16/10/2025
কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ির উঠানে অনুষ্ঠিত হবে
২২ অক্টোবর কবি জীবনানন্দ দাশে'র মৃত্যুদিনে আগুনমুখা আয়োজিত 'জীবনানন্দ স্মরণ' অনুষ্ঠানের দুপুরপর্ব।
কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি, একটি গল্প...
জমিদার পুত্র কালী প্রসন্ন কুমার কে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়। জমিদারিত্বের বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড। জমিদারবাড়ির অনেকের সঙ্গে সেই ষড়যন্ত্রে তার স্ত্রী হরসুন্দরীর নাম ওঠে। হরসুন্দরী বারবার অস্বীকার করে। পরিবারের সবাইকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন যে তিনি স্বামীর হত্যাকারী নন। তবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে এবং স্বামী হত্যার দায় থেকে মুক্তি পেতে হরসুন্দরী পতির সঙ্গে সহমরণে যাওয়ার পণ করেন। ব্রিটিশ সরকার যদিও আইন করে সহমরণ বা সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেছিল তখন। খবর পেয়ে বরিশাল থেকে ম্যাজিস্ট্রেট চলে আসেন জমিদারবাড়ির শ্মশানে। কিন্তু চেষ্টা করেও হরসুন্দরীকে আটকাতে পারেননি। শাড়ি-গহনা আর মাথায় সিঁদুর পরে স্বামীর সঙ্গে জ্বলন্ত চিতায় ওঠেন হরসুন্দরী। মরে প্রমান করেন যে তিনি নির্দোষ।পরে তাদের একসঙ্গে সমাধিস্থ করা হয়েছিল, স্থাপন করা হয়েছিল একটি মন্দির। কালী প্রসন্নের সমাধিতে তার স্ত্রীর সহমরণের ঘটনার পর এই অঞ্চলে আর এমন ঘটনা জানা যায়নি।
কৃষ্ণকুমার সেন, আঠারো শতকের কোনো এক সময় রায়কাঠির রাজার কাছ থেকে পুরস্কার হিসেবে কীর্ত্তিপাশা গ্রামে তালুক পেয়েছিলেন। নিজের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাজারাম সেন ও কনিষ্ঠ পুত্র কাশীরাম সেনের নামে তালুক কিনেছিলেন কৃষ্ণকুমার সেন। রাজারাম পেয়েছিলেন সম্পত্তির দশ আনা। আর কাশীরাম পেয়েছিলেন ছয় আনা। সেই থেকে দুজন গড়ে তুলেছিলেন দুটি দালান। একটি পরিচিত বড় হিস্যার বাড়ি, অন্যটি ছোট হিস্যার।'
ইতিহাসের নানা উপাখ্যানের সাক্ষী হয়ে ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে ঘাট বাঁধানো পুকুর, উঁচু উঁচু পাঁচিলঘেরা নান্দনিক কারুকাজের দালান, নাচঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সমাধির ওপর গড়া সেই মন্দির, জমিদারবাড়ির নাটমন্দির আজ ধ্বংসের পথে। লতাপাতা আর আগাছায় পরিপূর্ণ বাড়িটির সব ভবন এখন জরাজীর্ণ আর ভগ্নদশায়। কোথাও কোথাও ছাদ ধসে পড়েছে। সিঁড়ি ভেঙে মিশে আছে মাটির সঙ্গে। এছাড়া মূল জমিদারবাড়ি ও দুর্গা মন্দিরটি এখন পরিত্যক্ত হয়ে আগাছায় পূর্ণ। নাট্যশালার চিহ্ন টিকে আছে কোনোমতে।
কালের বিবর্তে ছোট হিস্যা আজ নিশ্চিহ্ন। আর বড় হিস্যার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও নাট্যমঞ্চ ও হলরুমে চলছে কমলিকান্দর নবীন চন্দ্র বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। এই ভবনের
চিতায় পুড়ে অঙ্গার হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন হরসুন্দরী। ঝালকাঠির কীর্তিপাশায় জমিদার বাড়ির ১৮২৮ সালে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক এই কাহিনী আজও মানুষকে শিহরিত করে।
#কীর্তিপাশাজমিদারবাড়ি #কবিতারআড্ডা #জীবনানন্দদাশ