26/11/2024
শ্বাশুড়ির কবরের সামনে দাঁড়িয়ে এক পুএবধূর অভিযোগ।
"কেমন আছো মা? আমি চাই ওপাড়ে তুমি খুব ভালো থেকো। তুমি নেই আজ পাঁচ বছর হয়ে গেলো। লোকে বলে মৃ'ত মানুষের নামে কোনো অভিযোগ করতে নেই, বা মনে আনতে নেই। কিন্তু, তোমার প্রতি যে আমার এক আকাশ অভিযোগ জমা! সেগুলো কোথাও প্রকাশ না পেয়ে মনের ভিতরই গুমরে গুমরে ম'র'ছে! আজ কিছুটা প্রকাশ করে মনের সেই ভার হালকা করে নিচ্ছি মা। আর সেই অপরাধের জন্য আমায় ক্ষমা করো।
জানো মা?
তুমি বিনা-দোষে সতেরো বছরী এক কিশোরীর মন ভে'ঙে দিয়েছো। তার সব স্বপ্ন তুমি গুড়িয়ে দিয়েছিলে অবেলায়। সংসার জীবন বানিয়ে দিয়েছো তিক্তময়! জীবিত থাকা কালীন সংসারে এতটুকু শান্তি দেওনি আমায়। সবসময় গরীবের মেয়ে বলেই অবহেলা অ'ব'জ্ঞা করেছো। অথচ এই আমাকেই দেখে শুনেই তোমার ছেলের বউ করে ছিলে। তোমার সব প্রয়োজনে তবুও এই অকর্মা আমাকেই লাগতো। তাও তুমি বিন্দুমাএ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করোনি কখনো।
তুমি এতোটা নিষ্ঠুরতম মা ছিলে যে, গর্ভকালীন সময়টাও একটা মেয়েকে ছাড় দেওনি।
আমার গর্ভকালীন সময়টায় তুমি দিয়েছো আমায় বড় এক পাপের সাজা। তুমি তোমার মনের সকল রাগ উগড়ে নিয়েছিলে আর তোমার ছেলে ছিলো নির্বাক। যা মনে করলে এখনো আমার রুহু কেঁপে উঠে। হয়তো, সেই কালো অতীতের কথা আমি ইহজন্মে ভুলতে পারবো না।
জানো মা?
আমি সব সময় তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে থাকতাম। কারণ, তোমার ভালোবাসা পেলেই বুঝি তোমার ছেলের ভালোবাসা পাবো, এটাই মাথায় ঘুরতো শুধু। কিন্তু, হায়! তোমার ভালোবাসা পাওয়া আমার কাছে শিয়ালের আঙুর-ফল হয়েই রয়ে গেলো! তুমি খুব ভাগ্য করে ছেলে পেয়েছিলে মা, অল্প বয়সী মেয়েও তার মনে জায়গা করতে পারেনি পাছে তোমার ভালোবাসা যদি কম পড়ে! তাইতো, আমিও তাকে "আমার স্বামী" না বলে তোমার ছেলে বলেই সম্মোধন করলাম। আমি মনে করি, সে একটা মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষ! যে কারো স্বামী হওয়ার যগ্যতা রাখে না,এরা শুধুমাত্র মাতৃভক্ত ছেলে হয়েই থাকে।
চিন্তা করো না, মা। তোমার অনুপস্থিতে সে আমাদের ভালোবেসে তোমায় ভুলে যায়নি, বরং এখনো তোমার কথা মনে করে খুউব কাঁদে। প্রতি কথায় তোমায় মিস করে! তুমি খুশী তো মা?
এবার আমি কেমন আছি, শুনবে না মা? শুনো তবে।
আমি ভালো আছি মা, তুমিহীন আমি ভীষণ ভালো আছি। আমি এ-ও জানি, এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি সমাজের সব থেকে ঘৃণ্যিত পুরবধূ হবো! তবুও বলবো, তোমার মৃ'ত্যু'র পর থেকে আমি ভীষণ ভালো আছি। তোমার মৃত্যুর কয়দিন পরই আমি জবটা ছেড়ে দিয়েছি।
জানো, মা? তোমার মৃত্যুর বছর খানিক পরই আমার একটা ছেলে হয়েছে। সব থেকে অবাক বিষয় কি জানো, আমার ছেলেটা দেখতে অনেকটা তোমার মতো হয়েছে। অনেক প্রার্থনার ফল আমার এই ছেলে। আমি প্রতিদিন সৃষ্টিকর্তার নিকট এই ছেলের জন্য মাথা ঠুকেছি। কারণ কি জানো মা?
আমিও ছেলে মানুষ করবো, তাকে অন্ধভক্ত না বানিয়ে ঠিককে ঠিক, ভুলেকে ভুল বলা শিখাবো। তাকে শুধু ভালো সন্তান নয়, কি করে ভালো স্বামী ও ভালো বন্ধু হতে হয় তাও শিখাবো।
যাতে আমার মৃ'ত্যু'র পর, কারো কাছে আমার নামে কোনো অভিযোগ না থাকে। আমি আমার সন্তানদের আদর্শ মানুষ বানাবো। আমার জন্য আর্শীবাদ করো মা, আমি যেন আমার উদেশ্যে সফল হতে পারি।
সবশেষে এটাই বলবো মা, তুমি খুব ভালো থেকো।
আমার কথা ভেবো না মা, তুমিহীনা আমিও ভালো থাকবো!
এখন আর দ'ম বন্ধ হয়ে শ্বাসকষ্ট হয় না আমার, এখন চাইলেই যখন তখন প্রাণ ভরে শ্বাস নেওয়া যায়, মুক্ত আকাশে পাখির মতো উড়ে বেড়ানো যায়,তিনবেলা বঞ্চনা আর খেতে হয়না আমাকে।তুমিহীণা কা'রা'গা'রে'র এক ক'য়ে'দি পেয়েছি #মুক্তির_স্বাদ!"
#অভিযোগ
লেখনীতেঃ #সুমাইয়া_আফরিন_ঐশী
(গল্প- #মুক্তির_স্বাদ। রি-পোস্ট)