Seshbela Online News

Seshbela Online News multimedia online channel

26/08/2026

ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে দক্ষিণ আলগী হাফিজিয়া মাদরাসায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে চাঁদপুরের হাইমচরের দক্ষিণ আলগী মাওলানা নুরুজ্জামান জিয়াউন্নেসা হাফিজিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হলো মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শ হোক আমাদের জীবনের পথচলার প্রেরণা।

#ঈদে_মিলাদুন্নবী #মিলাদ_মাহফিল #দোয়া_মাহফিল #দক্ষিণ_আলগী #হাইমচর #চাঁদপুর #মহানবী_হযরত_মুহাম্মদ #নবীজির_আদর্শ #ইসলাম #মুসলিম_উম্মাহ #দোয়া_ও_মোনাজাত

হাইমচরে নবাগত ইউএনও ও ওসির সঙ্গে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের  সৌজন্য সাক্ষাৎহাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:চাঁদপুরের হাইমচর উপজেল...
25/08/2026

হাইমচরে নবাগত ইউএনও ও ওসির সঙ্গে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম ও থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহআলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন হাইমচর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে হাইমচর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মহসিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথকভাবে ইউএনও ও ওসির কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনও ও ওসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে ইউএনও নজরুল ইসলাম বলেন, “হাইমচরের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সবাইকে সার্বিক সহযোগিতা করব। সাংবাদিকরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেন। সমাজের কোনো অসহায় ও দুস্থ মানুষের তথ্য আপনাদের নজরে এলে আমাকে জানাবেন। আমি তাদের পাশে থেকে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

পরে হাইমচর থানায় নবাগত ওসি মোহাম্মদ শাহআলমের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

ওসি মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, “হাইমচরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। সমাজে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন কোনো তথ্য পেলে আপনারা দ্রুত পুলিশকে অবহিত করবেন। তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”

মাদক নির্মূলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাইমচর থানা পুলিশও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। হাইমচরকে মাদকমুক্ত করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাব।”

মতবিনিময় সভায় হাইমচরের সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইমচর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আলী আকবর, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ, প্রচার সম্পাদক শিমুল অধিকারী সুমন, অফিস সম্পাদক আবুল খায়ের, সাধারণ সদস্য মোতাহার হোসেন স্বপন, আবুল কালাম আজাদ রাসেল, শাহ মো. মফিজ উল্লাহ, সাইফুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নবাগত ইউএনও ও ওসির সঙ্গে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের এ মতবিনিময়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন-পুলিশ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগে হাইমচরের জননিরাপত্তা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

বিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে সরকারি উদ্যোগে লাগানো গাছের চারা গাছ উধাও!শিমুল অধিকারী সুমন চাঁদপুর চাঁদপুরের হাইমচরে সরকারি প্রা...
25/08/2026

বিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে সরকারি উদ্যোগে লাগানো গাছের চারা গাছ উধাও!

শিমুল অধিকারী সুমন চাঁদপুর

চাঁদপুরের হাইমচরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় ঘটা করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু গাছ লাগানোর এক মাসের মধ্যেই সেই জায়গা এখন প্রায় ফাঁকা। রোপণ করা একটি গাছও নেই সেখানে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় গত ১৫ জুলাই হাইমচর উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসব গাছ রোপণ করা হয়। তবে কে বা কারা রাতের আঁধারে গাছগুলো তুলে নিয়ে গেছে—এমন অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

২৩ আগস্ট সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা যায়, যে স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল, সেখানে এখন নেই কোনো গাছ। রোপণ করা জায়গাগুলো পড়ে আছে ফাঁকা। শিক্ষকরা জানান, গাছগুলো রোপণের পর কয়েক দিন নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়েছিল। সেগুলোও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে শুরু করেছিল। পরে এক সকালে বিদ্যালয়ে এসে তারা দেখতে পান, গাছগুলো আর নেই।

বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকায় যেকোনো সময় বহিরাগতরা বিদ্যালয়ের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই রাতের আঁধারে গাছগুলো তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএস খতিয়ানভুক্ত ১২১৪, ১২১৫, ১২১৬, ১২১৭ ও ১২১৯ নম্বর দাগে মোট ৫৫ শতাংশ জমির ওপর ১৯৬১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ১২১৪ দাগে ১৬ শতাংশ, ১২১৫ দাগে ৪ শতাংশ, ১২১৬ দাগে ৩ শতাংশ, ১২১৭ দাগে ২৮ শতাংশ এবং ১২১৯ দাগে ৪ শতাংশ জমি রয়েছে।

বিদ্যালয়ে রয়েছে দুটি ভবন। এর মধ্যে নতুন ভবনের আয়তন ১ হাজার ৩৩০ বর্গফুট এবং পুরোনো ভবনের আয়তন ৪ হাজার ২০০ বর্গফুট। বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ২৩ হাজার ৯৮০ বর্গফুট হলেও চারপাশে নেই কোনো বাউন্ডারি। ফলে খেলার মাঠসহ বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের অবাধ যাতায়াত রয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখতে তারা দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মসূচির আওতায় গত ১৫ জুলাই নতুন করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়।

সহকারী শিক্ষক সরদার মোহাম্মদ শামিম বলেন, “আমি গাছ অনেক ভালোবাসি। তাই স্বউদ্যোগে কয়েকটি বৃক্ষ রোপণ করেছিলাম। কিন্তু কে বা কারা যেন সেই গাছগুলো তুলে ফেলেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি বনজ, ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ করা হয়। কয়েক দিন পরিচর্যার পর গাছগুলো সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে শুরু করেছিল। কিন্তু একদিন সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখি, কে বা কারা গাছগুলো তুলে নিয়ে গেছে।”

সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সোহেল হোসেন কালবেলাকে বলেন, “গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আমরা বিদ্যালয়ের আশপাশে বহু বছর ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। সম্প্রতি কিছু দুষ্কৃতিকারী আমাদের লাগানো গাছ তুলে ফেলছে। যারা আমাদের গাছ তুলে ফেলছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২১৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন সাতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতেও বিদ্যালয়টি কাজ করে আসছে বলে জানান শিক্ষকরা।

হাইমচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল হুদা বলেন, উপজেলার ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি উদ্যোগে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচটি করে গাছ রোপণ করা হচ্ছে এবং কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, দপ্তরি, নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের গাছের সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় কালবেলাকে বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশসহ এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। গাছ মানবজীবন ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রোপণ করা গাছের সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে রোপণ করা গাছ রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুধু কয়েকটি গাছ হারিয়ে যাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ। একটি বিদ্যালয়ে গাছ লাগানোর পর যদি সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এমন কর্মসূচির সুফল কতটা টেকসই হবে—এ প্রশ্নও তুলছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়টির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাছ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি এবং গাছগুলো তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নতুন করে গাছ লাগিয়ে সেগুলোর পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

হাইমচরে ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার দাবি হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: ‘বাঁচলে নদী, বাঁচবে দেশ—সবাই...
23/08/2026

হাইমচরে ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার দাবি

হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

‘বাঁচলে নদী, বাঁচবে দেশ—সবাই মিলে চেষ্টা করি, স্বপ্নের হাইমচর গড়ে তুলি’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরের হাইমচরে ২০ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে হাইমচরকে রক্ষায় স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং মেঘনা ও ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পাটওয়ারী মার্কেটের তেলির মোড়ে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সুধী ও আলোচনা সভায় এসব দাবি উঠে আসে।

আলহাজ্ব আবদুল হামিদ পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সভায় আমেরিকা থেকে অনলাইনে মোবাইল ফোনে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহাদাত হোসেন মিয়াজি।

বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন মিয়াজি বলেন, মেঘনা নদীর ভাঙন হাইমচরের মানুষের কাছে নতুন কোনো সংকট নয়। বছরের পর বছর নদীভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আবদুল হামিদ পাটওয়ারী বলেন, ‘হাইমচরের মানুষের কাছে নদী শুধু জীবন-জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। বছরের পর বছর মেঘনার ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। মানুষ হারিয়েছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও সম্পদ।’

তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট হাইমচরের নদীভাঙন রোধের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে ২০ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হচ্ছে।

আবদুল হামিদ পাটওয়ারী আরও বলেন, অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। হাইমচরকে রক্ষায় টেকসই ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এ দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে হাইমচরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ঢাকায় গিয়ে আন্দোলন করার ঘোষণাও দেন তিনি।

সভায় হাইমচরের বিভিন্ন নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন বক্তারা। তারা বলেন, গাজীনগর, মধ্যচর ও ঈশানবালাসহ বিভিন্ন এলাকায় মেঘনার স্রোত ও ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

আলোচনায় নদী রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, মেঘনা শুধু হাইমচরের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস নয়, এটি দেশের ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র। নদী দূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে ইলিশের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্রও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনকে শুধু একটি এলাকার ভৌগোলিক সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি, মৎস্য ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয় সরাসরি জড়িত। নদীতে একটি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেলে শুধু একটি ঘর হারায় না; হারিয়ে যায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, কৃষিজমি ও সামাজিক ভিত্তি। তাই নদীভাঙন প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

সভায় বক্তব্য দেন সংগঠক মোহাম্মদ আজিজ মিয়া, হাইমচর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ, সংগঠক মনজুরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সমাজসেবক মহসিন হোসেন কিশোর, খন্দকার আবুল কালাম আজাদ ও হামিদ পাটওয়ারী।

বক্তারা বলেন, নদী রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভাকে ঘিরে পাটওয়ারী মার্কেট চত্বর নদী রক্ষার দাবিতে মুখর হয়ে ওঠে।

বক্তারা বলেন, ‘সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ’ গড়তে হলে নদীকে বাঁচাতে হবে। নদী বাঁচলে কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে। তাই ২০ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার পাশাপাশি মেঘনার করাল গ্রাস থেকে হাইমচরকে রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।

মেঘনার ভাঙনে বসতভিটা ও জনপদ হারানোর শঙ্কায় থাকা হাইমচরবাসী এখন নদী রক্ষায় সরকারের কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপের অপেক্ষায়।

ছবির ক্যাপশন: হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নদী রক্ষায় বক্তব্য রাখছেন আলহাজ্ব আবদুল হামিদ পাটওয়ারী।

23/08/2026

হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায়

23/08/2026

হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভায়

22/08/2026

চাঁদপুরের হাইমচরে নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

22/08/2026

নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

19/08/2026

ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে কচুয়ার মাস্টার বাড়িতে স্বপনের মতবিনিময়
#কচুয়া #মাস্টারবাড়ি #মনসাপূজা #স্বপন #মতবিনিময় #ধর্মীয়সম্প্রীতি #সৌহার্দ্য #ভ্রাতৃত্বেরবন্ধন #সনাতনধর্ম #চাঁদপুর

17/08/2026

মাদক বিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন হাইমচর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম

Address

Chandpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Seshbela Online News posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share