30/06/2026
দরগাহটি আজও দাঁড়িয়ে আছে!
চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদে পাহাড়ের গায়ে একটা দরগাহ আছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেটা দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন মানুষ সেখানে যায়। ফুল দেয়।
দুহাত তুলে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়। দোয়া পড়ে।
দরগাহর সামনের বিশাল দিঘিতে গজারি মজারির দল ঘুরে বেড়ায় - প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে,
যেন তারাও এই পবিত্র স্থানের পাহারাদার।
আবার আমি অনেককে এও বলতে শুনেছি এরা অভিশপ্ত জ্বীন। প্রচলিত আছে এক সুফি সাধক এই এলাকায় আসার পর দুষ্ট জ্বীনদের অভিশাপ দিয়ে কচ্ছপে রূপান্তরিত করেছিলেন যা বহু বছর ধরে গজারি মজারি নামেই এখানে পরিচিত।
দরগাহটির নাম বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার।
কিন্তু এখানেই রহস্যের শুরু।
বায়েজিদ বোস্তামী কে ছিলেন?
তিনি ছিলেন পারস্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক।
৮০৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জন্ম আজকের ইরানের সেমনান প্রদেশের 'বোস্তাম' শহরে।
সুফি জগতে তাঁর স্থান অতুলনীয়।
তিনি এমন সব কথা বলেছিলেন, এমন সব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছিলেন যা শুনে তাঁর সমসাময়িকরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয় ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে, সেই বোস্তামেই।
তাহলে প্রশ্ন হলো, যে মানুষটি সারাজীবন ইরানে ছিলেন, মারাও গেলেন ইরানে, তাঁর মাজার চট্টগ্রামে কীভাবে?
ইতিহাসবিদরা নানা মত দেন।
কেউ বলেন, তিনি হয়তো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য চট্টগ্রামে এসেছিলেন। কেউ বলেন, তাঁর কোনো ভক্ত শিষ্য তাঁর নাম ও ধারা বহন করে এই পর্যন্ত এসেছিলেন এবং স্থানীয় মানুষ ভালোবেসে তাঁকেই বায়েজিদের নামে স্মরণ করেছে।
কেউ বলেন, এই মাজার আসলে বায়েজিদের কোনো সরাসরি উত্তরসূরির।
কিন্তু সব মতের মধ্যে একটি বিষয়ে কেউ দ্বিমত করেন না।
এখানে কেউ একজন এসেছিলেন। পারস্য থেকে।
সুফি ধারার ধারক হয়ে এবং এই মাটিতে এমন গভীর ছাপ ফেলে গেছেন যে আজও, এক হাজার বছরেরও বেশি পরে, চট্টগ্রামের মানুষ তাঁকে ভোলেনি।
প্রশ্ন হলো - তিনি কীভাবে এলেন? কোন জাহাজে?
কী নিয়ে? চট্টগ্রামের সাথে এই পারস্য পরিব্রাজকদের সম্পর্ক কতদূর বিস্তৃত?
চট্টগ্রামের মানুষ হয়ে আমিই বা এ গল্প কেন লিখছি?
বলতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে অনেক দূরে। সময়ের দিক থেকে। ভূগোলের দিক থেকেও। এ গল্প শুনতে চাইলে আমাকে জানান দিন। আর সাথে থাকুন।
( চলবে ....)
(কালেক্টেড)