26/11/2025
* * ইয়াজুজ মাজুজ কারা? তারা কোথায় আছে ? কখন পৃথিবীতে আসবে?
একদিন মহানবী (সাঃ) হাসিমুখে বসে ছিলেন। হঠাৎ তিনি গম্ভীর হয়ে গেলেন এবং হাতের দুটি আঙ্গুল দিয়ে একটা রিং রানিয়ে বললেন৷ ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীরে এই পরিমাণ একটা গর্ত তৈরী হয়েছে। হয়ত এটার মানে এরকম যে, তাদের আসার দিন ঘনিয়ে এসেছে। ১৪০০ বছর আগেই যদি এই অবস্থা হয়, এখন তাহলে কি অবস্থা?
কিয়ামতের বড় আলামতের একটি হলো পৃথিবীতে ইয়াজুজ মাজুজের আগমন। এখন প্রশ্ন আসে এই ইয়াজুজ মাজুজ কারা ও তারা কখন পৃথিবীতে আসবে?
ইয়াজুজ মাজুজ হলো একটি বর্বর ও শক্তিশালী জাতি।
এই জাতিটি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে, যেমন তারা হযরত আদম (আঃ) বা হযরত নূহ (আঃ) এর বংশধর।
কেউ কেউ মনে করেন তারা "গগ ও ম্যাগোম" নামে পরিচিত, যা বাইবেল এবং কোরআনের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত আছে।
তাদের "ইয়াজুজ" এবং "মাজুজ" নামের উৎপত্তি আরবি "মওজ" (মওজ) শব্দ থেকে হতে পারে, যার অর্থ "দ্রুতগামী"।
ইয়াজুজ মাজুজ সম্প্রদায় এখন কোথায় আছে ? তাদের ধ্বংস হবে কিভাবে ?
ইয়াজুজ মাজুজ হলো হযরত আদম (আঃ) বা হযরত নূহ (আঃ) এর বংশধর।। তারা কিয়ামতের আগে ঈসা (আঃ) এর সময় পৃথিবীতে আগমন করবে। তারা লুকায়িত আছে একটা লোহার প্রাচীরের মধ্যে। কিন্তু কিভাবে তারা এই প্রাচীরে মধ্যে আটকা পড়লো?
ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, তারা জুলকারনাইন কর্তৃক নির্মিত একটি প্রাচীরের আড়ালে বন্দী।
প্রাচীরটি দুটি পর্বতের মাঝে অবস্থিত, যেখানে সূর্য উদিত হয়।
এই প্রাচীরটি কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে কিছু ধারণা অনুসারে এটি বর্তমান আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের দিকে হতে পারে।
তাদের কে আটকে রেখে ছিল জুলকারনাইন এবং কিয়ামতের আগে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় তারা মুক্তি পাবে। জুলকারনাইন ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ কঠোর রাজা তিনি ঘোড়ায় চড়ে পৃথিবী ঘুরে বেড়াতেন এবং যেখানেই অন্যায় দেখতেন তার বিচার করতেন এবং মানুষকে আল্লাহর পথে নিয়ে আসতেন। আল্লাহ যেভাবে যে আইন দিয়েছিলেন তার সময়ে তিনি কঠোরভাবে তা প্রণয়ন করতেন। তার নিয়ম ছিল এইটা -
"যে ভাল কাজ করবে,
আমি তাকে বিশাল পুরস্কার দিব।
যে খারাপ কাজ করবে, দূর্নীতি করবে, আমি তাকে শাস্তি দিব। আমি তো দিবই এই পৃথিবীতে, আর শেষ বিচারের জন্য আল্লাহ তো আছেনই। তিনি ছিলেন ভালোর ভালো মন্দের যম। এভাবে তিনি ঘুরতে ঘুরতে দুইপাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালেন এবং সেখানে তিনি এমন এক জাতির সন্ধান পেলেন যারা তার ভাষা ভালভাবে বুঝতে পারছিলেন না। অতঃপর তিনি খুব দ্রুত তাদের ভাষা রপ্ত করলেন।
তারা বললেন, হে জুলকারনাইন ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দিবেন ।
জুলকারনাইন উত্তর দিলেন - তোমাদের টাকার আমার কোন দরকার নাই,আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা যেকোন সম্পদের চেয়ে উত্তম। আমি তোমাদের সাহায্য করব। যদি তোমরা তোমাদের জনবল দিয়ে আমাকে সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে একটা ছিদ্রহীন, ত্রুটিহীন বা নিখুঁত প্রাচীর তৈরি করে দিব।"
আমাকে লোহা এনে দাও !! হাজার হাজার টন লোহা আনা হল, তিনি দুই পাহাড়ের মধ্যে সেই লোহা রাখলেন।
লোহা দিয়ে প্রথমে একটা ফাপা দেয়াল বানালেন, দুইটি পর্বতের মধ্যে লোহার দেয়াল, তাতে > এখন আগুন দেওয়া হল যে লোহা গলে গেল অতঃপর গলিত তামা কে তিনি ঢেলে দিলে গলিত লোহার সাথে তৈরি হল রদ’মা। নিশ্ছিদ্র এক নিরাপত্তা বেষ্টনী। পৃথিবীর বুক থেকে হাজার হাজার বছর ধরে একটি পাশরিক জাতিকে সরিয়ে রাখার জন্যে। এভাবে পৃথিবীর বুকে এখন তারা একটি রহস্যহয়ে আছে। অনেক নাস্তিকেরা মানতে নারাজ বিস্ময়েরই এই যুগে যখন মানুষ অতল সমুদ্রে চলে গেছে তখন এমন জায়গা থাকা কি করে সম্ভব যা মানুষের অজানা। ইয়াজুজ মাজুজ এমন কোন প্রাচীরে লুকায়িত থাকলে অবশ্যই তা এতদিনেই বিজ্ঞানীরা বের করে ফেলার কথা। (নাউজুবিল্লাহ)
কিন্তু যেই সৃষ্টি কর্তা এই বিশ্ব মন্ডল তৈরী করেছেন তার পক্ষে কি এটা খুব কঠিন কাজ যে তিনি কিছু লুকিয়েই রাখতে পারবেন না? নিশ্চয়ই না ।
পবিত্র কোর আনে উল্লেখ আছে, এটা আমার পালন-কর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে এখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে
দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।
[ সূরা কাহাফ]
অর্থাৎ ঐ প্রাচীর ভেঙ্গে তারা একদিন বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো এতো পোক্ত প্রাচীর ভেদ করে তারা কিভাবে বের হয়ে আসবেন?
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। প্রাচীরের বর্ণনা দিতে গিয়ে নবী করীম (সাঃ) বলেন, অতঃপর প্রতিদিন তারা পাচীর ছেদন কার্য লিপ্ত হয়। ছিদ্র করতে করতে যখন পুরোটা উন্মোচনের উপক্রম হয় এখনই তাদের একজন বলে, আজ তো অনেক করলাম, চল! বাকীটা আগামীকাল করব। পরদিন আল্লাহ পাক সেই প্রাচীরকে পূর্বের থেকেও শক্ত ও মজবুত রূপে পূর্ণ করে দেন। ফলে তারা আর বেরিয়ে আসতে পারে না। অতঃপর যখন সেই কাঙ্ক্ষিত সময় আসবে এবং আল্লাহ পাক তাদেরকে বের হওয়ার অনুমতি দিবেন, তখন তাদের মধ্যে একজন বলে, উঠবে, আজ চল। বাকিটা ইনশাআল্লাহ।
অর্থাৎ আল্লাহ যদি চাহেন তো আগামীকাল পূর্ণ খোদাই করে ফেলব। এবং পরদিন এসে দেখবে প্রাচীর আগের অবস্থায় আছে ফলে তারা পূর্ণ খোদাই করে। প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে আসবেন। তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ, মুস্তাদরাকে হাকিম ]
ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে আসার পর কি ঘটকে ? সেদিন তারা ফিলিস্তিনে এসে Tiberian Lake থেকে পানি খাওয়া শুরু করবে! সামনে যেখানে পানি পাবে খাওয়া শুরু করবো।
এমনকি তাদের প্রথম দলটি নদীর পানি খেয়ে শেষ করে ফেলবে এবং শেষ দলটি এসে দেখবে কোন পানি নেই এবং তারা বলবে হয়ত এখানে কোন একসময় নদী ছিল এবং তাতে পানি ছিল। তারা পৃথিবীর সবকিছু খেয়ে ফেলবে। খাবারের এমন অভাব হবে যে একটুকরা মাংস মানুষের কাছে এক ব্যাগ স্বর্ণমুদ্র থেকে বেশি দামি মনে হবে। এদের মূল অস্ত্র হচ্ছে নিজেদের মধ্যে একতা। বর্তমান দুনিয়ার ব্যাপারে এদের বিন্দুমাত্র কোন ধারনা নেই। এরা সংখ্যায় হবে অগনিত। হত্যা, ডাকাতি, দুর্নীতি, অরাজকতা, ধর্ষণ যা ইচ্ছা তাই করবে। এদের মূল লক্ষ্য একটাই তা হল পৃথিবীকে দখল করে নেওয়া। মাত্র দুইবার পৃথিবীতে স্রোতের মতন মানুষ বের হবে। একবার বের হবে যখন ইয়াজুজ মাজুজ ছাড়া পাবে, আর একদিন বের হবে যেদিন ইসরাফিল (আঃ) তার শিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুঁ দিবেন। তারা মানুষ মারবে। তাদের সাথে কেউ লড়াই করতে পারবে না। এক সময় তারা বায়তুল মুক্বাদ্দাসের এক পাহাড়ে গিয়ে বলবে, দুনিয়াতে যারা ছিল তাদের শেষ করেছি। এখন আকাশে যারা আছে তাদের হত্যা করব। তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে।
আল্লাহ তাদের তীরে রক্ত মাখিয়ে ফেরত পাঠাবেন। আর তখন ওরা ভাববে, যে সত্যিই, তারা আকাশের সবাইকে মেরে ফেলেছে। এই সব দেখে যারা দুর্বল বা নড়বড়ে ঈমানের মানুষ তাদের ঈমান থাকবে না। তারা ইয়াজুজ মাজুজকে খোদা মেনে নিবে (নাউজুবিল্লাহ)
একই সময় ঈসা (আঃ) ও দুনিয়াতে থাকবেন এবং তিনি তাদের থেকে রক্ষার জন্যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। তারপর আল্লাহর নির্দেশে ঈমানদার লোকদের নিয়ে ঈসা (আঃ) জেরুজালেস এ লুকাবেন। অতঃপর আল্লাহ এক প্রকার কীট পাঠাবেন যেগুলো ইয়াজুজ মাজুজদের আক্রমণ করবেন। এক রকম মহামারী শুরু হবে। সব ইয়াজুজ মাজুজ মারা মাঝে। পুরা পৃথিবী ভরে যাবে পচা গলা দেহ দিয়ে। ঈসা (আঃ) আবার দোয়া করবেন। আল্লাহ এবার পাখি পাঠাবেন। বিশাল বড় বড় পাখি। তারা দেহগুলো নিয়ে নাহবাল নামক স্থানে পানিতে ফেলে দেবে। আল্লাহ এইবার বৃষ্টি পাঠাবেন। বৃষ্টি দিয়ে ধুয়ে দিবেন পৃথিবী।
মুসলিমরা তাদের তীর ও ধনুকগুলো সাত বছর জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করবে। [বুখারী, মুসলিম, মিশকাত্]
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে, ইয়াজুজ মাজুজসহ সকল ফিতনা থেকে ঈমান রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।