07/12/2025
হযরত ঈসা (আঃ)এক অলৌকিক নবীর গল্প।
✨ আলৌকিক নবী: হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্ম ও মহান মুজিযা 🕊️
আল্লাহ তা'আলা যুগে যুগে মানুষের হিদায়াতের জন্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন হযরত ঈসা (আঃ), যিনি সম্পূর্ণ অলৌকিক উপায়ে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন।
অলৌকিক জন্ম
হযরত ঈসা (আঃ)-এর মা হযরত মারইয়াম (আঃ) ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার ও আল্লাহর ভীরু নারী। একদিন ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আঃ) তাঁর কাছে এসে বললেন: "আল্লাহ তোমাকে একটি পবিত্র সন্তান দান করবেন।"
মারইয়াম (আঃ) বিস্ময় নিয়ে বললেন: “হে আমার রব, কীভাবে আমার সন্তান হবে? অথচ কোনো মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি!”
ফেরেশতা উত্তর দিলেন: “এভাবেই আল্লাহ যা চান, সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে শুধু বলেন, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।” (সূরা আলে-ইমরান ৪৫-৪৭)
"সে দোলনায় থাকা অবস্থায় এবং পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং সে হবে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।" সূরা আলে-ইমরান-৪৬
আল্লাহ তা'আলা কোনো পিতা ছাড়াই তাঁকে সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর জন্ম ছিল আল্লাহর মহান কুদরতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
দোলনায় কথা বলা
জন্মের পরেই যখন সমাজের লোকেরা মারইয়াম (আঃ)-কে দোষারোপ করতে শুরু করল, তখন এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। নবজাতক ঈসা (আঃ) কথা বলে উঠলেন!
তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দান করেছেন এবং নবী করেছেন।” (সূরা মারইয়াম ১৯:৩০)
"সে (ঈসা) বলল, ‘আমি তো আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন’", যা ঈসা (আঃ)-এর শৈশবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্মান ও মর্যাদার ঘোষণা।
এই অলৌকিক ঘটনা সবাইকে হতবাক করে দিল।
মুজিযা ও দাওয়াত
সময়ের সাথে তিনি বড় হতে লাগলেন। আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা, প্রজ্ঞা এবং বহু অলৌকিক ক্ষমতা দান করলেন। আল্লাহর অনুমতিতে তিনি:
অসুস্থকে সুস্থ করতেন।
অন্ধকে চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতেন।
মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন। (সূরা আলে ইমরান ৩:৪৯)
ঈসা (আঃ)-এর মুজিযা ও নবুয়তের প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি আল্লাহর হুকুমে কাদা দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করে ফুঁকে দেন, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করেন, মৃতকে জীবিত করেন এবং মানুষ যা খায় ও জমা রাখে তা বলে দেন, যা তাঁর রিসালাতের সুস্পষ্ট নিদর্শন।
হযরত ঈসা (আঃ) মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাক দিতেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।" (সূরা আলে ইমরান ৩:৫১)
এই আয়াতটি আল্লাহ্র একত্ববাদ (তাওহিদ) এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদতের গুরুত্বের উপর জোর দেয়, যা ইসলামে সরল ও সঠিক পথ হিসেবে পরিচিত।
সরল পথ: একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করাই হলো 'সিরাতুল মুস্তাকীম' বা সরল পথ, যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন
কিন্তু কিছু লোক তাঁকে বিশ্বাস করলো না। বরং তাঁর বিরোধিতা করলো এবং তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করলো। তবে আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করলেন এবং নিজস্ব কুদরতে জীবিত অবস্থায় তাঁকে নিজের নিকট উঠিয়ে নিলেন। (সূরা আন-নিসা ৪:১৫৭-১৫৮)
কিয়ামতের আগে প্রত্যাবর্তন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে সুসংবাদ দিয়েছেন: “আমি সেই সময় খুব নিকটে যখন মরিয়মের পুত্র ঈসা তোমাদের মাঝে ন্যায় শাসক হয়ে অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকরের মাংস নিষিদ্ধ করবেন এবং জিযিয়া (কর) তুলে দিবেন।” (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৪৭৬)
কিয়ামতের আগে তিনি আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। সত্যধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবেন, দাজ্জালকে হত্যা করবেন, এবং পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায়ের রাজত্ব কায়েম করবেন।
শিক্ষা:
হযরত ঈসা (আঃ)-এর জীবন প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কুদরত সীমাহীন। আল্লাহর ইচ্ছায়ই অলৌকিক ঘটনা ঘটে এবং শেষ পরিণতি আল্লাহর হাতেই নির্ধারিত।