Daily Barisal

Daily Barisal DailyBarisal.com - Like us & (share)to get instant news from Barisal,Bhola, Barguna,Jhalakathi,Potuak

মাদারীপুরে জাল টাকা ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তারমাদারীপুর প্রতি‌নি‌ধি :মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ...
20/07/2026

মাদারীপুরে জাল টাকা ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার

মাদারীপুর প্রতি‌নি‌ধি :

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ দীন ইসলাম ঢালী (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৮)।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চরজগমোহন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দীন ইসলাম ওই এলাকার মহসিন ঢালীর ছেলে।

র‍্যাব-৮, সিপিসি-৩ (মাদারীপুর) সূত্রে জানা যায়, চরজগমোহন এলাকায় একটি বাড়িতে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ২ থেকে ৩ জন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে দীন ইসলাম ঢালীকে আটক করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার সহযোগী সুজন ঢালীর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি কালার প্রিন্টার, জাল নোট তৈরির রং, একটি পেপার কাটার, একটি স্কেল, দুটি চপিং বোর্ড, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং জাল নোট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ৯৫০টি এ-ফোর (A4) সাইজের কাগজ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দীন ইসলাম ঢালী স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট তৈরি করে সেগুলো আসল টাকার মতো বাজারে সরবরাহ করে আসছিলেন।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-ক ধারায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিমান হামলা, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কমিজানুর রহমান মুন্সী ( ইতালি প্রতি‌নি‌ধি)বাংলাদেশের...
02/07/2026

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিমান হামলা, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক

মিজানুর রহমান মুন্সী ( ইতালি প্রতি‌নি‌ধি)
বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, জাদিমুরা, হ্নীলা ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বুধবার (১ জুলাই) দিনভর এবং রাতেও রাখাইনের মংডু ও বুথিডং এলাকার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্ত এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
শাহপরীর দ্বীপের একাধিক বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের জন্য ভূমিকম্প হচ্ছে বলে মনে হয়েছিল। সীমান্তের ওপারে আগুনের ঝলকানিও দেখা যায় বলে দাবি করেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে সংঘর্ষ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. আনিক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার শব্দ বাংলাদেশ সীমান্তে শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো গোলা বা মর্টার এসে পড়ার কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রায় সাত মাসের বিরতির পর সীমান্ত এলাকায় আবারও এ ধরনের হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

নেশাগ্রস্ত ছেলের কারণে বাবার মৃত্যু, তবুও নেশা থেকে ফেরেনি ছেলে গৌরনদী প্রতি‌নি‌ধি :  নেশায় আসক্ত একমাত্র ছেলেকে সুপথে ...
01/07/2026

নেশাগ্রস্ত ছেলের কারণে বাবার মৃত্যু, তবুও নেশা থেকে ফেরেনি ছেলে

গৌরনদী প্রতি‌নি‌ধি : নেশায় আসক্ত একমাত্র ছেলেকে সুপথে ফেরাতে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন অসহায় এক বাবা। কিন্তু ছয় মাস পর দেশে ফিরে এসে সেই ছেলে আবারও মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ছেলেকে মাদকের পথ থেকে ফেরাতে না পেরে মানসিক চাপ, ঋণের বোঝা এবং দুশ্চিন্তায় শেষ পর্যন্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবা।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ঘটনাটি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের সরদার বাড়ির।

জানা যায়, দিনমজুর বাবুল সরদারের একমাত্র ছেলে রনি সরদার (২২) ইয়াবা সেবন এবং সেই নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। অসহায় দিনমজুর বাবা ছেলেকে নেশার পথ থেকে ফেরানোর আশায় ধার-দেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে পাঠান। কিন্তু সৌদিতে মাত্র ছয় মাস থাকার পর রনি দেশে ফিরে আসে। এরপর আবারও ইয়াবা ও গাঁজা সেবন এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে ঋণের বোঝা ও ছেলের কর্মকাণ্ড নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে থাকেন বাবা বাবুল সরদার। অবশেষে চলতি বছরের ১৪ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

একাধিক ব্যক্তি জানান, রনি সরদার নেশায় জড়িয়ে পড়ার পর তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফিরে এসে সে আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। বাবার মৃত্যু হলেও তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
একই এলাকার বিএনপি নেতা চুন্নু সরদারসহ এলাকাবাসী জানান, তাকে হাতেনাতে আটক করতে পারলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।

গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, “মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত মামলা করে আদালতে পাঠাই। কিন্তু কয়েকদিন পর আবারও দেখা যায় তারা একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তারপরও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে, মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

"তাকওয়া (تقوى) ও হেদায়াহ (هداية) : আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে মানব জীবনের আলোকবর্তিকা" # আলহাজ্ব মোঃ নূর ইসলাম খান অসি ইসলাম...
30/06/2026

"তাকওয়া (تقوى) ও হেদায়াহ (هداية) : আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে মানব জীবনের আলোকবর্তিকা"
# আলহাজ্ব মোঃ নূর ইসলাম খান অসি

ইসলামের দৃষ্টিতে তাকওয়া (تقوى) ও হেদায়াহ (هداية) কী?
ভূমিকা
ইসলামে মানুষের সফলতা কেবল পার্থিব জ্ঞান, সম্পদ বা মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস, তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ এবং সৎ পথে জীবন পরিচালনার ওপর নির্ভরশীল। এই পথচলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তাকওয়া (تقوى) ও হেদায়াহ (هداية)। একটি মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, অন্যটি তাকে সেই পথের সন্ধান ও চলার তাওফিক দান করে।
তাকওয়া (تقوى):
তাকওয়া শব্দটি আরবি ধাতু وَقَى (ওয়াক্বা) থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো—রক্ষা করা, বাঁচানো, নিজেকে সংযত রাখা। ইসলামী পরিভাষায় তাকওয়া বলতে বোঝায়:
আল্লাহ তায়ালার প্রতি গভীর সচেতনতা, ভালোবাসা ও ভয় রেখে এমনভাবে জীবন পরিচালনা করা, যাতে মানুষ আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে অগ্রসর হয়।

তাকওয়ার অর্থ শুধু ভয় নয়; বরং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর প্রতি দায়িত্ববোধ এবং নিজের কাজের জন্য জবাবদিহিতার অনুভূতিও এর অন্তর্ভুক্ত। একজন মুত্তাকি ব্যক্তি গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেন এবং পাপ, অন্যায় ও অনৈতিক কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।

তাকওয়া সম্পর্কে হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর একটি বিখ্যাত উদাহরণ রয়েছে। হজরত উমর (রা.) তাঁকে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন—একটি কাঁটাযুক্ত পথে চলার সময় মানুষ যেমন সতর্কতার সঙ্গে নিজের কাপড় ও শরীরকে কাঁটা থেকে রক্ষা করে, তেমনি আল্লাহর বান্দা জীবনপথে সতর্কতার সঙ্গে নিজেকে গুনাহ থেকে রক্ষা করবে। এটাই তাকওয়া।

তাকওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য:
আল্লাহ সর্বদা আমাদের দেখছেন—এই বিশ্বাস ও সচেতনতা রাখা।
আল্লাহর আদেশ পালন করা এবং তাঁর নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকা।
গোপনে ও প্রকাশ্যে নৈতিকতা বজায় রাখা।
নফসের (প্রবৃত্তির) খারাপ আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা।
মানুষের প্রতি ন্যায়, দয়া ও উত্তম আচরণ করা।
হালাল-হারাম ও বৈধ-অবৈধ বিষয়ে সতর্ক থাকা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক সম্মানিত, যে অধিক তাকওয়াবান।"
(সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৩)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলামে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা বংশ, সম্পদ বা বাহ্যিক পরিচয়ে নয়; বরং তাকওয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

হেদায়াহ (هداية):
হেদায়াহ শব্দটি আরবি هداية (হিদায়াহ) থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো—পথ দেখানো, সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং সঠিক পথে পরিচালিত করা।

ইসলামী পরিভাষায় হেদায়াহ হলো মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এমন এক বিশেষ অনুগ্রহ, যার মাধ্যমে মানুষ সত্যকে চিনতে পারে, সঠিক বিশ্বাস গ্রহণ করতে পারে এবং ন্যায় ও সৎকর্মের পথে চলার তাওফিক লাভ করে।

হেদায়াহ শুধু সঠিক পথের পরিচয় পাওয়া নয়; বরং সেই পথে চলার জন্য আল্লাহর সাহায্য ও অন্তরের দৃঢ়তাও এর অন্তর্ভুক্ত।
হেদায়াহর প্রধান দুটি দিক
১. সত্য পথের পরিচয় লাভ:
আল্লাহ মানুষকে বিবেক, বুদ্ধি, নবী-রাসুল এবং আসমানি কিতাবের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বোঝার সুযোগ দিয়েছেন।
২. সত্য পথে চলার তাওফিক লাভ:
শুধু সত্য জানা যথেষ্ট নয়; সেই সত্যকে গ্রহণ করে জীবন পরিচালনা করার শক্তি, আগ্রহ ও স্থিরতা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।

হেদায়াহর বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যেমন—
১. আল্লাহ প্রদত্ত সহজাত জ্ঞান ও বিবেক, যার মাধ্যমে মানুষ ভালো-মন্দের প্রাথমিক ধারণা লাভ করে।
২. নবী-রাসুল ও আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে সত্যের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা লাভ।
৩. আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বা তাওফিক, যার মাধ্যমে মানুষের অন্তরে ঈমানের আলো দৃঢ় হয়।
পবিত্র কুরআনে আমরা প্রতিদিন প্রার্থনা করি:
"আমাদের সরল পথ দেখান।"
(সূরা আল-ফাতিহা ১:৬)

তাকওয়া ও হেদায়াহর সম্পর্ক
তাকওয়া ও হেদায়াহ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
হেদায়াহ মানুষকে সঠিক পথ চিনতে সাহায্য করে, আর তাকওয়া মানুষকে সেই পথে অবিচল থাকতে সাহায্য করে।

পবিত্র কুরআনের শুরুতেই আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকিদের জন্য এটি পথনির্দেশ।"
(সূরা আল-বাকারা ২:২)
এখানে বোঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর বাণী থেকে প্রকৃত উপকার লাভের জন্য মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি, বিনয় ও সত্য গ্রহণের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।

তাকওয়া ও হেদায়াহ অর্জনের বাস্তব উপায়:
তাকওয়া ও হেদায়াহ আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ হলেও মানুষকে তা অর্জনের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা করতে হয়। তাকওয়া অর্জনের জন্য প্রথমত প্রয়োজন আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান, তাঁর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনা করা। কুরআন তিলাওয়াত, সালাত আদায়, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত রাখা তাকওয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক। একই সঙ্গে গুনাহের কারণ ও প্রবৃত্তির খারাপ প্রবণতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে হবে।
হেদায়াহ লাভের জন্য প্রয়োজন সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা, আল্লাহর বাণী ও নবী-রাসুলদের শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং বিনয়ের সঙ্গে সত্যকে গ্রহণ করা। মানুষ যখন আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে সঠিক পথের জন্য প্রার্থনা করে, নিজের ভুল সংশোধনের চেষ্টা করে এবং সৎকর্মে অগ্রসর হয়, তখন আল্লাহর রহমতে তার অন্তর হেদায়াহর আলোয় আলোকিত হয়।
তাই তাকওয়া ও হেদায়াহ অর্জন কোনো একদিনের বিষয় নয়; বরং এটি সারাজীবনের একটি আত্মশুদ্ধির যাত্রা। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো জ্ঞান, আমল, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে এই পথে অবিচল থাকা।

উপসংহার
সংক্ষেপে বলা যায়, হেদায়াহ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত সঠিক পথের দিশা, আর তাকওয়া হলো সেই পথে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চলার জীবনব্যবস্থা।
যে ব্যক্তি হেদায়াহ লাভ করে এবং তাকওয়ার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করে, সে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের পথে অগ্রসর হয়।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক হেদায়াহ দান করুন, তাকওয়ার সঙ্গে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ দান করুন—আমিন।

* লেখক পরিচিতি : আলহাজ্ব মোঃ নূর ইসলাম খান অসি
অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক (অপারেশন),
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি),
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
মোবা: ০১৭১১৫৮৫৮৭৫।

29/06/2026

গৌরনদী‌তে মডেল মসজিদ নির্মান নিয়ে স্বরয‌ন্ত্র

বিগত সরকারের সময়ে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে মক্তব এবং পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দেশের অধিকাংশ উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে ইতোমধ্যে নামাজ আদায় শুরু হলেও, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মডেল মসজিদটি দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মিত হয়নি।

পরবর্তীতে স্থানসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে পৌর সদরের আশোকাঠী এলাকায় প্রশিকা অফিস ও ব্র্যাক অফিসের মধ্যবর্তী স্থানে জমি নির্ধারণ ও অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর নানা প্রক্রিয়া শেষে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালু ভরাটের কাজ ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দন্দ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জেলা উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার নামও আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বালু ভরাটের কাজের বিপরীতে অর্থ লেনদেন নিয়ে নানা বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইব্রা‌হিম ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্পে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কাজ বন্ধের বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা ছাড়া তিনি কাজ বন্ধ করতে রাজি নন।

পরবর্তীতে পুনরায় উপরের মহলের নির্দেশে
কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও জানা যায়।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মডেল মসজিদের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ কী কারণে কাজ বন্ধ হয়ে গেল, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কিছু জানেন না। এলাকাবাসীর দাবি, নির্ধারিত স্থানেই মসজিদের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হোক। ন‌চেৎ বৃহত আন্দোলন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হ‌বে। প্রয়োজ‌নে ঢাকা ব‌রিশাল মহা সড়ক অব‌রোধ ক‌রার হুম‌কি দেয়া হয় ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তি‌নি কো‌নো বক্তব‌্য প্রদান ক‌রেন নি !

29/06/2026
"নিজকে জানো-০১" !বর্তমানে পৃথিবীতে আনুমানিক ৭,০০০-এর বেশি জীবিত ভাষা প্রচলিত আছে। বিভিন্ন ভাষাবিজ্ঞান সংস্থার হিসাব অনুয...
28/06/2026

"নিজকে জানো-০১" !

বর্তমানে পৃথিবীতে আনুমানিক ৭,০০০-এর বেশি জীবিত ভাষা প্রচলিত আছে। বিভিন্ন ভাষাবিজ্ঞান সংস্থার হিসাব অনুযায়ী সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে, কারণ কোনোটি আলাদা ভাষা নাকি উপভাষা—এ নিয়ে মতভেদ থাকে।

বিশ্বের বেশি প্রচলিত ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
English language
Mandarin Chinese
Hindi
Spanish language
Arabic language
Bengali language
বিশ্বের ভাষাগুলো প্রধানত কয়েকটি ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যেমন—ইন্দো-ইউরোপীয়, আফ্রো-এশীয়, সিনো-তিব্বতীয়, নাইজার-কঙ্গো ইত্যাদি।

আরবি ভাষা একটি প্রাচীন সেমিটিক ভাষা। এর শিকড় বহু হাজার বছর পুরোনো। তবে "আরবি ভাষা" বলতে কোন পর্যায় বোঝানো হচ্ছে তার ওপর সময় নির্ভর করে।
প্রাচীন আরবি ভাষার প্রমাণ পাওয়া যায় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১ম সহস্রাব্দের (প্রায় ২,৫০০–৩,০০০ বছর আগে) আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন শিলালিপিতে।
Pre-Islamic Arabia-তে বিভিন্ন আরবি উপভাষা প্রচলিত ছিল।

Quran অবতীর্ণ হওয়ার সময় (৭ম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দে) আরবি ভাষা একটি সুসংগঠিত সাহিত্যিক রূপ লাভ করে, যা পরে ধ্রুপদি আরবি (Classical Arabic) নামে পরিচিত হয়।
ইসলামের বিস্তারের সঙ্গে ৭ম শতাব্দীর পর আরবি মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
অর্থাৎ, আরবি ভাষার প্রাচীন রূপের ইতিহাস দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো, আর এর সাহিত্যিক ও আন্তর্জাতিক বিস্তার বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায় ৭ম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দের পর।

আরবি মাসগুলোর (যেমন মুহররম, সফর, রমজান ইত্যাদি) নাম ইসলামের আগেও আরব সমাজে প্রচলিত ছিল। এগুলোর অধিকাংশ নাম প্রাচীন আরবদের ব্যবহৃত চন্দ্রভিত্তিক (লুনার) ক্যালেন্ডার থেকে এসেছে।
আরবি ১২ মাসের নাম হলো:
১. মুহররম (المحرّم)
২. সফর (صفر)
৩. রবিউল আউয়াল (ربيع الأول)
৪. রবিউস সানি/আখির (ربيع الآخر)
৫. জমাদিউল আউয়াল (جمادى الأولى)
৬. জমাদিউস সানি/আখির (جمادى الآخرة)
৭. রজব (رجب)
৮. শাবান (شعبان)
৯. রমজান (رمضان)
১০. শাওয়াল (شوال)
১১. জিলকদ (ذو القعدة)
১২. জিলহজ (ذو الحجة)
কবে থেকে এই নামগুলো চালু হয়?
সুনির্দিষ্টভাবে কোন এক দিনে এই নামগুলোর শুরু হয়েছিল—তার প্রমাণ নেই। তবে এগুলো ইসলাম-পূর্ব আরবদের মধ্যে বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৫ম–৬ষ্ঠ শতাব্দীর আগেও এসব নাম আরবদের মধ্যে পরিচিত ছিল বলে ঐতিহাসিকদের ধারণা।

Hijra-এর পর Islamic calendar প্রবর্তিত হলে এই মাসগুলোর নাম সরকারি ও ধর্মীয় ব্যবহারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
Umar ibn al-Khattab-এর শাসনামলে (প্রায় ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে) হিজরি সন গণনা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়, যার প্রথম মাস ধরা হয় মুহররম।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আরবদের প্রাচীন ক্যালেন্ডার ছিল চন্দ্রভিত্তিক, তবে ইসলাম Quran-এ চন্দ্রমাসের হিসাবকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং হিজরি ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণভাবে ১২টি চন্দ্রমাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আশুরা বলতে সাধারণত মুহররম মাসের ১০ম দিনকে বোঝানো হয়। আরবি শব্দ “আশুরা” (عاشوراء) অর্থ হলো “দশম”। ইসলামী ঐতিহ্যে এই দিনটি বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত হিসেবে রোজা পালনের কারণে এবং Battle of Karbala-এর স্মৃতির কারণে।

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী:
মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদেরকে আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন—এই ঘটনার স্মরণে ইহুদি সম্প্রদায় মুহররমের ১০ তারিখে (তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভিন্ন তারিখে) উপবাস করত।

মদিনায় হিজরতের পর মুহাম্মদ (সা.) ইহুদিদের এই উপবাসের কথা জানতে পারেন এবং মুসলমানদেরও এই দিনে রোজা রাখার উৎসাহ দেন।
পরে রমজান-এর রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা ফরজ না থেকে নফল/সুন্নত রোজা হিসেবে মর্যাদা পায়।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আশুরার রোজার সঙ্গে আগের ও পরের দিন মিলিয়ে (৯-১০ বা ১০-১১ মুহররম) রোজা রাখার কথাও উল্লেখ আছে।

কোন কোন ধর্মের অনুসারীরা আশুরা পালন করে?
১. মুসলমানরা
Sunni Islam অনুসারীরা সাধারণত ১০ মুহররমে নফল রোজা রাখেন। অনেকে ৯ বা ১১ মুহররমের সঙ্গে মিলিয়ে রোজা রাখেন।
Shia Islam অনুসারীদের কাছে আশুরার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ তারা ১০ মুহররম ৬১ হিজরিতে কারবালার যুদ্ধে Husayn ibn Ali (রা.)-এর শাহাদাতকে স্মরণ করেন। তারা শোকানুষ্ঠান, মজলিস ও স্মরণসভা পালন করেন; অনেক শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে রোজা পালনের রীতিও দেখা যায়।

২. ইহুদি সম্প্রদায়
ইহুদি ঐতিহ্যে মুহররমের ১০ তারিখ নয়, বরং তাদের নিজস্ব চান্দ্র ক্যালেন্ডারের Yom Kippur-এর মতো কিছু উপবাসের দিন রয়েছে। ইসলামি সূত্রে যে ইহুদিদের আশুরার দিনে উপবাসের কথা এসেছে, তা মূলত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বর্তমান ইহুদি ধর্মে “আশুরা” নামে কোনো প্রধান ধর্মীয় দিবস নেই।

সংক্ষেপে আশুরা = মুহররম মাসের ১০ তারিখ।
মুসলমানদের মধ্যে এর প্রধান প্রচলন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগ থেকে।
সুন্নি মুসলমানদের কাছে এটি নফল রোজার দিন।
শিয়া মুসলমানদের কাছে এটি কারবালার শাহাদাত স্মরণের গুরুত্বপূর্ণ দিন।
এর ঐতিহাসিক শিকড় মুসা (আ.)-এর যুগের ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত বলে ইসলামী ঐতিহ্যে বর্ণিত হয়েছে।
মহাব আল্লাহ আপনাকে উপকারী জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দান করুন।
মহান আল্লাহ আপনাকে জ্ঞান অন্বেষণের আগ্রহে বরকত দান করুন। আমিন।

২৭-০৬-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

* লেখক পরিচিতি : আলহাজ্ব মোঃ নূর ইসলাম খান অসি
অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক (অপারেশন),
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি),
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
মোবা: ০১৭১১৫৮৫৮৭৫।

Address

Barisal

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Daily Barisal posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Daily Barisal:

Shortcuts

Share

Category