Dil. Se. Ulfat

Dil.  Se.  Ulfat � আমি – সেই,
যে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে
সেজদার জমিনে,
আর প্রিয়তমকে খুঁজছে
জান্নাতের পথে। ��

20/03/2026
সওদার সাথে বিবাহখাদীজা (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর বিপর্যস্ত সংসারের হাল ধরার জন্য এবং মাতৃহারা কন্যাদের দেখাশুনার জন্য রাসূলুল্...
19/03/2026

সওদার সাথে বিবাহ

খাদীজা (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর বিপর্যস্ত সংসারের হাল ধরার জন্য এবং মাতৃহারা কন্যাদের দেখাশুনার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাওদাহ বিনতে যাম'আহ নাম্নী জনৈকা বিধবা মহিলাকে বিবাহ করেন ১০ম নববী বর্ষের শাওয়াল মাসে।

উল্লেখ্য যে, রাসূল (সাঃ)-এর ৪ কন্যার মধ্যে ৩য় ও ৪র্থ উম্মে কুলছুম ও ফাতেমা তখন অবিবাহিতা ছিলেন।

সাওদা ও তার পূর্ব স্বামী সাকরান বিন আমর (سَكْرَانُ بن عَمْرُو) উভয়ে ইসলাম কবুল করার পর হাবশায় হিজরত করেন।

অতঃপর সেখানেই অথবা সেখান থেকে মক্কায় ফিরে এসে তার স্বামী ইনতেকাল করেন।

এ সময় মৃত স্বামীর পাঁচটি বা ছয়টি সন্তানের গুরুভার এসে পড়েছিল সওদার উপরে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য তার সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্বসহ সওদাকে বিয়ে করেন।

[আহমাদ হা/২৯২৬; সিলসিলা সহীহাহ হা/২৫২৩]

সওদা অত্যন্ত দৃঢ় ঈমানের ও বলিষ্ঠ চরিত্রের মহিলা ছিলেন।

তিনিই প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেন।

অতঃপর তার প্রভাবে তার স্বামী সাকরান ইসলাম কবুল করেন।

তাঁরা ১ম হাবশায় হিজরতকারী ৮৩ জনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ইসলামের জন্য তাদেরকে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয় (ইবনু হিশাম ১/৩২১-৩২)।

#রাসূল(স.) #এর #জীবনী
#অধ্যায়২৯

আবু ত্বালিব ও খাদীজার মৃত্যু পর্যালোচনাসামান্য ব্যবধানে জীবনের দু'জন শ্রেষ্ঠ সহযোগীকে হারিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিদারুণভা...
18/03/2026

আবু ত্বালিব ও খাদীজার মৃত্যু পর্যালোচনা

সামান্য ব্যবধানে জীবনের দু'জন শ্রেষ্ঠ সহযোগীকে হারিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিদারুণভাবে মর্মাহত ও বেদনাহত হন।

জীবন থাকলে মৃত্যু আসবেই।

এটাই প্রাণীজগতের চিরন্তন নিয়ম।

নিকটজনেরা এতে ব্যথিত হবেন এটাই স্বাভাবিক।

রহমাতুল্লিল 'আলামীন হিসাবে দয়াশীল নবীর জন্য এটা ছিল আরও বেশী বেদনাময়।

কিন্তু তার অর্থ এটা নয় যে, এ কারণে এ বছরকে 'দুঃখের বছর' )عامُ الْحُزْنِ( হিসাবে অভিহিত করতে হবে। [1]

রাসূল (সাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম কখনো এরূপ নামকরণ করেননি।

এমনকি সীরাতে ইবনে ইসহাক, ইবনু হিশাম বা পরবর্তী কোন সীরাত গ্রন্থে এ নামের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর একমাত্র ডৎস আমি খুজে পেয়েছি কাসত্বালানীর আল-মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়াহ কিতাবের মধ্যে।

যেখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন শায়খ সা'আতী )الساعاتی( আহমাদ আব্দুর রহমান আল-বান্না (১৮৮৫-১৯৫৮ খৃঃ)।

যিনি মিসরের ইখওয়ানুল মুসলেমীন-এর প্রতিষ্ঠাতা শায়খ হাসানুল বান্না (১৯০৬-১৯৪৯ খৃঃ)-এর পিতা ছিলেন।

তিনি স্বীয় কিতাব ফাল্গুর রববানী )২০/২২৬)-এর মধ্যে বলেন,

وَكَانَ رَسُوْلُ الله صلى الله عليه وسلم يُسَمَّى ذَلِكَ الْعَامَ عَامَ الْحُزْنِ، كَذَا فِي الْمَوَاهِبِ اللَّدُنْيَةِ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উক্ত বছরকে 'দুঃখের বছর' হিসাবে অভিহিত করতেন।

যেমন মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়াহ-তে বর্ণিত হয়েছে।

অথচ কাসত্বালানী সেখানে সূত্র হিসাবে উল্লেখ করেছেন, فيما ذكره صاعد

ছা'এদ যেমন বর্ণনা করেছেন।

আলবানী বলেন, ছা'এদ একজন অপরিচিত ব্যক্তি।

যাকে কেউ চেনে না এবং কেউ তাকে বিশ্বস্ত বলেননি।

আর কাসত্বালানীর কথায় বুঝা যায় যে, তিনি এটাকে 'সংযুক্তি' )تعلیق( হিসাবে এনেছেন কোনরূপ সনদ ছাড়াই।

অতএব এটি 'মু'যাল' পর্যায়ের দুর্বলতম বর্ণনা।

যা বিশুদ্ধ নয়। [2]

উল্লেখ্য যে, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ক্বাসত্বালানী (৮৫১-৯২৩ হি.) ছিলেন একাধারে সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার ও রাসূল (সাঃ)-এর জীবনীকার।

এতদ্ব্যতীত সীরাহ হালাবিইয়াহ-তে সনদ বিহীনভাবে বলা হয়েছে যে,

'রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উক্ত বছরকে 'দুঃখের বছর' হিসাবে অভিহিত করতেন' (সীরাহ হালাবিইয়াহ ৩/৫২১)।

জীবনীকার মুহাম্মাদ আল-গাযালী (মৃ. ১৪১৬ হি.) একই শিরোনাম করেছেন (ফিকহুস সীরাহ ১৩১ পৃঃ)।

আমরা মনে করি যে, রাসূল (সাঃ)-এর পুরা জীবনী সামনে রাখলে তার মধ্যে বদর বিজয় ও মক্কা বিজয়সহ অন্যান্য বিজয়ের আনন্দগুলি বাদ দিলে সেখানে বরং দুঃখের পাল্লাই ভারি হবে।

এমনকি ব্যক্তি জীবনে ৪ কন্যা ও ৩ পুত্র সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও কেবল ফাতেমা ব্যতীত ৬ সন্তানই তাঁর জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

পিতা হিসাবে এটি তাঁর জীবনে কম দুঃখের ছিল না।

অতঃপর দাওয়াতী জীবনে তিনি ও তাঁর সাথী সাহাবীগণ দ্বীনের জন্য যে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন, ইতিহাসে তার তুলনা বিরল।

বিশেষ করে তায়েফে নির্যাতনের ঘটনাকে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

[বুখারী হা/৩২৩১; মুসলিম হা/১৭৯৫]

অতঃপর মাদানী জীবনে তৃতীয় হিজরীতে ওহুদ যুদ্ধে তাঁর নিজের দাঁত ভাঙ্গা ও চাচা হামযাসহ ৭০ জন প্রাণপ্রিয় সাথীকে হারানো,

চতুর্থ হিজরীর ছফর মাসে রাজী' কুয়ার নিকটে ১০ জন সাহাবী ও তার কয়েকদিন পরে মাউনা কূয়ার নিকটে ৭০ জন শ্রেষ্ঠ ক্বারী সাহাবীকে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে হত্যা করার মর্মান্তিক ঘটনা।

যেজন্য তিনি মাসব্যাপী পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ঐসব বিশ্বাসঘাতক শত্রুদের বিরুদ্ধে বদদো'আ করে কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করেন।

[বুখারী হা/ ৪০৯৬; মুসলিম হা/৬৭৭; মিশকাত/ ১২৮৯-৯০]

যে ঘটনাগুলির ফলে মাত্র ছ'মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন সাহাবী শহীদ হয়ে যান।

তাদের হারানোর বেদনায় ব্যথিত হয়ে তিনি কিন্তু কখনো দুঃখের বছর কিংবা শোকের মাস বা শোকের দিবস ইত্যাদি পালন করেননি।

যেমনভাবে বর্তমান যুগে করা হয়ে থাকে।

বস্তুতঃ কোন বছরই একচেটিয়া দুঃখের বা আনন্দের নয়।

বরং প্রতিটি মুহূর্তেই আনন্দ ও বেদনার আগমন-নির্গমন ঘটে থাকে আল্লাহর হুকমে।

তিনি বলেন—

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

নিশ্চয়ই প্রত্যেক কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।

নিশ্চয়ই প্রত্যেক কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।

(ইনশিরাহ ৯৪/৫-৬)

তাই কোন একটি সময়, দিন, মাস বা বছরকে আনন্দের বা দুঃখের বছর বলে অভিহিত করা আল্লাহর চিরন্তন বিধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের শামিল।

রাসূল (সাঃ) বলেন—

قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ، بِيَدِي الأَمْرُ، أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ

'আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়।

সে যামানাকে গালি দেয়।

অথচ আমিই যামানা।

আমার হাতেই সকল ক্ষমতা।

আমিই রাত্রি ও দিবসের আবর্তন-বিবর্তন ঘটাই।'

[বুখারী হা/৪৮২৬; মুসলিম হা/২২৪৬; মিশকাত হা/২১]

অতএব ভাল-মন্দ ও দুঃখ-আনন্দ নিয়ে জীবন।

যা আল্লাহর অমোঘ বিধান।

বান্দাকে তা মেনে নিয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

একারণেই ইসলামে কোন দিবস পালনের বিধান নেই।

কেবল আনন্দের দিন হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে জুম'আ, ঈদায়েন, হজ্জ ও আইয়ামে তাশরীক্বের তিনদিন সহ গড়ে সাত দিন।

যা হজ্জে আগমনকারী ব্যতীত অন্যদের জন্য ছয় দিন।

ও প্রতিটি আনন্দের দিনই ইবাদতের পবিত্রতার সাথে সম্পৃক্ত।

সেখানে আনন্দের নামে কোনরূপ অনর্থক আমোদ-ফুর্তি অনুষ্ঠানসর্বস্ব পার্থিবতার কোন সুযোগ নেই।

অতএব চাচা আবু ত্বালিব ও স্ত্রী খাদীজা (রাঃ)-এর স্বাভাবিক মৃত্যুর কারণে ১০ম নববী বর্ষকে 'দুঃখের বছর' )عَامُ الْحُزْن( বলে অভিহিত করা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।

তাই এরূপ আখ্যায়িত করা হতে বিরত থাকা আবশ্যক।

#রাসূল (স.) #এর #জীবনী
#অধ্যায়২৮

খাদীজা (রাঃ)-এর মৃত্যুস্নেহশীল চাচা আবু ত্বালিবের মৃত্যুর অনধিক তিন মাস পরে দশম নববী বর্ষের রামাযান মাসে প্রাণাধিক প্রিয়...
17/03/2026

খাদীজা (রাঃ)-এর মৃত্যু

স্নেহশীল চাচা আবু ত্বালিবের মৃত্যুর অনধিক তিন মাস পরে দশম নববী বর্ষের রামাযান মাসে প্রাণাধিক প্রিয়া স্ত্রী খাদীজাতুল কুবরা ‘তাহেরা’-র মৃত্যু হয় (আর-রাহীক্ব ১১৬ পৃঃ)।

তবে ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, আবু ত্বালিবের মৃত্যুর তিন দিন পরে খাদীজার মৃত্যু হয় (যাদুল মা'আদ ৩/২৮)।

এ সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর এবং রাসূল (সাঃ)-এর বয়স ছিল ৫০ বছর।

দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ বয়কটকালীন নিদারুণ কষ্ট অবসানের মাত্র ৬ মাসের মাথায় চাচা, অতঃপর স্ত্রীকে হারিয়ে শত্রু পরিবেষ্টিত ও আশ্রয়হারা নবীর অবস্থা কেমন হয়েছিল, তা চিন্তাশীল মাত্রই বুঝতে পারেন।

চাচা আবু তালেব ছিলেন সামাজিক জীবনে রাসূল (সাঃ)-এর জন্য ঢাল স্বরূপ।

অন্যদিকে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক জীবনে খাদীজা ছিলেন তাঁর বিশ্বস্ততম নির্ভরকেন্দ্র।

দাম্পত্য জীবনের পঁচিশ বছর সেবা ও সাহচর্য দিয়ে, বিপদে শক্তি ও সাহস যুগিয়ে, অভাব-অনটনে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে, হেরা গুহায় নিঃসঙ্গ ধ্যান ও সাধনাকালে অকুণ্ঠ সহমর্মিতা দিয়ে, নতুনের শিহরণে ভীত-চকিত রাসূলকে অনন্য সাধারণ প্রেরণা, উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে, অতুলনীয় প্রেম, ভালবাসা ও সহানুভূতি দিয়ে রাসূল (সাঃ)-এর জীবনে তিনি ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জীবন্ত নে'মত স্বরূপ।

তিনি ছিলেন শেষ সন্তান ইবরাহীম ব্যতীত রাসূল (সাঃ)-এর সকল সন্তানের মা।

তিনি ছিলেন বিশ্বসেরা চারজন সম্মানিতা মহিলার অন্যতম।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন—

أَفْضَلُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ وَفَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ وَمَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَآسِيَةُ

“মহিলাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ, ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ, মারিয়াম বিনতে ইমরান ও ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুযাহিম।”

[আহমাদ হা/ ২৬৬৮; তিরমিযী হা/ ৩৮৭৮; মিশকাত হা/ ৬১৮১]

খাদীজা (রাঃ) ছিলেন সেই মহীয়সী মহিলা যাকে জিব্রীল (আঃ) নিজের পক্ষ হতে ও আল্লাহর পক্ষ হতে রাসূল (সাঃ)-এর মাধ্যমে তাঁকে সালাম দেন এবং জান্নাতে তাঁর জন্য বিশেষভাবে নির্মিত মুক্তাখচিত প্রাসাদের সুসংবাদ দেন।

[বুখারী হা/ ১৭৯২, ৩৮২০; মুসলিম হা/ ২৪৩৩; মিশকাত হা/ ৬১৭৬]

তিনিই একমাত্র স্ত্রী যার জীবদ্দশায় রাসূল (সাঃ) অন্য কোন স্ত্রী গ্রহণ করেননি।

এবং তাঁর মৃত্যুর পরেও আজীবন রাসূল (সাঃ) তাঁকে বারবার স্মরণ করেছেন।

অন্য স্ত্রীদের সামনে অকণ্ঠচিত্তে তাঁর প্রশংসা করেছেন।

এমনকি তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে খাদীজার বান্ধবীদের কাছেও উপঢৌকন পাঠাতেন।

[বুখারী হা/ ৩৮১৮; মুসলিম হা/ ২৪৩৫; মিশকাত হা/ ৬১৭৭]

#রাসূল (স.) #এর #জীবনী #অধ্যায়২৭

আবু ত্বালিবের মৃত্যু১০ম নববী বর্ষের মুহাররম মাসে বয়কট শেষ হওয়ার ঠিক তিন বছরের মাথায় এবং ছয় মাস পরে রজব মাসে আবু ত্বালিবে...
16/03/2026

আবু ত্বালিবের মৃত্যু

১০ম নববী বর্ষের মুহাররম মাসে বয়কট শেষ হওয়ার ঠিক তিন বছরের মাথায় এবং ছয় মাস পরে রজব মাসে আবু ত্বালিবের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে আবু জাহল, আব্দুল্লাহ ইবনু আবী উমাইয়া প্রমুখ মুশরিক নেতৃবৃন্দ তাঁর শিয়রে বসে ছিলেন।

এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যুপথযাত্রী পরম শ্রদ্ধেয় চাচাকে বললেন—

يَا عَمِّ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ كَلِمَةً أَشْهَدُ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللهِ

অর্থাৎ,
“হে চাচাজী! আপনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমাটি পাঠ করুন, যাতে আমি এর কারণে আল্লাহর নিকটে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারি।”

জবাবে আবু ত্বালিব বলেন—

“হে ভাতিজা! যদি আমার পরে তোমার বংশের উপর গালির ভয় না থাকত এবং কুরায়েশরা যদি এটা না ভাবত যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে এটা বলেছি বা তোমাকে খুশি করার জন্য বলেছি, তাহলে আমি অবশ্যই এটি বলতাম।”
(ইবনু হিশাম ১/৪১৮)

অতঃপর যখন মৃত্যু ঘনিয়ে এল, তখন আবু জাহল ও তার সহোদর বৈপিত্রেয় ভাই আব্দুল্লাহ ইবনু আবী উমাইয়া বারবার তাকে উত্তেজিত করতে থাকেন এবং বলেন—

أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ؟

অর্থাৎ,
“আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবেন?”

শেষ পর্যন্ত আবু ত্বালিবের মুখ দিয়ে বের হয়—

أَنَا عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ

অর্থাৎ,
“আমি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের উপরই আছি।”
(আর-রাউযুল উনুফ ২/২২৩)

তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন—

لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْهُ

অর্থাৎ,
“যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে নিষেধ না করা হয়, আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব।”

এরপর আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন—

مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى
(তওবা ৯/১১৩)

অর্থাৎ,
“নবী ও ঈমানদারদের জন্য সমীচীন নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে—যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়—যখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তারা জাহান্নামের অধিবাসী।”

আর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ বলেন—

إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
(ক্বাছাছ ২৮/৫৬)

অর্থাৎ,
“তুমি যাকে ভালোবাস তাকে হেদায়াত দিতে পার না। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন এবং তিনি হেদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।”

(বুখারী হা/১৩৬০, ৩৮৮৪, ৪৭৭২; মুসলিম হা/২৪)

উল্লেখ্য, সূরা তওবা মাদানী সূরা হলেও এর ১১১-১১৩ নম্বর আয়াত তিনটি বায়আতে কুবরা ও আবু ত্বালিবের মৃত্যু প্রসঙ্গে মক্কায় নাযিল হয়েছিল (তাফসীর কুরতুবী, ইবনু কাছীর)।

এভাবে হেদায়াতের আলোকবর্তিকা স্বীয় ভাতিজাকে সবকিছুর বিনিময়ে আগলে রেখেও শেষ মুহূর্তে এসে পরকালীন সৌভাগ্যের পরশমণি হাতছাড়া হয়ে গেল। স্নেহসিক্ত ভাতিজার প্রাণভরা আকুতি ব্যর্থ হল এবং শয়তানের প্রতিমূর্তি গোত্রনেতাদের প্ররোচনা জয়লাভ করল।

পিতৃধর্মের বহুত্ববাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেই তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় হলেন।

এ দৃশ্য যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্য কত বেদনাদায়ক ছিল, তা আখেরাতে বিশ্বাসী প্রকৃত মুমিনগণ উপলব্ধি করতে পারেন। কেননা যে চাচা দুনিয়ার কঠিন দুর্দশা থেকে সর্বদা ঢালের মত তাঁকে রক্ষা করেছেন এবং নিজে অসংখ্য কষ্ট সহ্য করেছেন, সেই চাচা দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণের পরে পুনরায় জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবেন—এটা তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল।

বলা বাহুল্য, এভাবেই সর্বদা তাকদীর বিজয়ী হয়ে থাকে।

একদিন চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকটে আখেরাতে আবু ত্বালিবের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন—

“জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাবপ্রাপ্ত হবেন আবু ত্বালিব। তাকে আগুনের দু’টি জুতা পরানো হবে, যাতে তার মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটবে।”
[মুসলিম হা/২১২; মিশকাত হা/৫৬৬৮]

প্রিয় চাচা আব্বাস (রাঃ) একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন—

“আবু ত্বালিব আপনাকে যেভাবে হেফাযত ও সহযোগিতা করেছেন, তার বিনিময়ে আপনি কি তাঁকে কোনো উপকার করতে পারবেন?”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন—

“হ্যাঁ। আমি তাকে জাহান্নামের গভীরে দেখতে পেলাম। অতঃপর তাকে সেখান থেকে বের করে টাখনু পর্যন্ত উঠিয়ে আনা হয়েছে। আমি না থাকলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন।”
(মুসলিম হা/২০৯)

আরেক বর্ণনায় এসেছে—

“সম্ভবত কিয়ামতের দিন আমার সুফারিশ তার উপকারে আসবে। তখন তাকে জাহান্নামের অগভীর স্থানে রাখা হবে, যা তার টাখনু পর্যন্ত পৌঁছবে এবং তাতেই তার মস্তিষ্ক আগুনে টগবগ করে ফুটবে।”
(মুসলিম হা/২১০)

অতএব আবু ত্বালিবের এই হালকা আযাব তার আমলের কারণে নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বিশেষ সুফারিশের কারণে। এটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বিশেষ মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত। কেননা আবু ত্বালিব শিরকের উপর মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

আল্লাহ বলেন—

إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
(নিসা ৪/৪৮, ১১৬)

অর্থাৎ,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না। এর বাইরে যা কিছু আছে তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।”

আরও বলেন—

فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ
(মুদ্দাছ্ছির ৭৪/৪৮)

অর্থাৎ,
“মুশরিকদের জন্য সুপারিশকারীদের কোনো সুপারিশই কাজে আসবে না।”

শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ :

১. হককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং হকপন্থীর প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা করা পরকালীন মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত আকীদার পরিবর্তন না হয় এবং মৌখিক স্বীকৃতি না থাকে।

২. আদর্শগত ভালোবাসাই পরকালে বিচার্য বিষয়। মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর প্রতি আবু ত্বালিবের ভালোবাসা ছিল বংশগত কারণে; আদর্শগত কারণে নয়। তাই তা পরকালে কোনো কাজে আসেনি।

৩. তাওহীদের সাথে শিরক মিশ্রিত হলে কোনো নেক আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।

৪. পিতৃধর্মে ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে এবং সর্বাবস্থায় নির্ভেজাল তাওহীদকে আঁকড়ে থাকতে হবে। সকল আবেদন-নিবেদন সরাসরি আল্লাহর নিকট করতে হবে।

৫. কেবল ইসলামী নাম (যেমন আব্দুল্লাহ, আবু ত্বালিব ইত্যাদি) পরকালীন মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না মানুষ একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের উপর দৃঢ় থাকে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করে।

#রাসূল(স.) #এর #জীবনী
#অধ্যায়২৬

সর্বাত্মক বয়কট(মুহাররম, ৭ম নববী বর্ষ)এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া পরপর চারটি ঘটনায় মুশরিক নেতাদের মধ্যে যেমন আতংক ...
15/03/2026

সর্বাত্মক বয়কট
(মুহাররম, ৭ম নববী বর্ষ)

এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া পরপর চারটি ঘটনায় মুশরিক নেতাদের মধ্যে যেমন আতংক সৃষ্টি হয়, তেমনি মুহাম্মাদ (স.) ও তাঁর সাথীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। ঘটনাগুলি ছিল যথাক্রমে—

(১) মুহাম্মাদ (স.)-কে প্রদত্ত আপোষ প্রস্তাব ও লোভনীয় প্রস্তাবসমূহ নাকচ হওয়া।

(২) হামযার ইসলাম গ্রহণ এবং সরাসরি আবু জাহলের উপরে হামলা করা।

(৩) উমরের ইসলাম গ্রহণ এবং সরাসরি আবু জাহলের বাড়ীতে গিয়ে তার মুখের উপর ইসলাম গ্রহণের সংবাদ দেওয়া। অতঃপর মুসলমানদের নিয়ে প্রকাশ্যে ধর্মীয় বিধি-বিধান পালন শুরু করা।

(৪) সবশেষে আবু ত্বালিবের আহবানে সাড়া দিয়ে বনু হাশেম ও বনু মুত্ত্বালিবের মুসলিম-কাফির সকলের পক্ষ হতে মুহাম্মাদ (স.)-কে সর্বাত্মক সহযোগিতা দানের অঙ্গীকার ঘোষণা করা।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মুশরিক নেতৃবৃন্দ মুহাছছাব (المحصب) উপত্যকায় সমবেত হয় এবং বিস্তারিত আলোচনার পর বনু হাশেম ও বনু মুত্ত্বালিব গোত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে (বুখারী হা/১৫৯০, মুসলিম হা/১৩১৪)।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা এই মর্মে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে যে—

(১) বনু হাশেম ও বনু মুত্ত্বালিবের সাথে বিয়ে-শাদী বন্ধ থাকবে।

(২) তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যাবতীয় লেন-দেন বন্ধ থাকবে।

(৩) তাদের সাথে উঠাবসা, মেলামেশা, কথাবার্তা ও তাদের বাড়ীতে যাওয়া বন্ধ থাকবে— যতদিন না তারা মুহাম্মাদ (স.)-কে হত্যার জন্য তাদের হাতে তুলে দেয়।

৭ম নববী বর্ষের ১লা মুহাররমের রাতে সম্পাদিত উক্ত অঙ্গীকারনামাটি কা‘বাগৃহের ভিতরে টাঙিয়ে রাখা হয়।

উক্ত অঙ্গীকারনামার লেখক বাগীয বিন ‘আমের (بَغِيضُ بْنُ عَامِرٍ)-এর প্রতি মুহাম্মাদ (স.) বদদো‘আ করেন। ফলে তার হাতটি অবশ ও অকেজো হয়ে যায়।

---

শে‘আবে আবু ত্বালিবে তিন বছর

উপরোক্ত অন্যায় চুক্তি সম্পাদনের ফলে বনু হাশেম ও বনু মুত্ত্বালিব উভয় গোত্রের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা নিদারুণ কষ্টের সম্মুখীন হয়।

সঞ্চিত খাদ্যশস্য ফুরিয়ে গেলে তাদের অবস্থা চরমে ওঠে। ফলে তারা গাছের ছাল-পাতা খেয়ে জীবন ধারণে বাধ্য হয়। নারী ও শিশুরা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করত। তাদের ক্রন্দন ধ্বনি গিরিসংকটের বাইরের লোকেরাও শুনতে পেত।

ফলে কেউ কেউ অতি সংগোপনে তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছাতো।

একবার হাকীম বিন হেযাম স্বীয় ফুফু খাদীজা (রা.)-এর নিকটে গম পৌঁছাতে গিয়ে আবু জাহল-এর হাতে ধরা পড়ে যান। কিন্তু আবুল বাখতারী-এর হস্তক্ষেপে তিনি অবশেষে সমর্থ হন।

হারামের চার মাস ব্যতীত অবরুদ্ধ গোত্রদ্বয়ের লোকেরা বের হতে পারত না।

যেসব কাফেলা বাহির থেকে মক্কায় আসত, তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য-শস্য ক্রয়ে বাধা ছিল না। কিন্তু সেক্ষেত্রেও মক্কার ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের এমন চড়া মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল যে তা ক্রয় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।

অন্যদিকে আবু ত্বালিব-এর দুশ্চিন্তা ছিল মুহাম্মাদ (স.)-এর জীবন নিয়ে।

রাতের বেলা সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি মুহাম্মাদ (স.)-কে উঠিয়ে এনে তাঁর বিশ্বস্ত নিকটাত্মীয়দের সাথে বিছানা বদল করাতেন, যাতে কেউ তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে না পারে।

উক্ত কঠোর অবরোধ চলাকালীন সময়েও হজ্জের মৌসুমে মুহাম্মাদ (স.) বহিরাগত কাফেলাসমূহের তাঁবুতে গিয়ে তাওহীদের দাওয়াত দিতেন।

আর তাঁর চাচা আবু লাহাব তাঁর পেছনে পেছনে গিয়ে লোকদেরকে তাঁর কথা না শোনার জন্য বলত।

---

অঙ্গীকারনামা ছিন্ন ও বয়কটের সমাপ্তি

প্রায় তিন বছর পূর্ণ হতে চলল।

এদিকে মুশরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও দ্বিধা-বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নেয়। যারা এই অন্যায় চুক্তির বিরোধী ছিল তারা ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে থাকে।

হেশাম বিন আমর-এর উদ্যোগে যোহায়ের বিন আবু উমাইয়া, মুত্ব‘ইম বিন ‘আদী প্রমুখ পাঁচজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হারামের নিকটবর্তী হাজুন নামক স্থানে বসে এ ব্যাপারে একমত হন।

এরপর যোহায়ের কা‘বাগৃহ তাওয়াফ শেষে সরাসরি আবু জাহল-এর মুখের উপর উক্ত চুক্তিনামা ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দেন।

তারপর একে একে বাকী চারজন তাকে সমর্থন করেন।

আবু জাহল বলল,
“বুঝেছি, তোমরা রাতের বেলা অন্যত্র পরামর্শ করেই এসেছ।”

এসময় আবু ত্বালিব কা‘বা চত্বরে উপস্থিত হয়ে কুরায়েশ নেতাদের উদ্দেশ্যে বললেন—

আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তোমাদের চুক্তিনামা সম্পর্কে অবহিত করেছেন যে,
আল্লাহ ঐ অঙ্গীকারপত্রের উপর কিছু উঁই পোকা প্রেরণ করেছেন। তারা এর মধ্যকার বয়কট ও যাবতীয় অন্যায় ও অত্যাচারমূলক কথাগুলো খেয়ে ফেলেছে, কেবল আল্লাহর নামগুলো ব্যতীত।

তিনি আরও বললেন—

“যদি সে মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে তোমাদের ও তার মধ্য থেকে আমরা সরে দাঁড়াব। আর যদি তার কথা সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তোমরা আমাদের প্রতি বয়কট ও যুলুম থেকে ফিরে যাবে।”

এই প্রস্তাবে সকলে বলে উঠল—

“قَدْ أَنْصَفْتَ”
অর্থাৎ “আপনি ন্যায়সঙ্গত কথাই বলেছেন।”

এরপর মুত্ব‘ইম বিন ‘আদী কা‘বাগৃহে প্রবেশ করে অঙ্গীকারনামাটি বাইরে নিয়ে আসেন।

দেখা গেল সত্যিই পোকা সব লেখা খেয়ে ফেলেছে।

শুধু “بِاسْمِكَ اللّٰهُمَّ” (বিসমিকা আল্লাহুম্মা) বাক্যটি এবং অন্যান্য স্থানের আল্লাহর নামগুলো অক্ষত রয়েছে।

এভাবে আবু ত্বালিবের মাধ্যমে প্রেরিত মুহাম্মাদ (স.)-এর সংবাদ সত্যে পরিণত হয়।

কুরায়েশ নেতারা বিস্ময়ে তা অবলোকন করল।

অতঃপর মুত্ব‘ইম বিন ‘আদী সর্বসমক্ষে অঙ্গীকারনামাটি ছিঁড়ে ফেললেন।

এভাবেই তিন বছর পর ১০ম নববী বর্ষের মুহাররম মাসে বয়কটের অবসান ঘটে।

---

কুরআনের ইঙ্গিত

এই ঘটনার পরও অনেক অবিশ্বাসী সত্য গ্রহণ করেনি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন—

وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ

অর্থঃ
“তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে— এটা তো চলমান জাদু।”
(সূরা ক্বামার ৫৪:২)

#রাসূল(স.) #এর #জীবনী #অধ্যায়২৫

উমর (রা:) এর ইসলাম গ্রহণ (৬ষ্ঠ নববী বর্ষের যিলহাজ্জ মাস)হামযার ইসলাম গ্রহণের মাত্র তিন দিন পরেই আল্লাহর অপার অনুগ্রহে আর...
14/03/2026

উমর (রা:) এর ইসলাম গ্রহণ
(৬ষ্ঠ নববী বর্ষের যিলহাজ্জ মাস)

হামযার ইসলাম গ্রহণের মাত্র তিন দিন পরেই আল্লাহর অপার অনুগ্রহে আরেকজন কুরায়েশ বীর উমর ইবনুল খাত্ত্বাব আকস্মিকভাবে মুসলমান হয়ে যান।

ওয়াক্বেদীর হিসাব মতে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর এবং তখন মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৪০ থেকে ৫৬ জন। যাদের মধ্যে ১০ বা ১১ জন ছিলেন নারী।

এটি ছিল হাবশায় প্রথম হিজরতের পরের ঘটনা।

[ইবনু হিশাম ১/৩৪২; সীরাহ সহীহাহ ১/১৭৭ পৃঃ]

ইবনু কাছীর বলেন, উমরকে দিয়ে মুসলমানের সংখ্যা ৪০ পূর্ণ হয়, কথাটি সঠিক নয়। কেননা তার পূর্বে ৮০ জনের উপরে মুসলমান হাবশায় হিজরত করেছিল।

তবে এটি হতে পারে যে, দারুল আরক্বামে গিয়ে ইসলাম কবুল করার সময়ে সেখানে মুসলিম নারী-পুরুষের সংখ্যা ছিল ৪০-এর কাছাকাছি (আল-বিদায়াহ ৩/৭৭)।

অন্য বর্ণনায় এসেছে ৩৯ জন (ঐ, ৩০ পৃঃ)। ফলে সেদিন উমরকে দিয়ে ৪০ পূর্ণ হয়।

---

তিনি যে আগে থেকেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন তার প্রমাণ হিসাবে বলা যায় যে, হাবশা যাত্রী মহিলা মুহাজির উম্মে আব্দুল্লাহ বিনতে আবু হাছমাহ বলেন—

আমরা হাবশা যাত্রার প্রস্তুততি নিচ্ছিলাম। আমার স্বামী 'আমের তখন প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে ছিলেন।

এমন সময় উমর ইবনুল খাত্ত্বাব এলেন। তখন তিনি মুশরিক ছিলেন।

বললেন, এগুলি মনে হয় চলে যাওয়ার প্রস্তুততি?

বললাম, হ্যাঁ। আমরা অবশ্যই আল্লাহর যমীনে বেরিয়ে যাব। তোমরা আমাদের কষ্ট দিচ্ছ ও নির্যাতন করছ। নিশ্চয়ই আল্লাহ একটা পথ বের করে দিবেন।

তখন উমর বললেন—

صَحِبَكُمُ اللهُ

“আল্লাহ তোমাদের সাথী হোন।”

তিনি বলেন, এদিন আমি তাকে অত্যন্ত দুঃখিত ও সংবেদনশীল দেখতে পাই।

[ইবনু হিশাম ১/৩৪২-৪৩; আল-বিদায়াহ ৩/৭৭; সীরাহ সহীহাহ ১/১৭৭ পৃঃ]

---

রাবী আব্দুল্লাহ বিন 'আমের জ্যেষ্ঠ তাবেঈ ছিলেন। যিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে তার মায়ের সূত্রে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারী তার সমালোচনা করেননি। ইবনু হিববান তার বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

[সীরাহ সহীহাহ, টীকা-১, ১/১৭৮ পৃঃ]

---

তবে হাফেয ইবনু হাজার বলেন, বোন ফাতেমার গৃহে প্রবেশ ও তার নিকট থেকে কুরআন শ্রবণ তাঁর ইসলাম গ্রহণের প্রত্যক্ষ কারণ হতে পারে।

[বুখারী, ফাৎহসহ হা/৩৮৬২]

---

কিন্তু উক্ত বিষয়ে বর্ণিত প্রসিদ্ধ ঘটনাটির সনদ ‘যঈফ’।

এছাড়াও মতনে বৈপরিত্য আছে।

যেমন—

কোন বর্ণনায় এসেছে যে, কুরায়েশ নেতারা তাকে পাঠিয়েছিলেন।

কোন বর্ণনায় এসেছে, তিনি নিজ থেকে গিয়েছিলেন।

কোন বর্ণনায় এসেছে, তিনি বোনের ঘরে সূরা ত্বোয়াহা ও সূরা তাকভীর ১৪ আয়াত পর্যন্ত পড়েছিলেন।

কোন বর্ণনায় এসেছে সূরা হাদীদ পড়েছিলেন। অথচ সূরা হাদীদ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

---

অন্য বর্ণনায় এসেছে—

বায়তুল্লাহতে রাসূল (সাঃ)-এর সালাত অবস্থায় সূরা হাক্কাহ শুনে তার অন্তরে ইসলাম দৃঢ় হয়।

আরেক বর্ণনায় এসেছে, তিনি রাতের বেলা কা'বার গেলাফের মধ্যে লুকিয়ে রাসূল (সাঃ)-এর সালাতের ক্বিরাআত শুনছিলেন।

তিনি বলেন—

“এমন কথা আমি কখনো শুনিনি।”

এরপর রাসূল (সাঃ) বেরিয়ে গেলে আমি তাঁর পিছু নেই।

তিনি বললেন—
“কে?”

আমি বললাম—
“উমর।”

তিনি বললেন—
“হে উমর! দিনে-রাতে কখনোই তুমি আমার পিছু নেওয়া ছাড়ো না।”

আমি ভয় পেয়ে গেলাম যে, তিনি আমাকে বদ দো'আ করতে পারেন।

তখন আমি কালেমা শাহাদাত পাঠ করলাম।

রাসূল (সাঃ) বললেন—

يَا عُمَرُ اسْتُرْهُ

“হে উমর! এটি গোপন রাখ।”

আমি বললাম—

“যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম করে বলছি, আমি অবশ্যই প্রকাশ করব, যেভাবে শিরক প্রকাশ করতাম।”

#রাসূল (স.) #এর #জীবনী
#অধ্যায়২৪

নাজাশীর দরবারে কুরায়েশ প্রতিনিধি দলহাবশায় গিয়ে যাতে মুসলমানগণ শান্তিতে থাকতে না পারে, সেজন্য কুরায়েশ নেতারা তাদেরকে ফিরি...
13/03/2026

নাজাশীর দরবারে কুরায়েশ প্রতিনিধি দল

হাবশায় গিয়ে যাতে মুসলমানগণ শান্তিতে থাকতে না পারে, সেজন্য কুরায়েশ নেতারা তাদেরকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করল। এ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য তারা কুশাগ্রবুদ্ধি কূটনীতিবিদ আমর ইবনুল ‘আছ এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবী রাবী‘আহকে দায়িত্ব দিল।

এ দু’জন পরে মুসলমান হন। ১ম জন ৭ম হিজরীর প্রথম দিকে এবং ২য় জন ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের পর। আব্দুল্লাহ ছিলেন আবু জাহলের বৈপিত্রেয় সহোদর ভাই। নাম ছিল বুহায়রা )بُخیری(। ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তার নাম রাখেন ‘আব্দুল্লাহ’ (ইবনু হিশাম ১/৩৩৩, টীকা-১)।

তারা মহামূল্য উপঢৌকনাদি নিয়ে হাবশাযাত্রা করেন এবং সেখানে গিয়ে প্রথমে খ্রিষ্টানদের নেতৃস্থানীয় ধর্মনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের ক্ষুরধার যুক্তি এবং মূল্যবান উপঢৌকনাদিতে ভুলে দরবারের পাদ্রী নেতারা একমত হয়ে যান।

পরের দিন আমর ইবনুল ‘আছ উপঢৌকনাদি নিয়ে বাদশাহ নাজাশীর দরবারে উপস্থিত হলেন। অতঃপর তারা বললেন,

হে বাদশাহ! আপনার দেশে আমাদের কিছু অজ্ঞ-মূর্খ ছেলে-ছোকরা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। যারা তাদের কওমের দ্বীন পরিত্যাগ করেছে এবং তারা আপনাদের ধর্মেও প্রবেশ করেনি। তারা এমন এক নতুন দ্বীন নিয়ে এসেছে, যা আমরা কখনো শুনিনি বা আপনিও জানেন না।

আমাদের কওমের নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে আপনার নিকটে পাঠিয়েছেন, যাতে আপনি তাদেরকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফেরৎ পাঠান।

তাদের কথা শেষ হলে উপস্থিত পাদ্রী নেতাগণ কুরায়েশ দূতদ্বয়ের সমর্থনে মুহাজিরগণকে তাদের হাতে সোপর্দ করার জন্য বাদশাহকে অনুরোধ করেন।

তখন বাদশাহ রাগত স্বরে বলেন,

আল্লাহর কসম! এটা কখনোই হতে পারে না। তারা আমার দেশে এসেছে এবং অন্যদের চাইতে আমাকে পছন্দ করেছে। অতএব তাদের বক্তব্য না শুনে কোনরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

ফলে তাঁর নির্দেশক্রমে জা‘ফর বিন আবু তালিবের নেতৃত্বে মুসলিম প্রতিনিধি দল বাদশাহ্র দরবারে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম দিলেন। কিন্তু সিজদা করলেন না।

বাদশাহ তাদের জিজ্ঞেস করলেন,

তোমরা প্রথানুযায়ী আমাকে সিজদা করলে না কেন? যেমন ইতিপূর্বে তোমাদের কওমের প্রতিনিধিদ্বয় এসে করেছে?

বাদশাহ আরও বললেন,

বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে এমনকি আমাদের ধর্ম গ্রহণ না করে নতুন যে ধর্মে তোমরা দীক্ষা নিয়েছ, সেটা কী, আমাকে শোনাও।

জা‘ফর বিন আবু তালিব বললেন,

হে বাদশাহ! আমাদের ধর্মের নাম ‘ইসলাম’। আমরা স্রেফ আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না।

বাদশাহ বললেন,

কে তোমাদের এসব কথা শিখিয়েছেন?

জা‘ফর বললেন,

আমাদের মধ্যেরই একজন ব্যক্তি। ইতিপূর্বে আমরা মূর্তিপূজা ও অশ্লীলতা এবং অন্যায় ও অত্যাচারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিলাম। আমরা শক্তিশালীরা দুর্বলদের শোষণ করতাম।

এমতাবস্থায় আল্লাহ মেহেরবানী করে আমাদের মধ্যে তাঁর শেষনবীকে প্রেরণ করেছেন। তাঁর নাম ‘মুহাম্মাদ’। তিনি আমাদের চোখের সামনে বড় হয়েছেন। তাঁর বংশ মর্যাদা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারী, সংযমশীলতা, পরোপকারিতা প্রভৃতি গুণাবলী আমরা জানি।

নবুঅত লাভের পর তিনি আমাদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন এবং মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করে সর্বাবস্থায় এক আল্লাহর ইবাদত করার আহবান জানিয়েছেন। সাথে সাথে যাবতীয় অন্যায়-অপকর্ম হতে তওবা করে সৎকর্মশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আমরা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং এক আল্লাহর ইবাদত করছি ও হালাল-হারাম মেনে চলছি। এতে আমাদের কওমের নেতারা আমাদের উপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন এবং আমাদের উপর প্রচণ্ড নির্যাতন চালিয়েছেন।

সে কারণে বাধ্য হয়ে আমরা সবকিছু ফেলে আপনার রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছি আপনার সুশাসনের খবর শুনে। আমরা অন্যস্থান বাদ দিয়ে আপনাকে পছন্দ করেছি এবং আপনার এখানেই আমরা থাকতে চাই। আশা করি আমরা আপনার নিকটে অত্যাচারিত হব না।

অতঃপর জা‘ফর বললেন,

হে বাদশাহ! অভিবাদন সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের জানিয়েছেন যে, জান্নাতবাসীদের পরস্পরে অভিবাদন হল ‘সালাম’ এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে পরস্পরে সালাম করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদশাহ বললেন,

ঈসা ও তাঁর দ্বীন সম্পর্কে তোমরা কি বলতে চাও?

উত্তরে জা‘ফর বিন আবু তালিব সূরা মারিয়ামের শুরু থেকে ৩৬ পর্যন্ত আয়াতগুলি পাঠ করে শুনান। যেখানে হযরত যাকারিয়া ও ইয়াহইয়া (আঃ)-এর বিবরণ, মারিয়ামের প্রতিপালন, ঈসার জন্মগ্রহণ ও লালন-পালন, মাতৃক্রোড়ে কথোপকথন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।

বাদশাহ ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক এবং তাওরাত-ইনজীলে পণ্ডিত ব্যক্তি। কুরআনের অপূর্ব বাকভঙ্গি, শব্দশৈলী ও ভাষালংকার এবং ঘটনার সারবত্তা উপলব্ধি করে বাদশাহ অঝোর নয়নে কাঁদতে থাকলেন।

সাথে উপস্থিত পাদ্রীরাও কাঁদতে লাগলেন। তাদের চোখের পানিতে তাদের হাতে ধরা ধর্মগ্রন্থগুলি ভিজে গেল।

অতঃপর নাজাশী বলে উঠলেন,

إِنَّ هَذَا وَالَّذِي جَاءَ بِهِ عِيسَى

“এই কালাম এবং ঈসার নিকটে যা নাযিল হয়েছিল—দুটি একই আলোর উৎস থেকে নির্গত।”

বলেই তিনি কুরায়েশ দূতদ্বয়ের দিকে ফিরে বললেন,

انْطَلِقَا فَلَا وَاللهِ لَا أُسْلِمُهُمْ

“তোমরা চলে যাও! আল্লাহর কসম! আমি কখনোই এদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দেব না।”

আমর ইবনুল ‘আছ এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবী রাবী‘আহ দরবার থেকে বেরিয়ে গেলেন।

আমর বললেন,

কালকে এসে এমন কিছু কথা বাদশাহকে শুনাবো, যাতে এদের মূলোৎপাটন হয়ে যাবে এবং এরা ধ্বংস হবে।

একথা শুনে আব্দুল্লাহ বললেন,

না, না এমন নিষ্ঠুর কিছু করবেন না। ওরা আমাদের স্বগোত্রীয় এবং নিকটাত্মীয়।

কিন্তু আমর ওসব কথায় কর্ণপাত করলেন না।

পরের দিন বাদশাহ্র দরবারে এসে তিনি বললেন,

أَيُّهَا الْمَلِكُ إِنَّهُمْ يَقُولُونَ فِي عِيسَى قَوْلًا عَظِيمًا

“হে সম্রাট! এরা ঈসা ইবনে মারিয়াম সম্পর্কে ভয়ংকর সব কথা বলে থাকে।”

একথা শুনে বাদশাহ মুসলমানদের ডাকালেন। মুসলমানেরা একটু চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। কেননা নাছারারা ঈসাকে উপাস্য মানে। কিন্তু মুসলমানরা তাকে ‘আল্লাহর বান্দা’ বলে থাকে।

যাই হোক, কোনরূপ দ্বৈততার আশ্রয় না নিয়ে তারা সত্য বলার ব্যাপারে মনস্থির করলেন।

অতঃপর আল্লাহর উপর ভরসা করে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জা‘ফর বললেন—

هُوَ عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ وَرُوحُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ الْعَذْرَاءِ الْبَتُولِ وَلَمْ يَمَسَّهَا بَشَرٌ

“তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি আল্লাহ প্রেরিত রূহ এবং তাঁর নির্দেশ। যা তিনি মহীয়সী কুমারী মাতা মারিয়ামের উপরে নিক্ষেপ করেছিলেন। কোন পুরুষ তাকে স্পর্শ করেনি।”

তখন নাজাশী মাটি থেকে একটি কাঠের টুকরা উঠিয়ে নিয়ে বললেন—

আল্লাহর কসম! তুমি যা বলেছ, ঈসা ইবনে মারিয়াম তার চাইতে এই কাঠখণ্ড পরিমাণও বেশি ছিলেন না।

তিনি জা‘ফর ও তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বললেন—

اذْهَبُوا فَأَنْتُمْ سُيُومٌ بِأَرْضِي وَالسُّيُومُ الْآمِنُونَ

“যাও! তোমরা আমার দেশে সম্পূর্ণ নিরাপদ।”

مَنْ سَبَّكُمْ غَرِمَ (ثلاث مرات)

“যে ব্যক্তি তোমাদের গালি দিবে, তার জরিমানা হবে।” (তিনবার)

مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي دَبَرًا مِنْ ذَهَبٍ وَأَنِّي آذَيْتُ رَجُلًا مِنْكُمْ

“তোমাদের কাউকে কষ্ট দেওয়ার বিনিময়ে যদি কেউ আমাকে স্বর্ণের পাহাড়ও দেয়, আমি তা পছন্দ করব না।”

অতঃপর তিনি কুরায়েশ দূতদ্বয়ের প্রদত্ত উপঢৌকনাদি ফেরত দানের নির্দেশ দিলেন।

ঘটনার বর্ণনাদানকারিণী প্রত্যক্ষ সাক্ষী হযরত উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন—

فَخَرَجَا مِنْ عِنْدِهِ مَقْبُوحَيْنِ

“অতঃপর ঐ দু’জন ব্যক্তি চরম লাঞ্ছিত অবস্থায় দরবার থেকে বেরিয়ে গেল…”

এবং আমরা উত্তম প্রতিবেশীর সাথে উত্তম গৃহবাসীরূপে বসবাস করতে থাকলাম।

#রাসূল(স.) #এর #জীবনী
#অধ্যায়২৩)

হাবশায় হিজরত (الهجرة الأولى إلى الحبشة)সময়: নবুঅতের ৫ম বর্ষ, রজব মাসচতুর্থ নববী বর্ষের মাঝামাঝি থেকে মুসলমানদের উপর নির্...
12/03/2026

হাবশায় হিজরত (الهجرة الأولى إلى الحبشة)
সময়: নবুঅতের ৫ম বর্ষ, রজব মাস

চতুর্থ নববী বর্ষের মাঝামাঝি থেকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন শুরু হয় এবং পঞ্চম বর্ষে তা চরম আকার ধারণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মজলুম মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য একটি নিরাপদ স্থানের সন্ধান করতে থাকেন।

তিনি জানতে পারেন যে পার্শ্ববর্তী হাবশা দেশে একজন ন্যায়পরায়ণ খ্রিষ্টান রাজা আসহামা নাজাশী (أصحمة النجاشي) শাসন করেন। তাঁর রাজ্যে মানুষ শান্তিতে বসবাস করে এবং ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে দেওয়া হয়।

এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের পরামর্শক্রমে হাবশায় হিজরতের নির্দেশ দেন।

নবুঅতের পঞ্চম বর্ষের রজব মাসে হযরত উসমান (রা.)-এর নেতৃত্বে প্রথম একটি ছোট দল গোপনে হাবশার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

এই দলে ছিল—

১২ জন পুরুষ

৪ জন মহিলা

তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যা রুকাইয়া (রা.)-ও ছিলেন।

তারা রাতের অন্ধকারে গোপনে বের হয়ে লোহিত সাগরের বন্দর শু‘আইবাহ (ميناء شعيبة)-এ পৌঁছান। সেখানে ভাগ্যক্রমে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করা ছিল। ফলে তারা সহজেই জাহাজে উঠে হাবশায় পৌঁছে যান।

পরে কুরাইশ নেতারা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত বন্দরের দিকে ধাওয়া করে। কিন্তু ততক্ষণে মুসলমানরা জাহাজে চড়ে চলে যাওয়ায় তারা কাউকে ধরতে পারেনি।

তথ্যসূত্র: আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃ. ৯৩), যাদুল মা‘আদ (১/৯৫)।

---

হাবশায় দ্বিতীয় হিজরত (الهجرة الثانية إلى الحبشة)
সময়: সম্ভবত নবুঅতের ৫ম বর্ষ, যুলক্বা‘দাহ মাস

হাবশার বাদশাহ নাজাশীর উত্তম আচরণের খবর কুরাইশদের কাছে পৌঁছালে তারা মুসলমানদের উপর অত্যাচার আরও বাড়িয়ে দেয় এবং কেউ যাতে হাবশায় যেতে না পারে সে জন্য কড়া নজরদারি শুরু করে।

কারণ এতে তাদের দুটি বড় ক্ষতির আশঙ্কা ছিল—

১. বিদেশে কুরাইশদের অত্যাচারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের সম্মান নষ্ট হবে।
২. মুসলমানরা সেখানে একত্র হয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে পারবে।

তবুও তাদের কঠোর নজরদারি ও নির্যাতনের মাঝেও মুসলমানরা আবার হিজরত করতে সক্ষম হন।

এইবার হযরত জা‘ফর ইবন আবু তালিব (রা.)-এর নেতৃত্বে—

৮২ বা ৮৩ জন পুরুষ

১৮ বা ১৯ জন মহিলা

হাবশায় হিজরত করেন।

কিছু বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, এই দলে আম্মার ইবন ইয়াসির (রা.) ছিলেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আর-রাহীকুল মাখতূম (পৃ. ৯৪), ইবনু হিশাম (১/৩৩০)।

---

নাজাশীর দরবারে জা‘ফর (রা.)-এর দাওয়াত

হাবশায় অবস্থানকালে হযরত জা‘ফর ইবন আবু তালিব (রা.) প্রায় দুই বছর সেখানে থাকেন। তিনি নাজাশী এবং তার দরবারের পোপ, পাদ্রী ও বিশপসহ দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন।

নাজাশীর দরবারে জা‘ফর (রা.)-এর দেওয়া ভাষণ উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ইসলামের সত্যতা এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি তাদের বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে যায়।

পরে যখন হাবশার মুহাজিরগণ মদিনায় যাওয়ার ইচ্ছা করেন, তখন সম্রাট নাজাশী তাদের সঙ্গে ৭০ জন আলেমের একটি প্রতিনিধি দল মদিনায় পাঠান।

তাদের মধ্যে—

৬২ জন ছিলেন আবিসিনীয়

৮ জন ছিলেন সিরীয়

তারা ছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মের বিশিষ্ট আলেম ও সাধক।

---

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটে তাদের আগমন

এই প্রতিনিধি দলটি দরবেশসুলভ পোশাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়। তখন তিনি তাদের সামনে সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করে শোনান।

কুরআনের বাণী শুনে তাদের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। তারা বললেন—

“ইনজীলের বাণীর সাথে কুরআনের বাণীর কী আশ্চর্য মিল!”

এরপর তারা সবাই গভীর শ্রদ্ধার সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে বায়আত করে ইসলাম গ্রহণ করেন।

---

নাজাশীর ইসলাম গ্রহণ

প্রতিনিধি দল ফিরে যাওয়ার পর সম্রাট নাজাশী প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। যদিও তিনি আগে থেকেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, কিন্তু ধর্মীয় নেতাদের ভয়ে তা প্রকাশ করেননি।

পরবর্তীতে তিনি নিজের পুত্রের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধি দল মদিনায় পাঠান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জাহাজটি পথিমধ্যে ডুবে যায় এবং যাত্রীরা সবাই সাগরে মারা যান।

---

কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া

খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলের ইসলাম গ্রহণের ঘটনার প্রেক্ষিতে সূরা মায়েদা (৫:৮২–৮৫) আয়াতসমূহ নাযিল হয়।

তাফসীরকারগণ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন—
কুরতুবী, ইবনু কাছীর প্রমুখ তাফসীরে।

#রাসূল(স.) #এর #জীবনী
#অধ্যায়২২

Address

Barisal
8200

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dil. Se. Ulfat posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share