26/08/2026
গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে তেল আমদানি, মজুত, স্থানান্তর ও বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে চারটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও তিনজন নাগরিকের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এটা তাদের বৃহত্তর "অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট" অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত যেকোনো দেশের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।
এটা কি প্রথমবার?
না—এর আগেও ফেব্রুয়ারিতে একই অভিযোগে চারটি ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছিল, আর গত জুলাইয়েও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও মাহান এয়ারকে সহায়তার অভিযোগে ভারত-চীন-রাশিয়ার মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠান-ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা এখন একটা ধারাবাহিক প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে।
কেন এটা ভারতের জন্য জটিল?
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সাথে ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, বিশেষত চাবাহার বন্দর প্রকল্পের মতো কৌশলগত স্বার্থে। কিন্তু একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও ভারতের গভীর কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আছে। বারবার ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসাটা প্রমাণ করে, দিল্লিকে এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নিজের অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলো আরও সতর্কতার সাথে পরিচালনা করতে হচ্ছে, নয়তো নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোই বারবার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার শিকার হতে থাকবে।
#ভারত #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #নিষেধাজ্ঞা #জিওপলিটিক্স