20/08/2026
কিছু ছবি চোখের সামনে এলেই বুকটা ধক করে ওঠে। ছবির মানুষটি কোনো কাল্পনিক ভূতের চরিত্র নন, তিনি আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের শ্রদ্ধেয় প্রধান। অথচ আজ রক্তে ভেসে গেছে তাঁর মুখমণ্ডল, চোখের ভেতরে জমাট বেঁধে আছে গাঢ় রক্ত— আঘাতের ভয়াবহতা কতটা গভীরে ছিল, তা এই প্রতিচ্ছবিই বলে দেয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল যখন তিনি সিএনজি নিয়ে ফিরছিলেন। আচমকা কিছু দুর্বৃত্ত গাড়ি আটকে ড্রাইভারকে চাপ দেয় গেট খুলতে। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি কেবল জানতে চেয়েছিলেন ঝামেলার কারণ। জবাব এসেছিল, "আপনি ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন।" কিন্তু সেটা ছিল কেবলই চক্রান্তের এক নির্মম নাটক। আসল অন্ধকার লুকিয়ে ছিল অন্য জায়গায়।
কয়েকদিন আগে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে এই ডাক্তারের কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়। নিজেকে এক "কথিত গ্যাং"-এর সদস্য পরিচয় দিয়ে ১৫ তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধের হুমকি দেওয়া হয়। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের মতো উনিও এটাকে সস্তা স্ক্যাম ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। আর সেই 'অপরাধেই' ১৭ তারিখে তাঁর ওপর নামিয়ে আনা হয় এই পৈশাচিক হিংস্রতা। উপস্থিত জনতা একজন হামলাকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, সে কোনো রোগীর নাম বা তথাকথিত "ভুল চিকিৎসার" বিন্দুমাত্র প্রমাণ দিতে পারেনি।
পশুতুল্য এই অপরাধীদের দুঃসাহস কতদূর, তা বোঝা যায় হামলার ঠিক এক ঘণ্টা পরের বার্তায়। সেই একই নম্বর থেকে ভেসে আসে চরমতম ঔদ্ধত্য— আপনি যাদের কাছে বিচার চাইতে যাবেন, তাদের সাথে আমাদের লিংক আছে। ওদের কাছে গেলে উল্টা আপনাকেই ফাঁসিয়ে দেবে।"
যে দেশে একজন জ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত চিকিৎসককে দিনের আলোয় চাঁদার দাবিতে এভাবে রক্তাক্ত হতে হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? যাদের হাতে মানুষ জীবন ফিরে পায়, তারা যদি নিজেরাই এভাবে রাজপথে পঙ্গু হওয়ার আতঙ্কে থাকেন, তবে এই দেশ কার জন্য বাসযোগ্য?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারকে এখনই অপরাধের এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে। প্রশাসন যদি আজ কঠোরতম ব্যবস্থা না নেয়, তবে কাল এই অন্ধকারের ছায়া পৌঁছাবে আমাদের প্রত্যেকের ঘরে। আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে এভাবে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যায় না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ডাক্তার সাহেবকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন এবং এই পথভ্রষ্ট, হিংস্র মানুষকে হেদায়েত দিন— নয়তো তাদের উপযুক্ত শাস্তির মুখোমুখি করুন।