26/09/2025
নিখুঁত নয়, সুখী নারী হওয়াই আসল:
আমাদের সমাজ মেয়েদের শিখিয়ে দেয়“ভালো মেয়ে” হতে হলে নিখুঁত হতে হবে। ঘর সবসময় ঝকঝকে থাকতে হবে, রান্না হতে হবে সুস্বাদু, সন্তান হতে হবে আদর্শ। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই নিখুঁত হওয়ার দৌড়ে একজন নারী নিজেকে কোথায় রাখেন? সারাদিন সবার জন্য সবকিছু ঠিকঠাক করতে গিয়ে রাতের শেষে যখন তিনি ভেঙে পড়েন, তখন কি কেউ এসে খোঁজ নেন তাঁর শরীর বা মন কেমন আছে? বেশিরভাগ সময় উত্তর হয় না। উল্টো শোনা যায়, “তোমার মুখ এত ক্লান্ত কেন?” অথবা “এই বয়সেই এত সমস্যা কেন তোমার?”
মানুষকে খুশি করা কখনোই একজন নারীর একমাত্র দায়িত্ব নয়। ঘর যদি কিছুটা এলোমেলো থাকে, তাতে পৃথিবী থেমে যাবে না। রান্না না করলে পরিবার অনাহারে মরবে না। সন্তানের শৈশব যদি কিছুটা সময় সাহায্যকারীর সঙ্গে কাটেও, তবু সে মানুষ হয়ে উঠবে। কারণ একটি সন্তান শুধুমাত্র খাবার বা পরিপাটি ঘরের ওপর নির্ভর করে মানুষ হয় না, বরং তার মায়ের মানসিক শান্তি আর ভালোবাসার ওপর নির্ভর করে।
ভুল মানুষের কাছে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা একেবারেই বৃথা। যে পুরুষ নিজের যত্ন নিতে পারে না, সে সঙ্গীর প্রতিটি ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। আপনি কত রাত নির্ঘুম কাটালেন, কতবার নিজের চাওয়া-পাওয়াকে বিসর্জন দিলেন সেসব তাঁর চোখে তুচ্ছ হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, যেখানে মায়া নেই, সেখানে যতই চেষ্টা করা হোক সম্পর্ক টিকে না। সন্তান জন্মের পর সেই সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে, যদি আগে থেকেই বোঝাপড়া ও সম্মান না থাকে।।
তাই নিজের মূল্য নিজেকেই ঠিক করতে হবে। ভুল মানুষের কাছে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে আত্মসম্মান হারাবেন না। নিজের জন্য সময় রাখুন, পছন্দের কাজ করুন, স্বপ্ন পূরণের পথে বিনিয়োগ করুন। কারণ সংসার চালানো সহজ নয়, কিন্তু ভুল মানুষের সঙ্গে তা হয়ে ওঠে এক মানসিক কারাগার।
সময়ের আগে বুঝে নিন—আপনার সুখ, মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা নয়, বরং সুখী হওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ আপনি যদি নিজের সুখকে গুরুত্ব না দেন, কেউ এসে তা আপনাকে উপহার দেবে না।