24/06/2025
আল জাজিরার সর্বশেষ তথ্যানুসারে , ইরান ইরাকের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হাম*লা করছে ।
হাম*লা করছে কাতারের Al Uhedid- তে ও । এটা রাজধানী দোহা থেকে ৩০ কি.মি দূরে । মধ্যপ্রাচ্যে এই ঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্য আছে ১১ হাজারের মতো ।
গতকাল আল জাজিরার একটা এনালাইসিস পড়ছিলাম , একজন কলামিস্ট লিখছিলো ,
" ইরানের উচিত হবে এই মুহূর্তে আমেরিকাকে এড়িয়ে যাওয়া । জাস্ট ইগনর করা এবং হিজরা*য়েলে আক্র*মণের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া ।
কারণ একই সাথে আমেরিকার এবং হিজরায়েলের সাথে লড়াই চালিয়ে যাওয়া বোকামি । "
আপনি বলতে পারেন ,
লাল চুলের পাগলা বো*মা মারছে , ইরান কেনো বসে থাকবে?
একটা জিনিস চিন্তা করেন , শুধুমাত্র হিজ*রায়েলের বিপক্ষেই কোনো দেশ যুদ্ধে যাইতে চাইতেছে না ।
তার সাথে সুপার পাওয়ার আমেরিকা?
তাও মুখোমুখি দাঁড়াইছে চীন না, উত্তর কোরিয়া না, রাশিয়া না , ইরান ।
যাদের পারমাণবি*ক বো*মা ও আছে কিনা সন্দেহ।
পারমা*ণবিক বো*মা পকেটে পুরে রাখা পাকিস্তান ও হিজরায়েলের ভয়ে ট্রাম্পের পকেটে চলে গেছে,
যখন হিজরা*য়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলছে ,
" আমাদের নেক্সট টার্গেট পাকি*স্তান । "
আমি বলবো , ইরান যেটা করছে, এটা দুঃসাহস দেখাইছে । আমি এই দুঃসাহস শব্দটা পজিটিভলি বলছি ।
ওরা জাস্ট এটা দেখাইছে, ওরা মাথা নোয়াতে রাজি নয় । ওরা ভয়ে কারো পকেটে ঢুকতে রাজি নয় ৷
ওরা ভয়ে কারো সাথে চুক্তি করতে রাজি নয় ।
ইরান যেটা করছে , সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে অভিয়াসলি ।
আজকে হিজরায়েল এবং ট্রাম্পের স্টেটমেন্ট শুনে বোঝা গেলো , ওরা যুদ্ধ আর দীর্ঘায়িত করতে চায় না।
কারণ এই হ্যাডম দেখাইতে গেলে ওদের যে ক্ষতি হবে, সেটা পূরণ করা পসিবল না ।
কিন্তু ইরান বারবার বলে আসছে , শুরু তোমরা করছো, শেষ আমরা করবো ।
এবং সেটাই ইরান করে দেখাচ্ছে ।
কিন্তু একটা জিনিস দেখেন , ইরা*ন আমেরিকার বিরুদ্ধে হাম*লা চালাইলেও এতে মধ্যপ্রাচ্য জড়িয়ে যাবে সরাসরি ।
মুসলিমদের এখন যে শো' টা হবে, সেটা ইহুদীরা এনজয় করবে ।
এখন মুসলিমরা আরও কনফিউজড হয়ে যাবে ।
কারণ শিয়া*রা কাফের কাফের বইলা চিৎকার দিলেও এতদিন সবাই তাদের সাপোর্ট করছে কারণ তারা হিজ*রায়েলের বিরুদ্ধে লড়ছে ।
এবার যখন ইরা*ন থেকে কাতারে আক্র*মণ হবে , ইরান থেকে সৌদি*তে আক্রম*ণ হবে , সৌদি, কাতার থেকে পাল্টা আক্র*মণ হবে—
হিসেবটা হয়ে যাবে এরকম,
১. ইহুদীর সাথে শিয়াদের যুদ্ধ ( ইরানের সাথে হিজরায়েল আমেরিকা)
২. শিয়া সুন্নি যুদ্ধ (ইরান বনাম মধ্যপ্রাচ্য)
এখন এতোদিন যারা ইরানকে সাপোর্ট করতেছিলো, তাদের সিদ্ধান্ত কি হবে?
শুধু যে মার্কিন ঘাঁটি বনাম ইরান আক্রম*ণ হবে এমনটা না , আক্র*মণটা রাষ্ট্র ও দেশভিত্তিক হয়ে যাবে ।
কাতার বনাম ইরান । ইরাক বনাম ইরান । সৌদি বনাম ইরান ।
কেউ কেউ বলে, এটা ধর্মযু*দ্ধ না ,আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ । কিন্তু এটাও সত্য, আমেরিকা যখুনি কোনো মুসলিম কান্ট্রিতে সাম্রাজ্য ছড়াইতে গেছে , ঐখানেই ধর্ম'রে ইউজ করছে ।
মুসলিমদের ট্যাগ লাগাইছে ।
আমেরিকা*র মিডিয়ায় যতোবার মুসলিমদের স**ন্ত্রাস ট্যাগ লাগাইছে, পুরো বিশ্ব মিডিয়া একসাথে ও মুসলিমদের এত সন্ত্রা**সী ট্যাগ দেয় না ।
যখুনি তারা মধ্যপ্রাচ্যে ঢুকে , তখুনি ধর্মের ট্যাকটিকস নিয়াই ঢুকে ।
ট্রাম্প এখানে ট্যাকটিকসটা খেলছে কোথায় , এখন টের পাবেন ।
ইহুদী বনাম মুসলিমদের যুদ্ধ এখন ইহুদী বনাম শিয়া, শিয়া বনাম সুন্নী যুদ্ধতে পরিণত হবে এবং বিশ্বজুড়ে একদলের সমর্থকরা বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে।
মহিষের পালরে যেমন বিভক্ত কইরা —
একটা একটা মহিষ শিকার করে সিংহ নিজের উদরপূর্তি করে আর কি ।
( সরকারি তথ্যানুসারে , বাংলাদেশের ৩.৫০ লাখ প্রবাসী আছে কাতারে। সৌদিতে ২৬-২৭ লাখ । আল্লাহ সবাইকে হেফাজতে রাখুক )