09/06/2026
আমরা ছিলাম মধ্যবিত্ত। কোনো কিছুর অভাব ছিল না, কিন্তু প্রাচুর্যও ছিল না। আমাদের আসল প্রাচুর্য ছিল সময়; আব্বা-আম্মার সময়, ভালোবাসা, আর ছোট ছোট আনন্দ। বছরে দুইটা ঈদ, ছোট্ট একটা জন্মদিন এই নিয়েই ছিল আমাদের পৃথিবী।
জ্বর হলে আব্বা মাথার পাশে বসে থাকতো, আম্মা একটার পর একটা যত্ন করে খাবার এনে দিতো। সেই সময়টাই ছিল সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। বিকেলের নাস্তায় যা-ই বানাতো, খেয়াল থাকতো আরও আছে তো? কারণ সবাই খাবে। আইসক্রিম হলেও ভাগ করে খাওয়া, একসাথে থাকার আনন্দটাই বড় ছিল।
তবে একটা জায়গায় কখনো হিসাব ছিল না,বইয়ের ক্ষেত্রে। গল্প, উপন্যাস, যা চাইতাম, আব্বা-আম্মা এনে দিতো। পড়াশোনার বাইরে বই পড়া কখনো নিষেধ ছিল না, বরং সেটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা। কিছু “নিষিদ্ধ” বই ছিল, যেগুলো এসএসসি’র আগে পড়া যেত না সেই নিয়মটাও ছিল ভালোবাসারই একটা অংশ।
প্রথম টিউশনি করে যখন বাসায় ছোট ৫টা ইলিশ মাছ নিয়ে গিয়েছিলাম, সেই দিনটা আজও স্পষ্ট মনে আছে। মনে হয়েছিল, এর থেকে বড় কিছু আর নাই।
লিচু আর আমের মৌসুমে আব্বা লিচু ঝুলিয়ে দিত দেয়ালে, যে ঘরেই যাই, লিচুর মিষ্টি গন্ধ আর একটা ছোট্ট হাসি যেন সাথে থাকতো।
এখন সামর্থ্য আছে অনেক কিছু নিজের মতো করে করার। কিন্তু তবুও কোথাও সেই মধ্যবিত্ত মানসিকতাটা রয়ে গেছে,অতিরিক্ত নিতে অস্বস্তি লাগে, কিছু ফেলতে মন চায় না, পুরনো জিনিসে অকারণে মায়া পড়ে যায়।
সব কিছু আছে, তবুও কেমন যেন কিছু নেই,
হয়তো সেই দিনগুলো নেই, যেখানে কমের মধ্যেও আনন্দটা বেশি ছিল।
আর এখন শুধু বেড়ে গেছে মায়া,মানুষের জন্য, স্মৃতির জন্য, আর হারিয়ে যাওয়া সময়ের জন্য।