05/08/2026
টাকা যখন আছে, পরিবার তখন আপন,
কিন্তু শরীর যখন অসুস্থ আর উপার্জনের ক্ষমতা শেষ, তখন আপনজনরাই কতটা পর হতে পারে, তার এক জীবন্ত উদাহরণ তৈরি হলো টাঙ্গাইলের সখীপুরে।😥
যে স্ত্রী-সন্তানের সুখের জন্য নিজের জীবনের সোনালী ১২টি বছর সৌদি আরবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাটিয়েছেন, সেই স্ত্রী-সন্তানেরাই অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে (৪৯) রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামাল উদ্দিন ২৫ বছর আগে নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং দীর্ঘ ১২ বছর সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা স্ত্রীর নামে পাঠান!
কিন্তু কয়েক বছর আগে তিনি মা'রা'ত্মক কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর থেকেই তার চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারে চরম অবহেলা শুরু হয়। শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা তাকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের একটি নির্জন সড়কে ফেলে রেখে চলে যান।
রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলে অসুস্থ জামাল উদ্দিন মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হন। রোববার সকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার এক ভাতিজির বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ মেম্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তবে জামাল উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী রিনা আক্তার এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে ডিভোর্স (বিবাহবিচ্ছেদ) হয়ে গেছে। বর্তমানে জামালের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ওই রাতে জামাল কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এই অমানবিক ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অসুস্থ জামাল উদ্দিনের উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম.!