10/10/2025
আজ হারালাম শুধু এক জন শিক্ষককে না — হারালাম এক প্রেরণার উৎস, পড়াশোনা ও জীবনের মূল্যবোধ শিখানো বন্ধুর হাসি, কথার মাধুর্য আর উদার মনের স্পর্শ।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন —অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (SMI) স্যার আজ আমাদের মাঝে নেই। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন, এবং তার পরিবারের সবাইকে ধৈর্য ও শান্তি দান করুন।
স্যার,
আপনার ক্লাসের সেই হাসিমুখ, অফিস শেষে ক্লান্তি সরে গিয়ে যে উষ্ণ আলাপ, ঈদের দিন “ঈদ মোবারক” লিখে পাঠানো খাসা বাংলা এসএমএস —এই ছোট্ট মুহূর্তগুলো আজ অমূল্য স্মৃতিতে রূপ নিয়েছে।
আমার জীবনের এক অধ্যায়—BRAC ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আপনি ‘Business Communication’ পড়াতেন; ক্লাসে আপনার কথা, উপস্থাপন, উদ্দীপনা—সবই ছিল আমাদের জন্য এক অনুকরণ।পরে ইউল্যাবে আপনাকে পাশে পেয়ে দারুণ এক অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছিলো।
আজ আপনার না থাকার শূন্যতা তুলনায় বিশাল —কিন্তু আপনার লেখা, আপনার ভাবনা, আপনার হাসি ও শিক্ষার ছোঁয়া আমরাও বয়ে চলব —এইভাবে আপনি থাকবেন — স্মৃতিতে, হৃদয়ে, জীবনে।
----------------------:--------------------
অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (জন্ম: ১৮ জানুয়ারি ১৯৫১) আজ ১০ অক্টোবর ২০২৫ দুপুরে লাবএইড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। মহান আল্লাহ তাকে জন্নাত নসিব করুন — এই দোয়াই করছি।
স্যার দীর্ঘর্কালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন; পরবর্তীতে তিনি University of Liberal Arts Bangladesh (ULAB)-এ যোগ দেন এবং BRAC University-তে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। লেখালেখি, সমালোচনা ও অসামান্য পাঠদানের কারণে তিনি ১৯৯৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। শিক্ষাজীবনে তিনি Queen’s University (Canada) থেকে পিএইচডি করেছেন।
৩ অক্টোবর হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করে তিনি লাবএড হাসপাতালে ভর্তি হন; চিকিৎসায় দুইটি স্টেন্ট বসানো হয়েছিল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছিল। আজ বিকেলে তার মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করা হয় — এটা আমাদের সকলের জন্য গভীর শোকের ব্যাপার।
স্যারের হাসিমুখ, সরলতা এবং ছাত্র-জনপ্রিয়তা অনেকের মনে থাকবে। তার লেখা ও শিখনই তার সবচেয়ে বড় অমর স্মৃতি। তার পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা — আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুক।