OYSHO Europe

OYSHO Europe Dweepchaya
Island of Reflexion

ভোলার কবি লেখক কাজল কৌশিক এর মেঘের আঁচল বইয়ের একটি কবিতা ১৪ আনা
02/06/2024

ভোলার কবি লেখক কাজল কৌশিক এর মেঘের আঁচল বইয়ের একটি কবিতা ১৪ আনা

ইউপি নির্বাচনভোলায় নৌকা ৯ ও স্বতন্ত্র ৩ ইউনিয়নে বিজয়ীপঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলা সদর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ভ...
06/01/2022

ইউপি নির্বাচন
ভোলায় নৌকা ৯ ও স্বতন্ত্র ৩ ইউনিয়নে বিজয়ী

পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলা সদর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে ৯টি ইউনিয়নে। আর ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর চেয়ারম্যান প্রার্থী বে-সরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো: মিজানুর রহমান এ ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ীরা হলেন, শিবপুর ইউনিয়নে মোঃ জসিম উদ্দিন (আওয়ামী লীগ) ৮ হাজার ৬ শত ৮৪ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে তার নিকোটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: সিরাজুল ইসলাম পেয়েছে মাত্র ২ শত ৬০ ভোট। এই ইউনিয়নে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভেদুমিয়া ইউনিয়নেও ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রথম বারের নির্বাচন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হন মোস্তফা কামাল কামাল। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৭ শত ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো: কালিমুল্লাহ পেয়েছেন ৩ হাজার ৬ শত ৮২ ভোট। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মোসলেউদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৭ শত ৫৩ ভোট। এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের আব্দুল হাই ৩ হাজার ৬ শত ৭৬ ভোট পেয়েছেন।
উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন মনসুর ভোট পেয়েছেন ১০ হাজার ৮ শত ৮ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী ভোট পেয়েছেন হাতপাখা আ: রহিম ১হাজার ১ শত ৭। বাপ্তা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইয়ানুর রহমান বিপ্লব (আওয়ামী লীগ) পেয়েছেন ১০ হাজার ৩ শত ৭৭ ভোট। তার নিকটতম সতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৭ শত ৮২ ভোট।
চরসামাইয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন মাতাব্বর ৭ হাজার ৭ শত ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের তরিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৩ শত ৪ ভোট।
দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে ইফতেখার হাসান স্বপন (আওয়ামী লীগ), আলীনগর ইউনিয়নে বশির আহম্মেদ (আওয়ামী লীগ), ভেলুমিয়া ইউনিয়নে আব্দুস সালাম মাস্টার (আওয়ামী লীগ), পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে মো. জহিরুল ইসলাম জহির (আওয়ামী লীগ), বাপ্তা ইউনিয়নে ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্লা (আওয়ামী লীগ), ধনিয়া ইউনিয়নে এমদাত হোসেন কবির (আওয়ামী লীগ)।
অপরদিকে ইলিশা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ছোটন, ভেদুরিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা কামাল ও রাজাপুরে রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
ভোটগ্রহণ সামনে রেখে আগেই নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠে ছিলেন। এ ছাড়া আচরণবিধি দেখভাল করতে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও ছিলেন।

30/04/2017

Good Morning

মোঃ জুলফিকার আলী’র একগুচ্ছ হাইকুনদীর স্রোতেঘুর্ণন পাকে জলজীবন তেমনি।বকুল ঝরেকিছু ফুল দলনেকিছুটা মাল্য।মহা মানবযিনি সর্বস...
25/01/2016

মোঃ জুলফিকার আলী’র একগুচ্ছ হাইকু
নদীর স্রোতে
ঘুর্ণন পাকে জল
জীবন তেমনি।

বকুল ঝরে
কিছু ফুল দলনে
কিছুটা মাল্য।

মহা মানব
যিনি সর্বস্ব ত্যাগী
মনুষ্য সেবা।

ফল দোকান
যাযাবর মাছির
আঙ্কুর স্বাদ।
পূর্ব পশ্চিম
কাঁটাতারেই বাঁধা
সেতু বন্ধন।
দক্ষতা জম্মে-
দুঃখ কষ্টের তীব্র
বেদনা থেকে।

দুঃখের ভাষা
হৃদয়ের বেদনা
দু’মিলে অশ্রু।

বুদ্ধিমানের
অলস ঘণ্টা খেটে
তৈরী সভ্যতা।

অনুমানের
ভিত্তি নির্ভর তথ্য
জ্ঞান-বিজ্ঞান।

তেলে আগুন
আরবে হৈ চৈ..মৃত্যু
দামী ডলার।

মেঘচোরের সিঁদকাঠিগল্প : কাজল কৌশিকনিরোর বাঁশিতে পোড়ে সীতার বিশ্বাসÑ লিখে কবি দেয় ডুব। নিথর জলে সাঁতার কেটে কেটে আমরা বলত...
25/01/2016

মেঘচোরের সিঁদকাঠি
গল্প : কাজল কৌশিক

নিরোর বাঁশিতে পোড়ে সীতার বিশ্বাসÑ লিখে কবি দেয় ডুব। নিথর জলে সাঁতার কেটে কেটে আমরা বলতে থাকি রোম যখন জ্বলিতেছিল Ñ নিরো তখন বাঁশি বাজাইতেছিলো। সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন করে মাদল হাসান। এ লাইনে সে বরাবরই দক্ষ মাঝিÑ আমাদের ভরসা। অতঃপর বৃন্দাবনী ধুলো গায়ে মেখে ছাই পাশ গিলে ঢুলুঢুলু চোখে ঘরে ফেরা। রাত দুপুরে কে আর বসে থাকবে ? বিরক্তি ঘৃণার আশ্লেষে ঢাকা থাকে ডাল-ভাত। সামনা সামনি পেলেই শুরু হয় গালি গালাজ। বেশিক্ষণ সহ্য করা যায়না বলেই আমাদের অস্থায়ী ঠিকানা Ñ বাবুলের চায়ের দোকান কিংবা বৈশাখী ডেকোরেটরের ম্যানেজারের ঘর। বন্ধুর ফাঁকা বাড়ি পেলেই মধ্যরাতে মস্করার জৌলুস বৃদ্ধি পায় Ñ খরচাপাতির চাঁদা তুলি। আঁতেলরা দূর থেকে লক্ষ্য করে ছুড়ে দেয়Ñ বিবিধ মন্তব্য। তখন কবির বাঁশির সুর আমাদের আচ্ছন্ন করে। আমরা বিস্তৃত হই দুঃখ কষ্ট জ্বালা যন্ত্রনা Ñ মুগ্ধ হই অন্য উপকথায়।

নিরোকে পাশ কাটিয়ে আমরা প্রত্যাবর্তন করি সেই উপত্যকায় যেখানে উচ্চ কণ্ঠে হল্লা করতে দোষের কিছু নেই। যেখানে আঁধারের ভেতরে ফুটে ওঠে এক অন্য আলো। খোলা জানালার ভেতর দিয়ে ছুটে আসে দলছুট বাতাস। কিংবা বলা যায় হঠাৎ হঠাৎ ছুটে আসে খোলা হাওয়া। দখল করে বিরান প্রান্তর। আমাদের সবকিছুই হঠাৎ। আমাদের বিনয় মরে যায় হঠাৎ। আমরা দল বেঁধে কুয়াকাটায় যাই হঠাৎ। দেশি মুরগি বাদ দিয়ে টেংরা পুটির ঝোলে মত্ত হই হঠাৎ। আমাদের যুদ্ধ সংঘাত হঠৎ। প্রেমÑ স্বপ্ন দেখা- তাও হঠাৎ। চাঁদে অমাবস্যা লেগে থাকে বলেই এ শহরে জ্যোঁৎ¯œা বিরল। নিষ্ঠুর নাগরিকতা কিংবা আকাশ ছোঁয়ার উন্মত্ততায় লাফিয়ে ওঠা পাথুরে দেয়াল অথবা আকাশ জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে টের পাইÑ গভীর ষড়যন্ত্র। অর্থাৎ কে যে কাকে মারছে তার ঠিক- ঠিকানা নেই। তবুও প্রতিদিন হাজিরা দেই মিটিং এ পরস্পরের দিকে আঙুল তুলে সতর্ক করি। তথা কথিত ভদ্দর লোকেরা আমাদের হদিস পায়না। আলোর ভেতর অন্য কোন অন্ধকার দেখে আমাদের চরিত্র সংশোধনের উপায় খুঁজে খুঁজে হয়রান। সুমন চৌধুরীর বাবা ছেলের চরিত্র দূষন মুক্ত করতে চেয়ে মেয়ে দেখতে শুরু করে। তারপর নিজেই আরেকটা বিয়ে করে ফেলে। সুমন তার বাপের সাথে কিছুদিন চোর পুলিশ খেলে শেষমেশ বিয়ে করে। সহজ সরল গ্রাম্য মেয়েটা এতকিছুর সঙ্গে পাল্লা দিবে কিভাবে ? অগত্যা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়েÑ সুমন চৌধুরী ঘর ছাড়া। Ñ “ বিয়ের এত্তো মজা আগে জানলে বাপের আগে নিজেই বিয়া করতাম।” মাদল টিপ্পুনি কাটে। আলজিভের লজ্জা ভেঙে জমে ওঠে আদি রসাত্মক সব গল্প।

আমাদের ভাবনার কোন সমান্তরাল স্তর থাকে না। কেউ কেউ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তÑ ভাবে অনেক টাকা হলে একটা বৃদ্ধাশ্রম বা গানের সম্মানী বিপুল অঙ্কের হলে পথ শিশুর স্কুল Ñ অনাথ সন্তানদের জন্য এতিম খানা। এমনি কত কী। বর্তমান কিন্তু বড্ড অভাবের – আসর জমাতে ঝক্কি পোহাতে হয় বিস্তর।

সাম্প্রতিক জীবনের নানান অপ্রাপ্তি ও ঝক্কিতে বেসামাল হলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, এক জীবনে একই ¯্রােত বা নারীর বারবার ফিরে আসার প্রয়োজন নেই, তার চেয়ে জীবনে নতুনত্ব আসুক। চোখের জটিল ভাষা নিয়ে নারীরা ফিরে আসুক নব নব রুপে। তারপর এসব জটিলতা অথবা অপ্রয়োজনীয় ভাবনার জাল ছিঁড়ে যায়। কখনোবা মাকড়সার জালে চোখ আটকে থাকে। জালগুলো আরও বিস্তৃত হয়Ñ সেখানে মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই, বাতাস নেই, শুধু আছে জালের দৌরাত্ম্য।

আমরা চাইলে সমস্বরে গাইতে পারি Ñ আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম আমরা……. আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। তাতে হয়তো কিছুটা সুখবোধ আসতে পারে। কিছু সেই মরীচিকার পেছনে ছোটার তাগিদ আমাদের থাকে না। আমরা ছুটি না। আমরা বৃত্তি পাওয়া ছাত্র ছিলামÑ বিস্তর সম্ভাবনাময়ও ছিলাম। শ্যাওলাকে আদর্শ মনে করে বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। অসময়ে নিরোর মতো বাঁশি বাজিয়ে ভুলতে চাই অনেক কিছু। আমাদের চারপাশটা কুয়াশায় ঘেরা। ঝামেলা আমাদের পিছু ছাড়ে না। কোথাকার এক স¤্রাট নিরোকে স্মরণ করি। গাই তারি বন্দনা গীতি। মহারাজ, তোমারে সেলাম! সেলাম!! সেলাম!!! মহারাজ আমাদের উপহার দেনÑ সেই গরল গিলে বস্তবাদ থেকে কিন্চিত ধার করে সমাজ বদলের স্বপ্নে বিভোর হই। তাও আবার বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।

অবেলায় কেউ যখন বিরক্তিতে আর্তনাদ করেÑ হুশ হইলো না ! তখন আমরাও দ্বিগুন বিরক্তি নিয়ে উত্তর দেইÑ ওয়েল ইয়ার নিজের মেশিন কিংবা বাংলিশ গালিতে অন্য কিছু।

আমাদের কি অন্য কিছু হওয়ার কথা ছিল? আমরা কি কাউকে আকাশের মত মহৎ কথা দিয়েছিলামÑ আমাদের নিয়ে কেউ কি স্বপ্ন দেখেছিলো ? জুলিয়াÑশান্তাÑতানিয়া আসে ধারাবাহিক ভাবে। দলবেঁধে কবির বাসায় যেয়ে নিজের হাতে চা তৈরি করে পরিবেশন করে। কবির মাকে ‘মা মা’ করে। তখন আমাদের মনে এই বোধের জন্ম নেয়Ñ হয়তো সবটাই অভিনয় নয় কিংবা অভিনয়Ñ অভিনয় খেলার মাঝে কিছুটা বাস্তবতার ছোঁয়া। তাইতো তানিয়াদের নিয়ে তুলাতুলি কিংবা শিবপুরের জেগে ওঠা নতুন চরে হাঁটতে হাঁটতে অভিজ্ঞতা হয়। যেদিন তানিয়া চরে নোঙর করা সাম্পানের মাস্তুলে খোলা চুলে বসে থাকেÑ মাঝি তার বিশ্রী ভাষায় গালি দেয় তার পূর্ব পুরুষের দীর্ঘ দিনের সংস্কারের আচ্ছন্ন বলেই কারণ তার বিশ্বাস পরের যাত্রায় লোকজনসহ সাম্পানটা নিশ্চিত ভাবেই তলিয়ে যাবে। কবি তানিয়ার দীঘল চুল দেখে ভাবে বনলতা সেনের কথা অথবা সেই মেয়েটিকে যে তার অনুভূতিকে ছুঁয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলো বত্রিশ পাতার চিঠিতে। নির্জন বাড়িতে দুই নয়নের মাঝেÑ তৃতীয় নয়ন খুঁজে মেতেছিলো মায়ার খেলায়। হয়তো এসবের সবটাই বিভ্রম বা ধু¤্রজাল। চোখমুখে ভাবখানা এমন কবির অধ্যাপক বাবা যদি তাদের বাসায় যেয়ে কুশল বিনিময় করে নিবেদন করেÑ আপনার মেয়েটিকে আমার ঘরে তুলে নিতে চাইÑ তাহলে কারোর কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।

মাঝির সাম্পান না ডুবলেও আমাদের হৃদয়ের সাম্পান ডোবে কিছুকাল পরে। গভীর দীর্ঘশ্বাস কিংবা রোমে আগুন জ্বলেÑ ধোঁয়ায় একাকার চারপাশ। জুলিয়ার বিয়ে হয় ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে, তানিয়া বেছে নেয় চর্বিওয়ালা পেট মোটা আমলাকে, শান্তা প্রবাসী হাবাগোবা টাইপের একজনকেÑ লোপা হাঁটে অন্য রাস্তায়। একাকীত্ব আমাদের গ্রাস করতে চায়Ñ নিরন্তর চেষ্টা করেও নিজেদের বাঁচাতে পারি না। নিরোর বাঁশিতে রোম পোড়েÑ সুতীব্র দহনকাল। ভুলÑ সবই ভুল মনে হয়। যেখানেই যাই মনে হয় ভুল লোকটা সেখানে বসে আছে। দু’দিন যেতে না যেতেই জুলিয়া এসে বললÑ মাথা খারাপ ! আমি যাবো ওই পাগলটাকে বিয়ে করতেÑ কি আছে ওর ? সাতবার এইচ এস সি তে ফেল। যোগ্যতা কবিতা লেখা। আমার মাসে হাত খরচ কত জানে ?

বনলতা সেন কিংবা ভরদুপুরে সেই মেয়েটি আলো ছড়ায় না। নিদারুণ বেয়াড়া রোদ অসহ্য মনে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় বন্ধুর নিদারুণ প্রতারণাÑ পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস। তীব্র বেদনাবোধ। হঠাৎ কবি আক্রান্ত হয় সিজোফ্রেনিয়ায়। আমরা ভুগি নানা ধিক্কারে। দেশের প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানীর কাছে কবিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তিনি বললেন এক অদ্ভূত কথাÑ এদেশের শতকরা ষাটজন লোক কোন না কোন ভাবে মানসিক ব্যাধিগ্রস্থ। তা হোক মোদ্দা কথা হল কোন ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করলেই হল। মায়ের কাছে টাকা চেয়ে না পেলে দাদার আমলের চালের মটকা ভাঙার কি প্রয়োজন ? যা চলছে চলুক স্বাভাবিক গতিতে। জুলিয়া আসুক না আসুক বসন্ত আসবেই, ফুল ফুটবেই। দূর বাতাসে ভেসে আসবে রবীন্দ্রগানÑ এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না।

মানসিক ক্লিনিক থেকে ফিরে কবি কয়েকদিন ভারী চুপচাপ। একদিন বলল, জাপানি ব্যাঙরা অদ্ভূত স্বরে গল্প বলে। হিরোশিমার একটি মেয়ে নাম নিবিশাÑ সারাক্ষণ মদ গিলে শুয়ে থাকতো বিছানায়। তারপর জেগে ওঠে একটি ছবি একে দাঁড়াতো পথের পাশে। যাত্রীরা চলন্ত গাড়ি থামিয়ে কিনে নিয়ে যেত সেই ছবি। নিবিশা সেই ছবি বিক্রির অর্থ দিয়ে আবার মদ কিনে অবিরাম গিলতো। ভাগ্যিস তার মা একটা ফার্স্টফুডে চাকরি করতো। বাড়ি ফেরার সময় দু’টি প্যাকেট কিনে একটি রেখে যেত নিবিশার মাথার কাছেÑ সেই খাদ্যে নিবিশার জীবন কাটতো ছন্দহীন এক ছন্দে। সেই নিবিশাই ভালোবাসলো বঙ্গদেশের এক যুবককে। দেশ-ধর্ম ছেড়ে পাড়ি জমালো এই দেশে। কিন্তু নিবিশার কপালে সুখ সইলো না। তার ভালোবাসা হারানোর গল্প কবি শুনেছিলো ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে। আমরা নিবিশার প্রেমিককে হত্যা করার জন্য তরবারিতে ক্রমাগত শান দিতে থাকি। যেখানেই খুঁজে পাইÑ বেঈমানটাকে খুন করবোই। যে মানুষ খুন করে সে খুনি তার চেয়ে বড় খুনি যে মানুষের বিশ্বাস ভাঙে। নিবিশার হাহাকার আমাদের মধ্যে বেদনা এবং ভালোবাসার সংমিশ্রনে এক ঘোরের সৃষ্টি করে। সেই ঘোর থেকে আর বের হতে পারি না সেই যুবকটি প্রতারক, লম্পট কিংবা তারচেয়ে খারাপ কিছু ভেবে নিয়ে দূরে সরে যেতে থাকলে আবার পিছু ডাকিÑ এভাবে ভালোবাসার চলে যেতে নেই। মেয়েটি যে সব ছেড়ে তার হাত ধরেছিলো।

আমার ভাবালুতা অথবা উদাসীনতাকে উস্কে দেয় আকাশলীনা। কোনদিন তাকে নিয়ে তেমন করে ভাবিনি। জীবনের জটিল জিজ্ঞাসা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় বা আগ্রহ কোনটাই আমার নেই। তবুও আকাশ লীনা এসে পড়ে। স্বামীর সঙ্গে তার বনিবনা হয়নিÑ পরকীয়ার প্রতিবাদ স্বরুপ তাকে পাঠায় উকিল নোটিশ পরে ডিভোর্স লেটার। স্বামী এসে হাতে পায়ে ধরে তাতে টলে যাবার পাত্রী সে নয়। লীনার সাফ জবাব অভিনয় করে আমি জীবন কাটাতে পারবো না। আত্মীয়Ñস্বজনরা তাকে বোঝালো স্বামী না হয় একটা ভুল করেই ফেলেছে। তার জন্য চরম শাস্তি দেবার আগে সাত-পাঁচ ভেবে দেখবে না ?

এত ভাবার সময় আকাশ লীনার নেই। সে রইলো সিদ্ধান্তে অটল। এনজিও তে চাকরি করলো তাও ছেড়ে দিলো। এভাবে বেকার জীবন বয়ে একা একা কতদিন ঘুরে বেড়াবে? জীবন নিয়ে কখনো অনুতাপের চিহ্ন লীনার চোখে মুখে দেখিনি। কখন কোন কাজটি করে- তার কারণ ও ব্যাখ্যা সব সময় থাকে।

আকাশ লীনার জীবনের এসব নিভৃত যন্ত্রনা কোন সময় আমাকে টানে না। আকাশ লীনার সাথে দেখা হলে কথা যা হতো তার ভেতরে আমার অক্ষমতা বেশী চোখে পড়ে। নিদারুণ প্রতারণার পরে আমি কেন মাদলকে ছেড়ে দিলাম? এক হাত দেখে নেবার সকল যোগ্যতাই আমার আছে। তবুও কেন ক্ষমাই শ্রেয় কিংবা উচিত মনে করি। আমি কেন আরো চাঁদের দৌরাত্ম্য দেখি না ? বাঁশিতে যে অন্য সুর তোলা যায় তার চেষ্টায়রত হইনা। ইত্যাদি ইত্যাদি মামুলি কোন বিষয় নিয়েও বেঁধে যায় আমাদের ঝগড়া। সেই ঝগড়ার মধ্যেও অনেক সুখ আছে তাও বুঝি আকাশ লীনা চলে যাবার অনেক পরে। আবেশে চোখ বুজেই রোমন্থন করি পুরো বিষয়টাÑ আকাশ লীনা বলেছিলো দেখে যাওÑ দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। লীনা কিংবা আমি স্বপ্ন দেখি না কিংবা দেখি। কিন্তু প্রকাশ্যেই আমাদের যত সমস্যা। লীনার জীবনের প্রায় প্রতিটি পর্বই আমার জানাÑ আমার জীবনের অনেকটাই তার জানা। তবুও সংশয় সন্দেহ সে কি মানিয়ে নিতে পারবে ? আমার সীমাবদ্ধতা তো তার জানা।

পর্নমোচীর কথা মনে আসে। সব পাতা ঝরিয়ে দিয়ে সে আবার শুরু করে। কেউ কি কাউকে এতটা ভালোবাসতে পারে, যে ভালোবাসার মানুষটার জীবন নিয়ে নিতে পারে অবলীলায় ! পারেই তো। মানুষ যে অমিত সম্ভাবনার দ্বার। এতো কিছু দেখি তবুও বড় অদ্ভূত মনে হয় ভালোবাসার ভূগোল। লীনাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ডুবে যাই, হারিয়ে যাই। মন বলে ফুঁ দেই বাঁশিতে, বাঁশি বাজুক অন্য সুরে।

স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যাবার আগে কবি লিখেছিলেনÑ “এখনো ধ্বনির মাঝে তোমার সন্ধান… কান দিয়ে দেখা আর চোখ দিয়ে শোনার চেষ্টায় ফিঙে পাখির লেজটা তড়পায়… কার ঘরে বাস ? কে দেয় ক্ষুধার ক্ষুদ পানি ? স্থলপদ্মের হৃদয়ে শরীরে সূর্যের রঙ বদলের খেলা।”

পড়তে পড়তেই মনে হয় কান দিয়ে নয় মন দিয়ে শুনি। মনের হদিস পাবো বলেই আকাশ লীনার দেয়া বাঁশিতে তুলি অন্য সুর। সেই সুরের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সবখানে,,,,,,,,, সবখানেই।

[ কবি অনন্ত জাহিদের কবিতার চারটি লাইন ব্যবহৃত হয়েছে। এটি গল্প কারো জীবনী নয়। ভেবে নিলে গল্পের মান বাঁচে। ]

দ্বীপের হাজারো সম্ভবনা,উন্নয়ন কোন পথে ?সেই শুরু থেকেই সম্ভাবনার দ্বীপ বলা হয়ে আসছে ভোলাকে। সম্ভাবনা থাকলেও এ দ্বীপের নদী...
07/10/2014

দ্বীপের হাজারো সম্ভবনা,
উন্নয়ন কোন পথে ?

সেই শুরু থেকেই সম্ভাবনার দ্বীপ বলা হয়ে আসছে ভোলাকে। সম্ভাবনা থাকলেও এ দ্বীপের নদী ভাঙ্গন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তারপরেও প্রকৃতির দুর্যোগের সাথে সঙ্গে যুদ্ধ করেই প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকতে হচ্ছে উপকূলীয় জেলার মানুষকে। গ্যাসের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এ জেলাকে একটি আধুধিক মডেল জেলা হিসাবে রুপান্তর করা সম্ভব। আর সে পথ ধরেই কয়েক বছর ধরে এগুচ্ছে জেলাটি। এ জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে - শিমূল চৌধূরী’র বিশেষ প্রতিবেদন।

প্রাকৃতিক সম্পদ আর অর্থনৈতিকভাবে একটি সম্ভাবনাময় জেলা ভোলা। এ জেলায় রয়েছে কোটি কোটি টাকার প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র। ইকোনমিক জোন হিসাবে ঘোষনা করাও বাস্তবায়নের পথে । একই সাথে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলীয় এ জেলায়।
কৃষকের বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেতে ধান, সুপারি ও ইলিশের ব্যাপক সমারোহ নিয়েই ভোলা। কিন্তু এখন আর সেই আগের মত গোলা ভরা ধান নেই। নেই সুপারি ও মরিচ। উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদী ভাঙন। নদী ভাঙনে ক্রমেই যেন ছোট হয়ে আসছে জেলার মানচিত্র। এ ছাড়া প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার মানুষকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেড়ে নেয় এ অঞ্চলের ঘর-বাড়ি, ফসল, জীবন-জীবিকা। সর্বস্ব হারিয়ে আবার শুরু করে নতুন জীবন। তাই দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে ভোলা জেলায় দারিদ্রের হার যেমন বেশী, তেমনি শিার হারও সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি আজও। যোগাযোগের দিক থেকে এ জেলার মানুষ এখনো সেই মান্ধাতার আমলেই রয়ে গেছে। এখানকার মানুষ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে নদী পথেই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছে। এ অঞ্চলের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিজীবী।

মেঘনা ও তেতুঁলিয়া নদী বেষ্টিত সম্ভাবনাময় এ জেলায় দেশের অন্যতম ব"হৎ গ্যাসকূপ শাহবাজপুর গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে ব্যাবহার হলেও গড়ে ওঠেনি গ্যাসভিত্তিক ভারী কোন শিল্প, কল-কারখানা। ফলে দীর্ঘ প্রায় আড়াই যুগ ধরে মাটির নীচেই থেকে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার এ প্রাকৃতিক সম্পদ। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে এ জেলায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। এর পরেও দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্ছিত ভোলার উন্নয়ন ও শিল্পায়নের জন্য নদী ভাঙন রোধ, শাহবাজপুর গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কল-কারখানা গড়ে তোলা, ভোলার সঙ্গে অন্যান্য জেলায় যাতায়াতের জন্য ভোলা-বরিশাল সড়ক পথ নির্মান, ভোলা-লীপুর রুটে ব্রিজ নির্মানের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ভাল মানের শিাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, টিএন্ডটি টেলি যোগাযোগের মাধ্যমে অপটিক্যাল সাইবার জোন, কৃষকদের জন্য কৃষি ভর্তুকির ব্যবস্থা করা, কৃষকদের মাঝে স্বল্প সুদে ঋনের ব্যবস্থা করা, কৃষি উপকরন সহজলভ্য করা, কৃষি যন্ত্রপাতি (সেচ যন্ত্রপাতিসহ) কৃষকদের ক্রয়মতার মধ্যে আনা, খাল খননেন মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষকদের কৃষি বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিনের ব্যবস্থা করা, সয়াবিন ও সূর্যমূখী চাষে মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করা, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনসহ একটি বাস্তবমূখী পরিকল্পনা প্রনয়নের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের।

ভোলা জেলা উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অমিতাভ অপু বলেন, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মূল কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে ভোলা। এ জেলাই দণিাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সংযোগ স্থাপন করছে। ভোলার উপর দিয়ে চট্রগ্রাম ও যশোরসহ ২১টি জেলায় সড়ক পথে যাতায়াতে ৪৫০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যায়।

তিনি আরো বলেন, ভারতের আগরতলা থেকে পশ্চিমবঙ্গে যেতে সময় লাগে চার দিন। কিন্তু ভোলায় ট্রানজিট দিয়ে বাংলাদেশে আসতে সময় লাগবে মাত্র ১২ ঘন্টা। এতে ভারত-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো সুদৃঢ় হবে। মেঘনার গভিরতার কারনে নদী পথে এবং সড়ক পথে চট্রগ্রাম ও মংলা থেকে অন্য জেলার চেয়ে এ জেলায় কাঁচা মালসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে অনেক বেশী। আর সে কারনেই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোলা একটি সম্ভাবনাময় জেলা।

জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এম ফারুকুর রহমান কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের প্রেেিত উপকূলীয় জেলাসমূহে মৎস্য খাতে দ্রুত অর্থ ছাড়সহ পরিকল্পিত ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং নদী পাড়ের বেড়িবাধ, সাইকোন সেল্টার পূনঃনির্মান, খাল-বিল, পুকুর গুলোর সংস্কারের দাবি জানান। উন্নয়নের দাবি জানান জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী।ভোলায় প্রাপ্ত শাহবাজপুর গ্যাস কাজে লাগিয়ে গ্যাসভিত্তিক শিল্প ও কল-কারখানা গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ ভোলার সার্বিক কৃষিপ্রধান এ দেশে কৃষিজমি রারও দাবি জানান তিনি।

ভোলার সাবেক মেয়র ও চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেন, বৃহত্তর দণি-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ভোলায় পর্যাপ্ত পরিমান গ্যাস রয়েছে। এখানে মাটির নীচে আরো পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ আছে। বাপেক্সের কোটি কোটি টাকা মাটির নীচে পড়ে থাকলেও এটা কোন কাজে আসছে না। গ্যাস প্রাপ্তির কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও ভোলা শহরে ঘরে ঘরে গ্যাস ও নামমাত্র গ্যাসভিত্তিক ৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিও প্রায় দিন বিকল হয়ে পড়ে থাকে। এ ছাড়া গড়ে ওঠেনি ভারী কোন শিল্প, কল-কারখানা। বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে হলে এ জেলায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। ভোলার গ্যাস কাজে লাগিয়ে এসব অঞ্চলে শিল্প, কল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ভোলার মজুদকৃত গ্যাস ড্রিলিং এর মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া নদী ভাঙন ভোলার প্রধান সমস্যা। নদী ড্রেজিং করে উপকূলীয় অঞ্চলের নাব্যতা কমিয়ে আনারও দাবিও জানান তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও খাদ্যে ভরপুর সমৃদ্ধশালী ভোলায় ধান, সুপারি, আলু, গম, তরমুজ, ভুট্টা, আখ, সোয়াবিন, সূর্যমূখী ও সবজিসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। পুকুরে মাছের চাষ হয় ব্যাপকহারে। বাংলাদেশে যে পরিমান ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে তার বেশীর ভাগ ইলিশ উপকূলীয় জেলা ভোলা থেকে রপ্তানি হচ্ছে। প্রাপ্ত গ্যাস দিয়ে ভোলায় ইউরিয়া সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্টিল মিল, শিপ বিল্ডিং, টেক্সটাইল মিল, কোল্ড স্টোরেজ, অটো রাইচ, অটো ব্রিক ফিল্ড সহ বিভিন্ন শিল্প, কল-কারখানা তৈরীর সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কাজি গ্রুপ নামের একটি কম্পানি শহরের খেয়াঘাট এলাকায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফিস ফিড ও পোল্ট্রি ফিড কারখানা তৈরীর কাজ শুরু করেছেন। ভৌগলিক দিক থেকে এ জেলার অবস্থান চট্টগ্রাম ও মংলা পোর্টের মাঝামাঝিতে রয়েছে। তাই এখানে নাইটোরেজ মেন্টার করা হলে চট্টগ্রাম ও মংলা থেকে চাপও অনেকটা কমে যাবে। ভোলা থেকে সড়ক পথে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ সম্ভব হবে। জেলার অভ্যন্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত উল্লেখ করে মজনু মোল্লা বলেন, অন্যান্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করার লক্ষ্যে ভোলা-বরিশাল সড়কের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকটি ব্রিজসহ বাকি কাজও শেষ হয়ে যাবে। ভোলায় এখন বেশ কয়েকটি আর্ন্তজাতিক মানের উন্নত আবাসিক হোটেলও গড়ে উঠেছে। উপকূলীয় এ জেলার চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর, পাতিলার চরসহ বিভিন্ন নয়নাভিরাম চরে ইকোপার্ক তৈরীর মাধ্যমে পর্যটনের ক্ষেত্র গড়ে তোলারও দাবি জানান তিনি।

ভোলা সদর আসনের এমপি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ জেলায় গ্যাসেেত্রর দুটি কূপ খনন করা হয়েছে। তৃতীয় কূপ খননের কাজও শুরু হয়েছে। এ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বাপেক্স ও রাশিয়ান জয়েন্ট ভেনচার আরো চারটি কুপ খননের কাজ শুরু করবেন। প্রাপ্ত শাহবাজপুর গ্যাস দিয়ে সরকার এখানে একটি সারকারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মাধ্যমে বছরে পাঁচ লাখ টন সার উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, ইতমধ্যেই ভোলাকে বিশেষ ইকোনমিক জোন ঘোষনা করা হয়েছে। এ ছাড়া নদী ভাঙনের হাত থেকে ভোলাকে রার করতে ‘শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ড রক্ষা’ প্রকল্প ও ‘ভোলা শহর রক্ষা’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভোলা হবে দেশের সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশীল একটি আধুনিক ডিজিটাল শিল্পান্নয়ন জেলা। ভোলা বিনিয়োগ করার উত্তম ¯'ান উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ দেশ-বিদেশের বড় বড় শিল্পপতিদের এ জেলায় বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। (লেখক: ভোলা প্রতিনিধি, দৈনিব কালের কন্ঠ)

চাহিদার অর্ধেকও ইলিশ পাচ্ছেনা মানুষকোথায় যায় ভোলার ইলিশ!ছোটন সাহা ॥ নদী, ইলিশ ও জেলে সবাই ভোলার। কিন্তু সেই ভোলাতেই ইলিশ...
07/10/2014

চাহিদার অর্ধেকও ইলিশ পাচ্ছেনা মানুষ
কোথায় যায় ভোলার ইলিশ!

ছোটন সাহা ॥ নদী, ইলিশ ও জেলে সবাই ভোলার। কিন্তু সেই ভোলাতেই ইলিশ পাচ্ছে না ভোলার মানুষ। আমাদের মাছ’ আমাদের কাছেই যেন সোনার হরিন হয়ে গেছে।
ন্যয্য দামে ইলিশা না পাওয়ার ক্ষোভে এমন কথাই বলছিলেন নুরে আলম নামের একজন ক্রেতা। তার অভিযোগ, ইলিশ ব্যবসায়ীদের কারনেই ভোলার মানুষ মনভরে ইলিশ খেতে পারছেনা। নানা অজুহাত দেখিয়ে এ জেলার ইলিশ বাইরে নিয়ে বিক্রি করে লাভবান হ"েছ তারাই, আর আমরা ইলিশের যেন গন্ধই নিয়ে যাচ্ছি।
শুধু নুরে আলম নয়, ইলিশের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়া ও বাজারে অপর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহ নিয়ে এমন অভিযোগ এখন অনেক ক্রেতারই।
দ্বীপজেলার জলসীমা থেকে উৎপাদিত ইলিশের অর্ধেকও বিক্রি হচ্ছে না স্থানীয় বাজারে। যে টুকু ইলিশ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কেউ কেউ আবার ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।
প্রতিবছর জেলার উপকূলের মেঘনা, তেতুলিয়া ও সাগর মোহনা থেকে জেলেরা শত শত মেট্রিক টন ইলিশ আহরন করলেও তার বেশীরভাগ চলে যাচ্ছে ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায়। এতে ইলিশের ভোলা হিসাবে পরিচিত ভোলার মানুষই ইলিশ খেতে পারছেনা। জেলার বাইরে ইলিশ বিক্রি বন্ধে কিংবা নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন বা কোন সংগঠনের নেই কোন তৎপরতা। ফলে নিজ জেলার মানুষকেই ইলিশ কিনতে হিমশিম খেতে হয়। মৎস্যজীবীরা জানান, ভোলার বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশী থাকলেও দাম অনেক কম। কিন্তু বাইরের বাজারে একদিকে যেমন রয়েছে ব্যপক চাহিদা অন্যদিকে বাজার মূল্য অনেক বেশী। তাই বাধ্য হয়েই বেশী মূল্যে অন্য জেলায় মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকার চেয়ে দ্বীপজেলা ভোলার জলসীমায় অধিক হারে মাছ উৎপাদন হচ্ছে। জেলেরা রাতদিন জাল বেয়ে সেসব মাছ আহরন করছেন। কিন্তু সে তুলনায় স্থানীয় বাজারগুলোতে আড়ৎদাররা এ মাছ বিক্রি না করে বেশী মুনাফার আশায় জেলার বাইরে বিক্রি করছেন। অথচ ইলিশের সারা মৌসুমেই ইলিশ সংকট দেখানো হয়। ইলিশের সাদ নিতে দেয়া হচ্ছে না এ অঞ্চলের ভোক্তাদের।
ক্রেতা মাঈনুদ্দিন বলেন, মৌসুমের শুরুতে ততটা না হলেও গত কয়েক দিন থেকে কিছু পরিমানে মাছ পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু ওই সব মাছ জেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাট থেকেই লঞ্চযোগে সরাসরি চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।
মৎস্য অফিসের সুত্র অনুযায়ী, গত মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। সে তুলনায় এ বছর মৌসুমের ইলিশ সংকট দেখা দিলেও কিছুদিন থেকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এ পর্যান্ত জেলায় মোট ৮৪হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।
এদিকে, জেলার বৃহৎ মৎস্য আড়ৎ চরফ্যাশনের ঢালচর, সামরাজ, তজমুদ্দিনের স্লুইজঘাট, দৌলতখানের ভবানীপুর, মনপুরার কাটার খাল, জনতা বাজার, বোরহানউদ্দিনের হাকিমুদ্দিনসহ
বিভিণœ ঘাটে খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর এমন সময় ভোলা থেকে জেলেদের আহরনকৃত শত শত মন ইলিশ বরিশাল, চাঁদপুর ও ঢাকার নারায়নগঞ্জে বিক্রি হয়। কিন্তু এ মৌসুমে তেমন মাছ যাচ্ছেনা বিভিন্ন জেলায়। তবে কিছুদিন থেকে মাছের উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। সংঘত কারনেই মাছ পড়তে শুরু করছে জেলেদের জালে। জেলেদের আহরনকৃত ওইসব মাছ ঘাট থেকেই আবার বিক্রির জন্য চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।
খোজ নিয়ে জানা গেলো, উপকূলের মৎস্য ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মৎস্য পল্লি, সেখানে জেলেদের জীবন-জীবীকা। নদীতে বেশী মাছ ধরা পড়লে জেলেদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে হাসি আনন্দ, কিন্তু মাছের সংকট হলে জেলেদের সংসারে দেখা দেয় অভাব। এ বছর ভরা মৌসুমে মাছের সংকট দেখা দেয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন জেলেরা। তবে তাদের সে সংকট চলে গেছে। এখন কিছুটা হলেও স্তস্তিতে জেলেরা। হাসি ফুটেছে জেলে পল্লিতে।
জেলার বাইরে মাছ বিক্রির প্রসঙ্গে ঢালচর ও কুকরী-মুকরীর মৎস্য আড়ৎদার মাহাবুবুর রহমান জানান, ভোলাতে মাছের পাইকারী কোন বাজার নেই। তাছাড়া এসব মাছ বরফজাত করে বিক্রি করার চেষ্টা করা হলেও তা বিক্রি হয়না। কারন দাম অনেক কম পাওয়া যায়। এছাড়াও বিক্রির প্রক্রিয়াও দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে যাওয়ায় মাছ বিক্রির আগেই পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিক্রেতারা স্থানীয় বাজারে মাছ বিক্রিতে অনিহা প্রকাশ করেন। তবে সবচেয়ে বড় কারন বাইরের জেলায় ইলিশের কদর বেশী এবং ন্যায্য দামও পাওয়ায় যায়।
দৌলতখানের ভবানীপুর মৎস্য আড়ৎদার ও ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নদীতে যে পরিমান ইলিশ পাওয়া যায়, তার অর্ধেকের চাহিদা নেই সমগ্র জেলায়। তাই জেলার চাহিদার পর তা বাইরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইলিশের দাম বিগত মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশী, দেখা যায় বেশী দাম দিয়ে মাছ কেনার ক্রেতা স্থানীয় বাজারগুলোতে অনেক কম। ন্যায্য মূল্যে পাওয়ার আশায় মৎস্যজীবীরা জেলার বাইরে মাছ বিক্রি করে থাকেন।
তিনি বলেন, এলসি বন্ধ থাকায় এখন দেশের মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী দাম পাওয়া যা"েছনা। তবুও সার্বিক দিন বিবেচনা করে জেলার বাইরে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের।
আবুল কালাম বলেন, মৌসুমে শুরুতে মাছ না পাওয়ায় আড়ৎদার ও জেলেরা অনেক লোকসান গুনেছেন। এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাই বেশী দামে বিক্রি করে খরচ উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।
এদিকে, ভোলার বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে বাজারগুলোতে তেমন ইলিশ নেই। যেসব বাজারে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তার দাম অনেক বেশী। বাড় সাইজের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩/৪হাজার টাকা দরে, মাঝারো সাইজ ২১/২২’শ টাকা দরে’ আর ঝাটকা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২’শ টাকা দরে।
এদিকে, শুধু জেলার বাইরে নয় ভোলার এ ইলিশ দেশের গন্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরেরও রপ্তানি হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে এ প্রক্রিয়া হচ্ছে অনেকটা গোপনেই। এক শ্রেনীর মুনাফা লোভী চক্র বিভিন্ন কৌশলে মাছ পাচার করে দিচ্ছেন।
ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন জনতি কারনে কিছুদিন আগেও তেমন মাছ মাছ পাওয়া যায়নি জলসীমায়। তবে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। এখন নদীতেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে। আরো কিছু দিন পর এর উৎপাদন আরো বেড়ে যেতে পারে।
ইলিশ পাচারের বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম রেজা বলেন, ভোলার চাহিদা মিটিয়ে কিছু কিছু ইলিশ দেশের মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। তবে, দেশের বাইরে ইলিশ রপ্তানির কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। এলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
ভোলা থেকে বাইরের জেলায় ইলিশ বিক্রি নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপাতত কোন পদক্ষেপ নেই। তবে চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে বিক্রি হলে কোন সমস্যা নেই। #

৫৪ বছরে ভোলার আয়তন অর্ধেক কমেছে- রফিকুল ইসলাম ছোট হয়ে আসছে দ্বীপজেলা ভোলা। ভাঙ্গণের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। গ্রামের পর গ্র...
06/10/2014

৫৪ বছরে ভোলার আয়তন অর্ধেক কমেছে
- রফিকুল ইসলাম
ছোট হয়ে আসছে দ্বীপজেলা ভোলা। ভাঙ্গণের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। গ্রামের পর গ্রাম, বাড়িঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ উদ্বাস্তু মানুষ ভাসমান দিন কাটাচ্ছে। বাড়িঘর হারা বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বেড়িবাঁধে, আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে শহরে ছুটেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গণ রোধের প্রকল্প নেয়া হলেও ভাঙ্গণ থামছে না।

গবেষণা সুত্র বলছে, ৫৩ বছরে ভোলার আয়তন অর্ধেকে নেমে এসেছে। ১৯৬০ সালে ৬ হাজার ৪০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ভোলা ক্রমাগত নদীভাঙনের ফলে বর্তমানে ৩ হাজার ৪০০ কিলোমিটারে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে এ জেলার মূলভূখন্ড বিলীন হয়ে যাবে। এ হিসাবে গোটা জেলাই হুমকির মুখে রয়েছে। জেলার ১৮ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে এলাকাবাসী।

ভাঙ্গণ কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, প্রতিবছরের মত্ োএবারের বর্ষা মৌসুমেও দ্বীপজেলা ভোলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার এ জেলায় চরম দুর্ভোগ ছিল মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জুলাইয়ের শেষভাগ পর্যন্ত। এসময় অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে জেলার ৬ উপজেলার ৩০ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশিমাত্রায় নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। এর ওপর উপর জুলাইয়ের শেষভাগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিলো ৪ দশমিক ৫৪ মিটার।

স্থানীয় সুত্রগুলো বলেছে, অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির চাপে জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড থেকে শুরু করে দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত মেঘনা নদীসংলগ্ন প্রায় ১০কি.মি. পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ নদীতে বিলিন হয়ে যায়। প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। ভোলা চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশ্ববর্তী এলাকা পর্যন্ত প্লাবিত হয় জোয়ারের পানিতে। ভোলা মূলভূখন্ডের বাইরে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে মনপুরা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগসমূহ। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে বলা হয় জেলার ১০৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক ও ২টি কালভার্ট সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। ভোলা জেলা মৎস্যচাষী সমবায় সমিতির দেয়া তথ্যনুযায়ী জেলার দেড় হাজারের বেশি মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী ১৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়। প্রাণীসম্পদ বিভাগের তথ্যানুযায়ী ২ হাজার ১৭৫ হেক্টর চারণভূমি সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়, এতে প্রায় ৫ হাজার ৬৪২ মেট্রিক টন গো-খাদ্য সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সম্পূর্ণ ৪৫ কিলোমিটার এবং আংশিক ৭২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলার ৩০টির ইউনিয়নের অসংখ্য বসতভিটা পানির নিচে ডুবে যায়। পানিবন্দী হয়ে পড়ে প্রায় ৫ লাখ পরিবার। প্রায় ২মাস বেকার থাকতে হয় এ অঞ্চলের বহু কৃষক-জেলেসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের। প্রায় ৫০টি কমিউনিটি ক্লিনিক পানিতে ডুবে যাওয়ায় ৩০ ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষেরা কোন রকম চিকিৎসা সেবা নিতে পারেনি। ফলে পানিবন্দি এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, এর আগের বর্ষা মৌসুমে (২০১২) ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ও মহাসেন পরবর্তী অস্বাভাবিক জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ পুরোপরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আংশিক ক্ষতি হয় আরও ৭০ কিলোমিটার বাঁধ। এলাকাবাসী জমি না দেয়ার কারণে দরপত্র হওয়ার পরেও বাঁধ নির্মান কাজ আটকে আছে।

সূত্র জানায়, ভোলার নদীভাংগন সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বেশি। এর মধ্যে আগস্ট-সেপ্টেম্বর এ অতিরিক্ত জোয়ার হয় এবং লোকালয় ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়। এই সময়ে আমবস্যা ও পূর্ণিমায় কারণে সাধারণ জোয়রের চেয়ে ৩-৫ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। এরফলে মানুষের দুর্ভোগ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের ভাঙ্গণের খতিয়ান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভাঙ্গণের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। ২০০৭ সালে মেঘনা নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ৮৬৭ বর্গ মিটার, তেতুলিয়া নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ১৮২ বর্গ মিটার; ২০০৮ সালে মেঘনা নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ১০১৫ বর্গ মিটার, তেতুলিয়া নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ২০৮ বর্গ মিটার; ২০০৯ সালে মেঘনা নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ২৮৬৮ বর্গ মিটার, তেতুলিয়া নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ২৬৫ বর্গ মিটার; ২০১০ সালে মেঘনা নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ২০২৫ বর্গ মিটার, তেতুলিয়া নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ২৮২ বর্গ মিটার; ২০১১ সালে মেঘনা নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ১৬৮৭ বর্গ মিটার, তেতুলিয়া নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ১৮৮ বর্গ মিটার; এবং ২০১২ সালে মেঘনা নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ২৬৪৫ বর্গ মিটার, তেতুলিয়া নদীসংলগ্ন ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধের পরিমাণ ২৩০ বর্গ মিটার।

সরকারি-বেসরকারি গবেষণা রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ভোলার নদীভাঙ্গণের ধরণ অন্য এলাকা থেকে কিছুটা ভিন্ন। এখানকার বাঁধ ভাঙ্গে না কিংবা বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে না; বরং বাঁধসহ নদীরতীর নদীতে বিলিন হয়ে যায়। ১৯৬০ সালের পর থেকেই মূলত ভোলায় নদীভাংগন শুরু হয়। ভোলার পশ্চিম দিকে তেতুলিয় নদী এবং পুর্বদিকদিয়ে মেঘনা নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হচ্ছে। গংগা ও ব্রমপুত্র নদীর মিলিত ¯্রােত ভোলার উত্তর মাথা থেকে দুইভাগ হয়ে বঙ্গপোসারে মিলিত হয়। যেখানে মেঘনা দিয়েই বেশি পানি প্রবাহিত হয়। যেটি সাহাবজপুর চ্যানেল নামে পরিচিত। এই চ্যানেল দিয়ে পানি প্রবাহের পরিমান প্রতি সেকেন্ড ২০০ মিলিয়ন ঘন ফুট। ফলে পশ্চিম পাশেই নদীভাংগন বেশি। ভাঙ্গণের অন্যতম কারণ সমুদ্রে পানির উদর্ধমূখী চাপ এবং নদীর পানির নি¤œমূখী প্রবল ¯্রােত এই দুইয়ে মিলে মেঘনা মোহনার তলদেশে প্রবল ঘূর্ণণ সৃষ্টি হয়। যার ফলে নদীর তলদেশে মাটি ক্ষয় বেড়ে যায় এবং নদীর তীর ভাংগনের শিকার হয়।

ভোলার নদীভাঙ্গণের ওপর দীর্ঘদিন গবেষণা পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোস্টট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝড়, জলোচ্ছাস ও অস্বাভাবিক জোয়ারের হার এবং তীব্রতা আগের তুলনায় বেড়েছে। এই হারে ভাঙ্গণ অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে জেলাটি বিলীন হয়ে যাবে। নদীর গতিপ্রকৃতির কারণে প্রাকৃতিক নিয়মেই যে কোন কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হল ভোলাকে রক্ষা করা এবং এটা সম্ভব। এখানে প্রযুক্তিগত সমাধান আছে। আর্থিক সঙ্গতিতে ঘাটতি রয়েছে।

অন্য একদল গবেষক দেখিয়েছেন, জেলায় নদীভাঙ্গণ এবং নতুন চর জাগার হার প্রায় সমান। নতুন চর জাগার পর সেখানে মানুষ বসতি শুরু পর্যন্ত সময় লাগে ৫০ থেকে ৭০ বছর। সুতরাং এই হিসাবে নতুন চরে ক্ষতিগ্রস্ত বসতি মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়টি ততটা সহজ করে দেখা যাচ্ছে না।

ভোলাকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় চলছে বিভিন্ন প্রকল্প। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে চরফ্যাসন রক্ষা প্রকল্প, ১৩৪ কোটি টাকা ব্যায়ে শাহাবাজপুর গ্যাসফিল্ড রক্ষা প্রকল্প, ১০৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩য় পর্যায়ের কাজ, ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুকরি মুকরি চর রক্ষা প্রকল্প এবং নেদারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় ৪৫০ কোটি ব্যয়ে ভোলা রক্ষা প্রকল্প (ফিজিবিলিটি স্টাডি পর্যায়) চলমান রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে নদীর তীর রক্ষা করাই নদীভাংগনের স্থায়ী সমাধান। ৬০ দশকে চরফ্যাসন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন, বোরহান উদ্দিন, দৌলতখান এবং ভোলা সদরে ৬টি পোল্ডার নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি রক্ষা করা গেছে। তাছাড়া ৩৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। কিন্তু নদীভাংগনের ফলে সব উপজেলার পোল্ডারসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এইসব ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না থাকায় যেখানে ভাংগন হয় সেখানে রিং বেড়ি করে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক সমাধান দিলেও স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না।

এলাকাবাসী বলেছেন, সময়মত বাজেট পাওয়া, জমি অধিগ্রহণ করতে না পারা, টেন্ডার জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে সময়ের কাজ সময়ে করা যায় না। সরকারিভাবে বাঁধ নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করার কোন বাজেট নেই। ফলে মানুষ জমি দিতে অনীহা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত জমি দিয়ে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। কিন্তু কাজের মান কেমন হচ্ছে তা দেখার বা বলার কোন প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তাদের জন্য সেখানে রাখা হয়নি। যার ফলে কনট্রাক্টরদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে নদীভাংগন রোধে টেকসই কোন সমাধান ভোলাবাসী পাচ্ছে না। এতে সরকারি সম্পদের অবচয় হচ্ছে। অথচ নদীভাংগন দুর্যোগ থেকে ভোলার জনগণ নিরাপদ হতে পারছে না।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম জানান, ভোলার নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে ৪টি প্রকল্প চলছে। এরমধ্যে ভোলা শহর সংরক্ষন ৩য় পর্যায়ে ১০৩ কোটি টাকা ব্যায়ে সাড়ে ৩ কিলোমিটার বাধ নির্মান কাজ চলছে। এছাড়াও বোরহানউদ্দিন শাহবাজপুর গ্যাস রক্ষা প্রকল্পে’র ৭দশমিক ৩০ কিলোমিটার বাধ নির্মান কাজ চলছে। অন্যদিকে, চরফ্যাশন-মনপুরা ও লালমোহন শহর রক্ষা প্রকল্পেন কাজ চলছে। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে তেতুলিয়ার ৮৪৪ মিটার বাধ।
তিনি জানান, ভোলার নদী ভাঙ্গন রোধে নেদরল্যান্ড সরকারের ২ হাজার কোটি টাকার একটি পুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে ভোলাকে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে। লেখক: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Address

Bhola
8300

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when OYSHO Europe posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to OYSHO Europe:

Share