08/07/2022
হজ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল টুইটার দেখে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ হতাশ। এখনো কত বিশ্বমানের বয়োজ্যেষ্ঠ মুত্তাকি আলেম সৌদিতে আছেন আরাফার খুতবা দেওয়ার মতো, তাহলে বিতর্কিত এই ভদ্রলোককে কেন আরাফার খুতবার জন্য নিযুক্ত করা হল?
আরব-আজমজুড়ে এই ভদ্রলোককে মসজিদে নামিরার খতিব নিযুক্তির নিন্দা চলছে, তবে বাস্তবতা হলো, নিরংকুশ ক্ষমতাবান রাজপরিবার এসব গায়ে মাখে না কখনোই। তবুও এতটুকু নিন্দাবাদ নিষ্ফল নয়। এতটুকু না হলে সত্য-মিথ্যার কোনো প্রভেদ থাকে না।
আহা, বিশ্বনবী (সা.) বিশ্বমানবতার উদ্দেশে দিয়েছিলেন যে আরাফার খুতবা। যে আরাফায় আয়াত নাজিল হয়েছিল ইসলামের পূর্ণতা এবং আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন হবার ঘোষণা। সেখানে সেই আপসহীন তাওহিদি ভূমিকায় এ লোককে মেনে নেওয়া যায় কীভাবে!
তিনি ( ড: মোহাম্মাদ বিন আব্দুল কারীম আল-ঈসা রাজ পরিবারের পা চাটা গোলাম)
সৌদির সাবেক বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী শুধু ছিলেন তা নয়, আরও অনেক বড় বড় পদে ছিলেন। শুধু কী তাই, এখনও বহাল কতগুলো পদে তা খেয়াল করুন :
১— সৌদি মন্ত্রী পরিষদের উপদেষ্টা।
২— ২০১৬ সাল থেকে সর্বোচ্চ উলামা কাউন্সিলের সদস্য।
৩— ২০১৬ সাল থেকে রাবেতা আলমে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল, যা উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনটির সবোর্চ্চ পদ।
৪— ২০১৯ সাল থেকে আরব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্মিলিত সংগঠনের সভাপতি।
৫— ২০১২ সাল থেকে আরব দেশগুলোর আইনমন্ত্রীদের সম্মিলিত সংগঠনের সম্মানজনক সভাপতি।
৬— সবোর্চ্চ উলামা কাউন্সিলের সদস্য!
৭— সৌদি ফিকহ কাউন্সিলের সদস্য! আরও অনেক পদবী।
অথচ আহামরি কোনো একাডেমিক বা প্রফেশনাল ডিগ্রি তার নেই। তার মতো একাডেমিক কোয়ালিফিকশনের স্কলার সৌদিতে পাড়া-মহল্লায় গন্ডায় গন্ডায় আছে।
তুলনামূলক ইসলামি ফিকহে ব্যাচেলর ডিগ্রি তার ইমাম মুহাম্মাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বিচার বিভাগের উচ্চতর ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক বিচার বিভাগীয় অধ্যয়নে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ডজনখানেক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে যার অধিকাংশই একাডেমিক ও প্রফেশনাল। দেশ ও উম্মাহ গঠনে কিংবা মজলুম উম্মাহর জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কীর্তি বা অবদান নেই।
এই লোককে এত মর্যাদা ও ক্ষমতা দেওয়ার মাহাত্ম্য কী! ইসলামের আঁতুড়ঘরে অনেক অনেক অনুকরণীয় দিক ছাপিয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাপারগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চেতনাবান ও আত্মমর্যাদাসম্মন্ন আলেম ও স্কলারদের বেদনাহত করে আসছে, আল্লাহ ভালো জানেন, এমন পণ্ডিতদের সমর্থন ও অনুমোদনই হয়তো এর পেছনে।
আসলে তিন দশক ধারাবাহিক আরাফার খুতবা দেবার পর ২০১৬ সালে অসুস্থতায় নিজ থেকে খুতবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আলে শায়খ হাফিযাহুল্লাহ। তার থেকে ফি বছর নতুন নতুন খতিব নিয়োগ করছেন বাদশাহ। বিতর্ক কমবেশি তখন থেকেই চলমান। যার চূড়ান্ত হলো এবার।
গ্রান্ড মুফতি ছিলেন সত্যিকারার্থেই গ্রান্ড। অন্ধ ছিলেন বলে ধারে-ভারে তাঁর হাতে লিখিত খুতবা ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। যা বক্তব্য নিজের থেকেই দিতেন। খুতবার দোয়ায় অস্বাভাবিক কোনো তেলবাজি ছিল না। তারপর থেকে লিখিত খুতবা। আর ফরমায়েশি খুতবা মানেই তো ফরমাবরদের তেল মাখামাখি।
আরেকটা আপাত সান্ত্বনার কথা জানিয়ে রাখি, হজের এই লাখ লাখ মুসল্লির মাত্র কয়েক হাজার লোক মসজিদে নামিরায় নামাজ পড়তে পারেন। খুতবাও শুনতে পারেন কয়েক হাজারজন। তাঁবুতে অবস্থানকারী অধিকাংশ হাজি নিজ নিজ তাঁবুতে জামাত করে নামাজ পড়েন এবং খুতবা কখন হচ্ছে কী হচ্ছে টিভি-রেডিওর কোনো খবর রাখেন না। সবাই শ্রেষ্ঠতম ময়দানে শ্রেষ্ঠতম সময়ে মোনাজাত ও রোনাজারিতে মশগুল থাকেন। আপনি শুনলে অবাক হবেন, হাজিরা কোথায় কখন নামাজ ও খুতবা হচ্ছে কিছুই টের পান না।
শেষে অনুরোধ করব, সুতরাং শুধু এই নিয়ে সবাই পড়ে না থেকে, দোয়া ও আমলের শ্রেষ্ঠতম দিন ও সময়গুলো আমরা নিজেদের জন্য আমল ও উম্মাহর জন্য দোয়ায় কাজে লাগাই। আল্লাহ আমাদের মঙ্গল করুন এবং সব অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।