05/06/2025
৯ই জিলহজ (শুক্রবার) থেকে ১৩ই জিলহজ (মঙ্গলবার) আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন—
وَٱذۡكُرُوا۟ ٱللَّهَ فِیۤ أَیَّامࣲ مَّعۡدُودَ ٰتࣲۚ
‘‘এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর যিকর কোরো।’’ [সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৩]
প্রখ্যাত সাহাবি আলি (রা.) আরাফার দিন (৯ই জিলহজ) ফজরের নামাজ থেকে তাকবির দিতেন এবং আইয়ামুত তাশরিকের শেষ দিন (জিলহজের ১৩ তারিখ) আসরের নামাজ পর্যন্ত তাকবির দিতেন। [ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, আল আসার: ২০৮; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
এছাড়া ইবনু উমার (রা.), ইবনু আব্বাস (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা উচ্চস্বরে তাকবির দিতেন। এমনকি বাজারে যেতেও তাকবির পাঠ করতেন।
একটি সুন্নাহসম্মত তাকবির:
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْد
আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; ওয়া লিল্লা-হিল ‘হামদ।
(অর্থ : আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।)
এটি ফকিহ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে প্রমাণিত। [ইমাম দারা কুতনি, আস-সুনান: ১৭৫৬; শায়খ আলবানি, ইরওয়াউল গালিল: ৬৫৪; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
আরেকটি সহিহ সনদের সহজ তাকবির : (এটি পড়লেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে)
প্রখ্যাত সাহাবি সালমান আল ফারসি (রা.) বলেন, ‘তোমরা তাকবির দাও (এভাবে)—
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ كَبٍيْرًا
আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার কাবি-রা
(আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; তিনিই মহান)।’
[ইমাম বাইহাকি, ফাদ্বাইলুল আওক্বাত: ২২৭; ইমাম ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি: ২/৪৬২; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
এছাড়াও আরও মাসনুন তাকবির বর্ণিত হয়েছে। তবে, এ দুটোই উত্তম ও প্রসিদ্ধ।
জিলহজের ৯ তারিখ (শুক্রবার) ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ (মঙ্গলবার) আসর পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরপর একাকী বা জামাতে নামাজ আদায়কারী, নারী অথবা পুরুষ—প্রত্যেকের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক (উপরে বর্ণিত যেকোনো একটি তাকবির) পাঠ করা ওয়াজিব। পুরুষদের উচ্চ আওয়াজে বলতে হবে এবং নারীরা নিচু আওয়াজে (শুধু নিজে শুনতে পেলেই হবে)। [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৪/২২০; ইমাম ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ: ২/৩৬০; ইমাম শামি, রাদ্দুল মুহতার: ৩/৬১; আল্লামা উসমানি, ইলাউস সুনান: ৮/১৫৬]
◉ প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালামের পরপর কোনো কথাবার্তা বলা বা নামাজ পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগেই তাকবিরে তাশরিক অন্তত একবার পড়তে হবে।
◉ শুধু পাঁচ ওয়াক্ত ফরজের পর পড়তে হবে। বিতরের কিংবা অন্য কোনো সুন্নাত বা নফলের পরে পড়ার প্রয়োজন নেই। তবে, কোনো কোনো পূর্বসূরি নফল নামাজ শেষেও পড়তেন। তাই, কেউ চাইলে পড়তে পারেন।
◉ তাকবিরে তাশরিক পড়তে ভুলে গেলে খুব বেশি দেরি না হলে স্মরণ হওয়া মাত্র পড়ে নিতে হবে। আর, একদম মিস হয়ে গেলে বা নামাজের পর বেশি দেরি হয়ে গেলে ইস্তিগফার করবেন।
◉ ঈদের দিনে ঈদগাহে যেতে এটি পড়া উত্তম।
◉ পিরিয়ডে থাকা নারীদের জন্য এই তাকবির পাঠ করা জরুরি নয়। কারণ এটি ফরজ নামাজের পর পাঠ করতে হয়। তবে, তাঁরা যেকোনো সময় এটি পড়তে পারেন, পড়লে নেকি পাবেন।