শব্দ সব মিলিয়ে বরিশাল এখন উৎসবের শহর।

নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন
অনুষ্ঠানে আসা মানুষগুলোর কথায় ছিল একটাই সুর, পুরনো সব গ্লানি ভুলে নতুনের দিকে তাকানো। "সবাই মিলে একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই" এই প্রত্যয়ই যেন বৈশাখের ভোরে বরিশালের মানুষের মুখে মুখে ফিরছিল।

13/04/2026

শুভ নববর্ষ

চৈত্রের রঙে জেগে ওঠে নীল নৃত্যবরগুনা পৌর শহরের বটতলা, লাকুরতলা, কালিবাড়ি আর ফুলতলার অলিগলিতে সোমবার সকাল থেকেই উৎসবের আব...
13/04/2026

চৈত্রের রঙে জেগে ওঠে নীল নৃত্য

বরগুনা পৌর শহরের বটতলা, লাকুরতলা, কালিবাড়ি আর ফুলতলার অলিগলিতে সোমবার সকাল থেকেই উৎসবের আবহ। চৈত্রসংক্রান্তির দিনকে ঘিরে বহু পুরনো লোক-ঐতিহ্য নীল নৃত্য আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে মানুষের অংশগ্রহণে।

সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় নৃত্য। গরম উপেক্ষা করে অন্তত ১৪ জন পুরুষ শিল্পী অংশ নেন এই পরিবেশনায়। মেয়েদের সাজে রঙিন পোশাক, মুখে আবির, পায়ে ঘুঙুর। কেউ শিব, কেউ রাধা-কৃষ্ণের রূপে সেজে নাচে মেতে ওঠেন। ঢাক, কাঁসর আর বাঁশির তালে একেকটি দল পাড়া ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করে তাদের নৃত্য।

শুধু বিনোদন নয়, এই নৃত্য গ্রামীণ সামাজিক বন্ধনেরও একটি অংশ। বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেন চাল, কখনও নগদ অর্থ। এই অংশগ্রহণই উৎসবকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

কৃষ্ণ কর্মকার জানান, ভোর থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। কয়েক ঘণ্টার সাজসজ্জার পর শুরু হয় মূল নৃত্য, যা চলে বিকেল পর্যন্ত। তাঁর মতে, এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্য। যত কষ্টই হোক, আমরা এটাকে ধরে রাখতে চাই।

বাদ্যযন্ত্রের শিল্পী বিধান চন্দ্র রায়ও একই কথা বলেন। তাঁর ভাষায়, সময় বদলেছে, কিন্তু মানুষের আগ্রহ এখনো আছে। সবাই মিলে করলে এই ঐতিহ্য আরও অনেক দূর যাবে।

দুপুরের দিকে গরমের কারণে কিছুটা বিরতি থাকলেও বিকেলে আবার শুরু হয় নাচ। পাড়া-মহল্লার শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই মেতে ওঠেন এই আয়োজনে।

চৈত্রসংক্রান্তির এই দিনে বরগুনার গলিগুলো যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। যেখানে সংস্কৃতি, আনন্দ আর মানুষের অংশগ্রহণ একসঙ্গে মিশে তৈরি করে এক অন্যরকম আবহ।

নীল নৃত্য তাই শুধু একটি লোক-উৎসব নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যা আজও মানুষের ভালোবাসায় টিকে আছে, আর ভবিষ্যতেও টিকে থাকার আশাবাদ জাগায়।

13/04/2026

ঢাক বা‌জে, নাচ চ‌লে

কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরিশালেকুষ্টিয়ায় কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে মাজারে হামলা, অগ্নিসং...
12/04/2026

কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরিশালে

কুষ্টিয়ায় কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সুফি ইমাম আব্দুর রহমান (শামীম) হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশের আগে বিক্ষুব্ধরা নগরীতে একটি মিছিল বের করেন। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান এবং সারাদেশে মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি একে আজাদ, সাধারণ সম্পাদক তুষার সেন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক ভূমিকা সরকার, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুজয় সরকার ও বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ মারিয়া মার্জা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তিন বছর আগের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে। সুফি ইমাম আব্দুর রহমান কোনো অপরাধ করে থাকলে তা আইনের মাধ্যমে প্রমাণ করে আদালতের মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে ‘মব জাস্টিস’র মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।

তাঁরা আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় ‘বিবেকবান মানুষ’ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, শনিবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’এ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় দরবারটির সুফি ইমাম আব্দুর রহমান (শামীম) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।









09/04/2026

মিশ্রীপাড়া সীমা বৌদ্ধ মন্দির

09/04/2026

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকায় বসতবাড়ির জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রবিন্দুতে স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইব্রাহিম প্যাদা, যিনি দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ভগ্নিপতি। জমি দখলে ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বিরোধীয় জমিতে দখলচেষ্টার সময় ইব্রাহিম প্যাদা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

Address

Bakergonj Upazila , Barishal
Barisal

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Payra Barta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Payra Barta:

Share