29/10/2016
মেয়েটিকে আমি চিনিনা, কোন দিন কথাও
হয়নি। হঠাৎ করেই সে আমার ইনবক্সে
লিখেছে-
*মেয়েটি- পৃথিবী আপনার কাছে ক্যামন
লাগে?
*আমি- লাল নীল বেগুনী'র মতো রঙীন লাগে তবে মাঝে মাঝে সাদা-কালোও লাগে।
*মেয়েটি- আমার কাছে শুধু কালো লাগে।
*আমি- কালো না লাগালেই হয়।
*মেয়েটি- জানেন, আমি আত্মহত্যার
সিদ্ধান্ত নিয়েছি!
*আমি- বাহ্! আপনি তো ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন!
*মেয়েটি- মজা ভালো লাগছেনা, পয়জন কিনে
এনেছি, খাবো কাল অথবা পরশু।
*আমি- আমাকে একটু দেবেন? আমার খেয়ে
দেখতে ইচ্ছে করছে! আচ্ছা এটা মিষ্টি না
টক? *মেয়েটি- ধুর! জানেন ও আমাকে বিয়ে করার
কথা বলে আমার কাছ থেকে অনেক টাকা
নিয়েছে, আমার বাবা আমাকে যে স্বর্ণের
চেইন টা বার্থডেতে গিফ্ট করেছিলো, সেটাও
ওকে দিয়ে দিয়েছি।
*আমি- নাটকের গল্পের মতো আপনিও বোকা নায়িকা হয়ে গেলেন?
*মেয়েটি- ও আমার সাথে বহুবার সেক্স
করেছে, আমি ওকে ভুলবো ক্যামনে?
*আমি- ছি! ছি! এগুলো আমার কাছে বলছেন
ক্যান?
*মেয়েটি- আপনার একটা স্ট্যাটাস পড়েছিলাম, আত্মহত্যা নিয়ে, তাই বলছি আমি
কেন আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলাম?
*আমি- ওহ্ তাইলে আপনি আমার স্ট্যাটাসও
পড়েন! কিন্তু আমি তো সাংবাদিক না!
*মেয়েটি- সাংবাদিক না তো কি হয়েছে?
আপনাকে শেয়ার করছি, মরে যাওয়ার আগে একটু মনটাকে একটু হালকা করছি।
*আমি- আচ্ছা! আপনি এখন কি চান? ওই
ছেলেটাকে?
*মেয়েটি- নাহ্ তারও সুযোগ নেই! ওকে খুব
ঘৃনা করি।
*আমি- কেন? আপনি না ওর সাথে শুইছেন। *মেয়েটি- কারন ও সেদিন আমাকে আর একটা
মেয়ের সাথে সেক্স করা ভিডিও আমার
ইনবক্সে সেন্ড করে বলছে- দ্যাখছো তোমার
থেকেও আমার নিউ গার্লফ্রেন্ডটা কত্তো
সেক্সি!
*আমি- হায় আল্লাহ্! এই রকম ছ্যাছড়া মার্কা ছেলের সাথে আপনি রিলেশন করেছেন?
*মেয়েটি- জানেন! ও এরকম ছিলোনা! ও আমার
সব কথা শুনতো এবং ভালোবাসতো, যেদিন
থেকে ও ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেলো, তার
কিছু মাস পরই সে পাল্টে যায়। আমাকে দেয়া
সব কথা অস্বীকার করে এবং আমি ফোন দিলে গালি গালাজ করে।
*আমি- কি বলবো! ভাষা নাই কিছু বলার। তবে
এটুকু বলতে পারি- ওকে শাস্তি দেয়ার জন্য
আপনার বেঁচে থাকা জরুরি।
*মেয়েটি- আর পেইন নিতে পারছিনা, কষ্টে
বুকের ভিতর সব ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। *আমি- আচ্ছা আপনার ফ্যামিলিতে কে কে
আছে?
*মেয়েটি- বাবা, মা, আমি আর আমার ছোট্ট
ভাই।
*আমি- তার মানে আপনি বড় সন্তান এবং
একমাত্র মেয়ে তাদের। আপনার মৃত্যুতে তাদের কি অবস্থা হবে! একবার ভেবে
দেখেছেন! যা হয়েছে, হয়েছে! একটা
এক্সিডেন্ট হিসেবে জীবন থেকে ডিলেট করে
দেন।
*মেয়েটি- নো রিপ্লাই।
জানিনা মেয়েটা বেঁচে আছেন কিনা! কারন ওনার আইডিটা ডিএকটিভ করা। আমি প্রায়ই
উনার ম্যাসেজ বক্সে ঢুকি, একটিভ হয়েছে
কিনা, তা দ্যাখার জন্য।
সবই নিয়তি, এমন ভুল মেয়েরা অহরহ করে
যাচ্ছে। ভুল প্রেমিক বাঁছাই করে ধরা খাচ্ছে
এবং ইজ্জত বিলিয়ে দিচ্ছে আর বাবা-মা'কে হেয় করছে সমাজের কাছে।
হায়রে প্রেম! হায়রে ভালোবাসা!
দয়া করে আপনাদের ইট-বালুর ট্রাক ভর্তি
ভালোবাসা গুলো সস্তায় বিক্রি করে দিবেন
না, সচেতন হোন।
না হলে পস্তাবেন আপনিই।
Post By : Hasib Khan