24/10/2025
🌹🥀📖 বিশ্বে বিরল "ফয়েজে কোরআন" 📖🥀🌹
হাদিছ শরীফে আছে “শয়তান আদম সন্তানের ক্বলবের উপর বসে, যখন সে আল্লাহপাকের জিকির করে, তখন শয়তান পালিয়ে যায়। আর যখন সে জিকির থেকে অমনোযুগী হয় তখন শয়তান তাঁকে ওয়াসওয়াসা দেয়”। সুতারাং সর্বঅবস্থায় নিজের কলবকে শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা করার জন্য তথা নিজের কলবে জিকির জারী রাখার জন্যে,একজন মানুষের পক্ষে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা মৌখিক জিকির করা কি সম্ভব?
আর সেই জিকির কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিটি মুরিদের ক্বলবে সর্বঅবস্থায় জারী রয়েছে।(যে জিকির বা নুর হুজুরপাক (ﷺ) এর সিনা মোবারক থেকে শেরে খোদা হযরত আলী(রাঃ) এর সিনা মোবারকের মাধ্যমে প্রাপ্ত।)যা তারা নিজেরা অনুভব করতে পারে।
কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মাননীয় মোর্শেদ আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়দ মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব এর বক্ষ মোবারক নিঃসৃত তাওয়াজ্জুহ, নূর বা জিকিরের সংযোগ পেয়ে নবীজির পবিত্র আদর্শের যোগ্যতম রূহানী সৈনিকে পরিণত হচ্ছে।বিপদগামী যুবকদের চলমান জীবনের ধারা পাল্টিয়ে দিয়ে কলবে ঈমানি জোয়ার এনে দিতে পারে এ সিলসিলা। কারন তাঁদের কলবি জিকির জারী আছে বলে, মোরাকাবা বা ধ্যান ও কোরআন ফয়েজের মতো দুর্লভ বৈশিষ্ট্য আছে বলে, শয়তান তাঁদের কলবে ওয়াসওয়াসা দিতে পারেনা।যার ফলে,পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী হয় এবং অতি সহজে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তারা আল্লাহপাক ও হুজুরপাক (ﷺ) এর অনুসারী হয়ে উঠে। ওই ক্বলবি জিকিরের নূর তাদেরকে সর্বদা ভালো কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।
তাই আমাদের আজ প্রয়োজন, মহান আল্লাহর দরবারে এবাদত বন্দেগী কবুল করানোর জন্যে কলব তথা অন্তরকে পরিশুদ্দ বা প্রবিত্রতা করা। হুজুরপাক (ﷺ) বলেছেন “প্রত্যেক জিনিষ পরিষ্কার যন্ত্র আছে,আর কলব বা অন্তর পরিষ্কার যন্ত্র হচ্ছে আল্লাহপাকের জিকির(ক্বলবি জিকির)”(বায়হাকী,মেশকাত,মেরকাত)।
মূল কথা যে কোন এবাদত কবুল হওয়ার প্রথম ও প্রধান শর্ত হল কলবের প্রবিত্রতা অর্জন।
🌟কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের সিলসিলায়(তরিক্বতে) কোরআনের ফয়েজ নামের একটি পদ্ধতি আছে।
মুরিদেরা(অনুসারীরা) পীর(মুর্শিদ) সাহেব কেবলার মুখে মুখে বিশেষ একটি নিয়ত করে, চোখ বন্ধ অবস্থায়, যার যেখানে ছবক, সেখানে খেয়াল করে পীরের পিছনে দোজানু হয়ে বসে থাকবে।
তারপর, পীর সাহেব কেবলা কোরআন তেলাওয়াত শুরু করেন এবং কোরআন তেলাওয়াত করে করে অনুসারীদের মাঝে পবিত্র কোরআনে পাকের নূর বিতরন করেন, এমন সময় মুরিদদের মধ্যে বিভিন্ন হালের সৃষ্টি হয় কেউ কাঁদতে থাকে, কেউ কাঁপতে থাকে,আর কেউ কেউ আল্লাহ্ আল্লাহ্ রবে হাত পা আছড়াতে আছড়াতে বেহুঁশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এটাকে ওয়াজ্দ বলে, মুলত কোরআনের শক্তি এবং নূর যখন প্রকৃত পীরদের পাক তাওয়াজ্জুর মাধ্যমে মুরীদদের ক্বলবে স্থান নিতে শুরু হয়, তখন এ হালের সৃষ্টি হয়।
আল্লাহ পাক ফরমান,“আমার মোমেনগণের নিকট যখন আমাকে স্মরণ করা হয়, তখন তাদের ক্বলব আমার ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে উঠে।”
অনেকেই এ ওয়াজদ বা হালকে সামলিয়ে রাখতে পারে, সেজন্য তা প্রকাশ পায় না।
এই ওয়াজদ বা হাল সম্পর্কে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) “সিররুর আসরার” কিতাবে লেখেন, ওয়াজদ দুই প্রকার। জেসমানী ও রুহানী অর্থাৎ দৈহিক ও আদ্যাত্মিক।
লোক দেখানো এবাদত বন্দেগী করার প্রতি আসক্তি এবং নফ্সের বাধ্যগত হওয়া। এ জাতীয় ওয়াজদ জায়েজ নয়।
যে সমস্ত কাজ দ্বারা আল্লাহর প্রতি প্রেমাসক্তির সৃষ্টি হয় এবং অধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, তাকে রূহানী ওয়াজদ বলে, এটা শরীয়ত সম্মত।
“মারাজাল বাহরাইন” কিতাবে আবদুল হক মোহাদ্দেছে দেহলভি (রঃ) বলেন, এ হাল বা ওয়াজদ সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও ছিল।
যদি কোন ব্যক্তি ওয়াজ মাহফিলে কোরআন তেলাওয়াত বা জিকির আজকারের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে, চিৎকার করে কাঁদে হাত-পা আছড়াতে বা লাফাতে থাকে তখন তাকে হিংসা করা উচিত নয়।
কারণ, আল্লাহর দৃষ্টি, তখন তাঁর দিকে নির্দিষ্ট থাকে।
সে সর্ম্পকে হযরত নবী করিম (ﷺ) ফরমান, “প্রেমিক যখন আল্লাহর নূরে ফানা হয়ে যায়, তখন তার মুখ আল্লাহর মুখ, তাঁর দৃষ্টি আল্লাহর দৃষ্টি, তার পা আল্লাহর পা হয়ে যায়।”
তিনি আরো ফরমান, মান-লা-ওয়াজাদা-লাহু-লা-দ্বীনা লাহু অর্থাৎ যার ওয়াজদ নেই, তার ধর্ম নেই।”
হযরত ইমাম গজ্জালী (রঃ) বলেন, “যদি তোমার কোন ওয়াজদ বা হাল না হয়, তাহলে যার ওয়াজদ হচ্ছে, তার পাশে বসে যাও।
কারণ আল্লাহর দৃষ্টি তখন তাঁর দিকে নির্দিষ্ট থাকে, ভাগ্যক্রমে তোমার প্রতিও পড়তে পারে।
কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ, আওলাদে মোস্তফা,খলিফায় রসূল (দঃ) হযরত শায়খ ছৈয়দ গাউছুল আজম রাদিয়াল্লাহু আনহুর তরিক্বত একটি তাওয়াজ্জুহ বিশিষ্ট সিলসিলা যা বর্তমান বিশ্বে বিরল। অন্ধকারাচ্ছন্ন মানব সমাজকে প্রকৃত পীর-অলিরাই যে যে সুন্দর পথ ও আলো দেখাতে সক্ষম তার'ই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন হযরত শায়খ ছৈয়দ গাউছুল আজম রাদিয়াল্লাহু আনহু।
আসুন,হযরত শায়খ ছৈয়দ গাউছুল আজম রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর একমাত্র খলিফা হযরত শায়খ ছৈয়দ মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী সাহেবের সিনার অপূর্ব নিয়ামত গ্রহণপূর্বক এ আধ্যাত্মিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি সুনিশ্চিত করি।
আমিন, ছুম্মা আমিন।