27/06/2026
৬০০ কোটি রুপির তরুণ শিল্পপতি কেতন আগারওয়াল,,,
টাকা, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি সবই ছিলো কেতন আগারওয়ালের,,, দীর্ঘ ৩৫ বছরের পারিবারিক বন্ধুত্বের জের ধরেই,,, পারিবারিকভাবে কেতনের বিয়ে ঠিক হয়,,, ২০ বছর বয়সী সুন্দরী তরুণী সিয়ার সাথে,,, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ধুমধাম করে,,, তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়,,, আগামী নভেম্বরে বিয়ে,,, আর সেই বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে,,, কেতন ১৭ কোটি রুপি দিয়ে আস্ত এক রাজকীয় মহল,, কিনে নিয়েছিলেন হবু স্ত্রী সিয়াকে।।।😌
সিয়া এই বিয়েতে মোটেও খুশি ছিলো না,,, সে মনেপ্রাণে ভালোবাসত 'চেতন' নামের অন্য এক যুবককে,,, কিন্তু পারিবারিক আভিজাত্যের বেড়াজাল ডিঙিয়ে,,, চেতনের কথা বাবা-মাকে বলার সাহস তার ছিলো না,,, ফলে সে এক ভয়ানক সিদ্ধান্ত নেয়,,, কেতন ট্রেকিং ভালোবাসতেন,,, একবার সিয়াকে নিয়ে একটি উঁচু পাহাড়ি টিলায় বেড়াতে গিয়েছিলেন,,, সিয়া চাচ্ছিলো যত দ্রুত সম্ভব কেতনকে সেই পাহাড়ে নিয়ে যেতে,,, কিন্তু কেতন তাকে সারপ্রাইজ দিতে,,, বালি দ্বীপের টিকিট কাটেন,,, বালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে যখন তারা গাড়িতে করে,,, বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন,,, তখনই সিয়া তার প্রথম চালটি চালে।।।😌
বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর,,, সিয়া ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায় গাড়ি থামাতে বলে,, গাড়ি থামলে সে কৌশলে,,, কেতনের পাসপোর্টটি নিজের ব্যাগে লুকিয়ে ফেলে,,, এরপর টয়লেটে গিয়ে সেই পাসপোর্টটি ছিঁড়ে কমোডে ফ্লাশ করে দেয়,,, পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার কারণে,,, স্বাভাবিকভাবেই বালি যাত্রা বাতিল হয়ে যায়,,, বালি যাত্রা বাতিল হতেই সিয়া আবারও,,, সেই পাহাড়ে যাওয়ার জন্য জেদ ধরতে শুরু করে,,, সরল বিশ্বাসে কেতন এবার আর না করতে পারেননি,,, দুজনে মিলে রওনা হন সেই দুর্গম পাহাড়ের উদ্দেশ্যে,,, পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর ঠিক আধা ঘণ্টা পর,,, কেতনের পরিবারের কাছে,,, সিয়ার একটি কান্নাবিজড়িত ফোন আসে। সিয়া জানায়,,, সেলফি তোলার সময় পা পিছলে গভীর খাদে পড়ে গেছে কেতন।।। 😌
খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়,,, প্রায় তিন ঘণ্টার এক অভিযানের পর,,, গভীর খাদ থেকে উদ্ধার করা হয় কেতনের নিথর দে'হ,,, ওপর থেকে আছড়ে পড়ার কারণে,,, তার শরীরের প্রায় প্রতিটি হাড় ভে'ঙে গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিলো,,, প্রাথমিকভাবে সবাই এটাকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলেই ধরে নিয়েছিল,,,
কিন্তুরখটকা লাগে কেতনের বোনের,,, ভাইয়ের আকস্মিক মৃ*ত্যু তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না,,, তিনি সিয়াকে ঘটনার বিষয়ে,,, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করতে শুরু করেন,,, আর এখানেই ধরা খেয়ে যায় সিয়া,, একেকবার একেক রকম বয়ান দিতে গিয়ে,,, নিজের বোনা মিথ্যার জালে নিজেই জড়িয়ে পড়ে সে।।। 😌
বোনের সন্দেহ তীব্র হলে,,, তিনি তার বাবাকে জানান,,, এবং পরিবার থেকে পুলিশকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের অনুরোধ করা হয়,,, পুলিশ যখন সিয়ার কল রেকর্ড,,, এবং সেই পাহাড়ি এলাকার টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে,,, তখন থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে,,, জানা যায়, ঘটনার সময় সেখানে শুধু কেতন আর সিয়া ছিলো না,,, উপস্থিত ছিলো চেতনও,,, জেরার মুখে পড়ে সব খুলে বলে সিয়া,,, বেরিয়ে আসে আসল সত্য,,, প্রেমিক চেতনকে সাথে নিয়ে,,, কেতনকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড়ের নিচে ফেলে দিয়েছিলো সিয়া।।। 😌
সিয়ার ফোন জব্দ করার পর,,, সাইবার ক্রাইম ইউনিট দেখতে পায়,,, ঘটনার বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই সে গুগলে সার্চ করছিল,,, পাহাড় থেকে পড়ে গেলে মানুষের শরীরের কী ক্ষতি হয়,,, পোস্টমর্টেমে খু*নের আর দু'র্ঘটনার পার্থক্য কীভাবে ধরা পড়ে,,, এবং কোন বিষ শরীরে সহজে ধরা পড়ে না,,, সিয়া ও চেতনের মধ্যকার বেশ কিছু ডিলিট করে দেওয়া,,, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ফরেনসিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে রিকভার করা হয়,,, যেখানে দেখা যায়, কেতনের বালি ট্রিপ বাতিল করার জন্য,,, পাসপোর্ট নষ্ট করার আইডিয়াটি চেতনই সিয়াকে দিয়েছিলো।।। 😌
ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়,,, কেতনের পিঠে এবং কাঁধে এমন কিছু কালশিটে বা টিস্যু ইনজুরি ছিলো,,, যা কেবল তখনই সম্ভব,,, যখন কেউ পেছন থেকে প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা দেয়,,, পা পিছলে পড়ে গেলে এই ধরনের ফোর্সড ইমপ্যাক্ট চিহ্ন পিঠে থাকার কথা নয়,,, কেতনের নখের নিচে চামড়ার কিছু অংশ পাওয়া যায়,,, পাহাড়ের চূড়ায় চেতন যখন তাকে ধাক্কা দিতে যায়,,, তখন কেতন বাঁচার জন্য চেতনকে খামচে ধরার চেষ্টা করেছিলেন,,, ডিএনএ টেস্টে সেই চামড়া চেতনের বলে প্রমাণিত হয়,,, পুলিশ যখন এয়ারপোর্টের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে,,, তখন আরো একটি বড় সূত্র পায়,,, সিয়া যখন ওয়াশরুমে ঢুকেছিলো,,, তার ঠিক দুই মিনিট আগে চেতনও সেই এয়ারপোর্টের,,, পাবলিক ওয়াশরুমের এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলো।।। 😌
আসলে সিয়া পাসপোর্টটি কমোডে ফ্লাশ করেনি,,, কারণ আস্ত পাসপোর্ট ফ্লাশ করলে কমোড জ্যাম হয়ে যেতে পারে,,, তাই সে ওয়াশরুমের ভেতরে চেতনকে পাসপোর্টটি হ্যান্ডওভার করেছিলো,,, যাতে চেতন ওটা পু*ড়িয়ে ধ্বং'স করে দিতে পারে,,, কেতনের বোন সিয়াকে ধরার জন্য একটি ফাঁদ পেতেছিলেন,,, তিনি সিয়াকে বলেন,,, ভাবি, কেতন পড়ার আগে একটা লাইভ ভিডিও করছিলো,,, ক্লাউড স্টোরেজে সেই ভিডিওটা সেভ হয়ে গেছে,,, পুলিশ ওটা রিকভার করছে,,, এই কথা শোনার পর সিয়া প্রচণ্ড প্যানিকড হয়ে পড়ে,,, এবং মাঝরাতে চেতনকে ফোন করে বলে,,, সব শেষ, কেতন ভিডিও করে
রেখেছিলো।।। 😌
পুলিশ আগে থেকেই সিয়ার ফোন ট্যাপ করছিলো,,, ফলে এই একটি ফোনেই তাদের অপরাধ পুরোপুরি প্রমাণিত হয়ে যায়,,, যে পুরুষের জীবনে কোনো কিছুর অভাব ছিলো না,, অঢেল সম্পত্তি, ভালোবাসা দেওয়ার মতো পরিবার,,, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে গেল,,, শুধু একজন বিশ্বস্ত সঙ্গীনীর অভাবে,,, ২০ বছরের এই তরুণী ২০ মাসও সময় নেয়নি,,, একটি সাজানো গোছানো জীবনকে ধ্বংস করে দিতে,,
অথচ এই তরুণীর জন্য কেতন,,, ১৭ কোটি রুপি দিয়ে রাজকীয় মহল কিনেছিলেন,,, সেই রূপসী নারীর নিখুঁত অভিনয়ের আড়ালে থাকা,, ক্রাইমিনাল মাইন্ডের বলি হতে হয় তাকে,,, শেষ পর্যন্ত সিয়া ও চেতন দুজনেরই ঠাঁই হয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে,,, নারীর ছলনা সত্যি ভয়ংকর।।। 😌
অনলাইন থেকে সংগ্রহীত।