26/10/2015
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর খোলা চিঠি
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের রিভিউয়ের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে চরম ভোগান্তি চলছে।
(শব্দচয়ন ও ভাষাচয়ন এবং সকল প্রকার ভুলত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী)
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
হৃদয় নিঙরানো প্রাণঢালা আন্তরিক সালাম জানাচ্ছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, গভর্ণমেন্ট এমপ্লয়ীজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে বিদ্যমান বিধি-বিধানের আলোকে সুবিধা বঞ্চিত ও উপেক্ষিত কর্মচারিদের কল্যাণে তথ্য নির্ভর ও গঠনমূলক পন্থায় বিভিন্ন দাবীসমূহ সরকারের নিকট উপস্থাপনের প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন যাবত অব্যাহত রেখে চলেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
ন্যায় ও সুবিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় জানাচ্ছি যে, অর্থ বিভাগ গত ২৪.০৩.২০০৮ ও ২২.০৯.২০১১ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রণীত বিধিমালার সংগে সরাসরি সাংঘর্ষিক ও পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি পত্র জারি করে। এর ফলে ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসের ৯ তারিখ থেকে ১৯৯৭ সালের ৩০ শে জুন পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের বেতনের ক্রমধারা ও চাকুরির ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে প্রাপ্যতা অনুযায়ী উত্তোলিত সকল সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করা হয়। পেনশন থেকে টাকা কর্তন শুরু হয়। জীবন সায়াহ্নে এখন রাষ্ট্র যদি তাদের ভোগান্তি আর হয়রানিই উপহার দেয়, তবে তা মেনে নেয়া কষ্টকর বৈকি? আমাদের ভাবতে হবে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এই মানুষগুলোর যথেষ্ট অবদান রয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও হতাশাগ্রস্থ মনে জানাচ্ছি যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের রিভিউয়ের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে চরম ভোগান্তি চলছে। রিভিউ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় দেড় বৎসর অতিবাহিত হলেও আমলে নেয়া হয়নি। আইন-আদালতকে কোন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। এখনো মিথ্যাচার ও মনগড়া তথ্য দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। মহামান্য আদালতে বিব্রতকর পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। সরকারের জারিকৃত বিধি-বিধানকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। কল্পনাপ্রসূত ও অবাস্তব তথ্য সরকারের নিকট তুলে ধরা হচ্ছে। বলা হচ্ছে- এ রায় বাস্তবায়ন করলে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, সরকারের রাজস্ব বাজেটের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর প্রভাব পড়বে এবং নতুন বেতন স্কেলও বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গভর্ণমেন্ট এমপ্লয়ীজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন বাংলাদেশ এর দাবীর সংগে আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, ১৯৭২ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত মোট চাকুরের ৮০ ভাগ কর্মচারি চাকুরির ৮/১২/১৫ বৎসর পূর্তিতে ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা উত্তোলন করে ভোগ করে ফেলেছে। তাদের জন্য কোন অতিরিক্ত টাকা লাগবে না। অবশিষ্ট ২০ ভাগ চাকুরের জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন বাড়তি অর্থের প্রয়োজন পড়বে না; তবে কিছু টাকার সংস্থান রাখতে হবে; তাও লাগবে ভিন্ন ভিন্ন অর্থবছরে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
রিট পিটিশন ৮৯৮৩/২০১১ হতে উদ্ভূত এস.সি.এ-২৪৯৪/২০১৪, সিভিল পিটিশন ফর লীভ টু আপীল-৩০৮/২০১৩ এবং সিভিল রিভিউ পিটিশন-৭৪/২০১৩ এর মাধ্যমে এ মামলার উপর সরকারের প্রতিকার প্রার্থনার সকল ধাপ নিঃশেষিত হয়েছে। এ রায় বাস্তবায়ন করার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভুখন্ডের আওতায় সকল নির্বাহী এ রায় বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করতে হবে। তারপরেও অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক ও মানসিক দৈন্যতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এ মামলার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরও এখনো পূর্বের ন্যায় মিথ্যাচার ও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করে কালক্ষেপন করছে। মহামান্য আদালতের রায় ও আদেশের ব্যর্ত্যয় ঘটিয়ে বিধি-বহির্ভূত পন্থায় বিশেষ উদ্যেগ গ্রহণ করছে- যা শোভণীয় নয় এবং সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনার সানুগ্রহ বিবেচনার সুবিধার্থে কতিপয় তথ্য উপস্থাপন করা হলোঃ
(১) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রণীত বিদ্যমান বিধিমালার সংগে সরাসরি সাংঘর্ষিক ও পরস্পর বিপরীতমুখী অর্থ বিভাগের জারি করা ২৪.০৩.২০০৮ ও ২২.০৯.২০১১ তারিখের পত্র দুটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিন;
(২) রিট পিটিশন ৮৯৮৩/২০১১ মামলাটির উপর রিভিউ পিটিশন ৭৪/২০১৩ এর উপর ০৫.০৫.২০১৪ তারিখের রায়ের মাধ্যমে এ মামলার উপর সরকারের প্রতিকার প্রার্থনার সকল ধাপ নিঃশেষিত হয়েছে;
(৩) উক্ত রায় বাস্তবায়নের জন্য আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর সুস্পষ্ট সম্মতি রয়েছে;
(৪) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সম্মতি রয়েছে;
(৫) ১৯৭২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের চাকুরিকাল গণনা, বেতন, পেনশন, ছুটি ও আনুসাঙ্গিক সুবিধাদি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চায়নের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক উন্নয়ন প্রকল্প হইতে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারিদের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমালা, ২০০৫ প্রণয়ন করা হয়েছে; এ অবস্থায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা কোন এসআরও-মূলে প্রজ্ঞাপনকে অর্থ বিভাগের উক্ত পত্র দুটি দ্বারা কখনোই অতিক্রম করতে পারে না। এক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ দুটি পত্র বাতিল না করে এবং রিভিউয়ের আদেশ অমান্য করে একটি bad precedents সৃষ্টি করেছে;
(৬) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় গত ২৭.০৬.১৯৯৬ তারিখে জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী ১৯৭২ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের প্রকল্প শেষে জনবল সহজ ও সরলীকরণ পন্থায় রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর হয়ে আসছে। উক্ত জনবল ও ওএন্ডএম ব্যয় পুনরায় অন্য কোন সংস্থা কর্তৃক কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন নেই। সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ৩৬ বছর অর্থ বিভাগের উক্ত দুটি পত্রের কারণে শত সহস্র কর্মচারিদের পেনশন আটকে আছে; বেতন বৈষম্য ও আর্থিক হয়রানি বাড়ছে;
(৭) অর্থ বিভাগের জারিকৃত ০১.১২.১৯৮৪ তারিখের অফিস স্মারক অনুযায়ি স্কেলভিত্তিক নিয়োজিত ওয়ার্কচার্জড ও কন্টিনজেন্ট কর্মচারিগণ উচ্চতর স্কেলের (টাইম স্কেল) সুবিধা পেয়ে আসছে;
(৮) বিগত ০৯.০৪.১৯৭২ থেকে ৩০.০৬.১৯৯৭ পর্যন্ত কেইস-টু-কেইস উন্নয়ন ও রাজস্ব উভয় সমষ্টির ভিত্তিতে চাকুরিগত সুবিধা পেয়েছে বিধায় এ রায় বাস্তবায়ন করলে আর্থিক ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের রিভিউ এর আদেশ বাস্তবায়নে অনাকাঙ্খিত দীর্ঘসূত্রিতা ও বিলম্বিত প্রক্রিয়ার কারণে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে নিরসনের জন্য একাধিকবার আবেদন-নিবেদন করেও মীমাংসা কিংবা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সংগে সাক্ষাতের সুযোগ না পাওয়ায় আপনার বরাবর লিখিত খোলা চিঠির জন্য পুনরায় আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনার উদার মানবিকতা ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ চাই। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ সরকারের স্বার্থে আলোচনার টেবিলে আমরা প্রস্তুত আছি।
পরিশেষে ক্ষমা করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি দীর্ঘজীবি হউন।
মোঃ নজরুল ইসলাম
মহাসচিব
গভর্ণমেন্ট এমপ্লয়ীজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন বাংলাদেশ
মোবাইলঃ ০১৮১৮১৩৫৩৮৫।