আকাশনীলা

আকাশনীলা আকাশ প্রিয় একজন।
(5)

30/10/2025

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে সেদিন একজন জলজ্যান্ত লোক জায়গাতেই মারা গেলেন। তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন ফুটপাত ধরে৷ রাস্তার ওপর দিয়ে সাপের মতো সর্পিলাকার হয়ে চলে যাওয়া মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড এসে পড়ল তার গায়ে। এতোটুকুতেই শেষ হলো তার জীবনের গল্প।

এই ঘটনায় মেট্রোর নির্মাণাধীন ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ জনিত অদক্ষতা সহ অনেক বিষয়েই আমরা কথা বলেছি।

তবে, এই বিষয়টাও তো দিনশেষে ধ্রুব সত্য যে—তার মৃত্যুটা তাকদিরে এভাবেই লেখা ছিল।

সকালবেলা যখন তিনি বের হচ্ছিলেন ঘর থেকে, তিনি কি একবারও ভাবতে পেরেছিলেন যে—তিনি আর কোনোদিন তার প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পারবেন না জীবিত?

তাকে যখন বিদায় দিচ্ছিল ঘরের লোকজন, তারা কি কল্পনাতেও ভেবেছিল—এই বিদায় ইহজনমে তাদের শেষ বিদায়?

আমরা আসলে আগাম কিছুই জানি না। আগামিকাল সকালে আমাদের সাথে কী ঘটবে, আগামি সপ্তাহে আমাদের সর্বশেষ অবস্থা কী হবে, আগামি মাসে আমরা কোথায় থাকব, আগামি বছরে আমাদের পরিণতি কী—এসবের কোনোটাই আমাদের জানাশোনার আয়ত্বে থাকে না।

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কতো সুন্দর বলতেন—

‘যখন সকাল হবে সন্ধ্যের অপেক্ষা করো না। যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে, সকালের আশায় থেকো না।’

জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই তো অনিশ্চয়তায় ভরা। নিশ্চিত তো কেবল মৃত্যুটাই। সেই মৃত্যুটা গৌরবের হবে, নাকি হবে অপমানের—সেই ফিকিরটাই হওয়া উচিত জীবনের আসল উদ্দেশ্য।

23/10/2025

আল্লাহর কাছে স্বচ্ছলতা, ধনসম্পদ আর অর্থকড়ি চাইতে কোনো বারণ নেই। তবে, যখনই তাঁর কাছে ধনসম্পদ আর অর্থকড়ি চাইবেন, একইসাথে ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তিও চেয়ে নিবেন।

ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার অর্থ ধনসম্পদ না চাওয়া নয় বা ধনসম্পদ প্রাপ্তিকে অপছন্দ করাও নয়।

ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি আবু বাকার রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো একটা দরাজ দিলের অধিকারি হওয়া। নিজের সমস্ত ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দেওয়ার পর যখন তাকে জিগ্যেস করা হলো, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ জবাবে তিনি বললেন—‘পরিবারের জন্য আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি।’

ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো আকাশের মতো উন্মুক্ত হৃদয়ের অধিকারি হওয়া।

অঢেল সম্পদের মালিক উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের সম্পদের অধিকাংশটাই ব্যয় করেছিলেন আল্লাহর পথে। মদিনার সবচেয়ে বড় কূপ ‘বীরে রুমা’ তিনি অত্যন্ত উচ্চমূল্যে কিনে মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন৷ মদিনার সেই কূপ আজও বিদ্যমান৷ আজও মদিনার কৃষিকাজের পানি যোগায় উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই কূপ!

ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি আবদুর রহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো দিল দরিয়া হওয়া।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর, উম্মাহাতুল মুমিনীনদের সমস্ত ব্যয়ভার আবদুর রহমান ইবন আউফ একা বহনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

আল্লাহর কাছে ধনসম্পদ চাইতে পারেন নিঃসংকোচে। তবে, আবু বাকার, উসমান আর আবদুর রহমান ইবন আউফদের মতো একটা নিখাদ অন্তরের ব্যাপারেও চাইতে ভুলে যাবেন না যেন। রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

শুধু পাশে থেকে যান আমাদের রব।
14/09/2025

শুধু পাশে থেকে যান আমাদের রব।

12/09/2025

আলহামদুলিল্লাহ্। আলহামদুলিল্লাহ্।আলহামদুলিল্লাহ্।
সবার জন্য শুভ হোক আজকের দিনটি।

ইনশাআল্লাহ, অবিরত চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
12/09/2025

ইনশাআল্লাহ, অবিরত চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

রাতে যাদের ঘুম হয় না।

চোখ ঝলসে দেওয়া প্রযুক্তি বিপ্লবের যুগে সবচেয়ে কমন যে রোগ মানুষের মাঝে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে তা হলো—রাতে ঘুম না হওয়া।

সম্ভবত পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ এই ‘ঘুম হয় না’ রোগে আক্রান্ত।

হতাশায় জর্জরিত হলে, চিন্তায় অস্থির থাকলে, জীবন নিয়ে ভীষণ দোটানায় নিপতিত হলে মানুষের চোখ থেকে ঘুম উধাও হয়। কিন্তু বর্তমান দুনিয়ায় চোখ থেকে ঘুম পালানোর বড় কারণ এসব নয়। এখন মানুষের যতোটাই না ‘ঘুম হয় না’, তারচেয়ে বেশি এখন মানুষ মূলত ‘ঘুমাতে চায় না।’

তবে, এই ‘ঘুমাতে না চাওয়া’ ব্যাপারটা ঐচ্ছিক কিছু নয়। কেউ যে ইচ্ছে করে ঘুমায় না তা কিন্তু বলা যাবে না। গড়ে প্রায় প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হাতে থাকা একটা করে স্মার্টফোন আজকাল চোখ থেকে ঘুম উধাও হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ।

স্মার্টফোন আছে কিন্তু তাতে ফেইসবুক-ইউটিউব নেই—এমন ঘটনা রীতিমতো অসম্ভব!

ফেইসবুক ইউটিউবের এলগরিদম এমনভাবে সাজানো, তা খুব সহজেই একজন মানুষকে আটকে রাখতে পারঙ্গম। যেকেউ খুব সহজেই, অনেকটা নিজের অজান্তেই, এখানে পার করে দেয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একটা ইস্যু চাঙা হলে সেটা নিয়ে একটা পোস্ট পড়ে, কিংবা একটা প্রতিক্রিয়া দেখে, অথবা কেবলমাত্র একটা ভিডিও দেখে কেউ নিজেকে নিবারণ করতে পারে না। তাকে দেখতে হয় অন্য অনেকের অভিমত, অন্য অনেকের প্রতিক্রিয়া। এই অভিমত-প্রতিক্রিয়া দেখার জন্যে তাকে ভার্চুয়ালে স্ক্রলের পর স্ক্রল করতে হয়।

এভাবে, একসাথে অনেক তথ্য মস্তিষ্কে ধারণের ফলে তার মস্তিষ্কের কার্যকলাপ তখন বহুগুণে বেড়ে যায় এবং তা নিয়ে মস্তিষ্ক ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের এই ক্রিয়াকলাপের ফলে তার স্বাভাবিক যে ঘুমের সময় তাতে তখন ব্যাঘাত ঘটে। তথ্যগুলো মাথার মধ্যে কুটকুট করতে থাকায় তার চোখ থেকে ঘুম তখন তল্পিতল্পা নিয়ে বিদেয় হয়।

এছাড়াও, স্ক্রীন থেকে নির্গত হওয়া নীল আলো আমাদের চোখের ওপরে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রীনে চোখ ডুবিয়ে রেখে ফেইসবুকিং কিংবা ইউটিউব স্ক্রলিংয়ের ফলে আমাদের চোখ থেকে স্বাভাবিক ঘুমের আবহ কমে যায় অনেকাংশে। মাথাব্যথা, উত্তেজনা, অস্থিরতা সহ নানান মানসিক রোগের কারণও স্ক্রীন থেকে নির্গত এই নীল আলো।

আমরা সঠিক সময়ে ঘুমাতে চাই ঠিকই, কিন্তু একইসাথে ভার্চুয়ালের নেশা ছাড়াটাও আমাদের পক্ষে ভীষণ দুরূহ। এজন্যেই ঘুমাতে না চাওয়াটা আমাদের ঐচ্ছিক রোগ নয়, এটা অভ্যাসগত একটা চর্চা এবং এই চর্চা ধীরে ধীরে আমাদের ওপরে ঝেঁকে বসেছে ভীষণভাবে।

এই ‘ঘুম হয় না’ রোগ সারাতে কেউ কেউ ঘুমের ওষুধ খায় হয়ত, কিংবা কেউ কেউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্নও হয়—কীভাবে এই বদ-অভ্যাস দূর করা যাবে, কীভাবে সঠিক সময়ে ঘুমানো যাবে ইত্যাদি ব্যাপারে।

তবে, এই রোগের চিকিৎসা পেতে আপনি যদি ফুযাইল ইবন আয়ায রাহিমাহুল্লাহর শরণাপন্ন হোন, তিনি আপনাকে হাতে ধরিয়ে দেবেন একেবারে সহজ একটা প্রেসক্রিপশন। আশা করা যায়, সেই প্রেসক্রিপশন মেনে চলতে পারলে আপনার এই ‘ঘুম হয় না’ রোগ সম্পূর্ণভাবে সেরে যাবে, আল্লাহ চান তো।

তো, কী সেই প্রেসক্রিপশন?

তাঁর সুন্দর একটা নাসীহাহ আছে। তিনি বলেছেন—

‘ইস্তিগফারের চাইতে বিস্ময়কর এবং মনো-স্বস্তিদায়ক আর কোনোকিছুই আমি খুঁজে পাইনি। এমনকি, কেউ যদি বলে রাতে তার ঘুম হয় না, সে যদি নিবিষ্টমনে ইস্তিগফার করতে থাকে, তাহলে শয়তানও চায় যে সে জেগে না থেকে বরং ঘুমিয়ে পড়ুক। কারণ—জেগে থাকলে সে ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজের গুনাহ কমিয়ে নিচ্ছে, এবং নেকির দ্বারা ভারি করে নিচ্ছে তার আমলনামা। তার চাইতে, ওই ব্যক্তির ঘুমিয়ে পড়াটাকেই শয়তান অধিক পছন্দ করে এবং তাকে (ঘুমিয়ে পড়ার ব্যাপারে) সহযোগিতা করে।’

এই প্রেসক্রিপশন খুবই সহজ এবং সবিশেষ কার্যকরী। রাতে আমরা যারা ঘুমাতে পারি না, হোক তা ভার্চুয়ালের নীল জগতে অবিরাম বিচরণ অথবা বিভিন্ন খোশালাপ, অহেতুক আড্ডাবাজির কারণে, আমরা যদি ফুযাইল ইবন আয়ায রাহিমাহুল্লাহর এই নাসীহাহটা মেনে চলতে পারি, আমাদের ‘ঘুম আসে না’ রোগ অচিরেই সেরে যাবে বলে আশা করা যায়, ইন শা আল্লাহ।

তাহলে আমাদের কাজ কী?

রাতের বেলা ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময়গুলোতে যখন আমাদের চোখ থেকে ঘুম পালায়, আমরা যখন এপাশ-ওপাশ ফিরে ফেইসবুক আর ইউটিউব স্ক্রল করি, তখন যদি নিবিষ্টমনে, ধীর-চিত্তে আমরা ইস্তিগফার পাঠ করি, চোখজোড়া বুজে যদি আমরা গভীর মনোযোগের সাথে বলতে থাকি ‘আসতাগফিরুল্লাহ আসতাগফিরুল্লাহ’, তখন ম্যাজিকের মতো আমাদের চোখে ঘুম নামবে, ইন শা আল্লাহ।

শয়তান তখন চাইবেই না যে আপনি জেগে থাকুন। জেগে থাকলে আপনি যিকিরে থাকছেন। আর, আপনি আল্লাহর স্মরণে মশগুল আছেন—এমন দৃশ্য শয়তানের জন্য বড়োই কষ্টের‍।

08/09/2025

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রায় প্রত্যেকটা প্রসিদ্ধ জীবনীগ্রন্থে ঘটনাটির উল্লেখ পাওয়া যায়। খলিফার দায়িত্ব পাওয়ার পর উনি নিয়ম করে রাতের বেলা মহল্লায় মানুষদের খোঁজখবর নিতে বের হতেন।কোনো দলবল ছাড়াই। একা, একেবারে সাধারণ বেশভূষায়।

এমনই একদিনের ঘটনা। একটি ভগ্নপ্রায় কুঁড়েঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়, ঘরের ভেতরে থাকা মা এবং মেয়ের কথোপকথন কানে আসে খলিফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর। তিনি থামলেন এবং তাদের সেই আলাপচারিতা ভালোভাবে শুনবার জন্য কানজোড়াকে আরও সজাগ করলেন।

উক্ত ঘরের বাসিন্দারা বকরির দুধ বেচত। মা মেয়েকে বলছিল দুধের মধ্যে পানি মিশিয়ে পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে। এতে করে বেশি টাকা পাওয়া যাবে। মায়ের কথায় প্রতিবাদ করে উঠল মেয়ে। মেয়েটা বলল, 'এটা তুমি কী বলছ মা! দুধের মধ্যে পানি মেশাব কেন? খলিফা জানতে পারলে কী হবে তুমি জানো?'

মা বলল, 'খলিফা কীভাবে জানবে এই কথা? খলিফা কি দেখবেন নাকি আমরা পানি মিশিয়েছি কি না?'

তখন মেয়েটা বলল, 'মা, খলিফা নাহয় দেখলেন না আমরা কী করছি। কিন্তু, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তো দেখছেন। তার কাছ থেকে আমরা কীভাবে লুকোবো এই কাজ?'

মেয়েটার এহেন উত্তরে মুগ্ধ হোন বাইরে কান পেতে থাকা রাজ্যের খলিফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ঠিক করলেন, এই মেয়েটাকে তিনি পুত্রবধু বানাবেন।

ঠিক ঠিক তা-ই হলো। নিজের পুত্র আসিমের সাথে এই কন্যার বিয়ে দেন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু।

কিন্তু, ঘটনার সিলসিলা সেখানে থামেনি। আসিম এবং উক্ত মেয়ের ঘর আলো করে একটি কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে। সেই কন্যা সন্তানের ঘর আলো করে আসে আরেকটি কন্যা সন্তান। আপনি কি জানেন কে ছিলেন শেষোক্ত এই কন্যা সন্তানটি? তিনি ছিলেন মুসলিম জাহানের আরেক ন্যায়পরায়ণ শাসক খলিফা উমার ইবন আবদুল আযীযের মা।

অর্থাৎ, দুধে পানি মেশাতে একদিন যে মেয়েটা আপত্তি করেছিল এই ভয়ে যে, খলিফাকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আসমানে যিনি আছেন তাঁকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়, সেই মেয়েটা ছিলেন খলিফা উমার ইবন আবদুল আযীযের নানী।

সেই রাতে মেয়েটির একটা গুণই খলিফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মুগ্ধ করেছিল—রবকে চেনার সক্ষমতা। মেয়েটা বলেছিলেন, 'আসমানে যিনি আছেন তাঁকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব?' আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে 'আস-সামী' এবং 'আল বাসীর' তথা 'সবকিছুই শোনেন' আর 'সবকিছুই দেখেন', তাঁর কাছ থেকে যে কোনোকিছুই লুকোনো যায় না, কোনোকিছুই গোপন করা যায় না—এই বোধ সেই মেয়ের মাঝে প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিল।

রাত্রির নিবিড় অন্ধকারে পাতার নিচে চুপটি মেরে থাকা কোনো পোঁকা কিংবা সমুদ্রের গভীর তলদেশে বালির অতল তলে লুকিয়ে থাকা কোনো জলজ প্রাণী—সবার ব্যাপারেই সমান ওয়াকিবহাল আমাদের রব।

রবকে চেনার এই একটা গুণ মেয়েটাকে কী মহান উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, সুবহানাল্লাহ! তিনি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে এসেছিলেন তাঁর পুত্রবধুর মর্যাদায়। উমার ইবন আবদুল আযীযের জন্মের সিলসিলাতেও তিনি ভাস্বর হয়ে ছিলেন। আসমানের অধিপতি তাঁর উপর সন্তুষ্ট থাকুন।

দুনিয়াতে খুব কম ঘটনাই কো-ইন্সিডেন্টলি ঘটে। প্রায় প্রত্যেকটা মহান এবং অ-মহান ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে এমন কিছু কার্যকারণ, যা ঘটনাগুলোর পেছনে অনুঘটক হিশেবে কাজ করে।

সেই মেয়েটির ঘটনাতেই দেখুন। তিনি যদি আল্লাহর 'আস-সামী' এবং 'আল-বাসীর' নামকে হৃদয়গভীরে ধারণ করতে না পারতেন, তাহলে তিনি খলিফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে তাঁর পুত্রবধু হয়ে আসার মর্যাদাও পেতেন না, তাঁর বংশে জন্মও নিতেন না খলিফা উমার ইবন আবদুল আযীযের মতো ন্যায়পরায়ণ শাসকও।

সন্তানদেরকে আমরা অনেকসময় ভালো কিছু শেখাতে আলসেমি করি। আমরা ধরে নিই যে, বয়সের সাথে সাথে এমনিতেই তারা শিখে ফেলবে। আল্লাহ সবকিছু দেখেন আর সবকিছু শোনেন—এটা আর এমন কী জ্ঞান? এটা শেখানো আর এমন কী ঘটনা? 'আল্লাহ সবকিছু দেখেন আর সবকিছু শোনেন'—এটা তোতাপাখির মতো তাকে মুখস্ত করানো এক ব্যাপার, সন্তানের মনে এই বোধ, এই উপলব্ধি গেঁথে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্য ব্যাপার।

দ্বীনের পথে সন্তানের পেছনে আমরা যে সময় ব্যয় করি, যে অর্থ খরচ করি এসবের কোনোটাই ব্যর্থ নয়। মৃত্যুর পরেও যে তিন আমলের সওয়াব মানুষের কবরে পৌঁছে এবং আমলনামাতে যোগ হয় সেই তিন আমলের একটা হলো পিতামাতার জন্য নেককার সন্তানের দুয়া।

কোনো একজন সালাফ বলেছিলেন, একবার তিনি একজন মৃত লোককে স্বপ্নে দেখেন। স্বপ্নে তিনি তাকে জিগ্যেস করেন, 'আল্লাহ আপনার সাথে কীরূপ আচরণ করেছেন?' সেই লোক বলল, 'আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।' সালাফ পুনরায় জানতে চাইলেন, 'আপনার কোন আমলের জন্য তিনি আপনাকে ক্ষমা করেছেন?' লোকটা বলল, 'আমি আমার সন্তানকে সুরা আল ফাতিহা শিখিয়েছিলাম। এই একটা কারণে তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।'

সন্তানকে কেবল সুরা ফাতিহা শেখানোর উসিলাতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একজনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

সন্তানদের রবের সাথে পরিচয় করানো, রবের পবিত্র এবং সুন্দর নামগুলো তাদের অন্তর মননে গেঁথে দেওয়াটা একজন বাবা হিশেবে আমার ফরয দায়িত্ব। আমি আমার সন্তানদের সামনে যে ভঙ্গিতে, যে ভাষায়, যে উপমা আর উদাহরণের মাধ্যমে রবের নামগুলো তুলে ধরি, সেই একই ধাঁচে আমি একটা সিরিজ লিখেছি 'আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম' শিরোনামে।

৪ থেকে ১২ বছর বয়েসি বাচ্চাদের জন্য এই সিরিজ একটি অসাধারণ উপহার হবে রবের নামগুলোর সাথে পরিচিত হতে, ইন শা আল্লাহ। একদিকে আছে গল্পের আদলে আল্লাহর নামগুলোর পরিচয়, অন্যদিকে আছে নজরকাড়া সব ছবির সমন্বয়। ছোট্ট সোনামণিদের জন্য এটি হয়ে উঠবে এক অনন্য উপহার, ইন শা আল্লাহ।

সিরিজটি প্রকাশ করেছে Sukun Publishing

আরও বিস্তারিত জানতে বা অর্ডার করতে— https://sukunpublishing.com/allahor-shundor-shundor-naam


রবকে চেনার মাধ্যমেই বেড়ে উঠুক আমাদের স্বপ্নেরা 💚

08/09/2025

পোস্ট মডার্ন বাস্তবতায় গালি দিয়ে কথা বলা, স্ল্যাং ব্যবহার করে কথা বলাটাই নাকি ট্রেন্ড আর ফ্যাশন আজকাল।

খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের চারপাশের সেলেব্রেটি ফেইস, যারা নিত্যদিন ক্যামেরার সামনে আসেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখাজোকা লিখেন, পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট থেকে শুরু করে সাধারণ অ্যাক্টিভিস্ট, অনেকের কাছে গালি আর স্ল্যাং ব্যবহারটা কেমন যেন ডালভাত টাইপ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এটা নাকি উত্তর আধুনিক বিশ্বের রাজনৈতিক আর সামাজিক বাস্তবতা!

আপনারা যেটাকে ট্রেন্ড মনে করে অনুসরণ করা শুরু করেছেন, সেটা আদতে ফিতনা। এবং উত্তর আধুনিক যামানায় ফিতনার বৈশিষ্ট্যই হলো যে—সমাজে এটা ট্রেন্ড আকারে স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে।

প্র‍্যাকটিসিং মুসলিম বলে চিনি এমন অনেককেও এই ফিতনায় দেদারসে গা ভাসাতে দেখি। সুবহানাল্লাহ, মুসলমানিত্বের মোরাল কোড, ম্যানারিজম, ইসলামের বেসিক প্রিন্সিপালকে ভুলে গিয়ে তারা তাল মিলাচ্ছে যুগের সেইসব ফিতনার সাথে যা ইসলামে কোনোভাবেই, কোনোরূপেই সমর্থনযোগ্য নয়।

আমি বুঝি যামানার বাস্তবতা অনুযায়ী একটু গালির মিশেল থাকলে, একটু স্ল্যাংয়ের উপস্থিতি থাকলে বক্তব্যে একটা জোশ আসে, একটু বেশি প্রতিবাদী শোনায়, একটু বেশি বোল্ড আর অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হয়। জেনজিকে কানেক্ট করতে হলে এসব না করে উপায়ও থাকে না অনেকসময়।

কিন্তু, দিনশেষে গালি তো গালিই। স্ল্যাং তো স্ল্যাংই। ইসলামের সাথে অন্য সব বিধান, সব ধর্ম, মত আর পথের পার্থক্য হলো—এটা একটা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। যামানার বাস্তবতা হয়ত আপনাকে স্ল্যাং ব্যবহারের জন্য উস্কানি দিচ্ছে, কিন্তু আপনাকে ভাবতে হবে—আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধানের সাথে এই বাস্তবতা যায় কী না৷

কুরআনে স্পষ্ট বলা আছে, যখন মূর্খরা তর্ক করতে আসে, তখন তাদেরকে ‘সালাম’ বলে বিদায় নিতে। অথচ, আমরা এখন গালি আর স্ল্যাং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে মরিয়া৷ যার গালি আর স্ল্যাং যত ইউনিক, তার জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ততবেশি। গালির ব্যবহারে যে যত পারদর্শী, সে তত বড় বিপ্লবী।

সত্যিকারের মুমিন তারা, যারা নিজেদের সামনে বাটখারা হিশেবে রাখে আল্লাহর বিধানকে৷ যামানার সমস্ত বাস্তবতাকে, যেগুলোর অধিকাংশতেই ফিতনার ছড়াছড়ি, তারা সেই বাস্তবতাকে দ্বীনের বাটখারা দিয়ে মেপে নেয়। যদি তা আল্লাহর নাযিল করা বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, যদি তা ইসলামের মোরাল কোডের বাইরে না চলে যায়, তবেই তারা সেই বাস্তবতাকে গ্রহণ করে।

ফিতনা তো ফিতনাই, দেখতে এবং শুনতে তা যতোই মাধুর্যমণ্ডিত হোক না কেন।

06/09/2025

(ক)

আমরা সবাই জানি, পবিত্র কাবা ঘর সর্বপ্রথম নির্মাণ করেছিলেন আমাদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে সাথে নিয়ে, মরুভূমির বালুকাময় উপত্যকার সেই বিজন প্রান্তরে দাঁড়িয়ে, পাথরের উপর পাথর দিয়ে বিনির্মাণ করেন বাইতুল্লাহ।

কিন্তু, বর্তমানে আমরা বাইতুল্লাহকে যেভাবে দেখি, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের হাতে নির্মিত বাইতুল্লাহ কি দেখতে ঠিক এমনই ছিল? উত্তর হচ্ছে—না। এই ইতিহাসটুকু জানতে হলে আমাদেরকে একটু অতীতে ফিরে যেতে হবে।

রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স তখন ৩৫ বছর। সে-বছর মক্কায় প্রচণ্ড রকমের বন্যা হয়। বাইতুল্লাহর চারপাশে ছিল অসংখ্য ছোট বড় পাথুরে পাহাড়। সেইসব পাহাড় থেকে বন্যার ঢল নেমে এসে বাইতুল্লাহর দেয়ালে আছড়ে পড়তে পড়তে বাইতুল্লাহর দেয়াল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরেকটা অপ্রীতিকর একটা ঘটনাও সে-বছর ঘটেছিল। একদল নরাধম বাইতুল্লাহর দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে, ভেতরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। ফলে বন্যা আর লুটপাট, দুই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তখনকার মক্কাবাসী সিদ্ধান্ত নেয় যে—বাইতুল্লাহকে আগাগোড়া ভেঙে সংস্কার করা হবে।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাইতুল্লাহকে ভাঙা হলো। একেক গোত্রের কাঁধে বাইতুল্লাহর একেক পাশের দেয়াল নির্মাণের দায়িত্ব পড়ে। সবাই একটা বিষয়ে সম্মত হয় যে—বাইতুল্লাহর পুনঃনির্মাণ কাজে কেউ তাদের হারাম টাকা ব্যবহার করবে না। অর্থাৎ সুদ, ব্যভিচার হতে লব্ধ অর্থ ইত্যাদি বাইতুল্লাহর নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র হালাল উৎস থেকে উপার্জিত অর্থই এই কাজে ব্যয় করা যাবে।

বাইতুল্লাহর চারটা দেয়াল। এরমধ্যে উত্তর দিকের দেয়াল নির্মাণের দায়িত্ব পড়ে বনু আদি বিন কাব বিন লুওয়াই গোত্রের উপর। কিন্তু হায়, তাদের কাছে পর্যাপ্ত হালাল অর্থ মজুদ না থাকায় তারা উত্তরাংশের সেই দেয়াল নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়। সেই যে তারা উত্তরের দেয়াল নির্মাণ করতে পারল না, বাইতুল্লাহর সেই দেয়াল আজও সেভাবেই আছে। বাইতুল্লাহর যে অংশটাকে আমরা হাতীম বলে চিনি, সেটাই মূলত বনু আদি বিন কাব বিন লুওয়াইয়ের অসমাপ্ত রেখে দেওয়া অংশ। হাতীম শব্দের অর্থই হলো—পরিত্যক্ত। হাতীম মূলত কাবারই অংশ। এজন্যেই হাজিদেরকে হাতীমের বাইরে দিয়ে তাওয়াফ করতে হয়।

যাহোক, সেবার তো বাইতুল্লাহ পুনঃর্নিমিত হলো, কিন্তু ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নির্মাণ করা আকৃতি থেকে কিছুটা রদবদল হয়ে গেল। হাতীমের অংশটা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নির্মাণ করা আকৃতিতে বাইতুল্লাহর ভেতরেই ছিল। কিন্তু হাজার হাজার বছর পরে এসে, কুরাইশেরা যখন এটার পুনঃনির্মাণ করল, তাতে হাতীম তথা উত্তরের অংশটা বাইরে থেকে গেল।

ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নির্মিত বাইতুল্লাহয় দরোজা ছিল একদম নিচে। অনায়াসে মানুষ ঢুকতে পারত সেই দরোজা দিয়ে। কিন্তু কুরাইশেরা দরোজা রাখল বেশ উঁচুতে, যাতে চোরের দল আর কখনো বাইতুল্লাহয় ঢুকতে না পারে। ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নির্মিত বাইতুল্লাহয় দরোজা ছিল দুটো। একটা পূর্বে, অন্যটা পশ্চিমে। মানুষজন পূর্ব দরোজা দিয়ে প্রবেশ করত, প্রার্থনা শেষে পশ্চিম দরোজা দিয়ে বেরিয়ে যেত। কিন্তু কুরাইশেরা পশ্চিমে কোনো দরোজা রাখেনি।

মোটামুটি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নির্মিত বাইতুল্লাহর আকৃতির সাথে কুরাইশদের হাতে পুনঃনির্মিত বাইতুল্লাহর এমনকিছু পার্থক্য তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু, নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তরে সর্বদা সেই ইবরাহিমি আকৃতির প্রতি একটা টান বিদ্যমান ছিল।

মক্কা বিজয়ের পর তিনি কুরাইশদের হাতে গড়া আকৃতি ভেঙে দিয়ে, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের হাতে গড়া আকৃতির বাইতুল্লাহয় ফেরত যেতে চেয়েছিলেন। তবে, খুব ইচ্ছাপোষণ করলেও শেষ পর্যন্ত নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কাজ করেননি। তিনি এই ভয় পেয়েছিলেন যে—তিনি যদি কুরাইশদের হাতে নির্মিত বাইতুল্লাহ ভেঙে, ইবরাহিমি আকৃতিতে ফেরত যান, এই ঘটনা নতুন ইসলাম গ্রহণ করা মক্কার লোকজনের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।

এই যে ইবরাহিমি আকৃতিতে নবিজি শেষ পর্যন্ত ফেরত গেলেন না নতুন মুসলিমদের মনোভাব বিবেচনা করে, এটাই হলো হিকমাহ তথা কৌশল। নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স।

(খ)

রাজবাড়ির গোয়ালন্দে গতকাল যে ঘটনাটা ঘটল, সেই ঘটনাটা বুঝতে আমাদের বাইতুল্লাহর উপরোক্ত ইতিহাসটা কিছুটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

নুরা পাগলা নামের কোনো এক ভণ্ড নিজেকে ইমাম মাহদি দাবি করত এবং তার মৃত্যুর পর, তারই বাড়ির উঠোনে তার মৃতদেহকে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে। তার কবরকে ঘিরে যে স্থাপনা তার শাগরেদ তথা ভক্তকূলেরা তৈরি করেছিল তা ছিল প্রায় হুবহু কাবা ঘরের আকৃতিতে। নাউযুবিল্লাহ। এটা শারিয়াহর স্পষ্ট লঙ্গন এবং চরম মাত্রার বাড়াবাড়ি।

অনেক প্রতিরোধ, প্রতিবাদ এলাকার সচেতন লোকজন জানিয়ে আসছিল বহুদিন থেকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও, নুরা পাগলার ভক্তবৃন্দও এতে গা করে না, স্থানীয় প্রশাসনও রা করে না। শেষমেশ কী হলো? এলাকার লোকজন গিয়ে নুরা পাগলের সেই কাবা আকৃতির মাজার ভেঙে দিলো এবং তার মৃতদেহকে কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হলো।

কাবা আকৃতির যে মাজার তারা তৈরি করেছে, সেই মাজারটা ভেঙে ফেলা অবধি ঠিক ছিল। কারণ এইটাকে নিয়ে দুনিয়ার কেউ রাজনীতি বা বয়ান তৈরি করতে পারত না। কাবা হলো মুসলমানদের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থাপনা। সেই পবিত্র স্থাপনার ব্যাপারে কোনো ছাড় কখনোই বরদাস্ত করার মতো নয়।

কিন্তু, নুরা পাগলার মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা, এই কাজটা বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে মনে করি। এই কাজটা না করেও পুরো ঘটনাকে নিজেদের পক্ষে রাখা যেত। কারণ দেখুন, যাদের কাজ ভণ্ডামি করা, তারা ইচ্ছা করলে নুরা পাগলার পুড়ে যাওয়া মৃতদেহের ছাঁই দিয়েও ভণ্ডামি করতে পারবে। এই দেশে এমন ভণ্ডামি যারা করে, তারা তাদের তথাকথিত বাবাদের বদনা, পাতিল, কাপড় কতোকিছুকেই তো পবিত্র (!) বানিয়ে তুলে। সেখানে নুরা পাগলার অঙ্গার হওয়া দেহের ছাঁই তো ভণ্ডামির উপাদান হিশেবে আরও আকর্ষণীয়।

কিন্তু বিপদ হলো, গোটা দুনিয়াতে এখন এই ঘটনাকে ফ্রেইমিং করা হবে ভিন্নভাবে। তারা বলবে—বাংলাদেশের মুসলমানেরা এত অসহিষ্ণু, এত উগ্র আর বর্বর যে, কবর থেকে মৃতদেহ তুলে এনে তারা পুড়িয়ে ফেলে।

সত্যি বলতে এরকম ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম এবং এই ঘটনার রাজনৈতিক বয়ান আর কনসিকোয়েন্স যে কীভাবে আসতে পারে তা আমাদের ধারণারও হয়ত বাইরে। আল্লাহ হিফাযত করুন।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকান। তাঁর খুব ইচ্ছা ছিল বাইতুল্লাহকে ইবরাহিমি আকৃতিতে ফিরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু তিনি সেই কাজ করেননি। কারণ, তিনি তার সময়কার আর্থ সামাজিক অবস্থাকে তাঁর ইচ্ছার উপরে স্থান দিয়েছেন। তিনি যদি সেদিন বাইতুল্লাহকে ভাঙতে যেতেন, তাহলে সদ্য ইসলামে আসা অসংখ্য মানুষের মনে সেই ঘটনা যে বিরূপ প্রভাব ফেলত, সেটাকে তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন।

গোয়ালন্দে যে ঘটনাটা ঘটল, কবর থেকে মৃতদেহ তুলে পুড়িয়ে ফেলা—এই ঘটনাতে ইসলামপন্থীদের কী বিজয় অর্জিত হয়েছে জানি না। তবে অনেক সাধারণ মুসলিম, যাদের ধর্মীয় জ্ঞান একেবারে অপ্রতুল, তাদের মনে এটা বেশ বাজেভাবে দাগ কেটে যেতে পারে। এই ঘটনাকে দেশে এবং বিদেশে খুব চতুরতার সাথে ফ্রেইমিং করা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মুসলমানরা কতো খারাপ, কতো অসভ্য, বর্বর এসব বয়ান তৈরি কাজে ঘি ঢালা হলো এমন একটা কাজে।

অবশ্য, এখানে সরকার আর প্রশাসনের দায়টাও কম কোথায়? এতোদিনের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আর বাদানুবাদের ঘটনাতে তারা কি জানত না যে—পরিস্থিতি এমন একটা দিকে মোড় নিতে পারে? আর কতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সরকারের প্রশাসন নড়েচড়ে বসবে আর এই ধরণের বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার আগে সুরাহা করার দিকে ঝুঁকবে তা বলতে পারি না।

সবশেষে বলি—জজবা নিঃসন্দেহে ভালো জিনিস। তবে তার ভুল প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে অধিকাংশ সময়।

05/09/2025

আলহামদুলিল্লাহ, শুরু হলো প্রি-অর্ডার 💚

আপনার বাসায় কি ৩ থেকে ১২ বছরের ছোট্ট ছোট্ট সোনামণিরা আছে? আপনার নিজের সন্তান, আপনার ভাইয়ের বা বোনের ছেলেমেয়ে অথবা কোনো আত্মীয়ের সন্তানাদি? আপনি কি তাদেরকে এমনকিছু উপহার দিতে চাইছেন যা একইসাথে হবে অত্যন্ত উপকারি এবং আকর্ষণীয়? আপনার জন্যেও হবে সাদাকায়ে জারিয়াহর উৎস?

যদি তাই হয়, তাহলে ছোটদের জন্য আমার রচিত ‘আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম’ সিরিজটি তাদেরকে উপহার দিতে পারেন।

এই সিরিজটিতে আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ১২ টি গুণবাচক নামকে, ছোটদের ভাষায়, ছোটদের মতো করে, তাদের উপযোগি উপমা, উদাহরণ দিয়ে, গল্পভাষ্যে তুলে ধরেছি। বইগুলোতে শুধু আল্লাহর নামগুলো নিয়ে সুন্দর গল্পই নয়, আছে চমৎকার এবং নজরকাড়া সব ছবি যা ছোটদের মানসপটে বক্তব্যের ছাপকে করে তুলবে দীর্ঘস্থায়ী। পেশাদার শিল্পীর রঙতুলিতে আঁকা ছবি এবং আমার লেখা গল্প—দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি এই কাজ।

সিরিজটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে Sukun Publishing থেকে।

এই সিরিজের মোট ৪ টা বই। প্রত্যেক বইতে আল্লাহর তিনটি গুণবাচক নামের গল্পভাষ্য বর্ণনা আছে। ৪ টা বইয়ের প্রচ্ছদমূল্য ৬০০ টাকা। প্রি-অর্ডারে ২০% ছাড়ে ক্রয় করা যাচ্ছে ৪৮০ টাকায়।

২০% ছাড়ে প্রি-অর্ডার করতে—

রকমারি— https://rkmri.to/7V5B6ZMYMU04

ওয়াফিলাইফ— https://www.wafilife.com/allahr-sundor-sundor-nam/dp/1354526


সুকুন পাবলিশিং— https://sukunpublishing.com/allahor-shundor-shundor-naam

ছোট ছোট কুসুমকলিদের অন্তরে রবের পরিচয় ভাস্বর থাকুক সগৌরবে 💚

Address

Chittagang
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আকাশনীলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আকাশনীলা:

Share