05/04/2026
আরমান কোহলি — সিনেমার ইতিহাসে ‘যদি’ বলে কিছু নেই 💔
বলিউডে কিছু গল্প আছে, যেগুলো শুনলে মনে হয়—একটু এদিক-ওদিক হলেই ইতিহাসটা পুরো বদলে যেতে পারত। আরমান কোহলি সেই রকমই এক গল্পের নাম। যেখানে সম্ভাবনা ছিল, সুযোগ ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেন কিছুই ঠিকঠাক জায়গায় বসেনি।
আরমানের জন্মই হয়েছিল সিনেমার ভেতরে। তাঁর বাবা রাজকুমার কোহলি—একটা সময়ের দাপুটে নির্মাতা। ‘নাগিন’, ‘জানি দুশমন’, ‘বদলে কি আগ’, ‘রাজ তিলক’—এই সব ছবির মধ্য দিয়ে তিনি নিজের আলাদা একটা জগত তৈরি করেছিলেন। সেই জগতেই ছোটবেলায় প্রথম পা রাখেন আরমান। ‘বাদলে কি আগ’ আর ‘রাজ তিলক’-এ শিশু শিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো—সেখান থেকেই শুরু।
তারপর আসে বড় হওয়ার গল্প। ১৯৯২ সালে ‘বিদ্রোহী’ দিয়ে নায়ক হিসেবে লঞ্চ—বাবার সব স্বপ্ন যেন একসঙ্গে জড়িয়ে ছিল এই ছবিতে। কিন্তু সিনেমা তো শুধু লঞ্চে চলে না, লাগে ভাগ্য, লাগে সময়ের সঙ্গে তাল মেলানো। আর সেখানেই যেন একটু একটু করে পিছিয়ে পড়েন অরমান।
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো—তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছু ‘না বলা ইতিহাস’। দিওয়ানা—এই ছবির প্রথম পছন্দ ছিলেন আরমান কোহলি। শুটিংও শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে তিনি ছবি ছেড়ে দেন। সেই ফাঁকেই সুযোগটা গিয়ে পড়ে শাহরুখ খান-এর হাতে। বাকিটা তো ইতিহাস—শাহরুখের উত্থানের গল্প।
এখানেই শেষ নয়। বাজিগর—এই ছবিতেও আরমানকে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্রও চলে যায় শাহরুখের কাছে। আবার দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে-এর পারমিত শেঠির চরিত্রটাও প্রথমে অফার করা হয়েছিল অরমানকে। কিন্তু তিনি সেটাও ফিরিয়ে দেন—কারণ তার চাওয়া ছিল লিড রোল।
ভাবলে অবাক লাগে—এই তিনটা ছবির যেকোনো একটাতেও থাকলে হয়তো আজ গল্পটা অন্যরকম হতো।
রাজকুমার কোহলি ছেলেকে নায়ক বানাতে কম চেষ্টা করেননি। বারবার তাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু সিনেমা কখনও শুধু চেষ্টার ওপর চলে না। দর্শক যদি গ্রহণ না করে, তাহলে সব হিসেবই এলোমেলো হয়ে যায়।
ধীরে ধীরে আরমান কোহলির নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘ফ্লপ’ শব্দটা। সঙ্গে যোগ হয় আরেকটা ইমেজ—রাগী, অস্থির এক মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্ক, আইনি জটিলতা—সব মিলিয়ে তিনি যেন সিনেমার পর্দা থেকে সরে গিয়ে অন্য এক আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠেন।
আরমান কোহলির গল্পটা তাই শুধু একজন ব্যর্থ নায়কের গল্প নয়। এটা এক অদ্ভুত ‘হোয়াট ইফ’—যদি তিনি ‘দিওয়ানা’ না ছাড়তেন, যদি ‘বাজিগর’ করতেন, যদি ‘ডিডিএলজে’-র সেই চরিত্রটা গ্রহণ করতেন, তাহলে কি আজ আমরা অন্য একজন সুপারস্টারের গল্প লিখতাম? সম্ভবত। কিন্তু, সিনেমার ইতিহাসে ‘যদি’ বলে কিছু নেই—যা হয়েছে, সেটাই চূড়ান্ত।