02/09/2026
পে-স্কেলের বাড়তি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা জোগাবে কে?
সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়বে, শিল্পে সংকট—শেষ পর্যন্ত চাপ পড়বে কার ওপর?
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কিন্তু এই বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা একটি সীমিত অংশ। অথচ তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিপরীতে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে বহন করতে হচ্ছে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ।
অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্পখাত কঠিন সময় পার করছে। একের পর এক মিল-কারখানায় উৎপাদন কমছে, কোথাও শিফট বন্ধ হচ্ছে, কোথাও কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও পড়ছে অনিশ্চয়তায়।
এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় বৈপরীত্য—একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে বেসরকারি শিল্পে কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন শ্রমিকরা।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু একই সময়ে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ সংকুচিত হতে পারে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়তে পারে নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়তি অর্থ পেলেও সমাজের বড় একটি অংশের আয় একই জায়গায় থাকলে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে।
তাহলে বাড়তি অর্থ আসবে কোথা থেকে?
পে-স্কেলের বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। আর রাজস্বের বড় উৎস হলো জনগণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আদায় করা কর ও অন্যান্য রাজস্ব।
কিন্তু শিল্প-কারখানা বন্ধ হলে উৎপাদন কমে, ব্যবসা সংকুচিত হলে কর-রাজস্বও ক্ষ"তিগ্রস্ত হয়। ফলে একদিকে সরকারের ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাত নানা সংকটে রয়েছে।
তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা কোথায়?
কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিক বেকার হলে তাদের পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে?
আর পে-স্কেলের বাড়তি ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর কতটা পড়বে?
সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে শিল্পের চাকা সচল রাখা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর করা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
কারণ একটি দেশের অর্থনীতি শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিয়ে চলে না; অর্থনীতি টিকে থাকে শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও কোটি কোটি সাধারণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর।
তাই পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে—বেতন বাড়ানোর সুফল যেন এক শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। #পেস্কেল #বেসরকারি