08/08/2026
চার দশকের রাজনীতি, মামলা-কারাবরণ ও ত্যাগের গল্প
শাজাহানপুরের নেতৃত্বে আজিজুর রহমান বিদ্যুৎকে চান সাধারণ মানুষ
বগুড়া প্রতিনিধি:
রাজনীতির মাঠে চার দশকের পথচলা। কখনো রাজপথে আন্দোলন, কখনো কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, আবার কখনো দলকে সংগঠিত করতে ছুটে চলা—এভাবেই কেটেছে বিএনপি নেতা মো. আজিজুর রহমান বিদ্যুতের রাজনৈতিক জীবন। ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করে যুবদলের নেতৃত্ব পেরিয়ে বর্তমানে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে। আর এসব ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন হিসেবে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান শাজাহানপুরের সাধারণ মানুষ ও তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ।
ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়িঃ
১৯৮৯ সালে মুনছুর আলী ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে আজিজুর রহমান বিদ্যুতের সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ। একই সময়ে তিনি সংগঠনটির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে যুক্ত হন বগুড়ার শাহ সুলতান কলেজ শাখা ছাত্রদলের সঙ্গে।
ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া এই পথচলা তাঁকে নিয়ে যায় যুবদলের নেতৃত্বে। মাঝিড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৩ সালে তিনি শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।
এরপর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ২০০৪ সালে মাঝিড়া ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি হন। ২০১০ সালে আবারও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে দায়িত্ব পান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে।
উপজেলা বিএনপিতে একের পর এক দায়িত্বঃ
শুধু ইউনিয়ন নয়, উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতেও ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন বিদ্যুৎ। ২০০৫ সালে নির্বাচিত ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১০ সালে সহ-সভাপতি, ২০১৩ সালে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১৯ সালে আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।
জেলা বিএনপিতেও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নিরক্ষরতা দূরীকরণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী সদস্যসহ বিভিন্ন পদে থাকার পর বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনীতির মাঠে মামলা-গ্রেপ্তারঃ
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় মামলা ও কারাবরণ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে বগুড়া-রাজশাহী সড়কে গাড়ি পোড়ানো, হরতালের সমর্থনে মিছিল ও অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলার কথা উল্লেখ রয়েছে।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর হরতাল পালনকালে রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার এবং ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গ্রেপ্তারের তথ্যও রয়েছে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে।
‘ত্যাগী নেতার’ মূল্যায়ন চান স্থানীয়রাঃ
রাজনৈতিক মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং মামলা-গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের একটি অংশের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে থাকা এই নেতাকে এবার উপজেলা পরিষদের নেতৃত্বে দেখা উচিত। তাঁদের মতে, মাঠের রাজনীতির অভিজ্ঞতা, সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি উপজেলা পরিষদে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তাঁদের প্রত্যাশা—শুধু দলের পদে নয়, এবার সরাসরি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আজিজুর রহমান বিদ্যুৎকে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আসনে দেখতে চান সাধারণ মানুষ।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়ঃ
তবে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপরই বিষয়টি নির্ভর করবে।
তবু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঘিরে ইতোমধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। চার দশকের রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পর এবার সেই ত্যাগের রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা পরিষদের নেতৃত্বে তাঁকে দেখতে চান তাঁর অনুসারী ও স্থানীয়দের একটি অংশ।
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা আজিজুর রহমান বিদ্যুতের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। দলীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে যদি কখনো জনগণের সরাসরি ভোটে উপজেলা নেতৃত্বে আসেন, তাহলে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শাজাহানপুরের উন্নয়নে কতটা কাজে লাগে—সেটিই হবে দেখার বিষয়।
#শাজাহানপুর