26/02/2023
প্রিয় ভাই ও বোন!
দুনিয়ায় সফর কতদিনের ? দশ, বিশ-ত্রিশ চল্লিশ, পঞ্চাশ বা একশত বছরের। এরপর ? জীবন তো চিরস্থায়ী নয়। ক্ষণস্থয়ী। একশত বছর কি কোন সময় হলো? একটি বছর শেষ হলে আমরা কবরের যাএয় একটি বছর এগিয়ে গেলাম। তাহলে কিসে এতো আশা ভরসা ? কিসের এতো চাহিদা। চাহিদা তো আমার শেষই হয় না। বাড়ি গাড়ি ইন্ডাস্ট্রির মালিক হয়েও আমার চাহিদা শেষ হয় না। বলুনতো এই সম্পদ কি আমার সাথে কবরে যাবে ? যাবেনা। অথচ এর জন্য কতো শ্রম,সাধনা, মিথ্যা, ধোঁকাবাজি, সুদ ঘুষ সবই কবুল করতে হয়। আর এসব কারনে পরকালের পুঁজির কথা খেয়ালই থাকে না। আজ সারা দুনিয়ার যে দিকে চোখ যায় শুধু চোখ ঝলসানো আলর মেলা। চারদিকে শুধুই আনন্দ ফুর্তির আওয়াজ। কিন্তু অন্তরগুলো আঁধারে ভরপুর।আনন্দ ফুর্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে কান্না আর হতাশা। আল্লাহ্ তায়ালার সাথে যে অন্তরে সখ্যাত নেই সে অন্তরে হতাশায় ভরপুর থাকবেই। আজকের জগতে মানুষ ও মানবতা বড় দুঃখে দিনাতিপাত করছে, আল্লাহর সাথে তাদের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবার কারণে।
বলুনতো! এটা কি কোন বাদশাহী হলো যা ধুলায় মিশিয়ে যায় ? যে উন্নতি একসময় অবনতি হয়, তাও কি কোন উন্নতি ? মৃত্যু যে জীবনকে শেষ করে দেয় তা কি কোন জীবন হলো ? যে যৌবনকে বার্ধক্যে গ্রাস করে, তা কি কোন যৌবন হল ? যে আনন্দ ফুর্তির পেছনে বেদনা লুকিয়ে আছে, তা কি কোন আনন্দ হলো ? যে সম্পদ ফুরিয়ে যায় তা কি কোন সম্পদ হল ? যে সুস্থতার পিছনে অসুস্থতা আছে তা কি কোন সুস্থতা হল ? যে ভালোবাসার পিছনে লুকিয়ে থাকে ঘৃণা, তা কি কোন ভালোবাসা হলো ? অথচ এগুলোর জন্যই ছুটে চলছি উর্ধাশ্বাসে।
আল্লাহ্ আমাদের মাফ করুক। পৃথিবী তার চুড়ান্ত পরিনতির দিকে ধাবমান। শেষ বিচারের দিন আসছে। মিমাংসার দিন আসছে। সেদিন দলে দলে আল্লাহর তায়ালার সামনে আমাদের হাজির করা হবে। আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন নিজে বিচারক থাকবেন। আমাদের আমল অনুযায়ী মিমাংসা করবেন। সেদিনটির সফলতা ও ব্যার্থতার মাপকাঠি একটাই, যে নিজেকে পবিত্র করে নিজের নেক আমলের পাল্লা ভাড়ি করে নিল,সে সফল। আর যে ব্যাক্তি শয়তানের সাথে বন্ধুত্ব করে আল্লাহ্ তায়ালার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের জিন্দেগীকে কলুষিত করছে , সে ব্যর্থ।
বই: ফিরে এসে জান্নাতের পথে 💕