23/11/2025
"সংসার করা যাচ্ছেনা" প্রাক্তন সিনেমায় ঋতুপর্ণার ডায়লগ ডেলিভারি, ভঙ্গিমা যেন একটা মেয়ের অসহায়ত্বকে করুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল।
শাশুড়ির আদেশে প্রেগন্যান্সির কথা লুকিয়ে রাখা, মিসক্যারেজের সময় স্বামীকে কাছে না পাওয়া, একা একা বার্থডে কেক কাটা, স্পেশাল ডেটের জন্য বেরিয়ে পরার পর একাই সেখান থেকে ফিরে আসা, হানিমুন ট্যুরের প্ল্যান ক্যান্সেল করা, সব ওকে করে টিকেট ছিঁড়ে ফেলা, ফিউচার প্ল্যান নেই এমন মানুষের সংসার করা কিংবা তার জন্য স্বপ্নের ক্যারিয়ার, জব সব ছেড়ে দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষমেশ ডিভোর্স নিতে বাধ্য হয়েছিল ঋতুপর্ণা।
ঋতুপর্ণার হাহাকার, সংসার, ভালবাসা, প্রেম ধরে রাখার চেষ্টা বারবার ভাবাচ্ছিল একজন মেয়ে আসলে কতটা সহ্য করতে পারে। জব ছেড়ে দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত শিখাচ্ছিল কিভাবে এডজাস্টমেন্ট করতে হয়।
কিন্তু প্রসেনজিতের মেইল ইগো, ডোন্ট কেয়ার স্বভাব, স্ত্রীর মন না বুঝা কিংবা তাকে প্রাপ্যটুকু না দিয়ে সবসময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকাটাও দর্শক হিসেবে আমার কাছেও বিরক্তিকর লেগেছে।
খুব সহজে ডিভোর্স দিয়ে আবার জীবন শুরু করাটা প্রসেনজিতের জন্য খুব ইজিই ছিল। অথচ সুদীপার সাথেও তার প্রেমের বিয়ে ছিল।
এডজাস্টমেন্ট করতে করতে নিজেকে হারিয়ে ফেলা সুদীপা যখন তার প্রাক্তনের দ্বিতীয় স্ত্রীর মুখে শুনে, এডজাস্টমেন্ট মানে হেরে যাওয়া নয় দিদিভাই!
মানে হাস্যকর। ট্রেন সফরেও উজান তার স্ত্রীকে বার্থডে সারপ্রাইজ দিয়েছিল। শেষ কথোপকথনে বলেছিল সে তার কোনো কথাই ফেলতে পারেনা। স্ত্রীর স্যুটকেসের চেইনটাও তাকেই খুলে দিতে হয় কিন্তু সুদীপার যন্ত্রণায় তাকে কখনো মাথায় বুলিয়ে দিতেও দেখা যায়নি।
অথচ সুদীপা ছিল মিনালীর চেয়েও অনেক সুন্দর, স্মার্ট, শিক্ষিতা আর প্রতিষ্ঠিত। উজানের সাথে কোনো চাপাবাজি নয়, নিজের সত্ত্বাকে নিয়েই উপস্থাপন করেছিল সে।
কিভাবে চালাকি করব শ্বশুরবাড়ির লোকের মন জয় করবে সেই ছলাকলা সুদীপার জানা ছিলনা। কিন্তু মিনালীর তা জানা ছিল।
সবচেয়ে হাস্যকর ছিল উজান তার দ্বিতীয় বউকে না চাইতেই সব দিচ্ছিল। অথচ সে নাকি এডজাস্ট করছিল।
যারা এডজাস্ট করে তারা সুদীপার মতো কদর পায় না, দুঃখ চাপা দিয়ে জীবন কাটায়। আর যারা সহজেই সব পায় তারা এডজাস্টমেন্টের বাণী শোনায়।
এইজন্য কারো জন্য এডজাস্টমেন্টে যেতে নেই। দিনশেষে দোষ আপনারই হবে। এচিভমেন্ট জিরো।