11/05/2026
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি বা আক্রান্ত হওয়ার হার কিছু নির্দিষ্ট কারণে বেশি দেখা যায়। এর পেছনে জৈবিক, জীবনযাত্রাগত এবং আচরণগত বেশ কিছু কারণ কাজ করে।
প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
# ১ মানসিক চাপ ও কাজের পরিবেশ
অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা পেশাগত বা পারিবারিক কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব (Sedentary lifestyle) রক্তচাপ বাড়িয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে।
# ২. উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ
পুরুষদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রে তা অনিয়ন্ত্রিত থাকে। উচ্চ রক্তচাপকে স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় 'রিস্ক ফ্যাক্টর' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
# ৩. হরমোনের প্রভাব
নারীদের শরীরে **ইস্ট্রোজেন** নামক হরমোন থাকে, যা রক্তনালীকে নমনীয় রাখতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই হরমোনটি স্ট্রোকের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়। তবে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর নারীদের এই সুরক্ষা কমে যায় এবং তখন তাদের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
# ৪. জীবনযাত্রা ও বদভ্যাস
পুরুষদের মধ্যে ধূমপান এবং মদ্যপানের প্রবণতা সাধারণত নারীদের তুলনায় বেশি। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের প্রধান কারণ।
# ৫. স্থূলতা ও খাদ্যাভ্যাস
বাইরের খাবার বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা এবং পেটে মেদ জমা (Abdominal obesity) পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।