17/03/2026
জর্দা শামীমের ভয়ংকর টর্চার
রাজনীতির আড়ালে এক ভয়ংকর ত্রাসের নাম জর্দা শামীম । তার বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাসী অস্র ও বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে । বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার ভিডিও নিয়ে তোলপার চলছে ।
রাজনৈতিকভাবে শামীম একসময় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি ঝালকাঠী-নলছিটি আসনের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমু-এর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। স্থানীয়ভাবে ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজ অবস্থান শক্ত করেন এবং ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করেন।
শামীম আহম্মেদ, যিনি ‘জর্দা শামীম’ নামেও পরিচিত, ঝালকাঠী সদর এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত সাহাব উদ্দিন, যিনি সাবিহা কেমিক্যাল ‘৯৯ শাহী জর্দা’ ব্র্যান্ডের মালিক ছিলেন। পারিবারিকভাবে তিনি দুই বিবাহ করেন শামীম প্রথম ঘরের ২য় সন্তান।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য গড়ে তোলেন। বিলাসী জীবনযাপন, বডিগার্ডসহ চলাফেরা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। ঢাকাসহ বরিশাল ও ঝালকাঠীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় তার মামাবাড়ির সম্পত্তিতে ‘৯৯ শাহী পার্ক’ নামে একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, পার্কের আড়ালে সেখানে নানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলত। দীর্ঘদিন ভয় ও চাপে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পেতেন না।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, সেখানে একটি ‘টর্চার সেল’ পরিচালিত হতো, যেখানে নির্যাতনের ঘটনা ঘটত। কিছু ভিডিও ফুটেজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এসব ভিডিওতে শারীরিক নির্যাতনের বিভিন্ন দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়, যদিও এগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
অতীতে অস্ত্র বহনের একটি ঘটনাও আলোচনায় আসে, যেখানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেকপোস্ট বসালেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, মাদক, অস্ত্র বাণিজ্য ও চোরাচালানসহ নানা অপরাধে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শামীম আহম্মেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত তথ্যগুলো বিভিন্ন অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপিত; নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।