22/02/2026
তারাবীহ শেষ। মুসল্লিগণ বের হয়ে যাচ্ছেন। হাফেজ সাহেবও আপন বাবার সাথে বের হচ্ছেন। অভিজাত এলাকা। দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিগণ তারাবীহ পড়ার জন্য এই মসজিদে আসেন। হাফেজ সাহেবের সুললিত কণ্ঠের তিলাওয়াত সবার হৃদয় কাড়ে।
মসজিদের বাইরে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদ চত্ত্বরে তখনো অসংখ্য মুসল্লি ইতিউতি দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। হাফেজ সাহেব এত মুসল্লি দেখে মুগ্ধ। বাবাকে বললেন,
- এতগুলো মানুষ এই মসজিদে প্রতি রাতে নামাজ পড়ার জন্য আসেন। দেখে আপনার ভালো লাগে না?
বাবা মিতবাক মানুষ। ছেলের কথায় কোনো মন্তব্য করলেন না। কিশোর হাফেজ সাহেব কথা বাড়ালেন না। চুপচাপ চারদিকে মুগ্ধদৃষ্টিতে দেখতে দেখতে বাড়ির পথ ধরলেন।
পরদিন তারাবীর পর একই দৃশ্যের অবতারণা। হাফেজ সাহেব মুগ্ধ নয়নে বিপুল মুসল্লিদের দেখছেন। বাবাও সাথে আছেন। মসজিদের দরজায় বাপবেটাকে জুতা পরতে দেখে কয়েকজন মুরুব্বি এগিয়ে এলেন। বাবা ও ছেলের কাছে তিলাওয়াতের প্রশংসা করলেন।
হাফেজ সাহেব আজ আবার বাবাকে প্রশ্ন করলেন,
- এতগুলো মানুষ আমার তিলাওয়াত শুনতে আসেন, আপনার ভালো লাগে না?
বাবা সাথে সাথে উত্তর দিলেন না। চুপচাপ কিছুদূর হেঁটে গেলেন। মসজিদের চৌহদ্দি পেরিয়ে এসে স্বগতোক্তি করলেন,
- এতগুলো মানুষ আল্লাহর কালামের মহব্বতে এতদূর ছুটে আসেন। তুমি আসো মানুষের প্রশংসা লাভের মোহে।
— শায়খ আতীক উল্লাহ (হাফি.)