22/01/2026
🌺 হযরত মোজাদ্দেদে আলফে সানি সাইখ আহমদ ফারুকী ছরহিন্দ নকশবন্দি (মোজাদ্দেদি) তরিকার উসুল (মুলনীতি)
➖➖
১। খালওয়াত দর আন্ঞ্জুমান (জনতার মধ্যে নির্জনতা)।
২। সফর দর ওয়াতান (নিজের সত্ত্বার মধ্যে ভ্রমণ)।
৩। হুঁশ হরদম (সর্বদা জিকিরের “স্মরন” প্রতি খেয়াল ।
৪। নজর বর কদম (সর্বদা সম্মুখে দৃষ্টিপাত) ।
🔰 হজরত খাজা সাইয়্যেদ বাহাউদ্দিন মুহাম্মাদ নকশবন্দ রহঃ।
✅এই তরীকার মধ্যে অধিকাংশ ফায়দা (উপকার) আদান- প্রদান মৌণতার মধ্যেই হইয়া থাকে। ইঁহারা( নকশবন্দিয়া মোজাদ্দেদীয়া বুজুর্গগণ) বলিয়া থাকেন---" যে ব্যক্তি আমাদের 'মৌণতা' হইতে উপকৃত হইতে পারিল না, সে আমাদের বাক্যের দ্বারা কি উপকার প্রাপ্ত হইবে"!
এই মৌণতা তাঁহারা আড়ম্বর হিসাবে গ্রহণ করেন নাই ; বরং ইঁহাদের তরীকার ইহা একটি অনিবার্য ও অবশ্য করণীয় কার্য্য। যেহেতু প্রথম হইতেই আল্লাহতায়ালার এক জাতের প্রতি ইঁহাদের লক্ষ্য। এছম( নাম) ছেফত( গুণাবলী) হইতে আল্লাহ্তায়ালার 'জাত' ব্যতীত ইঁহারা কিছুই কামনা করেন না এবং মৌণতা ও নিরবতাই উক্ত রূপ লক্ষ্যের অনুকূল ও ঐ মহান দরবারের উপযোগী। " যে আল্লাহর পরিচয় লাভ করিয়াছে তাহার রসনা রুদ্ধ হইয়াছে " এই বাক্যের প্রমাণ স্বরূপ।
➖মকতুবাত শরীফ ১ম খন্ড ২য় ভাগ ২২১ নং মকতুব➖
✅নকশবন্দিয়া মোজাদ্দেদীয়ার একটি বৈশিষ্ট্য --
ইহার প্রারম্ভে মাধুর্য্য ও প্রাপ্তি অনুভূত হয় এবং সর্ব্বশেষে বিষাদযুক্ত হওয়া এবং হারাইয়া ফেলা অবস্থা ঘটে ; যাহার জন্য নৈরাশ্য নিশ্চিত।
অন্যান্য তরীকায় ইহার বিপরীত। তাহাদের প্রথমে বিষাদযুক্ত হওয়া ও হারাইয়া ফেলা অবস্থা হয় এবং শেষে মাধুর্য্য ও সম্মীলন লাভ হয়।
এইরূপ এই তরীকার প্রথমে নৈকট্য ও দর্শন লাভ হয় এবং সর্ববশেষে দূরবর্ত্তী ও বন্ঞ্চিত হওয়ার অবস্থা দাঁড়ায়। ইহাও অন্যান্য মাশায়েখগণের তরীকার বিপরীত।
এই সমস্ত পার্থক্য দ্বারা এই তরীকার মর্ত্তবা ধারনা করা উচিত ও ইহার উচ্চতা অনুভব করা কর্তব্য।
যেহেতু নৈকট্য, দর্শন, মাধুর্য্য এবং প্রাপ্তী দূরবর্তিতা ও বিরহ জ্ঞাপক। পক্ষান্তরে দূরত্ব, বন্ঞ্চিত হওয়া ও মাধুর্য্যশূন্যতা এবং হারাইয়া ফেলা -- চরম নৈকট্যের নির্দেশক। ইহা যে বুঝিল, সেই বুঝিল।
ইহার ব্যাক্ষা এইমাত্র প্রকাশ করা যাইতে পারে যে, কোন ব্যক্তির নফছ বা নিজ হইতে নিকটবর্ত্তী কোন বস্তু নাই,অথচ নফছের ( নিজের) সহিত তাহার নৈকট্য ও দর্শন এবং মাধুর্য্য ও অনুভূতির সম্বন্ধ রহিত। যে অপর বা তাহা হইতে পৃথক তাহার সহিত উক্ত সম্বন্ধগুলি হইয়া থাকে। জ্ঞানীর জন্য ইশারায় যথেষ্ট।
✍️মকতুবাত শরীফ ১ম খন্ড ২য় ভাগ
১৪৯ পৃষ্ঠা ২২১ নং মকতুব✍️
✅ছফর দর ওয়াতন--স্বীয় গৃহে ভ্রমণ --ছয়েরে আনফুছি➖➖
স্বীয় নফছের মধ্যে ভ্রমণ। ইহাতে আল্লাহ্তায়ালার নাম গুনাবলী সমূহের প্রতিবিম্ব নফছ প্রাপ্ত হয় ও তাহাতে ভ্রমণ করে।
✍️এই তরীকার আরও একটি বৈশিষ্ট্য এই যে,ইহাতে "ছফর দর ওয়াতন" ( স্বীয় গৃহে ভ্রমণ) হয়, যাহাকে ছয়রে আনফুছি বলা হইয়া থাকে। ছয়রে আনফুছি অন্যান্য তরীকাতেও আছে বটে, কিন্তু উহা অন্য তরীকায় ছয়রে আফাকী বা বাহ্যিক ভ্রমণ করার পর শেষ মাকামে লাভ হয়। পক্ষান্তরে উক্ত ছয়রে আনফুছি হইতেই এই তরীকার ছয়ের আরম্ভ হইয়া থাকে এবং ছয়রে আফাকী বা বাহ্যিক ভ্রমণ ঐ প্রসঙ্গেই সমাপ্ত হইয়া যায়,অতএব এই ছয়রে আনফুছীর সূচনাই শেষের বস্তু প্রারম্ভে প্রবেশ করন বটে।
✅এই তরীকার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য এই যে, এ তরীকায় "খালওয়াত দর আন্ঞ্জুমান" ( জনতার মধ্যে নির্জন বাস) হয়। যাহা ছফর দর ওয়াতনের শাখা স্বরূপ। যখন ছফর দর ওয়াতান লাভ হয় তখন জনতার কোলাহলের মধ্যেও সে স্বীয় নির্জনতার আত্মিক গৃহে ভ্রমণ করিতে থাকে এবং বাহ্যিক বিশৃঙ্খলা তাহার নফছ বা প্রবৃত্তির কোটরে প্রবেশ করিতে সক্ষম হয় না। এইরূপ নির্জন বাস যদিও অন্যান্য তরীকার শেষ মর্ত্তবায় উপনীত ব্যক্তিগণ পাইয়া থাকেন, তথাপি এই তরীকার প্রারম্ভে যখন ইহা লাভ হয়, তখন ইহা এই তরীকার একটি বিশেষত্ত্ব স্বরূপ।
➖২২১ মকতুব
✅✅প্রথম "ফানা",, ফানাফিস শায়েখ, অর্থাৎ পীরের মধ্যে লয় প্রাপ্তি, তৎপর উহাই " ফানাফিল্লাহের" সূত্র হইয়া থাকে।
💞যতদিন রবে তুমি টেরক লোচন
ততদিন পীর তব পুজার ভাজন 💞
"ছয়ের এল্লাল্লাহের" শেষ প্রান্ত পর্য্যন্ত "ছুলুক" এর শেষ সীমা, যাহাকে "ফানায়ে মুৎলাক" বা সাধারন ফানা বলা হইয়া থাকে। তৎপর পূণরায় "জজবার" মাকাম লাভ হয়। উহাকে "ছয়ের ফিল্লাহ" এবং "বাকা বিল্লাহ" বলা হয়।
✍️মকতুবাত শরীফ, ১/৩/১৭৮ পৃষ্ঠা ✍️
ফানা বাকা বেলায়েতে ছোগরা বেলায়েতে কোবরা নফছে মোৎমায়েন্না লাভে তরীকত গ্রহণ জরুরী ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
আল্লাহ্তায়ালার অনুগ্রহে যখন পূর্ণরূপে সাধকের দৃষ্টি হইতে অন্য বস্তু সকল অন্তর্হিত হয়, ও অপরের কোনরূপ নাম নিশানা ( স্মৃতি ও চিহ্ন) তাহার নজরে অবশিষ্ট না থাকে তখন সাধকের "ফানা" বা লয় প্রাপ্তি সাধিত হয় এবং তরীকতের মাকাম সমাপ্ত হয় ও "ছয়ের এল্লাল্লাহ" আল্লাহর দিকে ভ্রমণ পূর্ণ হইয়া যায়। ইহার পর "এছবাত" বা প্রমাণ করার মাকাম আরম্ভ হয়, যাহাকে "ছয়ের ফিল্লাহ" বা "আল্লাহর মধ্যে ভ্রমণ" বলা হয়। ইহাই "বাকা" র মাকাম, যাহা হকীকতের বা প্রকৃত তত্ত্বের স্থান এবং যাহা বেলায়েতের উচ্চতম লক্ষ্য। এই তরীকত ও হকীকত এবং ফানা ও বাকা কর্তৃক উক্ত সাধকের প্রতি "অলি" নাম প্রদান সত্য হয় ও উহার নফছে আম্মারা নফছে মোৎমায়েন্না হইয়া স্বীয় কুফর ও অস্বীকার হইতে বিরত হয় এবং সে তাহার মালিকের প্রতি সন্তুষ্ট ও মালিকও তাহার প্রতি সন্তুষ্ট হয়। তাহার মধ্যে যে অপ্রীতিকর স্বভাব ছিল তাহা অপসারিত হইয়া যায়।
➖➖➖মকতুবাত শরীফ ২য় খন্ড ৪র্থ ভাগ ১৪১ নং পৃষ্ঠা ৫০ নং মকতুব➖➖
➖মুরীদদের সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী➖
এই তরীকার অপর বৈশিষ্ট এই যে, ইহাতে তালেবের পরিচালনা অগ্রগামী পীরের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা বলে হইয়া থাকে; তাঁহার আত্মিক সাহায্য ব্যতীত মুরিদের কোন কার্য্যই হাসিল হয় না। শেষ বস্তু প্রারম্ভে প্রবিষ্ট হওয়া তাঁহার শুভ দৃষ্টিরই ফল এবং প্রকার-বিহীন অবস্থা লাভ তাঁহারই পূর্ণ কর্তৃত্ত্বের ফল, অচৈতন্য ভাবের উদয় যাহাকে "গুপ্ত পথ" বলিয়া ধরা হয়, তাহা লাভ করা প্রারম্ভকারী মুরীদের ইচ্ছাধীন নহে এবং যে লক্ষ্য দশদিক শূন্য,তাহার অস্তিত্ত্ব সাধকের ক্ষমতাধীন নহে।
ফানায়ে আতাম --পরিপূর্ন ফানা
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️⤵️
শায়েখ মাওলানা খাজেগী আমকাংগী কুদ্দিসা সিররূহু ফানায়ে আতাম সম্পর্কে পাঠ করতেন --
প্রশংসা ও নিন্দার মধ্যে যদি কেউ পার্থক্য বুঝতে না পারে, তবে বুঝবে মূর্তি নির্মাতা নিজেই সেই মূর্তির পুজা করছে।
তিনি আরও বলতেন, যখন প্রশংসা ও নিন্দাবাদের প্রতিক্রিয়ায় মনোযোগ ও একাগ্রতায় বিঘ্নতা সৃষ্টি না হবে, তখনই ফানায়ে আতাম ( পরিপূর্ন ফানা) অর্জন হবে, যা আল্লাহ্তায়ালার দরবারে সালেকের জন্য হয়ে থাকে।
এই কথা দ্বারা হযরত খাজা রহঃ এর ওই কথার গুরুত্ব বুঝা যায় যেমন তিনি বলেছেন, উজুদে আদম উজুদে বাশারিয়াতের দিকে ফিরে আসে। কিন্তু উজুদে ফানা বা উজুদে আতাম কখনো ফিরে আসে না।
✍️হযরত খাজা মোহাম্মদ বাকী কুদ্দিসা সিররূহুল আজিজ,
➖হাজরাতুল কূদূস, ১/২৫৬ পৃষ্ঠা➖
হযরত নকশবন্দ (কোঃ) বলিয়াছেন যে, 'অজুদে আদম' মানব দেহে প্রত্যাবর্তন করে ; কিন্তু 'অজুদে ফানা' মানব দেহে কখনও প্রত্যাবর্তন করে না।
সম্মিলিত ব্যক্তি প্রত্যাবর্তন করে না । জনৈক বোজর্গ বলিয়াছেন যে, কেহই ফিরিয়া আসেন নাই ; কিন্তু যাহারা ফিরিয়া আসিয়াছেন, তাহারা পথ হইতেই আসিয়াছেন এবং যে ব্যক্তি মিলন লাভ করিয়াছে,সে ফিরিয়া আসে না।
✍️হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানী রাঃ
➖মকতুবাত শরীফ,১/৩/১৭৫ পৃষ্ঠা➖ সংগৃহিত।