Chandpur Wala Vlogs

Chandpur Wala Vlogs পথে পথে ঘুড়ি আর উপভোগ করি আমার বাংলাদেশকে
বাংলা আমার সে অপরুপ সুন্দরতম স্থান
(1)

“আমি চাই তুই তোর বউ নিয়ে আলাদা হয়ে যা শাওন।”মায়ের কথা শুনে শাওন হতভম্ব হয়ে যায়। সে বিষ্ময় নিয়েই বলে,“মা কী হয়েছে? রূপা ত...
21/11/2025

“আমি চাই তুই তোর বউ নিয়ে আলাদা হয়ে যা শাওন।”
মায়ের কথা শুনে শাওন হতভম্ব হয়ে যায়। সে বিষ্ময় নিয়েই বলে,“মা কী হয়েছে? রূপা তোমার সাথে খারাপ আচরণ করেছে? তোমাকে কষ্ট দিয়েছে? তুমি রূপার উপর রাগ করে আমাদের আলাদা হয়ে যেতে বলছো?”

“রূপা তোর বউ। তোর দায়িত্ব। তোর ভালোবাসা। বউরে সম্মান, ভালোবাসা না দিলে সংসার জীবন সুখের হবে না তোর। তাই কিছু না জেনে সব কথায় বউয়ের দোষ খোঁজার চেষ্টা করিস না শাওন। এটা খুবই খারাপ গুন।”
কথাগুলো বলে মা শাওনের দিকে শান্ত চোখে তাকায়। শাওন কিছুটা লজ্জা পায়। তার মা তাকে শান্ত কন্ঠে বলে,“রূপা খুব ভালো মেয়ে। ও কিছু করেনি।”

“তাহলে আমাদের আলাদা হয়ে যেতে বলছো কেন?”
শাওন কথাটি জিজ্ঞেস করে উত্তরের আশায় মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,“তেমন কিছু না। আমি আসলে তোর বাবার সাথে একা থাকতে চাই। জয়েন ফ্যামিলি হওয়ায় তোর বাবার সাথে একা কখনো সংসার করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমার খুব শখ ছিলো তার সাথে একা সংসার করবো, একটু এই আনন্দের অনুভূতি কেমন সেটা অনুভব করবো। কিন্তু তা কখনো হয়নি। আগে শ্বশুড়, শাশুড়ী, ননদ, দেবর এদের জন্য হয়নি। এখন এই বয়সে এসে তোর এবং তোর বউয়ের জন্য হচ্ছে না। তাই আমি চাচ্ছি তোরা আলাদা হয়ে যা।”

”এই ব্যাপার। তুমি আগে বলবে না মা। তোমার স্বপ্ন যদি এটাই হয় তাহলে আমি আলাদা হতে রাজি আছি মা। তুমি এবং বাবা এখন যদি সময়টাকে নিজেদের মতো করে উপভোগ করতে চাও তখন আমার সন্তান হিসাবে দায়িত্ব তোমাদের এমন সুন্দর জীবন দেওয়া।”
শাওনের কথায় মা মাথা নাড়ায়। দু’জনে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়, শাওন এই মাসের বেতন পেলে বাসা ভাড়া খুঁজবে অফিসের আশেপাশে। পরের মাসে সেখানে চলে যাবে। শাওনের মা এতে সম্মতি জানায়। শাওন মজা করে মাকে বলে,“মা তোমার আর বাবার আলাদা সুন্দর সংসারে আমরা অতিথি হিসাবে আসতে পারবো তো? এখানে না বলো না মা। আমি কিন্তু তোমাদের না দেখে থাকতে পারবো না। তাই তোমাদের সুন্দর স্বপ্নের মাঝে হুট করে চলে আসতে পারি।”

“পাগল ছেলে। এটা তোর বাড়ি। তুই আসবি না তো কে আসবে? তোরা এখানে আসবি, আমরা তোদের ওখানে যাবো।”
মায়ের কথা শুনে শাওন মুচকি হাসে। তারপর সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে,“মা সত্যি এটাই তো তুমি তোমার এবং বাবার একার সংসারের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য আমাদের আলাদা করে দিচ্ছো।”
মা কিছুটা হচচকিয়ে যায়। পরক্ষণে নিজেকে সামলে বলে,“হ্যাঁ। এটাই সত্যি রে। তোর বাবার সাথে একা সংসার করার বড় স্বাদ ছিলো রে। সেটার জন্যই তোদের আলাদা করছি।”
__
সময় বয়ে চলে তার নিজস্ব গতিতে। তাই তো দিন পেরিয়ে দিন আসে। দেখতে দেখতে শাওনদের নতুন বাসায় ওঠার দিন চলে আসলো। আগামীকাল তারা এই বাড়ি থেকে চলে যাবে। আজ শাওনের মা সব শাওন এবং রূপার পছন্দের খাবার রান্না করেছে। রাতে শাওন তৃপ্তি করে খেয়ে বলে,“এই সুস্বাদু খাবার খুব মিস করবো মা। যদি এটা তোমার স্বপ্ন না হতো তাহলে কখনোই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতাম না।”

রূপাও শাওনের কথায় সম্মতি জানায়। শাওনের মা কিছু বলে না। তার বাবা তার মায়ের দিকে ম্লান চোখে তাকায়।
*
রাতের বেলা শাওনের মা না ঘুমিয়ে খাটের এক পাশে বসে নিরবে চোখের পানি বিসর্জন দেয়। এটা দেখে তার বাবা বিরক্ত হয়ে বলে,“বুড়ো বয়সে ভিমরতিতে ধরেছে তোমায়। যখন ছেলের চলে যাওয়ায় এতই কষ্ট পাবে তাহলে এসব ফাল তু স্বপ্নের কথা মনে করে তাদের আলাদা করলে কেন? বুড়ো বয়সে কত শখ। স্বামীর সাথে আলাদা সংসার করবে।”
শেষ কথাটি ব্যঙ্গ করে বলে। মা তার কথা শুনে বিদ্রুপেরসুরে হাসি দিয়ে বলে,“না গো। বুড়ো বয়সে আমার কোন শখ জাগেনি। যে মানুষটাকে শখের বয়সে পেলাম না তাকে এই বয়সে চেয়ে কী করবো?”

“মানে?”
বাবা বুঝতে না পেরে কথাটি বলে। মা তার দিকে তাকিয়ে অভিমানের গলায় বলে,“তোমার মধ্যে তেমন কোন গুন নেই যার জন্য তোমার সাথে আলাদা, একান্ত সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখবো আমি। এত স্বপ্ন আমি দেখি না।”

“কী বলতে চাও তুমি? যদি এটাই না হয় তাহলে ছেলেকে আলাদা করছো কেন?”
বাবার এই কথার জবাবে মা সুন্দরভাবে বলে,“দূরে থাকলে সম্পর্ক ভালো থাকবে।”

বাবা কিছু বলতে নেয় কিন্তু তাকে বলার সুযোগ না দিয়ে মা পুনরায় বলে,“আমার ছেলে যখন তার বউকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় তখন আমার বড্ড হিংসা হয়। আমিও তো নতুন বউ ছিলাম। কই আমাকে নিয়ে তো তুমি কখনো ঘুরতে যাওনি? আমি যখন বৌমাকে বলি, রান্নায় এত তেল খরচ করছো কেন? তখন আমার ছেলে তার হয়ে বলে, তেল শেষ হয়ে গেলে আমি কিনে দিবো। এই নিয়ে কিছু বলো না। তখনও আমার হিংসা হয়। কই আমার হয়ে তুমি তো কখনো এই কথা বললে না। উল্টো তেল বেশি কেন দিয়েছি এই কৈফিয়ত তোমার মাকে দিতে পারিনি বলে কু কুরের মতো মে রেছো। ভবিষ্যতে আমার ছেলে বউয়ের জন্য অনেককিছু করবে, যা আমার হিংসা আফসোস বাড়িয়ে দিবে। এক পর্যায়ে তাদের সুখ সহ্য করতে না পেরে যদি আমি তাদের সুখের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াই। তখন তো সব শেষ হয়ে যাবে। সংসারে অশান্তি হবে। সম্পর্ক খারাপ হবে। আমি সেসব চাই না গো।
এই দুনিয়ায় কেউ কারো মনের দুঃখ বোঝে না গো। আমি যে কোন আফসোসে কোন দুঃখে এসব করছি তা বৌমা বুঝবে না। কারণ বৌমাদের তো জন্মের পর থেকেই মনে হয় বোঝানো হয় শাশুড়ী মানেই দজ্জাল। আর আমার হিংসায় বলা কথাগুলো তো তাকে কষ্ট দিবে। সে তো আজকালকার মেয়ে, আমাদের যুগের না। যে শত কষ্ট সয়ে এসে শাশুড়ীর পায়ে পড়বে। উল্টো শাশুড়ীর সাথে তর্ক করবে। করাই উচিত। কোন অন্যায় না করে কথা শোনালে তো মুখ খোলাই উচিত। সেই মুখ খুললেই তো আমি আর বৌমা হয়ে উঠবো দু’জনার চোখের বিষ। আমি চাই না এমন কিছু হোক। আমি যা পাইনি সেটা সে পাক আমি তাই চাই। আমি চাই না তার পূর্ণতা দেখে আমার কষ্ট হোক। আমি আমার ছেলের সুখে সুখী হতে চাই। সেজন্য তাদের আলাদা করে দিচ্ছি। তোমার সাথে সংসার সংসার আদিখ্যেতার জন্য নয়।”
মা কথাগুলো বলে বাবার দিকে তাকায়। বাবা অসহয় চোখে তাকিয়ে আছে। আজ তার বলার কিছুই নেই। বয়সের সময় কখনো নিজের স্ত্রীর শখ, আহ্লাদ সম্পর্কে জানতে চায়নি। কখনো তার জন্য কিছু করেনি। কোন দায়িত্বও পালণ করেনি। উল্টা অন্যদের কথায় গায়ে হাত তুলেছে। আজ যখন এসব বুঝতে পারছে তখন সবকিছু তার হাতের বাহিরে চলে গেছে। বাবাকে যে আর মা ভালোবাসে না। মা সারাজীবন ধরে শুধু দায়িত্ব পালণ হিসাবে সব করে গেছে। বাবার প্রতি থাকা ভালোবাসা তো সব ম রে গেছে বহুআগে। এখন বাবা এসব বুঝতে পারে।

মা বাবার অসহয় মুখ দেখে ম্লান হেসে বলে,“এভাবে তাকিও না গো।”

“আমাকে মাফ করে দিও শাওনের মা।”
বাবার অনুতাপে ভরা কথা শুনে মায়ের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পানি পড়ে। সে শান্ত গলায় বলে,“না শাওনের বাবা। যে বয়সে ভালোবাসার দরকার ছিলো তখন আমি তোমার শুধু চাহিদা ছিলাম। আর আজ মাফ চেয়ে ভালোবাসা দেখাতে চাইছো। এমনটা করো না গো। এখন আর ভালোবাসার প্রয়োজন নেই আমার।”

বাবা মাথানত করে ফেলে। মা আবারও বলে,“সবাই বলে শাশুড়ীরা ছেলের বউয়ের সুখ সহ্য করতে পারে না। হ্যাঁ পারে না। কিভাবে পারবে? যেসব শখ তার পূরণ হয়নি সেসব শখ তার চোখের সামনে অন্যকারো পূরণ হচ্ছে এসব যে তাকে কতটা কষ্ট দেয় তা কেউ বোঝে? বোঝে না।
একদিন তুমি আমার জন্য একটি শাড়ী নিয়ে আসছিলে। সেটা আমার খুব পছন্দ হয়েছিলো। কিন্তু সেই শাড়ীটা যখন তোমার বোন বললো তার পছন্দ হয়েছে, তার চাই। তখন তুমি কী করলে? সঙ্গে সঙ্গে তাকে দিয়ে দিলে। আর আজ যখন আমার খুঁকির ভাবীর একটি শাড়ী পছন্দ হলো তখন আমার ছেলে বললো সে অন্য একটা কিনে দিবে, এটা তার ভাবীর। আজ আমি বৌমাকে কোন কথা বললে তার ঢাল হয়ে আমার ছেলে দাঁড়ায়। এসব দেখে আমিও তো অতীতে চলে যাই। আমারও তো মনে হয় আমার সাথে যখন এসব হচ্ছিলো তখন যদি তুমি প্রতিবাদ করতে তাহলে তো সব সমস্যা মিটে যেতো। কিন্তু করোনি।

আমার আজও মনে পড়ে, যখন আমার গর্ভে শাওন ছিলো তখন আমি নয়টা মাস ভাত ছাড়া কিছু পাইনি। ফল খেতে ইচ্ছে করলেও পাইনি। সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যায় সাতটা অব্দি গাধার মতো খেটেছি। তারপর সন্তান জন্ম দিয়েছি। কিন্তু আজকাল তো তা হয় না। আজকাল বউরা পোয়াতি হলেই বিছানায় পড়ে যায়, তাদের এটা সেটা ইচ্ছে হয়। ঘরের মধ্যে একটি জগ জাগানোর শক্তি হয় না। কিন্তু আমাদের সময় নয় মাসের ভরা পেট নিয়ে কলস ভর্তি পানি টানা লাগছে, ধান সিদ্ধ করা লাগছে। যখন আমার শাওনের বউ পোয়াতি হবে তখন তো সে কিছু করতে চাইবে না। ঘরের সামান্য কাজ করতেও অসুবিধা হবে। আর চোখের সামনে এসব তো আমার সহ্য হবে না। কিছু বললেই আবার আমার ছেলের সাথে তর্ক বেধে যাবে। তখন সারা দুনিয়া বলবে শাশুড়ী ভালো না। সে এত এত খারাপ। আমি এসব চাই না। সারাজীবন সংসারিক কলহের মাঝে কাটিয়েছি। কিন্তু আজ চাই না। তাই সময় থাকতে শাওন এবং রূপাকে আলাদা করে দিলাম। ওরা দূরে ভালো থাকুক। সুখে থাকুক।”

কথাগুলো বলে মা নিজের চোখের পানি মুছে নেয়। তারপর আবারও বলে,“তাই আমার যতই কষ্ট হোক না কেন, ওরা চলে যাক এটাই আমি চাই।”

বাবা কোন জবাব দেয় না। তার চোখেও অশ্রু এসে জমে। মা এটা বুঝতে পেরে বলে,“অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ো।”
কথাটি বলে মা বিছানার একপাশে শুয়ে পড়ে। বাবা মায়ের দিকে অসহয় চোখে তাকিয়ে থাকে। যে বয়সে এসব বোঝা উচিত ছিলো সেই বয়সে বুঝেনি। তাই এই বয়সে বুঝে এখন আফসোস করা ছাড়া কিছুই করার নেই তার।

সকাল সকাল শাওন এবং রূপা তৈরি হয়ে নেয়। তাদের সকল ব্যাগপত্র গুছিয়ে নেয়। আজ তারা নতুন বাড়িতে উঠবে। মা এসে হাতে হাতে তাদের ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছে। অতঃপর নিচে গাড়ি আসতে শাওন ঘরে এসে বলে,“গাড়ি চলে এসেছে। চলো রূপা।”

“হ্যাঁ চলো।”
রূপা খুশিমনে কথাটি বলে। রূপা এবং শাওন বাবা-মায়ের থেকে বিদায় নেয়। তাদের বিদায় দেওয়ার সময় মা শাওনকে বলে,“স্ত্রী স্বামীর দূর্বলতা নয় শক্তি। তার যথাযথ মর্যাদা করিস। আমি জানো কখনো শুনি না, তুই বৌমাকে কোন কারণে কষ্ট দিয়েছিস। তাহলে খুব খারাপ হবে।”

”মা তুমি শুধু আমাদের জন্য দোয়া করো। আমরা যাতে সবসময় একসাথে এভাবে থাকতে পারি। আমি আমার সকল দায়িত্ব কর্তৃব্য পালণ করতে পারি। তোমার দোয়া সঙ্গে থাকলে আমি সব পারবো মা। আমার দ্বারা রূপা কখনো কষ্ট পাবে না।”
শাওনের এই কথায় মা ম্লান হাসে। বাবা এসে শাওনের মাথায় হাত রেখে বলে,“দোয়া করি তোরা সবসময় ভালো থাক। একজন ভালো স্বামী হও। সেই সাথে ভালো সন্তানও হও শাওন। তোমার মায়ের জন্য হলেও অন্তত হও ভালো সন্তান।”
শাওন মাথা নাড়ায়। অবশেষে রূপা এবং শাওন বেরিয়ে যায়। তারা তাদের নতুন বাড়ির উদ্দেশ্য চলে যায়। যেখানে তাদের দু'জনার সুন্দর একটি সংসার তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। শাওনরা চলে যেতে শাওনের মা মনেমনে বলে,“প্রত্যেক মেয়েই বোধহয় একটি আলাদা সংসার ডিজার্ব করে। মা হিসাবে দোয়া করি, ওদের সংসার সুখের হোক।”

(সমাপ্ত)
#সংসার

30/10/2025

Hi everyone! 🌟 You can support me by sending Stars – they help me earn money to keep making content that you love.

Whenever you see the Stars icon, you can send me Stars.

সিসিলিয়া ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। হঠাৎ অমনভাবে দরজা বন্ধ করায় অনন্যা আর প্রমা দুজনেই অবাক হলো।  সৈকত ফিরলো কিছুক্ষণ ...
30/10/2025

সিসিলিয়া ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। হঠাৎ অমনভাবে দরজা বন্ধ করায় অনন্যা আর প্রমা দুজনেই অবাক হলো। সৈকত ফিরলো কিছুক্ষণ পর। অনন্যা সৈকত কে জিজ্ঞেস করলো,

"কী হইছে? ভালো মেজাজেই তো বেরিয়েছিল। "

সৈকত একটু হাসার চেষ্টা করলো। কিন্তু কিছু বলল না। অনন্যা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"নিশ্চয়ই আবার দুটিতে ঝগড়া করেছে।"

সৈকত কোনো কথা না বলে পানি ডেলে খেতে শুরু করলো। তারপর চুপচাপ বসে রইলো। প্রমা ভালো করে দেখে বলল,

"শুধু ঝগড়া না। সিসিলিয়ার এক্সপ্রেশন তো দেখতে পারলাম না। তবে সৈকত কে দেখে মনে হচ্ছে তারচেয়েও গুরুতর কিছু ঘটেছে। "

সৈকত কিছুক্ষণ বসে থেকে আবারও চলে গেল। এই সময়ের মধ্যে অনন্যা কয়েক বার জিজ্ঞেস করলেও কোনো জবাব দিলো না।

সিসিলিয়া বেরিয়ে এলো ঘন্টাখানেক পর। এলোমেলো চুল, টকটকে লাল চোখ দেখে অনন্যা ভরকে গেল। ছুটে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"কী হয়েছে লিয়া?"

সিসিলিয়া শান্ত গলায় বলল, আঙ্কেল বাড়িতে নেই?

"না। বাইরে গেছেন, আসার সময় হয়েছে।"

প্রমা এসে সিসিলিয়াকে বলল,

"এক্সাক্টলি কী হয়েছে সিসিলিয়া?"

সিসিলিয়া বলল,

"আঙ্কেল আসুক তারপর সবাইকে একসঙ্গে বলি। বারবার বলতে ভালো লাগবে না।"

কেউ আর কোনো প্রশ্ন করলো না।

---

সৈকত রাস্তায় কিছুক্ষণ হাটলো। খানিকক্ষন হাটতেই ক্লান্ত লাগছে। আজ যা হয়েছে এরপর সিসিলিয়া আর কোনোদিন ওর মুখ দেখতে চাইবে না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা যে হবার ছিলো। সিসিলিয়া খুব ভালো মেয়ে। বুঝদারও বটে। ওর জীবন টা সবসময় এমন ভাঙাচোরাই থাকবে। সেই ভাঙাচোরা জীবনে সুখ খুঁজে পাওয়া যাবে না যখন পুরো ব্যাপার টা বুঝবে তখন হয়তো এই খারাপ লাগাটা আর থাকবে না। থাকলেও সেটার ব্যথা কম থাকবে।

সৈকত কিছুক্ষণ হেটে ফুটপাতে বসে পড়লো। গাড়ির শব্দ, আশেপাশের মানুষের শব্দ সবকিছু এখন বিরক্ত লাগছে। আজ আর বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না। আবারও উঠে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাটতে শুরু করলো।

কিছুদূর হেটে দাঁড়িয়ে রাতের আকাশের তারাদের দিকে তাকিয়ে বলল,

"এমন একটা দিন আমার জীবনে আসা কী সত্যিই দরকার ছিলো! কী হতো এই দিন টা না এলে! "

---

"আঙ্কেল আমি সৈকত কে ডিভোর্স দিতে চাই। "

রহমান সাহেব বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইলেন। অনন্যা আর প্রমাও ওখানে উপস্থিত। দুজনেই মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। রহমান সাহেব অবিশ্বাস্য গলায় বললেন,

"কী?"

"হ্যাঁ। আমি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। "

"সম্পর্ক তো শুরুই হলো না!"

"হবার কথাও না। হলে অনেক আগেই হয়ে যেত। অনেকগুলো মাস হয়ে গেছে বিয়ের। "

রহমান সাহেব বিব্রতবোধ করলেন। দুজনের আচরণ দেখে তিনি ভেবে নিয়েছিলেন যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে। যখন দুটিতে একসঙ্গে বেরিয়ে গেল তখন ভেবেছিলেন যে দুজনের ভাব ভালোবাসা একটু একটু করে হচ্ছে।

রহমান সাহেবকে চুপ করে থাকতে দেখে সিসিলিয়া আবারও বলল,

"আঙ্কেল আমি আপনার কাছে অনুমতি চাচ্ছি না। আমি আমার ডিসিশন টা জানিয়ে রাখলাম। জীবন যেহেতু আমার, সিদ্ধান্ত টা'ও আমার হওয়া উচিত।"

সিসিলিয়ার গলার স্বরে কোমলতা নেই। একদম কঠিন গলায় কথাগুলো বলেছে। প্রমা বলল,

"সিসিলিয়া আমরা কী একটু আলাদা করে কথা বলতে পারি?"

সিসিলিয়া প্রমার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে বলল,

"আলাদা করে আর কিছু বলার নেই প্রমা। যা বলার বলেছি। "

রহমান সাহেব গলা খাকারি দিয়ে বললেন,

"তুমি তো বলছই যে তোমার জীবন, তাই সিদ্ধান্তও তোমার। তাই আমার আর কিছু বলার নাই। "

"ধন্যবাদ আঙ্কেল। আর একটা কথা, আমি এই বাড়িতে আর থাকতে চাইছি না। আশা করি আপনাদের তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না। "

রহমান সাহেব অবাক গলায় বললেন,

"তুমি কোথায় যাবে?"

"যেকোনো জায়গায় যেতে পারি। চাইলে বাবার কাছেও যেতে পারি। আমার যাওয়ার জায়গা নিয়ে ভাববেন না।"

সিসিলিয়া কথাগুলো বলে চলে গেল। রহমান সাহেব অনন্যাকে জিজ্ঞেস করলো,

"কী হইছে ওর? "

অনন্যা বলল, জানিনা। সৈকত ভাইয়ের সঙ্গে বেরিয়েছিল। ফেরার পর থেকেই এমন।

রহমান সাহেব আর কিছু বললেন না। তবে তার খুব মন খারাপ হলো। মেয়েটাকে মুখে যা'ই বলুক, কিন্তু ভালোতো বাসেন। চলে যাবে কথাটা শুনে তার চোখে পানি এসে গেল।

---

প্রমা সিসিলিয়াকে জিজ্ঞেস করলো,

"প্রবলেম টা ঠিক কোন জায়গায় সিসিলিয়া? তোমাদের কী আবারও ঝগড়া হয়েছে। "

সিসিলিয়া আগের মতোই কঠিন গলায় বলল,

"একদম না। "

"তাহলে? "

"কিছু হয় নি প্রমা। "

"কিছু হয় নি এই কথাটা বোলো না সিসিলিয়া। অনেক কিছু হয়েছে তোমাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে। "

সিসিলিয়া বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলল,

"তোমার কথামতো বোকামি করে অপমানিত হয়েছি। এর বেশি তোমাকে বলতে চাচ্ছি না। "

প্রমা সিসিলিয়াকে আর ঘাটালো না। ও যে মুখ খুলবে না সেটা বুঝে গেল। তাই আর কথা বাড়ালো না। তাই প্রমা সিদ্ধান্ত নিলো যে সৈকতের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে।

---

অনন্যার খুব মন খারাপ। কী এমন হলো যে সিসিলিয়া এমন সিদ্ধান্ত নিলো! সৈকত একটু পাগলাটে ধরনের। সিসিলিয়া তো তা জানে। তবুও ঠিক কী কথায় ওর উপর রেগে গেল।

সৈকতের জিনিসপত্র সিসিলিয়া সব ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। অনন্যা সেগুলো নিজের ঘরে গুছিয়ে রাখছে। প্রমার সঙ্গে কথা হয়েছে। ও বলেছে অনন্যার সঙ্গে ওর রুম শেয়ার করে থাকবে।

অনন্যা সবকিছু গুছিয়ে রাখল। সৈকত আজ আসবে কী না কে জানে! তবুও সব গুছিয়ে রাখলো।

---

সৈকত বাড়ি ফিরলো অনেক রাতে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলো না। পুরনো ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। রাতে কিছু খেলও না। বাড়ির সবারই আজ মন খারাপ বলে রাতে খাওয়া হয় নি। শুধু জরিনা একাই খেয়েছে।

সৈকত রাত করে ফিরলেও প্রমা ওর ঘরে গিয়ে ডেকে বলল,

"এক্সাক্টলি কী হয়েছে বলবেন?"

সৈকত কী জবাব দিবে বুঝে উঠতে পারলো না। বলল,

"না মানে....

"দেখুন আপনাদের মধ্যে যা হয়েছে আমাদের অন্তত বলুন। সিসিলিয়া যে ডিভোর্স এর ডিসিশন নিয়েছে সেটা কী আপনি জানেন?"

সৈকত মৃদু হেসে বলল,

"এরমধ্যে নিয়ে ফেলেছে! বাহ!"

"প্লিজ হেয়ালি করে কথা বলবেন না। "

"আসলে কিছুই হয় নি।"

"আপনাকে একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি, আপনি কী সিসিলিয়া কে ভালোবাসেন না ?"

সৈকত কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। তারপর বলল,

"ঠিক জানিনা। "

প্রমা অধৈর্য হয়ে গেল সৈকতের কথা শুনে। বলল,

"আপনার সমস্যাটা ঠিক কোথায়?"

সৈকত বিড়বিড় করে বলল,

"আমার জীবনে কখনো ভালো কিছু হয় না। সবসময়ই খারাপ হয়। খুব খারাপ। "

---

সিসিলিয়া দু'চোখের পাতা এক করতে পারছে না। একটু পর পর চোখ ভিজে আসছে। সৈকত কেন যে ওর জীবনে এসেছিল! আর কেন ই বা আজকের দিন টা দেখতে হলো! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না।

সৈকতের হয়তো অন্য পছন্দ আছে। হয়তো ছবির মেয়েটাই ওর খুব পছন্দের কেউ। যে কারণে তাকে একটু একটু করে যত্ন করে প্রতিদিন আঁকে। এইজন্য সিসিলিয়ার কোনো জায়গা নেই। হয়তো মনে মনে ভাবে যে সিসিলিয়াকে শুধু অনুগ্রহ করা যায়।

আর সিসিলিয়া! ও তো অনেক কিছু ভেবে বসে আছে। সৈকতের মুগ্ধ চোখের চাওয়া, আমার বউ আমার বউ করে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলা এসব যে সত্যি ভেবেছিল।

সিসিলিয়া মনে মনে বলল,
সৈকত আপনি কী জানেন, আমি আপনাকে রঙধনুর মতো ভালোবাসতে চেয়েছিলাম বৃষ্টির মতো ছুয়ে দেখতে চেয়েছিলাম , সমুদ্রের মতো অনুভব করতে আর কুয়াশার মতো গায়ে মাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনি মেঘের মতো দূরে সরে গেলেন!

সিসিলিয়া ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। হঠাৎ অমনভাবে দরজা বন্ধ করায় অনন্যা আর প্রমা দুজনেই অবাক হলো।  সৈকত ফিরলো কিছুক্ষণ ...
22/10/2025

সিসিলিয়া ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। হঠাৎ অমনভাবে দরজা বন্ধ করায় অনন্যা আর প্রমা দুজনেই অবাক হলো। সৈকত ফিরলো কিছুক্ষণ পর। অনন্যা সৈকত কে জিজ্ঞেস করলো,

"কী হইছে? ভালো মেজাজেই তো বেরিয়েছিল। "

সৈকত একটু হাসার চেষ্টা করলো। কিন্তু কিছু বলল না। অনন্যা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"নিশ্চয়ই আবার দুটিতে ঝগড়া করেছে।"

সৈকত কোনো কথা না বলে পানি ডেলে খেতে শুরু করলো। তারপর চুপচাপ বসে রইলো। প্রমা ভালো করে দেখে বলল,

"শুধু ঝগড়া না। সিসিলিয়ার এক্সপ্রেশন তো দেখতে পারলাম না। তবে সৈকত কে দেখে মনে হচ্ছে তারচেয়েও গুরুতর কিছু ঘটেছে। "

সৈকত কিছুক্ষণ বসে থেকে আবারও চলে গেল। এই সময়ের মধ্যে অনন্যা কয়েক বার জিজ্ঞেস করলেও কোনো জবাব দিলো না।

সিসিলিয়া বেরিয়ে এলো ঘন্টাখানেক পর। এলোমেলো চুল, টকটকে লাল চোখ দেখে অনন্যা ভরকে গেল। ছুটে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"কী হয়েছে লিয়া?"

সিসিলিয়া শান্ত গলায় বলল, আঙ্কেল বাড়িতে নেই?

"না। বাইরে গেছেন, আসার সময় হয়েছে।"

প্রমা এসে সিসিলিয়াকে বলল,

"এক্সাক্টলি কী হয়েছে সিসিলিয়া?"

সিসিলিয়া বলল,

"আঙ্কেল আসুক তারপর সবাইকে একসঙ্গে বলি। বারবার বলতে ভালো লাগবে না।"

কেউ আর কোনো প্রশ্ন করলো না।

***
সৈকত রাস্তায় কিছুক্ষণ হাটলো। খানিকক্ষন হাটতেই ক্লান্ত লাগছে। আজ যা হয়েছে এরপর সিসিলিয়া আর কোনোদিন ওর মুখ দেখতে চাইবে না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা যে হবার ছিলো। সিসিলিয়া খুব ভালো মেয়ে। বুঝদারও বটে। ওর জীবন টা সবসময় এমন ভাঙাচোরাই থাকবে। সেই ভাঙাচোরা জীবনে সুখ খুঁজে পাওয়া যাবে না যখন পুরো ব্যাপার টা বুঝবে তখন হয়তো এই খারাপ লাগাটা আর থাকবে না। থাকলেও সেটার ব্যথা কম থাকবে।

সৈকত কিছুক্ষণ হেটে ফুটপাতে বসে পড়লো। গাড়ির শব্দ, আশেপাশের মানুষের শব্দ সবকিছু এখন বিরক্ত লাগছে। আজ আর বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না। আবারও উঠে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাটতে শুরু করলো।

কিছুদূর হেটে দাঁড়িয়ে রাতের আকাশের তারাদের দিকে তাকিয়ে বলল,

"এমন একটা দিন আমার জীবনে আসা কী সত্যিই দরকার ছিলো! কী হতো এই দিন টা না এলে! "

***
"আঙ্কেল আমি সৈকত কে ডিভোর্স দিতে চাই। "

রহমান সাহেব বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইলেন। অনন্যা আর প্রমাও ওখানে উপস্থিত। দুজনেই মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। রহমান সাহেব অবিশ্বাস্য গলায় বললেন,

"কী?"

"হ্যাঁ। আমি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। "

"সম্পর্ক তো শুরুই হলো না!"

"হবার কথাও না। হলে অনেক আগেই হয়ে যেত। অনেকগুলো মাস হয়ে গেছে বিয়ের। "

রহমান সাহেব বিব্রতবোধ করলেন। দুজনের আচরণ দেখে তিনি ভেবে নিয়েছিলেন যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে। যখন দুটিতে একসঙ্গে বেরিয়ে গেল তখন ভেবেছিলেন যে দুজনের ভাব ভালোবাসা একটু একটু করে হচ্ছে।

রহমান সাহেবকে চুপ করে থাকতে দেখে সিসিলিয়া আবারও বলল,

"আঙ্কেল আমি আপনার কাছে অনুমতি চাচ্ছি না। আমি আমার ডিসিশন টা জানিয়ে রাখলাম। জীবন যেহেতু আমার, সিদ্ধান্ত টা'ও আমার হওয়া উচিত।"

সিসিলিয়ার গলার স্বরে কোমলতা নেই। একদম কঠিন গলায় কথাগুলো বলেছে। প্রমা বলল,

"সিসিলিয়া আমরা কী একটু আলাদা করে কথা বলতে পারি?"

সিসিলিয়া প্রমার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে বলল,

"আলাদা করে আর কিছু বলার নেই প্রমা। যা বলার বলেছি। "

রহমান সাহেব গলা খাকারি দিয়ে বললেন,

"তুমি তো বলছই যে তোমার জীবন, তাই সিদ্ধান্তও তোমার। তাই আমার আর কিছু বলার নাই। "

"ধন্যবাদ আঙ্কেল। আর একটা কথা, আমি এই বাড়িতে আর থাকতে চাইছি না। আশা করি আপনাদের তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না। "

রহমান সাহেব অবাক গলায় বললেন,

"তুমি কোথায় যাবে?"

"যেকোনো জায়গায় যেতে পারি। চাইলে বাবার কাছেও যেতে পারি। আমার যাওয়ার জায়গা নিয়ে ভাববেন না।"

সিসিলিয়া কথাগুলো বলে চলে গেল। রহমান সাহেব অনন্যাকে জিজ্ঞেস করলো,

"কী হইছে ওর? "

অনন্যা বলল, জানিনা। সৈকত ভাইয়ের সঙ্গে বেরিয়েছিল। ফেরার পর থেকেই এমন।

রহমান সাহেব আর কিছু বললেন না। তবে তার খুব মন খারাপ হলো। মেয়েটাকে মুখে যা'ই বলুক, কিন্তু ভালোতো বাসেন। চলে যাবে কথাটা শুনে তার চোখে পানি এসে গেল।

****
প্রমা সিসিলিয়াকে জিজ্ঞেস করলো,

"প্রবলেম টা ঠিক কোন জায়গায় সিসিলিয়া? তোমাদের কী আবারও ঝগড়া হয়েছে। "

সিসিলিয়া আগের মতোই কঠিন গলায় বলল,

"একদম না। "

"তাহলে? "

"কিছু হয় নি প্রমা। "

"কিছু হয় নি এই কথাটা বোলো না সিসিলিয়া। অনেক কিছু হয়েছে তোমাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে। "

সিসিলিয়া বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলল,

"তোমার কথামতো বোকামি করে অপমানিত হয়েছি। এর বেশি তোমাকে বলতে চাচ্ছি না। "

প্রমা সিসিলিয়াকে আর ঘাটালো না। ও যে মুখ খুলবে না সেটা বুঝে গেল। তাই আর কথা বাড়ালো না। তাই প্রমা সিদ্ধান্ত নিলো যে সৈকতের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে।

***
অনন্যার খুব মন খারাপ। কী এমন হলো যে সিসিলিয়া এমন সিদ্ধান্ত নিলো! সৈকত একটু পাগলাটে ধরনের। সিসিলিয়া তো তা জানে। তবুও ঠিক কী কথায় ওর উপর রেগে গেল।

সৈকতের জিনিসপত্র সিসিলিয়া সব ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। অনন্যা সেগুলো নিজের ঘরে গুছিয়ে রাখছে। প্রমার সঙ্গে কথা হয়েছে। ও বলেছে অনন্যার সঙ্গে ওর রুম শেয়ার করে থাকবে।

অনন্যা সবকিছু গুছিয়ে রাখল। সৈকত আজ আসবে কী না কে জানে! তবুও সব গুছিয়ে রাখলো।

***
সৈকত বাড়ি ফিরলো অনেক রাতে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলো না। পুরনো ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। রাতে কিছু খেলও না। বাড়ির সবারই আজ মন খারাপ বলে রাতে খাওয়া হয় নি। শুধু জরিনা একাই খেয়েছে।

সৈকত রাত করে ফিরলেও প্রমা ওর ঘরে গিয়ে ডেকে বলল,

"এক্সাক্টলি কী হয়েছে বলবেন?"

সৈকত কী জবাব দিবে বুঝে উঠতে পারলো না। বলল,

"না মানে....

"দেখুন আপনাদের মধ্যে যা হয়েছে আমাদের অন্তত বলুন। সিসিলিয়া যে ডিভোর্স এর ডিসিশন নিয়েছে সেটা কী আপনি জানেন?"

সৈকত মৃদু হেসে বলল,

"এরমধ্যে নিয়ে ফেলেছে! বাহ!"

"প্লিজ হেয়ালি করে কথা বলবেন না। "

"আসলে কিছুই হয় নি।"

"আপনাকে একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি, আপনি কী সিসিলিয়া কে ভালোবাসেন না ?"

সৈকত কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। তারপর বলল,

"ঠিক জানিনা। "

প্রমা অধৈর্য হয়ে গেল সৈকতের কথা শুনে। বলল,

"আপনার সমস্যাটা ঠিক কোথায়?"

সৈকত বিড়বিড় করে বলল,

"আমার জীবনে কখনো ভালো কিছু হয় না। সবসময়ই খারাপ হয়। খুব খারাপ। "

***
সিসিলিয়া দু'চোখের পাতা এক করতে পারছে না। একটু পর পর চোখ ভিজে আসছে। সৈকত কেন যে ওর জীবনে এসেছিল! আর কেন ই বা আজকের দিন টা দেখতে হলো! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না।

সৈকতের হয়তো অন্য পছন্দ আছে। হয়তো ছবির মেয়েটাই ওর খুব পছন্দের কেউ। যে কারণে তাকে একটু একটু করে যত্ন করে প্রতিদিন আঁকে। এইজন্য সিসিলিয়ার কোনো জায়গা নেই। হয়তো মনে মনে ভাবে যে সিসিলিয়াকে শুধু অনুগ্রহ করা যায়।

আর সিসিলিয়া! ও তো অনেক কিছু ভেবে বসে আছে। সৈকতের মুগ্ধ চোখের চাওয়া, আমার বউ আমার বউ করে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলা এসব যে সত্যি ভেবেছিল।

সিসিলিয়া মনে মনে বলল,
সৈকত আপনি কী জানেন, আমি আপনাকে রঙধনুর মতো ভালোবাসতে চেয়েছিলাম বৃষ্টির মতো ছুয়ে দেখতে চেয়েছিলাম , সমুদ্রের মতো অনুভব করতে আর কুয়াশার মতো গায়ে মাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনি মেঘের মতো দূরে সরে গেলেন!

গল্প“বিয়ের সাতদিন পর আমার বউকে গন/ধ/র্ষণ করা হয়েছিল। এই জঘন্য কাজটা আমার সামনেই করা হয়েছিলো কিন্তু আমি কিছু করতে পারিনি।...
19/10/2025

গল্প

“বিয়ের সাতদিন পর আমার বউকে গন/ধ/র্ষণ করা হয়েছিল। এই জঘন্য কাজটা আমার সামনেই করা হয়েছিলো কিন্তু আমি কিছু করতে পারিনি। আমাকে বেঁধে রেখে আমার সামনেই ন.রপিশাচ.রা আমার বউকে ধ'র্ষণ করেছিল। আমি অনেক আকুতি মিনতি করেছিলাম কিন্তু তাদের কানে আমার আকুতি পৌছায়নি। ওরা ছিলো চার জন। বিয়ের পর আমি নিজেই আমার বউ এর কাছে যাইনি। কারণ সে অসুস্থ ছিলো। কিন্তু ওরা অসুস্থ্যতা দেখেনি। ওরা চলে যাওয়ার পরেও পাঁচ ঘন্টা আমার স্ত্রী আমার সামনে ন/গ্ন, র'ক্তা/ক্ত অবস্থায় পড়েছিলো। তাঁর কান্না আমার ভিতর পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিল। তারপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। সে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে দিন গুনতে থাকে। আর আমি ধ'র্ষক'দের শাস্তির জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে থাকি। একসময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে কেস চালাতে হয়েছে আমাকে। আমার সবকিছু আমি বিক্রি করে দিয়েছিলাম শুধু ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য কিন্তু আমি পাইনি।

তিনমাস পর তারা জামিনে বের হয়ে আসে। আর সেদিনই আমার স্ত্রী গ'লায় দ'ড়ি দিয়ে আ"ত্মহ'ত্যা করা। চিঠিতে লিখে গিয়েছিল।
এই দেশে ধ'র্ষকের শাস্তি হয় না কিন্তু ধ/র্ষিতার মানসিক শাস্তি ঠিকই হয়।

আমার সামনে দিয়ে যখন আমার বউকে ধ"র্ষণ করা মানুষগুলো হেঁটে যেতো তখন ম'রে যেতে ইচ্ছে করতো। ওরা ছিল প্রভাবশালী তাই ওদের কে কিছু করা যাবে না সেটা জানি আমি।

একটা মেয়ের সাহায্য নিয়ে ওদের চারজনকে আমি কিড'ন্যাপ করি। কারণ ওরা ছিলো সে"ক্স পাগল। সে"ক্সের জন্য কোনো মেয়ে বললে যেখানেই হোক না চলে যেতো। চারজন মানুষকে একা কিডন্যাপ করা কখনো সম্ভম না। কিন্তু আমি করেছিলাম। তার জন্য ব্যবহার করেছিলাম একজাতীয় স্প্রে যেটা নাকে ধরলে চব্বিশ ঘন্টা অজ্ঞান থাকবে।
ওরা যখন চোখ খুলে তখন একটা অন্ধকার রুমের ভিতর হাত পা বাঁধা অবস্থায় পড়েছিল।

ওদের জ্ঞান ফেরার পরেই আমি ছুটে যাই ওদেরকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তখন আমার মনে হয় আমার বউ এর মৃ'ত্যু য/ন্ত্রণা। কতোটা কষ্ট দিয়েছিলো তাকে। হাসপাতালের বেডে কতোটা যন্ত্রণা সহ্য করেছিল।

তখন আমার মনে হলো এদেরকে শুধু দুইমিনিটের মৃ/ত্যু দিলে আমার বউ এর আত্মা শান্তি পাবে না। এদের আমি পৃৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর আর কষ্টকর মৃ/ত্যু উপহার দেবো।

সাতদিন ওদেরকে আমি বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। সাতদিন ওদের সাথে আমি নর"পিশা"চের মতো ব্যবহার করেছিলাম।

ওদের শরীরের প্রতি ইঞ্চি পরপর শুই ঢু'কিয়ে'ছিলাম। শুই দিয়ে মুখের সমস্ত জায়গায় ছিদ্র করেছিলাম। তারপর সমস্ত গায়ে ল'বণ ম'রিচ মাখিয়ে দিয়েছিলাম নিজ হাতে।

দ্বিতীয় দিন তাদেরকে টানা দুই ঘন্টা ধ'র্ষণ করিয়েছিলাম। তারা কান্না করে চিৎকার করেছিল। সহ্য করতে পারছে না। তখন আমি এক পৈ'শাচি'ক আনন্দ ভোগ করেছিলাম।

তৃতীয় দিন আমি তাদের মাথার চুলগুলো টেনে টেনে তুলি। এটা করতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছিলো। চতুর্থ দিন আমি তাদের কান দুটো প্লাস দিয়ে টেনে টেনে ছিঁড়ে/ছিলাম। তারা সেদিন আমার কাছে মৃ/ত্যু ভিক্ষা চেয়েছিল। খুব করে আকুতি করেছিলো তারা আর সহ্য করতে পারছে না। মৃ/ত্যু চায় তারা। কিন্তু আমি তাদের মৃ/ত্যু দেয়নি। পঞ্চম দিন আমি তাদের চোখদুটো তুলে ফেলি। তুলে ফেলার আগে চোখে মরিচের গুড়া দিয়েছিলাম। তারা পঞ্চম দিনে অজ্ঞান হয়ে যায়। আমি ভেবেছিলাম ওরা মা/রা গিয়েছে। তাই নিজের প্রতি অনেক রাগ হয়েছিলো সেদিন। কিন্তু সাতদিনের দিন তাদের জ্ঞান ফিরে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম তারা বেশি সময় বাঁচবে না। তাই তাদের চির'তরে শে'ষ করার সিদ্বান্ত নেই।

তাদের লি/ঙ্গে/র অর্ধেক কে/টে ফেলেছিলাম। তারপর তাদের বাকি লি/ঙ্গতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলাম। সেখান থেকে আস্তে আস্তে পুরো শরীরে আগুন ছড়িয়ে যায়। তবে অনেক সময় লেগেছিলো তাদের শ'রীরে আ'গুন ছ'ড়াতে। তারা প্রায় বিশ মিনিটের মতো আগুনে পু"ড়েছে আর মৃ/ত্যু যন্ত্র/ণায় চি/ৎকার করেছে।
পুরো সাতদিনে আমি একটা ভিডিও বানাই। সাতান্ন মিনিটের একটা ভিডিও। যেটাতে সাতদিনের ভয়ংকর শাস্তিগুলো রেকর্ড করা ছিলো। আমি জানতাম ভিডিওটা ফেসবুকে ছাড়লে ভাইরাল হবে। তাই ফেসবুকে ছেড়ে দেই।

ভিডিওটা দেখার পর বারো জন ধ/র্ষক আত্ম"হ'ত্যা করে। কিছু মানুষ দেখে স্ট্রোক করে। কিছু মানুষ ভিডিওটা দেখার সাহস পায়নি।

ভিডিওটা দেখার পর ধ'র্ষণ অনেকটা কমে এসেছে।

তবে আদালত আমার ফা"সির রায় দিয়েছে। আমি এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে ধ"র্ষণ করার জন্য জেল,ফাসি কিছু হয় না। কিন্তু ধ"র্ষক"দের শাস্তি দেওয়ার অপরাধে ঠিকই আদালত আইন প্রয়োগ করে।

#শাস্তি”

অষ্টম অধ্যায়: শেষ টুইস্টএকদিন মিরা খেলার ছলে আরিফের পুরোনো ফোন খুলল।একটি নতুন ভিডিও দেখা গেল, যেটা আরিফ কখনো খোলেনি।ভিডি...
18/10/2025

অষ্টম অধ্যায়: শেষ টুইস্ট

একদিন মিরা খেলার ছলে আরিফের পুরোনো ফোন খুলল।
একটি নতুন ভিডিও দেখা গেল, যেটা আরিফ কখনো খোলেনি।

ভিডিওতে রিয়া বলছে—

> “আরিফ, যদি কখনো একা মনে হয়, মিরার চোখে তাকিও।
সেখানে আমাকে পাবে।
ভালোবাসা কখনো মরে না, ওটা শুধু নতুন রূপ নেয়।”

আরিফ ফোনটা বুকের কাছে টেনে নিল।
তার ঠোঁটে মৃদু হাসি, চোখে অশ্রু।
জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছে—
যেমনটা পড়েছিল সেদিন, প্রথম দেখা রিয়ার গানের সময়।

---

🌺 সমাপ্তি

রিয়া মারা যায়নি।
সে বেঁচে আছে প্রতিটি ভালোবাসার নিঃশ্বাসে, প্রতিটি বৃষ্টিতে, আর তার কন্যা মিরার হাসিতে।

ভালোবাসা, মৃত্যু, জীবন—সবই রূপ নেয়, কিন্তু শেষ হয় না।
কারণ কিছু প্রতিশ্রুতি সত্যিই অমোঘ।

সপ্তম অধ্যায়: মিরার আলোদুই বছর পর, জন্ম নিল একটি কন্যা শিশু—মিরা আরিফা রিয়া।তার চোখে সেই একই দীপ্তি, সেই একই হাসি।রাতের ...
18/10/2025

সপ্তম অধ্যায়: মিরার আলো

দুই বছর পর, জন্ম নিল একটি কন্যা শিশু—মিরা আরিফা রিয়া।
তার চোখে সেই একই দীপ্তি, সেই একই হাসি।

রাতের বেলায় আরিফ রিয়ার ভিডিও চালিয়ে রাখে, মিরা কোলে ঘুমায়।
রিয়া ভিডিওতে বলছে,
“মিরা, তুমি যখন বড় হবে, জেনে রেখো—তোমার মা তোমাকে তৈরি করেছিল ভালোবাসা দিয়ে, ভয় নয়।”

আরিফ জানালার বাইরে তাকায়।
আকাশে একফালি চাঁদ, পাশে উজ্জ্বল তারা।
মনে হয়, রিয়া তাকিয়ে আছে, হাসছে, বলছে—
“আমি আছি, আরিফ… সবসময়।”
---

🌙 ষষ্ঠ অধ্যায়: অলৌকিক পুনর্জন্মএক বছর পর, ডাকযোগে একটি নোটিফিকেশন এল—> “Your embryo preservation renewal pending.”আরিফ স...
18/10/2025

🌙 ষষ্ঠ অধ্যায়: অলৌকিক পুনর্জন্ম

এক বছর পর, ডাকযোগে একটি নোটিফিকেশন এল—

> “Your embryo preservation renewal pending.”

আরিফ স্তব্ধ।
রিয়া আসলেই তাদের ভবিষ্যৎ রেখে গিয়েছিল—একটি জীবন, একটি উত্তরাধিকার।

দীর্ঘ চিন্তার পর আরিফ সিদ্ধান্ত নিল, রিয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।

💌 পঞ্চম অধ্যায়: অমোঘ প্রতিশ্রুতিখামের ভেতর থেকে বেরোল একটি চিঠি আর একটি পেন ড্রাইভ।চিঠিতে রিয়া লিখেছিল—> “প্রিয় আরিফ,যদি...
18/10/2025

💌 পঞ্চম অধ্যায়: অমোঘ প্রতিশ্রুতি

খামের ভেতর থেকে বেরোল একটি চিঠি আর একটি পেন ড্রাইভ।

চিঠিতে রিয়া লিখেছিল—

> “প্রিয় আরিফ,
যদি তুমি এটা পড়ছো, তাহলে আমি আর নেই।
কিন্তু আমার ভালোবাসা এখনো আছে, তোমার নিঃশ্বাসে।

আমি জানতাম আমার সময় কম, তাই চেয়েছিলাম আমার ভালোবাসা যেন সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়।

পেন ড্রাইভে আমি রেখে গেছি আমাদের গল্প—আরেকটি জীবন, আমাদের সন্তানের জন্য।
ওর নাম রেখেছি মিরা।
মানে—‘অলৌকিক’।

তুমি একদিন বুঝবে কেন আমি এই নাম বেছে নিয়েছিলাম…”

আরিফ কাঁপতে থাকা হাতে পেন ড্রাইভটি খুলল।
ভিডিও প্লে হলো—
রিয়া, গিটার হাতে, হাসছে।

“হ্যালো আমার প্রিয় স্বামী,
আর হ্যালো, আমার ছোট্ট তারা…
যদি তুমি এই ভিডিও দেখো, তবে জেনে রেখো—তোমার মা কখনো সত্যিই মারা যায়নি।”

আরিফের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
---

Address

Road #02
Chandpur
3615

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chandpur Wala Vlogs posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share