31/08/2026
মেয়েটি নাকি তার নিজের বোন—অন্তত ছেলেটির বক্তব্য তেমনই। ফুটফুটে শিশুটির বয়স বড়জোর ৭ বছর হবে। কিন্তু ভিডিওতে যা দেখা গেল, তা কোনো স্বাভাবিক ভাই-বোনের স্নেহের বহিঃপ্রকাশ নয়। ক্যামেরা অন করে শিশুটিকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অসংবেদনশীলভাবে চুম্বন করা হচ্ছিল, যার ফলে শিশুটির গালে দাগ পড়ে যায়—যাকে আমরা সাধারণত ‘লাভ বাইট’ বলে থাকি। ছেলেটির হাবভাব, অঙ্গভঙ্গি ও এক্সপ্রেশন স্পষ্টতই বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেয়। সংবেদনশীলতার খাতিরে শিশুটির ছবি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছি, তবে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলের তথ্য কমেন্টে তুলে ধরা হলো।
ভিডিওটি দেখার পর একজন অভিভাবক হিসেবে যে তীব্র মানসিক কষ্ট অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার দুটি ছেলে সন্তান আছে; কিন্তু যাদের ঘরে কন্যাসন্তান রয়েছে, তাদের উদ্বেগ ও ভয়ের মাত্রা কল্পনা করলেও শিহরিত হতে হয়। ঘটনাটি যদি সত্যিই রক্তসম্পর্কের কোনো ভাইয়ের হয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন ওঠে—আমাদের কন্যাসন্তানেরা আসলে কোথায় নিরাপদ? পারিবারিক পরিসরেও যদি শৈশব এভাবে লাঞ্ছিত বা লালসার শিকার হয়, তবে সমাজ হিসেবে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?
ছেলেটির ভিডিওর ভঙ্গি ও কথাবার্তা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইন্টারনেটের অপসংস্কৃতি ও চটকদার কনটেন্ট দেখে সে এগুলোকে 'কুল' বা আধুনিক আচরণ বলে মনে করছে। বয়স হয়তো ১৮ বা ২০-এর কোঠায়। তবে সবচেয়ে ভীতিজনক বিষয় হলো—অনেক পরিবার হয়তো টেরও পাচ্ছে না যে, তাদের নিজের সন্তান ঘরের ভেতরেই এমন এক অসুস্থ ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে। কোন ধরনের সংস্পর্শে তারা যাচ্ছে, ইন্টারনেটে কী ভোগ করছে—তা তদারকি না করলে যেকোনো দিন তা পুরো পরিবারের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ও গ্লানি ডেকে আনতে পারে।
বিষয়টির ইতিবাচক দিক হলো, নেটিজেনদের সচেতনতা। অসংখ্য সচেতন তরুণ ও নাগরিক ভিডিওটি দেখার পর পুলিশকে ট্যাগ করেছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করেছেন। জানা গেছে, অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার শেষ লাইভ ভিডিওতে কোনো অনুশোচনা বা ভুলের অনুভূতি দেখা যায়নি; বরং তার অসংলগ্ন আচরণ ও কথাবাত্রায় স্পষ্ট যে সে কোনোভাবেই সুস্থ বা স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় নেই।
অভিভাবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ—আপনার সন্তান স্ক্রিনে কী দেখছে, কার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে এবং অবসর সময়ে কী ধরনের কনটেন্ট চর্চা করছে, সে বিষয়ে নজর রাখুন। কাদা যখন নরম থাকে, তখনই তাকে সঠিক আকার দিতে হয়; মানসিকতা একবার শক্ত বা বিকৃত হয়ে গেলে তা শুধরানো কঠিন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিকৃতিকে 'প্যারাফিলিয়া' (Paraphilia) বা 'প্যারাফিলিক ডিসঅর্ডার' বলা হয়ে থাকে। শিশুটির সঙ্গে এই আচরণ সরাসরি পেডোফিলিক প্রবণতার দিকেই ইঙ্গিত করে। ছেলেটির অন্যান্য কনটেন্ট বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায়, তার প্রায় সব কনটেন্টই শিশুদের কেন্দ্র করে তৈরি এবং যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
বর্তমানে আমাদের দেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক তদারকি সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্তানকে ভালোবাসার পাশাপাশি সঠিক ও ভুল আচরণের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব।
Disclaimer: This post is shared solely for public awareness and does not intend to promote or endorse any violation, harassment, or harm. Respecting community guidelines.