26/09/2026
‘রিয়েল লাইফ’ সুজাতারা কোনোদিন পোস্ট দেয় না—
‘সুজাতা হওয়া-ই ভালো ডিসিশন ছিল।’
কারণ, সুজাতা জানে—জীবন অল্টার করার সুযোগ থাকলে সে আর কোনো জন্মেই সুজাতা হতে চাইত না।
যেসব মেয়েরা সুজাতা হতে চায়, এদের বেশিরভাগই আনম্যারিড— I can bet blindly.বিয়ের আগে অমন উজান অনেকেই উজায়। 👀অনেক রিয়েল লাইফ সুজাতা দেখা যায়।
বিশেষ করে আমাদের কিছু ২০–২২ বছরের আফা আছে—সুজাতা হতে গিয়ে এমন selfless মানুষ হয়ে যায় যে, বিয়ের পর ধীরে ধীরে নিজের জীবনের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাটাও অন্যের হাতে দিয়ে দেয়।বাসার জন্য ছোট একটা জিনিস কিনতে হলেও অনুমতি লাগে।ছোট একটা financial decision নিতে গেলেও স্বামীকে জিজ্ঞেস করতে হয়।নিজের জন্য একটু self-pampering করতেও দশবার ভাবতে হয়।
এমনকি নিজের বাবা-মাকে সামান্য financial support করতেও আগে বলতে হয়—‘স্বামীর সঙ্গে কথা বলে নিই।’
স্বামী টাকা দিলে সেই টাকা ১৪ বার হিসাব করে খরচ করতে হয়—কোথায় কত খরচ করলে স্বামী কিছু মনে করবেন না, কোনটা সত্যিই প্রয়োজন, কোনটা বাদ দেওয়া যায়—এসব হিসাব করতে করতেই জীবন চলে যায়।
স্বামীর পছন্দের জিনিস কিনবে, নাকি নিজের প্রয়োজনের জিনিস—তার চেয়েও বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়ায়, ‘টাকাটা খরচ করলে উনি কী বলবেন?’স্বামী বলতে পারেন—‘দুলটা সুন্দর হয়েছে, কিনে ফেলো।’কিন্তু যদি প্রতিবার প্রশ্ন হয়—‘দাম কত? এত টাকা দিয়ে কেন? এটা না কিনলেও তো চলত?’—তাহলে সেটা আর শুধু মতামত নেওয়ার বিষয় থাকে না; ধীরে ধীরে financial control-এর জায়গায় চলে যেতে পারে।
স্বামীর পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো। সংসারের আয়-ব্যয়ের হিসাব দুজন মিলে করাও স্বাভাবিক। কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের প্রয়োজনের একটা জিনিস কিনতে গেলেও যদি ভয় পান, নিজের বাবা-মাকে সাহায্য করার আগে অনুমতি নিতে হয়, কিংবা নিজের টাকাও নিজের মতো করে ব্যবহার করতে না পারেন—তাহলে সেটা selflessness নয়।এটা নিজের financial agency ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলা।
স্বামী লাখপতি কিংবা কোটিপতি হলেই ‘স্বামী টাকার বিছানায় শুইয়ে রাখবে’—এগুলো AI drama-তেই সম্ভব।স্বামীর কোটি টাকা থাকলেও স্ত্রী যদি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকেন, নিজের কোনো purpose না থাকে, সংসারের financial change, growth, future planning কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা না থাকে—তাহলে শুধু ‘বউ’ হয়ে থাকা কোনো নিরাপত্তার গ্যারান্টি না।
প্রথম কয়েকদিন নতুন থাকবেন।আদর থাকবে।নতুন বউ হিসেবে আলাদা গুরুত্ব থাকবে।কিন্তু একটা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য শুধু সৌন্দর্য, আনুগত্য কিংবা কতটা ‘সুজাতা’ হওয়া গেছে—সেটার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না।
বড় বড় business tycoon, celebrity, group of companies-এর মালিকদের history পড়ুন। তাঁদের স্ত্রীদের নিজেদের কাজ, পরিচয়, professional decision-making, family planning ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা দেখুন।
শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরী খান, বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস, মার্ক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান—এদের জীবন দেখলে অন্তত একটা বিষয় বোঝা যায়:একজন নারীর নিজের পরিচয়, বুদ্ধি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নিজের জীবনে ভূমিকা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আর যদি বসুন্ধরা গ্রুপের আনভীর সাহেবের বউ হতে চান, তারপর দুইদিন পরপর Facebook-এ এসে জামাইয়ের নতুন affair discover করতে চান—তাহলে আলাদা কথা। 💖
স্বামীকে ভালোবাসবেন।
সংসার করবেন।
Compromise করবেন।
স্বামীর পছন্দকে গুরুত্ব দেবেন।
কিন্তু নিজের বুদ্ধি, financial understanding, decision-making ability, নিজের পরিবার, নিজের পরিচয়—সবকিছু বিসর্জন দিয়ে ‘ভালো বউ’ হওয়ার কোনো পুরস্কার নেই।
আর যারা এখনো বিয়ে করেননি—
If you’re not married yet, you have no idea what kind of hell “being Sujata” can be.
বিয়ের পর selfless হওয়া আর নিজের অস্তিত্ব মুছে ফেলা—এই দুটো এক জিনিস না।ভালো স্ত্রী হওয়া যায়, ভালো মা হওয়া যায়, ভালো সংসার করা যায়—নিজের পা দুটো নিজের জায়গায় রেখেও।