29/05/2025
"কল্পবিজ্ঞানের গল্প"
শিরোনাম: মঙ্গলের লাল সূর্যতলে
অধ্যায় ১: নতুন সূর্যোদয়
সাল ২১০০। স্থান: মঙ্গল গ্রহ।
বায়োডোম-১৭-এর ঘন লাল কাচের ভিতর দিয়ে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। পৃথিবীর মতো উজ্জ্বল নয়, যেন ঝাপসা কমলা রঙের বাতি। ড. আরিব হাসান ঘুম থেকে উঠলেন। তাঁর ডেটা-প্যানেল জানিয়ে দিল, বাইরের তাপমাত্রা -৭৫°C। ভিতরের কৃত্রিম তাপমাত্রা ২২°C।
আরিব একসময় ঢাকার উত্তরা এলাকায় বড় হয়েছিলেন। তখন তিনি ভাবতেও পারেননি, একদিন মঙ্গলে বসবাস করবেন। এখন তিনি একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, মঙ্গলের ভূমিকম্প এবং চৌম্বকক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা করেন।
অধ্যায় ২: লাল ধূলোর গ্রহ
মঙ্গলের আকাশে কোন নীল আভা নেই। ধূসর-লাল ধুলা বাতাসে ভেসে বেড়ায়। মানুষ এখানে খালি চোখে বাইরে বের হতে পারে না। সবাইকে পরতে হয় বিশেষ রেডিয়েশন-প্রুফ স্যুট। আরিবের আজ বাইরে মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে।
তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ড. সায়রা জামান — একজন ভূতাত্ত্বিক। তারা রোভার-৩ তে করে একটি পুরনো আগ্নেয়গিরির পাদদেশে যান। হঠাৎ একটি শক্তিশালী সংকেত ধরা পড়ে — ভূগর্ভে সক্রিয় পদার্থবিজ্ঞানিক বিক্রিয়া চলছে! এটা মঙ্গলে তরল লোহা থাকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
অধ্যায় ৩: জীবনধারা
বায়োডোম-১৭ একটি ছোট শহরের মতো। এখানকার ২০০ জন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের জীবন চলে নিখুঁত শৃঙ্খলায়। পানি বরফ গলিয়ে সংগ্রহ করা হয়, পরে বিশুদ্ধ করে ব্যবহার। খাদ্য আসে হাইড্রোপনিক্স ল্যাব থেকে — মাটিবিহীন চাষ। প্রতিদিন সকালের খাবারে থাকে সোয়াবিন কেক, লেটুস, আর সিনথেটিক ডাল।
ড. আরিব প্রতিদিন ২ ঘণ্টা ভারী ব্যায়াম করেন — কারণ মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর ১/৩ ভাগ। দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতা এড়াতে এটিই একমাত্র উপায়।
অধ্যায় ৪: পৃথিবীর প্রতি টান
রাতে, যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, আরিব জানালার দিকে তাকিয়ে থাকেন। দূরে আকাশে একটি নীল বিন্দু — পৃথিবী। সেখানে তাঁর মা, ভাই, পুরনো বন্ধুদের স্মৃতি। তিনি প্রায়ই কল্পনায় শুনতে পান ধানমণ্ডির কোনো অচেনা ট্রাফিক জ্যামের শব্দ, অথবা পুরান ঢাকার রুটির গন্ধ।
তিনি জানেন, একদিন পৃথিবী থেকে মানুষ বহু গ্রহে ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু পৃথিবী থাকবে একটাই। তার মায়া ভোলা যায় না।
অধ্যায় ৫: ভবিষ্যতের সূচনা,,,,,, চলবে