31/08/2025
হরে কৃষ্ণ দয়া করে পড়ুন🙏 🙏
#মহা_রাধাষ্টমী_সম্পর্কে_বিস্তারিত
#আজ ৩১ আগস্ট রবিবার।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী এবং আদিশক্তি শ্রীমতী রাধারাণীর শুভ আবির্ভাব তিথি, রাধাষ্টমী মহোৎসব। এক রাধাষ্টমী ব্রত এক লক্ষাধিক একাদশী ব্রতের সমান, কৃপাপূর্বক সবাই
ভক্তিসহকারে পালন করবেন🙏
🌿🌺(শ্রীমতি রাধারাণীর প্রণাম মন্ত্র)🌺🌿
|| তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গী রাধে বৃন্দাবনেশ্বরি
বৃষভানুসুতে দেবী প্রণমামি হরিপ্রিয়ে ||
্রীরাধাষ্টমী__ব্রত________
কৃষ্ণময়ী, পরমেশ্বরী, বৃষভানু-দুলালী, বরষাণে বালী,
ব্রজরাজকুমারী, তপ্তকাঞ্চন গৌরাঙ্গী,
মদন-মোহন-মোহিনী, হরি-পিয়ারী, বৃন্দাবনেশ্বরী,
ব্রজরাণী, ব্রজদেবী, ললিতা-বিশাখার প্রিয় সখী,
চম্পক-পুষ্প-শােভনী, কোটী কোটী কাম-গঞ্জিনী,
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সী, শ্রীমতী রাধারানীর-
শুভ আবির্ভাব তিথি।
ভাদ্রে মাসি সিতে পক্ষে অষ্টমীসংজ্ঞিকে তিথৌ।
বৃষভানোর্যজ্ঞভুমৌ জাতা সা রাধিকা দিবা॥
অনুবাদঃ- ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, মহারাজ বৃষভানুর গৃহে শ্রীমতি রাধারানী নিজেকে প্রকাশিতা করেছিলেন। তাই এই মহাপবিত্র তিথিকে শ্রীরাধাষ্টমী তিথি বলা হয়। (পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মখন্ড,৭/৪০-৪১)
্রীরাধাষ্টমী_ব্রত_মহিমা_
কোটিজন্মাৰ্জ্জিতং পাপং ব্রহ্মহত্যাদিকং মহৎ। কুৰ্ব্বন্তি যে সকৃদ্ভক্ত্যা তেষাং নশ্যতি তৎক্ষনাৎ॥
অনুবাদঃ- যে সকল মানুষ ভক্তিভরে একবার মাত্র এই মহাপবিত্র শ্রীরাধাষ্টমী ব্রত পালন করে থাকেন, সেই সকল মানুষের কোটি জন্মের ব্রহ্মহত্যাদি সমস্ত মহাপাপ তৎক্ষনাৎ বিনাশ হয়ে যায়। (পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মখণ্ড, ৭/৭)
একাদশ্যাঃ সহস্রেন যৎফলং লভতে নরঃ।
রাধাজন্মাষ্টমীপুণ্যং তস্মাচ্ছতগুনাধিকম॥
অনুবাদঃ- মনুষ্যগন এক হাজার একাদশী পালনে যেই ফল লাভ করে থাকেন, শ্রীরাধাজন্মাষ্টমী ব্রতের পুন্য তার থেকেও শতগুন অধিক হয়ে থাকে। (পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মখন্ড,৭/৮)
াধাষ্টমী_ব্রত_পালন_না_করার_ফল_?
রাধাষ্টমীব্রতং তাত যো ন কুৰ্য্যাচ্চমুঢ়ধীঃ।
নরকান্নিস্কৃতির্নাস্তি কোটিকল্পশতৈরপি॥
অনুবাদঃ- হে তাত! যে সকল মুঢ়বুদ্ধি মানুষ রাধাষ্টমী ব্রত পালন করবে না, শতকোটি কল্পেও সেই সকল মানুষের নিস্কৃতি ঘটবে না। ১০০ কোটি কল্প মানে
(৮৬৪ কোটি বছর x ১০০ কোটি)
(পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মখন্ড, ৭/৩১)
ারীরা_ব্রত_পালন_না_করার_ফল_?
স্ত্রিয়শ্চ যা ন কুৰ্ব্বন্তি ব্রতমেতচ্ছুভপ্রদম।
রাধাবিষ্ণোঃ প্রীতিকরং সর্ব্বপাপপ্রণাশনম॥
অনুবাদঃ-যে সকল নারীরা রাধাকৃষ্ণের প্রীতিকর, সর্বপাপহরনকারী,এই ব্রত পালন করবেনা, তারা নরক গমন করেন এবং পৃথিবীতে জন্মের পরে বিধবা হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। (পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মখন্ড,৭/৩২)
👉তাই আসুন নারী-পুরুষ সকল ভক্তবৃন্দ মিলে রাধাষ্টমী ব্রত পালন করি এবং অন্যকে ব্রত পালন করতে উৎসাহিত করি।
ী_ভাবে_রাধাষ্টমী_ব্রত_পালন_করবো_❓
◾ শ্রীরাধাষ্টমীর আগের দিন থেকে নিরমিষ অন্ন খেয়ে সংযম পালন করতে হয়। সংযম অর্থাৎঃ ইন্দ্রিয়কে ভোগ্যবস্তু অবাঞ্চিত আশা-প্রত্যাশা,কামনা-বাসনা থেকে দূরে রাখা। মৈথুন, আমিষ আহার, প্রজল্প, পরচর্যা-পরনিন্দা পরিত্যাগ করতে হবে। সেই জন্য আমাদের সব সময়
শ্রীশ্রী-রাধামাধবকে স্মরণ করতে হবে। শ্রীমতি রাধারানীর কাছে থেকে আশীর্বাদ চেয়ে নিতে হবে যেন ব্রত সুসম্পন্ন ভাবে উদযাপন করতে পারি।
◾শ্রীরাধাষ্টমীর দিন প্রাতঃকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে তিলক আদি বস্ত্র পরিধান করে আচমন করতে হবে। তাঁর পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমতী রাধারানীর শ্রীচরণে পুষ্প নিবেদন করে সংকল্প করতে হবে।
যে সকল ভক্তদের গৃহমন্দির নেই উনারা মানসিকভাবে পুষ্প নিবেদন করে, (হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র) উচ্চারণ করে মনে মনে সংকল্প করবেন।
◾বেলা বারোটা পর্যন্ত নির্জলা উপবাস থেকে অধিক সংখ্যা হরিনাম জপ করতে হবে ও গীতা ভাগবত শ্রবণ-কীর্তন এবং নীলা পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলা স্মরণ, করতে হবে। ভগবানের শ্রীবিগ্ৰহ দর্শন, ভক্ত সঙ্গে হরিনাম সংকীর্তন, করবেন ও ইত্যাদি। বেলা ১১ টার পর মন্দিরে অথবা গৃহমন্দিরে পঞ্চমৃত পুষ্প মাল্য দিয়ে রাধাকৃষ্ণের শ্রীবিগ্ৰহ অভিষেক করতে হবে তাঁর পর ভোগ নিবেদন করতে হবে। অভিষেক করতে না পারলে অভিষেক দর্শন করবেন মন্দিরে অথবা ইউটিউব ফেসবুক লাইভ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। অভিষেক করা এবং অভিষেক দর্শন করা একই ফল লাভ হয়। তারপর বেলা ১২টার পর পারণ মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রসাদ সেবন মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রসাদ পেয়ে ব্রত পারণ সম্পন্ন করবেন।
🔸পারন মন্ত্রঃ-
অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য ব্রতে নানেব কেশব।
প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞান দৃষ্টি প্রদো ভব ॥
প্রসাদ সেবন মন্ত্রঃ-
মহাপ্রসাদে গোবিন্দে নাম-ব্রহ্মেণি বৈষ্ণবে।
স্বল্প-পুণ্য বতাং রাজন্ বিশ্বাস নৈব জায়তে॥
শরীর অবিদ্যা-জাল, জড়েন্দ্রিয় তাহে কাল,
জীবে ফেলে বিষয়-সাগরে।
তা'র মধ্য জিহ্বা অতি, লোভময় সুদুর্মতি,
তা'কে জেতা কঠিন সংসারে॥
কৃষ্ণ বড় দয়াময়, করিবারে জিহ্বা জয়,
স্বপ্রসাদ-অন্ন দিলা ভাই।
সেই অন্নামৃত খাও, রাধাকৃষ্ণ গুণ গাও,
প্রেমে ডাক চৈতন্য-নিতাই ॥