07/05/2026
ধরুন, একজন স্বামী ভয়াবহ এক্সিডেন্ট করে ১০ মাস বিছানায় পড়ে আছেন।
স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক দাম্পত্য সম্পর্ক রাখার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার নেই।
এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী যদি “হালাল উপায়ে চাহিদা পূরণের” যুক্তি দেখিয়ে তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন, সেটা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম নাও হতে পারে।
কারণ ইসলামে বিচ্ছেদ বৈধ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
কাজটা কি মানবিক হবে?
উত্তরটা অধিকাংশ মানুষের কাছেই “না”।
এবার উল্টো দিকটা ভাবুন।
একজন নারী সন্তানসম্ভবা।
এক সপ্তাহ পর তার ডেলিভারি।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন, স্পর্শকাতর ও ভয়ংকর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ঠিক সেই সময় তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করলেন—
যুক্তি একটাই, “গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য”, “হালাল সম্পর্কের জন্য”।
এবং সেটি আবার প্রকাশ্যে প্রচারও করা হচ্ছে, যেন এটি একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ।
সমস্যা এখানেই।
কারণ সমাজ তখন কী শেখে?
সমাজ শেখে—
স্ত্রী অসুস্থ থাকুক, গর্ভবতী থাকুক, বিপদে থাকুক…
যেভাবেই হোক পুরুষের যৌন চাহিদার ব্যবস্থা করতেই হবে।
কারণ বিষয়টা “হালাল”, “হারাম” দিয়ে মাপা হচ্ছে।
অথচ একটি সম্পর্ক কি শুধুই হালাল-হারামের হিসাব দিয়ে টিকে থাকে?
মায়ের কথা ভাবুন—
আপনার জ্বর হলে তিনি রাত জেগে সেবা করেন।
সংসারের সবার ভালো-মন্দ দেখেন।
নিজের প্রয়োজন বিসর্জন দেন।
এসব কি কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা?
না।
এসবের নাম ভালোবাসা। মায়া। দায়িত্ববোধ।
ধর্ম কাউকে বাধ্য করেনি—
একজন মা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতেই হবে।
একজন স্ত্রী স্বামীর অসুস্থতায় সেবা করতেই হবে।
একজন নারী নিজের সব ইচ্ছা বিসর্জন দিতেই হবে।
তবু তারা করেন।
কেন?
কারণ সম্পর্ক শুধু আইনের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না, দাঁড়িয়ে থাকে হৃদয়ের উপর।
বাংলাদেশের হাজারো নারী স্বামীর আর্থিক কষ্টের কথা ভেবে নিজের স্বপ্ন, শখ, এমনকি নিজের অধিকারও ত্যাগ করেন।
দেনমোহর মাফ করে দেন।
স্বর্ণ কেনেন না।
চাহিদা লুকিয়ে রাখেন।
কারণ তারা সংসারটাকে ভালোবাসেন।
তাহলে একজন নারী কেন প্রত্যাশা করবে না—
তার সবচেয়ে দুর্বল সময়ে, সবচেয়ে ভয়ংকর শারীরিক ও মানসিক অবস্থায়, তার স্বামী তার পাশে থাকবে?
কেন তাকে দেখতে হবে—
তার অসুস্থতা বা গর্ভকালীন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে “ফতোয়া” হাতে আরেকটি বিয়ে ঘরে ঢুকছে?
ধর্মীয়তা আর মানবিকতা এক জিনিস নয়।
কেউ খুব বড় আলেম হতে পারেন, অনেক ইবাদত করতে পারেন, অসংখ্য ফতোয়া জানতেই পারেন—
তবু তার ভেতরে যদি মায়া, সহানুভূতি, ভালোবাসা না থাকে, তবে সেই জ্ঞান মানুষের উপকারে আসে না।
বিয়ে করার আগে শুধু বাহ্যিক ধার্মিকতা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
জোব্বা, হিজাব, বোরকা বা বড় বড় কথা দেখে নয়—
মানুষটার হৃদয়ে মায়া আছে কিনা, সেটা দেখুন।
কারণ মায়াহীন মানুষ, যত বড় ফতোয়াবাজই হোক, শেষ পর্যন্ত সম্পর্ককে কেবল অধিকার আর যুক্তির খাতায় নামিয়ে আনে।
আর ভালোবাসাহীন সম্পর্ক—
সেটা কাগজে বৈধ হলেও, হৃদয়ে শূন্য।