12/08/2026
দশ বছর আগে আগস্টে ইস্তাম্বুল হারিয়েছিল শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত বাসিন্দাদের একজনকে। তবে সে মানুষ ছিল না।
টমবিলি। তুর্কি ভাষায় নামটির অর্থ ‘গোলগাল’। ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের কাদিকোই এলাকার জিভেরবেতে ফুটপাতের সিঁড়িতে বছরের পর বছর আরামে বসে থাকত সে।
বিশেষ একটি ভঙ্গির জন্য স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল টমবিলি। শরীর সোজা রেখে বসে এক পা পাশের দিকে ছড়িয়ে দিত, আর নির্বিকার ভঙ্গিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকত।
২০১৪ সালের দিকে ঠিক সেই ভঙ্গির একটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দ্রুতই বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ভবঘুরে বিড়ালগুলোর একটিতে পরিণত হয় টমবিলি।
হঠাৎ এত জনপ্রিয় হয়ে গেলেও তার জীবনে তেমন কিছুই বদলায়নি। সে আগের মতোই ছিল। এলাকার বাসিন্দারাই তার দেখাশোনা করতেন। আর আগের মতো একই সিঁড়িতেই বসে থাকত সে।
২০১৬ সালের ১ আগস্ট প্রায় এক মাস অসুস্থ থাকার পর মারা যায় টমবিলি। পরে জানা যায়, তার কিডনি বিকল হয়েছিল। তখন তার বয়স প্রায় ১৬ বছর ছিল বলে ধারণা করা হয়।
মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। যে রাস্তায় সে বসে থাকত, সেখানে হাতে লেখা পোস্টার টাঙাতে শুরু করেন বাসিন্দারা। এলাকার অঘোষিত প্রতীক হয়ে ওঠার জন্য টমবিলিকে ধন্যবাদও জানানো হয় সেসব পোস্টারে।
টমবিলি যেখানে বসে থাকত, ঠিক সেখানেই তার স্মরণে স্থায়ী একটি মূর্তি স্থাপনের দাবিতে আবেদন শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই আবেদনে ১৭ হাজারের বেশি স্বাক্ষর পড়ে! স্বাক্ষরকারীদের অনেকেই ছিলেন তুরস্কের বাইরের মানুষ।
শেষ পর্যন্ত কাদিকোই পৌরসভা আবেদনটি অনুমোদন করে। স্থানীয় ভাস্কর সেভাল শাহিনকে ব্রোঞ্জ দিয়ে টমবিলির সেই বিখ্যাত বসার ভঙ্গি তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর বিশ্ব প্রাণী দিবসে মূর্তিটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে যোগ দেন কয়েকশ মানুষ।
আজও সেই জায়গাতেই রয়েছে টমবিলির ছোট ব্রোঞ্জের মূর্তি। যে সিঁড়িতে আসল টমবিলি বছরের পর বছর আরামে বসে থাকত, ঠিক সেখানেই একই ভঙ্গিতে বসে আছে তার মূর্তি।
মূর্তিটি দেখতে যাওয়া অনেক দর্শনার্থীই লক্ষ্য করেন, আশপাশে প্রায়ই এক বা দুটি বিড়াল ঘোরাফেরা করছে। যেন ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত বিড়ালদের সংস্কৃতির সঙ্গে টমবিলির স্মৃতিও একই জায়গায় বেঁচে আছে!
তথ্য ও চিত্রঃ সংগৃহীত!