27/11/2025
আলহামদুলিল্লাহ!
গোঁড়ামি থেকে মুক্তির পথে মুফতি মারুফ কাসেমী।
ইতিহাস বারবার সাক্ষী, যখন কোনো অনুসন্ধিৎসু মন নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ইসলামের মূল উৎস—পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসের দলীল-প্রমাণ অধ্যয়ন করে, তখন তার কাছে সত্যের পথ আলোকিত হয়ে ওঠে। এই পথেই বহু বড় বড় আলেম ও গবেষক অবশেষে সত্যের সামনে বিনয়ী হয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
দেওবন্দের আলেমের রূহানী রূপান্তর
মাযহাবভিত্তিক সমাজে এমনই এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা হলো দেওবন্দের একজন খ্যাতনামা, উচ্চশিক্ষিত হানাফি আলেম, মুফতি মারুফ কাসেমীর প্রত্যাবর্তন।
আরবি ভাষায় তাঁর গভীর দক্ষতা, ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর প্রখর পাণ্ডিত্য—সবকিছু নিয়েই তিনি দীর্ঘকাল আহলুল হাদিসদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা, লেখালেখি এমনকি সরাসরি সমালোচনায় আহলুল হাদিসদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন।
কিন্তু, সত্য যখন তার সকল আড়াল সরিয়ে পরিষ্কার হয়ে সামনে আসে, তখন সব রকম গোঁড়ামি, পক্ষপাত ও মাযহাবি সীমালঙ্ঘন ভেঙে পড়তে বাধ্য হয়।
মুফতি মারুফ কাসেমী যখন মুক্তমন নিয়ে আহলুল হাদিসদের প্রাচীন কিতাবপত্র, এবং তাদের দাখিল করা সুদৃঢ় দলীল-প্রমাণ গভীরভাবে অধ্যয়ন করলেন, তখন তাঁর ভেতরের আলো জ্বলে উঠল। তিনি স্পষ্ট উপলব্ধি করলেন,
"দেওবন্দ, হানাফি ফিকহ, মাযহাবি তাস্সুব (গোঁড়ামি)—সবকিছুই দেখেছি; কিন্তু দলীলভিত্তিক সত্যই আমার মনকে গভীরভাবে নড়িয়ে দিয়েছে।"
দীর্ঘ ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ও গভীর চিন্তার পর তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিলেন-
"হক পথ একটাই, আর সেটি হলো আহলুল হাদিস।"
তাঁর ঘোষণা: এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
মুফতি মারুফ কাসেমীর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তটি কেবল তাঁর একার নয়; এটি সমগ্র উম্মাহর জন্য, বিশেষ করে হানাফি অনুসারীদের জন্য, এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবার্তা বহন করে।
যারা সত্যিকারের মুমিন, তাদের কেউ সত্য খুঁজে নেওয়া থেকে আটকে রাখতে পারে না। দলীল ও সুন্নাহর সামনে কোনো মাযহাবি গোঁড়ামি টিকে না।
তাঁর এই রূহানী রূপান্তর প্রমাণ করে যে, আহলুল হাদিসের পথই হলো সেই পথ যেখানে রয়েছে,
তাওহীদ-এর বিশুদ্ধতম রূপ।
দলীল ও সুন্নাহ-এর সরাসরি অনুসরণ।
তাকলীদ, শিরক ও বিদ'আত-মুক্ত পরিশুদ্ধ ইসলাম।
আলহামদুলিল্লাহ! মুফতি মারুফ কাসেমীর এই প্রত্যাবর্তন আবারও প্রমাণ করল যে, হকের পথ চিরকালই বিজয়ী এবং সেই পথ অনুসারীদের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।
আল্লাহতালা আমাদের হেদায়েতের পথে কবুল করুন। আমীন।