24/05/2026
যারা আগুন লাগায়,
তারা সবসময় ভাবে — আগুন শুধু অন্যকে পোড়াবে।
কিন্তু তারা এটা বোঝে না, আগুনের নিজস্ব কোনো দিক নেই।
বাতাস যেদিকে ঘুরে দাঁড়ায়, আগুনও সেদিকেই ফিরে আসে।
আর তখন সেই আগুনই একদিন নিজের ঘর, নিজের মুখোশ, নিজের অহংকার পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।
মানুষের মনোবিজ্ঞানে একটা ভয়ংকর সত্য আছে —
যারা অন্যের জীবনে অশান্তি ছড়ায়, তারা আসলে নিজের ভিতরের অশান্তি থেকেই সেটা করে।
কারণ শান্ত মানুষ কখনও অকারণে কারও ক্ষতি করতে চায় না।
যার ভিতরে আগুন জ্বলছে, সে-ই বাইরে আগুন ছড়াতে চায়।
কিছু মানুষ আছে,
যারা সম্পর্ক ভাঙতে আনন্দ পায়,
কারও সম্মান নষ্ট করতে আনন্দ পায়,
কারও বিশ্বাস ভেঙে দিতে আনন্দ পায়।
কারণ তারা নিজেরা ভিতরে এতটাই শূন্য যে, অন্যকে ভাঙতে পারলেই নিজেদের শক্তিশালী মনে হয়।
কিন্তু জীবন খুব নিঃশব্দে হিসাব রাখে।
আজ তুমি কারও চোখে জল এনে হাসছো,
কাল সেই একই কষ্ট অন্য কোনো রূপে তোমার কাছেই ফিরে আসবে।
হয়তো মানুষ বদলে যাবে,
সময় বদলে যাবে,
পরিস্থিতি বদলে যাবে —
কিন্তু অনুভূতির প্রতিশোধ কখনও হারিয়ে যায় না।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো,
যারা অন্যকে পুড়িয়ে আনন্দ পায়, তারা ধীরে ধীরে নিজের মানবিকতাও হারিয়ে ফেলে।
একসময় তারা আর ভালোবাসতে পারে না, বিশ্বাস করতে পারে না, শান্তিতে ঘুমোতেও পারে না।
বাইরে তারা যতই হাসুক, ভিতরে ভিতরে তারা প্রতিদিন একটু একটু করে ছাই হতে থাকে।
কারণ আগুন শুধু কাগজ পোড়ায় না,
আগুন চরিত্রও পোড়ায়।
মানুষের বিবেকও পোড়ায়।
আর একসময় আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের চোখের দিকেও তাকানো যায় না।
জীবনে তাই কাউকে অকারণে কষ্ট দেওয়ার আগে মনে রাখা উচিত —
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়,
সময়ও কারও একার না।
আজ তুমি বাতাসের সুবিধা পাচ্ছো বলে আগুন অন্যদিকে যাচ্ছে,
কিন্তু বাতাস ঘুরতে খুব বেশি সময় লাগে না।
আর যেদিন সেটা ঘুরে দাঁড়াবে,
সেদিন আগুন নিভানোর জন্য পানি থাকবে না…
কারণ তখন তুমি নিজেই ছাই হয়ে যেতে শুরু করবে।