24/08/2026
আমি একটা জিনিস খুব লক্ষ্য করলাম। আমি যতবারই বাবার বাড়ি বা বোনের বাড়ি বেড়াতে যাই তখন আমার মেয়ে আমার কাছ থেকে সেরকম কোনো বকা খায়ই না।। যতটুকু সময় সে আমার আশেপাশে থাকে ততটুকু সময় শুধু আদর আনন্দ খুনুসুটিতে মেতে থাকি আমরা।।
এটার কারণ খুজলাম আর খুব সহজে উত্তরও পেয়ে গেলাম।।
বেড়াতে এলে আমাদের জীবনযাপন হয় একরকম।। আর সংসার জীবনে আরেক রকম।।
বেড়াতে এলে আমি বাচ্চা ফেলে সকাল ১০/১১ টা পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকতে পারি।। রাতের ঘুমের অভাব দিনে পুষিয়ে নিতে পারি।। বাচ্চার সকালের নাস্তা বানানো তো দূরে থাক, ওকে সকালের নাস্তা টাও করাই না অনেক সময়।। মোস্ট অফ দ্যা টাইম ওর নানা বা নানু ওকে ব্রেকফাস্ট করায়।।
আমি ঘুম থেকে উঠি, রেডিমেড নাস্তা করি,, অবশ্যই রিলাক্সে বিনা সংকোচে, বিনা ডর ভয়ে।।
মাথার উপর নাই বাচ্চার দুপুরের খাবার রেডির চিন্তা, বাচ্চার কাপড় ধোয়া, ঘরদোর গুছানো ঝাড়ু পোছা করা, সারাক্ষণ থালাবাটি ধোঁয়া, ওয়াশরুম ক্লিন করা, ছাদে কাপর মেলা, কাপড় তোলা,,শুকনো ভেজা কাপর আলাদা করা,, ভেজা গুলো আবার মেলে দেওয়া শুকনো গুলো গুছিয়ে আলমারিতে তুলে রাখা,, সন্ধ্যায় আলাদা আলদা পদের পদের নাস্তা বানানো, মেয়েকে নিয়ে সারাক্ষণ একা ঘর সামলানো, একা মেয়েকে সামলানো, একা সকল ঝক্কি পোহানো।।
বেড়াতে এলে বাচ্চার প্রতিটি কাজ অনেক টা ভাগ হয়ে যায়।। সবচেয়ে শান্তি লাগে যেটা, দেখা যায় আমি খাবার খেতে বসেছি এই টাইমে বাচ্চা পটি করে দিয়েছে, তখন আম্মু বা ওর খালামনি ওকে ক্লিন করে দিয়েছে।। ❤️
তাছাড়াও এখানে এলে প্রতিবার নিজের এবং মেয়ের ডক্টর দেখিয়ে নিই, মেয়ের প্রয়োজনীয় অনেক শপিং করি।। সেখানেও এত চাপ লাগেনা কারণ এখানে শপিং করতে গেলে দুনিয়ার সব সামলিয়ে আসার চিন্তা নাই।। মেয়েকে খালা /নানুর কাছে রেখে রিল্যাক্সে শপিং করি।
ডক্টরের কাছে গেলে সাথে কে যাবে চিন্তা করার আগেই কেউ না কেউ এক পায়ে খাড়া হয়ে যায় সাথে যাওয়ার জন্য।।
এছাড়াও আমার বাচ্চা অনেক মানুষের মাঝে থাকলে আনন্দে থাকে।। আমার তো কাজ তেমন থাকেই না আর বাচ্চাও তখন আমাকে পেরেশানি করেনা।।
বেড়াতে এলে অলস হয়ে যাওয়ার থেকেও বড় যেটা হই সেটা হচ্ছে নিশ্চিন্ত ।।
বাবার বাড়ি প্রতিবার নিজের থেকে যেই কাজগুলো করি,,, ওয়্যারড্রোব টা নাড়া দেই।। পুরনো কাপড় চোপর বস্তাবন্দি করি।। পুরো ওয়ারড্রব ঘুছিয়ে দেই।। মাঝেমাঝে সখ করে দু এক পদ রান্না করি।। ঘরের কিছু অগোছালো লাগলে সেটিং চেইঞ্জ করি।।
সংসার জীবনে যত কাজ সব দায়িত্ব বা ভালোবাসার।। কিন্তু খারাপ লাগে যখন নিজের উপর প্রেশার টা বাচ্চার উপর কনভার্ট হয়।। একা থাকাকালীন বাচ্চার জ্বালানো বেড়ে যায় প্লাস সময়মত কাজ কমপ্লিটের একটা চাপ থাকে।। কাজের সময় বাচ্চার জ্বালানো, রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটানো, এতকিছুর পরে আবার কষ্টের মুহূর্ত গুলো অনেকে দেখে বা না দেখে,জেনে বা না জেনে যখন উল্টো মন্তব্য করে বসে সেটা আমার কাছে আকাশ থেকে পরার মতন ফিল হয় এবং বিরক্তির পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেয়।।
আলহামদুলিল্লাহ যখন যেই পরিস্থিতিতে থাকি মানিয়ে চলার মতো দৃঢ় বল নিয়ে চলি।। তবে বাচ্চাকে বকাঝকার পর নিজেরি প্রচুর খারাপ লাগে।। এই বয়সটা তো বকা খাওয়ার না।। আনন্দে ভালোবাসায় বেড়ে উঠার।।
সবাই দোয়ায় রাখবেন আমাকে এবং আমাদের বাচ্চাকে।। 🤲
~Shahnaz_Juma~
゚