11/07/2026
#মাদ্রাসা শিক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ
সম্মানিত
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, সুপার, সহকারী শিক্ষক, সহকারী মৌলবী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ
আপনাদের প্রতি খোলা চিঠি -
"যে জাতি যতক্ষণ নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় না, আল্লাহ ততক্ষণ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করেন না।" (সূরা রাদ:আয়াত ১১)।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা যতদিন না বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে ততদিন পর্যন্ত এটি খচ্চর শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবেই অবমূল্যায়িত হতে থাকবে।
সরকারি সুবিধার জন্য কান্নাকাটি করবেন, কিন্তু নিজেদের খচ্চর রূপ পরিবর্তন করবেন না; তাহলে মনে রাখবেন গোঁজামিল রূপের জন্য কোনো সরকারি সুবিধা সঠিকভাবে পাবেন না।
১.ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ( ১ম -৫ম)
দাখিল মাদ্রাসা (৬ষ্ঠ -১০ম)
২.আলিম কলেজ (১১শ-১২শ)
ফাজিল কলেজ (১১শ - ফাজিল;ডিগ্রি)
কামিল কলেজ (১১শ - কামিল;মাস্টার্স)
এইভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করার উদ্যোগ নেন। তাহলে জাতীয়করণের সময় সহজেই সাধারণ শিক্ষার সাথে মাদ্রাসা শিক্ষা জাতীয়করণ হয়ে যাবে, নতুবা জাতীয়করণ কমিটি গোঁজামিলের অজুহাতে জাতীয়করণ থেকেও বঞ্চিত করবে। কারণ সরকারের ঠেকা পড়ে নাই মাদ্রাসা শিক্ষার গোঁজামিল ঠিক করে জাতীয়করণ করার। শুধু পাগলের মত জাতীয়করণ চাই, জাতীয়করণ চাই, শ্লোগান দিলেই হবে না; জাতীয়করণ করার পথটিও পরিস্কাররাখতে হবে। এই গোঁজামিলের কারণে ইবতেদায়ী জাতীয়করণ হয় নাই। তারপরও বিকেন্দ্রীকরণ করার কোনো উদ্যোগ নেন নাই।দূর্ভাগ্য আপনাদের।
ইবতেদায়ী কে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে যুক্ত করুন, দাখিল ও আলিমকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের সাথে যুক্ত করুন, ফাজিল কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত করুন। তাহলে দেখবেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ মাদ্রাসা শিক্ষাকে সহজেই বুঝবে। কান্নাকাটির অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন। একটা প্রজ্ঞাপন জারি হলেই সবাই একসাথে সব সুবিধা পাবেন। আর যারা গোয়ার্তমি আচরণ করে বুঝবেন উনি ভূয়া শিক্ষক ; জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক হয়েছে। এজন্য উনি সবকিছুতে ভয় পায় এবং বিকেন্দ্রীকরণকে অসুবিধা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করবে। একটা তথ্য দেই - মাদ্রাসায় এখনো প্রায় ৩০% শিক্ষক ভূয়া আছে ; আর এদের জন্যই এখনো মাদ্রাসায় ইএফটি হয় না; এরা সংশ্লিষ্ট যায়গায় প্রচুর টাকা ঘুষ দিয়ে ইএফটি আটকে রেখেছে, কারণ এদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ইএফটি হলে এদের বেতন বন্ধ হয়ে যাবে, এই ভয়ে।আর এজন্য সাফার করছে বাকি ৭০% বৈধ শিক্ষক।
মাদ্রাসার জেনারেল শিক্ষকরা আরবির সুপার আর প্রিন্সিপালদের উপর নির্ভর করে থাকলে ভাগ্য কোনোদিন বদলাবে না- লিখে রাখেন। এজন্য
১. "জেনারেল শিক্ষক দাখিল মাদ্রাসা"
২. "জেনারেল শিক্ষক আলিম কলেজ-ফাজিল কলেজ"
এভাবে নাম দিয়ে কমিটি করুন , মাদ্রাসার স্তর অনুযায়ী নাম পরিবর্তন, নীতিমালা তৈরী ইত্যাদির জন্য কমিটি করুন ;নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করুন; আল্লাহ ভাগ্য পরিবর্তন করবেন ইনশাআল্লাহ।
আর একসাথে ইবতেদায়ী থেকে ফাজিল-কামিল মাদ্রাসা হওয়ার ফলে বদলি নিয়ে কি রকম ঝামেলা হবে তা আর আমি লিখলাম না।
শিক্ষা অধিদপ্তরের দুটি শাখা থাকবে
১. মাধ্যমিক ও দাখিল শাখা
২. উচ্চ মাধ্যমিক ও আলিম শাখা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি শাখা থাকবে
১.ডিগ্রি কলেজ শাখা
২. ফাজিল কলেজ শাখা
তাহলে দেখবেন অনেক আরবি শিক্ষক সরকারি পদের শিক্ষক হতে পারবে, বৈষম্য কমবে, সব সুবিধা একসাথে পাবেন।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের কবর রচনা করুন।এটি অথর্ব অধিদপ্তর। এই অধিদপ্তরের কারণেই মাদ্রাসা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছে যুগ যুগ ধরে।
#অথর্ব মাদ্রাসা অধিদপ্তর