27/04/2026
শাহবাগ থানায় সংঘটিত ঘটনাটিকে দু'পক্ষের সংঘর্ষ কিংবা রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে দেখাতে গিয়ে আমরা একটা বিষয় বারবার স্কিপ করে যাচ্ছি। তা হলো , সামাজিক মাধ্যমে ভূয়া / এডিটেড আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে সংঘাত সৃষ্টি করা বা উসকে দেয়া।
কিছুদিন আগে ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ভূয়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে পুড়িয়ে হ/ত্যার ঘটনা আমরা দেখেছি। ২০১২ সালের রামু ট্রাজেডি , ২০১৬ সালের নাসিরনগর , ২০২১ সালের কুমিল্লার ঘটনা আমরা কম বেশি জানি। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হলে তার আইডি হ্যাক করো বা তার নামে মিথ্যা /এডিটেড কন্টেন্ট বানিয়ে ফেসবুকে ছেড়ে দাও , তারপর সংঘাতকে উসকে দাও।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ , ছাত্র শিবিরের দায়িত্বশীল। হঠাৎ একটা স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে তার নামে যেখানে দেখা যায় , প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে আপত্তিকর কথা। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সে স্ক্রিনশট , ঘটনা প্রবাহ বইতে থাকে রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে , অত:পর সংঘর্ষ।
তবে , সংঘর্ষের এক ঘণ্টা পূর্বেই বেশ কিছু ফেক্ট চেকিং প্লাটফর্ম জানায় স্ক্রিনশটটি এডিট করে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের আইডি বসিয়ে দেয়া হয়েছে , যা সম্পূর্ণ সংঘাতকে উসকে দিতে এবং খুব পরিকল্পিতভাবে।
পরিকল্পনা সূক্ষ্ম হলেও এডিট করা পোস্টটি সূক্ষ্ম হয়নি। স্পষ্ট বোঝা যায় , পোস্টটিতে "ই কার , ঈ কার" কেটে বসানো হয়েছিল। আমার অবাক লাগে , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছাত্রদলের মেধাবী নেতাদের কি এটা চোখে পড়েনি? বা মনে হয়নি একটু যাচাই করে দেখি? যাচাই বাচাই না করে সরাসরি চলে গেল সংঘাতের দিকে।
ঘটনার মূল ফোকাস , "ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ" হলেও এই ঘটনা প্রবাহের সৃষ্টির মূল উৎস অত্যন্ত ভয়ংকর , আজ আপনার অপছন্দের মানুষগুলো আক্রান্ত , কাল হয়তো আপনি।
সামাজিক মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ জরুরি।