01/05/2026
কিছু মানুষ জীবনে খুব অদ্ভুতভাবে আসে। তারা প্রথমে পরিচিত হয়, তারপর অভ্যাস, তারপর একসময় পুরো একটা পৃথিবী হয়ে দাঁড়ায়। তাদের একটা মেসেজে মন ভালো হয়ে যায়, একটা “কেমন আছো?” সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়, আর তাদের উপস্থিতিকে তখন মানুষ নিজের জীবনের শান্তি ভাবতে শুরু করে।
“নীল ”ও ঠিক এমনভাবেই একদিন নিজের সবকিছু জুড়ে ফেলেছিল একজন মানুষের সাথে।
সে বিশ্বাস করেছিল, পৃথিবীতে অন্তত একজন মানুষ আছে, যে তাকে বুঝে। যে তার রাগের পেছনের অভিমানটা বুঝবে, চুপ হয়ে যাওয়ার পেছনের কষ্টটা বুঝবে, আর রাত জেগে অপেক্ষা করার পেছনের ভালোবাসাটাও অনুভব করবে।
কিন্তু মানুষ যখন বদলায়, তখন তারা কোনো শব্দ করে বদলায় না। তারা ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। এত ধীরে যে তুমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস করতে চাও “নাহ, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
নীলও তাই করেছিল।
সে প্রতিদিন অপেক্ষা করতো।
একটা রিপ্লাইয়ের জন্য।
একটু সময়ের জন্য।
একটু গুরুত্ব পাওয়ার জন্য।
কিন্তু যার কাছে তুমি পৃথিবীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভাবো নিজেকে, তার কাছে যখন তুমি ধীরে ধীরে শুধু “সময় পেলে কথা বলবো” টাইপ একজন মানুষে পরিণত হও। তখন বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা শূন্যতা জন্ম নেয়।
মানুষ ভাবে কষ্ট মানে কান্না। আসলে সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো
চুপ হয়ে যাওয়া। "নীল"ছেলেটা একসময় খুব কথা বলতো।
তার গল্প ছিল, স্বপ্ন ছিল, অনুভূতি ছিল। কিন্তু অবহেলা মানুষকে এমনভাবে ভাঙে, যেখানে একসময় সে নিজের অনুভূতিগুলোও লুকিয়ে ফেলতে শেখে। কারণ সে বুঝে যায়
কেউ আসলে জানতে চায় না, তার ভেতরে কতটা ঝড় চলছে। কেউ জানতে চায় না সে কেমন আছে।
রাতগুলো কাটে সবচেয়ে ভয়ংকর ভাবে । চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেলে পুরোনো স্মৃতিগুলো একে একে ফিরে আসে ।
পুরোনো ছবি, পুরোনো চ্যাট, কিছু অসমাপ্ত কথা, কিছু অনুভূতি, সবকিছু তাকে ভিতর থেকে শেষ করে দিতো।
কখনো কখনো সে ফোন হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতো। ভাবতো, “আজ যদি মানুষটা নিজে থেকে একটা মেসেজ দিতো!” কিন্তু স্ক্রিনটা নিঃশব্দই থাকতো।
অদ্ভুত না?
যে মানুষটার সাথে একসময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, একসময় তার সাথেই কথা বলার জন্য সময় চাইতে হয়।
যে মানুষটা একসময় তোমার ঘুম না হওয়া পর্যন্ত জেগে থাকতো, সেই মানুষটাই পরে তোমার কান্নার কারণ হয়ে যায়। নীল মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতো!
আমি কি সত্যিই এতটাই অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছি?
আমাকে ভালোবাসাটা কি এত কঠিন ছিল?
আমি কি সত্যিই এগুলো ডিজার্ভ করি?
কিন্তু এই প্রশ্ন গুলোর কোনোদ উত্তর মিলাতে পারতো না।
শুধু ভেতরে ভেতরে একটা মানুষ প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে যেতো। সে কাউকে দোষ দেয় না। কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষকে অভিযোগ করতে শেখায় না। শুধু নিরবে সহ্য করতে শেখায়। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো যারা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তারাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়। এটাই হয়তো পৃথিবীর ভালোবাসার ধর্ম।
আজও হয়তো নীল হাসে।
মানুষের সাথে কথা বলে।
স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করে।
কিন্তু কিছু রাত এখনও তাকে ঘুমাতে দেয় না।
হঠাৎ করে হৃদস্পন্দন বেড়ে জায়।
কিছু স্মৃতি এখনও বুকের ভেতর নিঃশব্দে রক্তক্ষরণ করায়।
কিছু মানুষকে …
চাইলে ভুলে যাওয়া যায় না।
কারণ তারা শুধু জীবনের একটা অংশ ছিল না,
তারা পুরো একটা অনুভূতির একটা জীবনের একটা স্বপ্নের অস্তিত্ব ছিলো........ ..... ....
©tallu vai - তুমি বদলে যাওয়ার শব্দ আমি শুনিনি।