17/09/2025
উৎসবমুখর পরিবেশে ভৈরবে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
রিপোর্ট, শামীম আহমেদ :
কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরবে ব্যবসায়ীদের বৃহত্তম সংগঠন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক সাধারণ সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সরকারি কাদির বকস্ পাইলট মডেল হাই স্কুল মাঠে দিনব্যাপী এই সভায় শতশত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং পেশাজীবীগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব জাহিদুল হক জাবেদ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম (সিআইপি)।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শবনম শারমিন। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব জাহিদুল হক জাবেদ বিগত বছরের কার্যক্রম ও সভার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহীন এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় ব্যবসায়ীরা ভৈরব শহরের বিভিন্ন সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ থাকে যে, ভৈরবের অর্থনীতির প্রাণশক্তি মেঘনা নদীঘাট, আড়ত ও পাইকারি বাজারগুলো বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন। বিশেষত, ছিনতাই, চুরি এবং মাদক ব্যবসা এখন ব্যবসায়ীদের মূল উদ্বেগ।
একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে ভৈরবে ব্যবসার কাজে আগত কেউ ছিনতাইয়ের ভয়ে নিরাপদ বোধ করেন না। এতে ভৈরবের ব্যবসায়িক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।" অপর একজন ব্যবসায়ীর দাবি ছিল, "ঘাট রক্ষা করা না গেলে ভৈরবের অর্থনীতি ধ্বংস হবে। এটি শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, পুরো এলাকার মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন।"
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন বলেন, "ভৈরব ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। এখনই ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।" তিনি ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের নিশ্চয়তা দেন।
প্রধান অতিথি মো. শরীফুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, "দেশের যে কোনো উন্নয়নের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। ভৈরবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। শহর রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।" তিনি আরো বলেন, "অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকব।"
আলোচনা শেষে ভৈরবের সেরা তিনজন করদাতা এবং নারী উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্ট অনুমোদন ও উন্নয়নমূলক প্রস্তাব গ্রহণের পর চেম্বারের সম্মানিত সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।